০৪:২৩ এম
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার কানসাট আম বাজারে প্রতিদিন গড়ে সাড়ে চার থেকে পাঁচ হাজার টন আমের কেনাবেচা হচ্ছে। যার বাজারমূল্য প্রায় ১৫ থেকে ১৮ কোটি টাকা হয়ে থাকে। এখনকার দৃশ্য হলো সারি সারি ভ্যান গাড়িতে রাখা বাঁশের ঝুড়িভর্তি সুমিষ্ট ও সুস্বাদু বিভিন্ন জাতের আম। ভরা মৌসুমে বর্তমানে উৎসবমুখর পরিবেশে চলছে এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম এই আমের হাটে বেচাকেনা।
কৃষি বিভাগ ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের তথ্যমতে, কানসাট আম বাজারে প্রতিদিন লেনদেন প্রায় ১৮ কোটি টাকা। সরেজমিনে কানসাট আমের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, যে ভোর থেকেই উপজেলার বিভিন্ন বাগান থেকে চাষিরা ভ্যান গাড়িতে করে আম নিয়ে বাজারে জড়ো হতে শুরু করেন। বাজারের ভেতরে ও মূল সড়কের দুই পাশে সারি সারি ভ্যান গাড়িতে আম সাজিয়ে চলে দরদাম। কেবল শিবগঞ্জ বা চাঁপাইনবাবগঞ্জ নয়, আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকেও কৃষকরা গাছের আম এখানে বিক্রি করতে আসেন। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পাইকার ও আড়তদাররা আম কিনতে ভিড় জমান এই হাটে।
হাটের বিশাল পরিধির কথা উল্লেখ করে কানসাট আম বাজারের ইজারাদার আলমগীর জুয়েল বলেন, এই আম বাজার থেকে প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৪৫০ ট্রাকেরও বেশি আম লোড করা হয়। কারবারিরা এসব আম কিনে দেশের বিভিন্ন জেলার বাজারে সরবরাহ করেন। প্রতিদিন এই বাজারে গড়ে ১৮ থেকে ২০ কোটি টাকার আম বেচাকেনা হচ্ছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. ইয়াছিন আলী বলেন, আম সংগ্রহের ভরা মৌসুম চলছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের পাঁচ উপজেলাতেই আম চাষ হয় এবং এখানে চার-পাঁচটা বড় হাট রয়েছে। এর মধ্যে শিবগঞ্জের কানসাট আম বাজার সারা বাংলাদেশের মধ্যে বিখ্যাত হয়ে উঠেছে। কানসাট বাজারে প্রতিদিন গড়ে সাড়ে চার হাজার থেকে পাঁচ হাজার টন আম কেনাবেচা হচ্ছে। যার দৈনিক বাজারমূল্য প্রায় ১৮ থেকে ২০ কোটি টাকা।
আরও পড়ুন: ছবি দিয়ে রাজনৈতিক চরিত্রহননের চেষ্টা! দীর্ঘ ত্যাগের পরও অপপ্রচারের অভিযোগ বিএনপি নেতা রিপন বল্লভের
তিনি উল্লেখ করেন, আম মৌসুমকে কেন্দ্র করে এই বাজারে প্রতিদিন প্রায় ১৫ থেকে ১৬ হাজার মানুষের সমাগম ঘটে, যা স্থানীয় বিপুল জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছে। সাধারণত, প্রতি বছর মে মাসের শেষ দিক থেকে শুরু করে জুলাই মাসের শেষ পর্যন্ত কানসাট বাজারে এভাবে প্রতিদিন উৎসবমুখর পরিবেশে আম কেনাবেচা চলে। চলতি বছরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় ৩৭ হাজার ৪৮৭ হেক্টর জমিতে আম চাষ করা হচ্ছে। আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৫৭ হাজার ৯০০ টন। কোনো প্রকার প্রাকৃতিক দুর্যোগ না আসলে আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে এমনটি আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন