০৯:৫৩ পি.এম
স্বপ্নের পদ্মা ও মধুমতি সেতু চালুর পর রাজধানী ঢাকা এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক অবিস্মরণীয় বিপ্লব ঘটেছে। যোগাযোগের ক্ষেত্রে পথের দূরত্ব কমিয়ে এনে মূল্যবান সময়ের সাশ্রয় হয়েছে। তবে দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই দুই মেগা প্রকল্পের পূর্ণ সুফল এখন নড়াইলবাসীর জন্য বিষাদে পরিণত হয়েছে।
ঢাকা-বেনাপোল জাতীয় মহাসড়কের ভাটিয়াপাড়া-বেনাপোল অংশটি প্রশস্ত না করায় বর্তমানে এই রুটটি এক ‘মৃত্যুকূপে’ পরিণত হয়েছে। নড়াইলবাসীর দীর্ঘদিনের আশা ছিল এই মহাসড়কটি আধুনিক ও নিরাপদ হবে, কিন্তু গত আড়াই বছরে এখানেই ৪৫ জন মানুষের অকালে প্রাণহানি ঘটেছে।
সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের এবং স্থানীয় সূত্র থেকে জানা গেছে, মধুমতি সেতু উদ্বোধনের পর ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুন মাস পর্যন্ত নড়াইল-বেনাপোল মহাসড়কে অন্তত ৭৫টি ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় দুর্ঘটনাস্থল অথবা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রাণ হারিয়েছেন মোট ৪৫ জন। আর গুরুতর আহত হয়ে প্রায় ১৫০ জন মানুষ পঙ্গুত্ব বরণ করে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন।
আরও পড়ুন: মেয়ের খাবার কিনতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হলেন খুলনার শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তা
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ঢাকা থেকে ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে পার হওয়ার পর মধুমতি সেতু হয়ে নড়াইল-বেনাপোল সড়কের প্রায় ৭০ কিলোমিটার অংশ অত্যন্ত সরু। বর্তমানে সড়কটি মাত্র ২৪ ফুট প্রশস্ত রয়েছে। পদ্মা ও মধুমতি সেতু চালুর পর এই সড়ক দিয়ে ঢাকা, যশোর, বেনাপোল, কলকাতা, সাতক্ষীরা, খুলনা, মাগুরা ও কুষ্টিয়াগামী যাত্রীবাহী দূরপাল্লার বাস এবং ভারী পণ্যবাহী ট্রাকের চাপ কয়েকগুণ বেড়েছে। দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা এই সড়কে চলছে তীব্র যানজট এবং গাড়িগুলোর বিপজ্জনক ওভারটেকিংয়ের প্রতিযোগিতা। ক্রসিং বা ওভারটেকিংয়ের সময় পর্যাপ্ত জায়গার অভাবে চাকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যানবাহনগুলো খাদে কিংবা বিপরীতমুখী অন্য গাড়ির ওপর আছড়ে পড়ছে। ফলে প্রতিদিনই অকালে ঝরছে প্রাণ, পঙ্গু হচ্ছেন মানুষ।
২০২২ সালের ১০ অক্টোবর কালনা এলাকায় প্রথম ছয় লেনের 'মধুমতি সেতু' উদ্বোধন করা হয়। সেতুর সংযোগ সড়কগুলো আধুনিক এবং প্রশস্ত হলেও মূল সড়কটি আগের মতোই অবহেলিত রয়ে গেছে।
নড়াইল জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলী হাসান তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পদ্মা ও মধুমতি সেতুর কারণে আমাদের যাতায়াত সহজ ও স্বস্তিদায়ক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু রাস্তা প্রশস্ত না করায় সেই সুবর্ণ সুযোগ এখন আতঙ্কে পরিণত হয়েছে। প্রতিনিয়ত সাধারণ পথচারী, যাত্রী এবং আমাদের পরিবহন শ্রমিকরা দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। নড়াইলবাসীর এই দুর্ভোগের শেষ কোথায়? আমরা অবিলম্বে এই রাস্তা ৪ লেনে উন্নীত করার দাবি জানাচ্ছি।
নড়াইল সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী নজরুল ইসলাম সমস্যার সত্যতা স্বীকার করে জানান, নড়াইল জেলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক হচ্ছে ভাটিয়াপাড়া-বেনাপোল সড়কটি। হঠাৎ যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ায় দুর্ঘটনার ঘটনা বাড়ছে।
আরও পড়ুন: শেরপুরে জমিজমা বিরোধে ভাতিজাদের হামলায় চাচা নিহত, অভিযুক্তের বাড়িতে আগুন
তিনি আরও বলেন, আপাতত সাময়িক সুরক্ষার জন্য আমাদের সড়কের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে পর্যাপ্ত সাইন-সিগন্যাল এবং সতর্কতা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তবে নড়াইলবাসীর জন্য আশার কথা হলো, মহাসড়কটি স্থায়ীভাবে প্রশস্ত করার পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়েছে এবং চলতি ২০২৬ সালের শেষদিকে এর বাস্তব কাজ শুরু করতে পারব বলে আশা করছি।
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক প্রবেশদ্বার বেনাপোল স্থলবন্দরের সাথে রাজধানীর সরাসরি ও দ্রুত যোগাযোগের স্বার্থে এবং নড়াইলের সাধারণ মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য এই ৭০ কিলোমিটার সড়ক দ্রুত চার লেনে উন্নীত করা এখন সময়ের দাবি। নড়াইলবাসীর আশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আর কোনো কালক্ষেপণ না করে দ্রুত এই সড়কটি প্রশস্ত করে মেগা প্রকল্পগুলোর পূর্ণাঙ্গ সুফল ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন