মোঃ তুহিন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
০৫:৩০ পি.এম
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে ৫ কেজি ৮৫০ গ্রাম হেরোইনসহ মোঃ সহুবুল ইসলাম (৬০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-৫, রাজশাহীর সিপিএসসি। উদ্ধার করা হেরোইনের আনুমানিক বাজারমূল্য ২ কোটি ৯২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। শনিবার (৩১ অক্টোবর ২০২৬) সকাল ৬টার দিকে শিবগঞ্জ উপজেলার কলকলিয়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত সহুবুল ইসলাম কলকলিয়া গ্রামের মৃত দোস মোহাম্মাদ হাজীর ছেলে।
এসআরবি সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাহিনীর একটি আভিযানিক দল জানতে পারে, সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে হেরোইনের একটি বড় চালান সংগ্রহ করে বিক্রির উদ্দেশ্যে নিজ বাড়িতে অবস্থান করছেন সহুবুল ইসলাম। এমন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালানো হয়। এ সময় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার বসতবাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ৫ কেজি ৮৫০ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়। উপস্থিত নিরপেক্ষ সাক্ষীদের সামনে বিধি মোতাবেক এসব মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়। উদ্ধারকৃত হেরোইনের আনুমানিক মূল্য ২ কোটি ৯২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। অভিযান শেষে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো হয়। পরে উদ্ধার করা মাদকদ্রব্যসহ তাকে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে এসআরবি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় মূল সড়কে দোকান বসানোর অনুমতি দেওয়া হবে না, এ কথা জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক আবদুস সালাম।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) নিউমার্কেট এলাকায় সড়ক দখলমুক্ত ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানের পূর্বে তিনি সাংবাদিকদের সাথে এ বিষয়ে কথা বলেন।
ডিএসসিসি প্রশাসক উল্লেখ করেন, নিউমার্কেটের মূল সড়কে দোকান বসানো যাবে না। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, "কোনোভাবেই রাস্তায় দোকান এলাউ করব না।"
হকারদের উদ্দেশ্যে আবদুস সালাম বলেন, দোকান বসানো থেকে দূরে থাকবেন। তিনি সতর্ক করে জানান, "তা না হলে আপনাদের মালামাল নষ্ট হলে কেউ দায় নেবে না।" অভিযান চলমান থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬ : স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত জানিয়েছেন, সাভারের ‘বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব হেলথ ম্যানেজমেন্ট’ দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত থাকার পর আগামী পহেলা জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে।
তিনি উল্লেখ করেন, আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সকল সংস্কার কাজ সম্পন্ন করে প্রতিষ্ঠানটি সম্পূর্ণ প্রস্তুত করা হবে এবং পহেলা জানুয়ারি থেকে চিকিৎসকদের জন্য প্রশাসনিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।
আজ দুপুরে সাভারের বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব হেলথ ম্যানেজমেন্টের অবকাঠামো পরিদর্শন শেষে তিনি এসব তথ্য জানান।
এর আগে, তিনি সেখানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনীতিবিদ, স্বাস্থ্য সচিব, ড্যাব মহাসচিব এবং গণপূর্তের প্রকৌশলীসহ সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি বৈঠক করেন।
বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং গণপূর্তের যৌথ টিম সরেজমিন পরিদর্শন করে নষ্ট বা চুরি হওয়া সরঞ্জামের ইনভেন্টরি তৈরি করবে এবং গণপূর্ত বিভাগ আগামী এক-দুই দিনের মধ্যে কর্মকর্তাদের বসার জায়গা ও সাব-স্টেশন চালুকরণের ব্যবস্থা করবে।
পরে, এম. এ. মুহিত আগামী পহেলা জানুয়ারিতে এই প্রতিষ্ঠানের উদ্বোধনের ঘোষণা দিয়ে বলেন, বিগত সরকারের আমলের অব্যবস্থাপনা ও অবহেলায় পড়ে থাকা এই প্রতিষ্ঠানকে দেশের চিকিৎসকদের দক্ষ প্রশাসক হিসেবে গড়ে তোলার জন্য একটি জাতীয় প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে রূপ দেওয়া হবে।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে জনগণের অর্থ অপচয় করে ও দুর্নীতির হাতিয়ার তৈরি করে পুরো বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, জনগণের ভোটে দায়িত্ব নেওয়ার পর বর্তমান সরকার এই ভেঙে পড়া স্বাস্থ্য ব্যবস্থা পেয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর কোটি কোটি মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে দেশে ফিরে স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছিলেন ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই বিধ্বস্ত বাংলাদেশকে পুনর্গঠন এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে নতুন করে সাজিয়ে জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার কাজ চলছে।
ড. মুহিত বলেন, বর্তমান সরকার আর জনসভার রাজনীতি করবে না বরং জনসেবার রাজনীতি করবে এবং জনগণের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে সমস্ত দুর্নীতি ও অনাচার প্রতিহত করে এই দেশকে গড়ে তুলবে।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের মহাসচিব ডা. জহিরুল ইসলাম শাকিল, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. ফোয়ারা তাসনিম ও অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ রায়হান প্রমুখ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গনসালো রামোস পর্তুগাল জাতীয় দলে আর বদলি খেলোয়াড়ের ভূমিকায় থাকতে চান না। ২৫ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড জাতীয় দলের একাদশে নিজের জায়গার দাবি জানিয়ে বলেছেন, তাঁর বর্তমান ফর্ম ও গোল করার সামর্থ্যের যথাযথ মূল্যায়ন হওয়া উচিত। তবে তিনি ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোকে একাদশ থেকে বাদ দেওয়ার পক্ষেও নন। বরং রামোস মনে করেন, দুজনকে একসঙ্গে আরও বেশি খেলানোর সুযোগ রয়েছে।
ক্যানাল ১১-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রামোস উল্লেখ করেন, পর্তুগালের হয়ে তিনি নিয়মিত শুরুর একাদশে থাকতে চান। তাঁর মতে, কে একাদশে খেলার যোগ্য, সেটি কোচ ও পুরো দেশই দেখতে পাচ্ছে। তিনি রোনালদোর মর্যাদার প্রতি পূর্ণ সম্মান রয়েছে বলেও জানান। তবে রামোস বিশ্বাস করেন, নিজের ভালো ফর্ম ও গোল করার ধারার পুরস্কার হিসেবে রোনালদোকে বাদ না দিয়েও দুজনকে একসঙ্গে খেলানো সম্ভব।
রামোসের মতে, আক্রমণভাগে রোনালদোর সঙ্গে তাঁর কার্যকর জুটি গড়ে উঠতে পারে। জাতীয় দলের বর্তমান কোচ হোর্হে হেসুসের হাতে এখন সেই সমন্বয় তৈরির সিদ্ধান্ত রয়েছে। রামোসের বক্তব্যে রোনালদোর প্রতি কোনো অসম্মান না থাকলেও জাতীয় দলের একাদশে নিজের গুরুত্ব নিয়ে তিনি যে আত্মবিশ্বাসী, তা স্পষ্ট।
সাবেক কোচ রবার্তো মার্তিনেসের অধীনে পর্যাপ্ত সুযোগ না পাওয়ার আক্ষেপও প্রকাশ করেছেন রামোস। ইউরো ২০২৪-এ জর্জিয়ার বিপক্ষে মাত্র ১৫ মিনিট খেলেছিলেন তিনি। ম্যাচটি তখন পর্তুগালের জন্য তেমন গুরুত্বপূর্ণ ছিল না। এরপর ২০২৬ বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে গোল করলেও পরবর্তী ম্যাচগুলোতে খুব বেশি খেলার সুযোগ পাননি। রামোস মনে করেন, ওই দুই বড় টুর্নামেন্টে আরও বেশি সুযোগ পেলে জাতীয় দলকে তিনি সহায়তা করতে পারতেন।
তবে মার্তিনেসের প্রতি কোনো ক্ষোভ নেই বলেও জানিয়েছেন রামোস। তাঁর আক্ষেপ মূলত দুটি বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে পর্যাপ্ত সময় না পাওয়া নিয়ে। তাঁর ভাষায়, ওই দুটি বড় আসর আর কখনো ফিরে আসবে না।
চলতি উয়েফা নেশনস লিগেও রামোস নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিচ্ছেন। ২০২৬-২৭ মৌসুমে পর্তুগালের হয়ে চার ম্যাচে তিন গোল করেছেন তিনি। নরওয়ে ও ডেনমার্কের বিপক্ষে গোল করে জাতীয় দলের আক্রমণভাগে নিজের দাবিকে আরও জোরালো করেছেন এই ফরোয়ার্ড।
রামোসের বার্তা তাই পরিষ্কার—পর্তুগালের আক্রমণে রোনালদোর জায়গা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন না তিনি, কিন্তু নিজের জন্যও নিয়মিত শুরুর একাদশের সুযোগ চান। শেষ পর্যন্ত রোনালদো ও রামোসকে একসঙ্গে খেলানোর সিদ্ধান্ত কোচ হোর্হে হেসুসের ওপরই নির্ভর করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম বিরোধী রাজনৈতিক দল জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) ৫৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানী ঢাকায় একটি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই সমাবেশ থেকে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সহজ শর্তে ও স্বল্প সুদে প্রত্যেককে ১০ লাখ টাকা ঋণ দেওয়ার দাবি উত্থাপন করা হয়েছে।
শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের চত্বরে জাসদ (শাহজাহান সিরাজ)-এর উদ্যোগে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে ৯ নম্বর সেক্টরের কমান্ডার মেজর (অব.) এম এ জলিলের নেতৃত্বে ১৯৭২ সালের ৩১ অক্টোবর দলটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিল বলেন, "বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত স্বাধীন বাংলাদেশের লক্ষ্য ছিল একটি সম্প্রীতিপূর্ণ, ক্ষুধা, দারিদ্র্য, মাদক, সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত আইনের শাসনভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা।" তিনি আরও বলেন, "কিন্তু স্বাধীনতার দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সেই লক্ষ্য পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি।"
তিনি উল্লেখ করেন, "দেশকে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, ঘুষ, দুর্নীতি ও মাদকমুক্ত করে গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরিয়ে আনতে হলে সবার আগে বেকার যুবসমাজের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে হবে।" তরুণ প্রজন্মকে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে দেশের প্রত্যেক বেকার যুবককে সহজ শর্তে ও স্বল্প সুদে ১০ লাখ টাকা ঋণের ব্যবস্থা করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন তিনি।
আব্দুল জলিল আরও বলেন, "তরুণদের হাতে বিনিয়োগের সুযোগ তুলে দেওয়া হলে আধুনিক কৃষি, শাকসবজি, মাছ, মাংস ও দুগ্ধ উৎপাদনে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।" তিনি এও বলেন, "এর মাধ্যমে দেশের খাদ্যনিরাপত্তাও নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।"
সভাপতির বক্তব্যে জাসদ (শাহজাহান সিরাজ)-এর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মাহবুবুল আলম দুলাল বলেন, "ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সব পক্ষকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।" তিনি উল্লেখ করেন, "জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমেই কার্যকর ভূমি সংস্কার, নদীভাঙন রোধ, নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনা এবং সমন্বিত নদীশাসন নিশ্চিত করা সম্ভব।"
তিনি আরও যোগ করেন, "পলিথিন ও বর্জ্যমুক্ত পরিবেশবান্ধব আধুনিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।" এর মাধ্যমে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ সৎ সংগ্রামী ভোটার পার্টির সভাপতি মোবারক হোসেন বিজ্ঞানী, জাসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ বাদশাহ উদ্দিন মিন্টু, প্রচার সম্পাদক হুমায়ুন কবির, কেন্দ্রীয় সদস্য খলিলুর রহমান, বরিশাল বিভাগ সমিতির সদস্য নকীব হক, মেজর জলিলের অনুসারী আব্দুল মান্নান ও শ্রমিক নেতা নাসির উদ্দিন প্রমুখ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ