১২:৪৫ পি.এম
ভেনেজুয়েলায় গত সপ্তাহে আঘাত হানা শক্তিশালী দুটি ভূমিকম্পের ফলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩ হাজার ৫৩৫ জনে পৌঁছেছে। এই ভয়াবহ দুর্যোগে আহত হয়েছেন আরও ১৬ হাজার ৭৪০ জন এবং প্রায় ১৮ হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। বিশেষজ্ঞরা দুর্যোগ-পরবর্তী সময়ে দেশটিতে মারাত্মক স্বাস্থ্য সংকটের আশঙ্কা করছেন।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
সোমবার (৬ জুলাই) ভেনেজুয়েলার আইনপ্রণেতা জর্জ রদ্রিগেজ হতাহতের সর্বশেষ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, রাজধানী কারাকাস ও উপকূলীয় লা গুয়াইরা অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এসব এলাকায় স্থাপিত ৮০টি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে বর্তমানে অন্তত ১২ হাজার ৮০০ মানুষ অবস্থান করছে।
আরও পড়ুন: দলের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে: আইনমন্ত্রী
লা গুয়াইরায় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই এলাকায় ট্রাক ও ফরেনসিক কর্মীদের অনবরত কফিন বহন করতে দেখা গেছে। অন্যদিকে, খোলা জায়গায় সাদা ক্রস চিহ্নিত স্থানে আধুনিক যন্ত্রের সাহায্যে গণকবর খনন করতে হয়েছে এবং নিহতদের দাফনের কাজ চলছে।
গত ২৪ জুন, রিখটার স্কেলে ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প কারাকাস ও এর চারপাশের এলাকায় আঘাত হানে। এই ভূমিকম্পের ফলে ওই অঞ্চলের প্রায় ৬০ হাজার ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়।
ভূমিকম্পের ফলে হাজার হাজার মানুষ অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র কিংবা খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছেন। সেখানে নিরাপদ পানির অভাব, চিকিৎসাসেবার সংকট এবং অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে সংক্রামক রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে বলেও সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। অনেক আহত ব্যক্তি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাননি। এর ফলে দেশের চাপের মুখে থাকা স্বাস্থ্যব্যবস্থা আরও গভীর সংকটে পড়েছে।
কারাকাসের হোসে গ্রেগোরিও হার্নান্দেজ হাসপাতালের ট্রমা ইউনিটের প্রধান ইউহেনিও কোভা বলেন, দুর্যোগকবলিত অবস্থায় দীর্ঘ সময় থাকা রোগীদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাই এখন সবচেয়ে বড় উদ্বেগ। তার মতে, জটিল আঘাতের পাশাপাশি এই সংক্রমণ পরিস্থিতিকে আরও বেশি কঠিন করে তুলছে।
আরও পড়ুন: রাজধানীর পান্থপথ, খিলক্ষেত ও ক্যান্টনমেন্টে ককটেল বিস্ফোরণ
অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতেও ক্রমান্বয়ে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। স্থানীয় বাস্তুচ্যুত মানুষের মধ্যে ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন পানি বাহিত রোগের প্রকোপ দেখা দিয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে বহনযোগ্য শৌচাগার, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ এবং অতিরিক্ত ভিড় কমাতে সরকারের জরুরি সহায়তা দাবি করছেন বাসিন্দারা।
এদিকে, উদ্ধার ও পুনর্বাসন কার্যক্রমে সরকারের ধীরগতির কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বেড়ে চলেছে। বিভিন্ন অঞ্চলের স্থানীয় বাসিন্দা, স্বেচ্ছাসেবক ও মানবিক সহায়তাকর্মীরাই মূলত ধ্বংসস্তূপে জীবিতদের খোঁজ, ত্রাণ বিতরণ এবং প্রাথমিক উদ্ধারকাজ পরিচালনা করছেন।
মানবাধিকার ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান ওয়াশিংটন অফিস অন লাতিন আমেরিকার (ডব্লিউওএলএ) সভাপতি ক্যারোলিনা হিমেনেজ বলেন, সাধারণত এমন বড় দুর্যোগে রাষ্ট্রেরই সবার আগে এগিয়ে আসার কথা। কিন্তু ভেনেজুয়েলায় পরিস্থিতি উল্টো—সরকার সবচেয়ে পরে সাড়া দিয়েছে। রাজধানীর উত্তরের কাতিয়া লা মারসহ কয়েকটি দুর্গম এলাকায় এখনও পর্যাপ্ত সরকারি সহায়তা পৌঁছায়নি বলেও অভিযোগ উঠেছে।
আরও পড়ুন: সরকার ৬৪ জেলায় প্রতিবন্ধী স্কুল প্রতিষ্ঠা করবে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন