ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৮ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২২শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ০৩ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৮ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

বরিশালের চরকাউয়ায় ২০ বছর ধরে বাস সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য, জিম্মি সাধারণ যাত্রী


বরিশালের চরকাউয়ায় ২০ বছর ধরে বাস সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য, জিম্মি সাধারণ যাত্রী

জোর করে বাসে যাত্রী তোলা, রোগীবাহী যান আটকে দেওয়ার অভিযোগ; ক্ষোভে দুই দিন ধরে বন্ধ বাস চলাচল


বরিশালের চরকাউয়া রুটে দীর্ঘ প্রায় দুই দশক ধরে বাস মালিক সমিতির একচ্ছত্র আধিপত্য, খামখেয়ালিপনা ও কথিত পরিবহন সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ যাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। নিজেদের বাস ছাড়া অন্য কোনো যানবাহনে যাত্রী পরিবহনে বাধা দেওয়া, অটোরিকশা কিংবা রিকশা থেকে জোরপূর্বক যাত্রী নামিয়ে বাসে তুলতে বাধ্য করা এবং জরুরি প্রয়োজনে অসুস্থ রোগী বহনকারী যানবাহন আটকে দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে চরকাউয়া বাস মালিক সমিতির সদস্য ও সংশ্লিষ্ট বাস শ্রমিকদের বিরুদ্ধে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এই রুটে পরিবহন ব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে রেখেছে। সাধারণ মানুষ কোথায় যাবেন, কোন যানবাহনে যাতায়াত করবেন, এমনকি জরুরি প্রয়োজনে কীভাবে রোগী নিয়ে হাসপাতালে পৌঁছাবেন, সেসব ক্ষেত্রেও বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। ফলে জনসাধারণের স্বাভাবিক চলাচলের অধিকার নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।


ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, চরকাউয়া রুটে বাস মালিক সমিতির সদস্যরা নিজেদের বাস ছাড়া অটোরিকশা, মাহিন্দ্রা, রিকশা ও ভ্যানসহ অন্যান্য যানবাহনে যাত্রী পরিবহনে বাধা দেন। কোনো যাত্রী নিজস্ব প্রয়োজন, সুবিধা কিংবা সময় বাঁচানোর জন্য এসব যানবাহনে উঠলে তাকে জোরপূর্বক নামিয়ে বাসে উঠতে বাধ্য করা হয়।

এমন পরিস্থিতিতে যাত্রীরা চাইলেও নিজেদের পছন্দ ও প্রয়োজন অনুযায়ী যানবাহন নির্বাচন করতে পারছেন না। বিশেষ করে স্বল্প দূরত্বের যাত্রী, নারী, শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং অসুস্থ মানুষকে নিয়ে চলাচলকারীদের বাড়তি ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, একটি নির্দিষ্ট রুটে বাস চলাচলের ব্যবস্থা থাকলেই কি অন্য বৈধ যানবাহনে যাত্রী পরিবহনের পথ বন্ধ করে দেওয়া যায়? পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্ব কোনো সমিতিকে দেওয়া হলেও সেই ক্ষমতার অপব্যবহার করে সাধারণ মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করার অধিকার তাদের কে দিয়েছে?

*রোগীবাহী যানবাহন আটকে দেওয়ার অভিযোগ, মানবিকতা নিয়েও প্রশ্ন*

সবচেয়ে উদ্বেগজনক অভিযোগ উঠেছে অসুস্থ রোগী পরিবহন নিয়ে। ভুক্তভোগীদের দাবি, জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনে রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য ভাড়া করা ভ্যান, রিকশা কিংবা অটোরিকশাকেও চরকাউয়া খেয়াঘাট পর্যন্ত যেতে বাধা দেওয়া হয়।

একজন অসুস্থ মানুষকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার প্রয়োজন হলেও যদি যানবাহন আটকে দেওয়া হয়, তাহলে তা শুধু পরিবহনসংক্রান্ত বিরোধের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং জনস্বাস্থ্য ও মানবিক দায়িত্ববোধের বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।

স্থানীয়দের মতে, রোগীর জীবন রক্ষার প্রয়োজনীয়তা কোনো পরিবহন সমিতির স্বার্থের চেয়ে বড়। সেখানে রোগীবাহী যানবাহন আটকে দেওয়ার অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনা জরুরি।

*প্রতিবাদ করলেই অপমান-অপদস্থ ও মারধরের অভিযোগ*

ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, দীর্ঘদিনের এসব অনিয়মের প্রতিবাদ করতে গেলেই অটোরিকশাচালক ও সাধারণ যাত্রীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়। কখনো রাস্তায় আটকে অপমান-অপদস্থ করা হয়, আবার কখনো শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও মারধরের ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, চরকাউয়া বাস স্টাফদের কথিত সিন্ডিকেটের প্রভাব এতটাই বিস্তৃত যে তাদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলতেও অনেকে ভয় পান। কেউ অন্যায়ের প্রতিবাদ করলে তাকে বিভিন্নভাবে হেনস্তার শিকার হতে হয় বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।

এমন অভিযোগ সত্য হলে তা শুধু পরিবহন শ্রমিকদের সঙ্গে সাধারণ মানুষের বিরোধ নয়, বরং সড়কে আইন প্রয়োগ, নাগরিক অধিকার এবং জননিরাপত্তার বিষয়েও গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করে।

একটি পরিবহন সমিতি কিংবা তার সংশ্লিষ্ট শ্রমিকদের কোনোভাবেই সাধারণ মানুষের চলাচলের অধিকার নিজেদের ইচ্ছামতো নিয়ন্ত্রণ করার সুযোগ থাকার কথা নয়। অথচ দীর্ঘদিন ধরে এমন পরিস্থিতি চলার অভিযোগ স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বাড়িয়ে তুলছে।


দীর্ঘদিনের ক্ষোভ, পরিবহনসংক্রান্ত বিরোধ এবং কথিত সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যের প্রতিবাদে গত দুই দিন ধরে চরকাউয়া থেকে বিভিন্ন রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন অটোরিকশা শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা বিভিন্ন স্থানে গাছ ফেলে সড়ক অবরোধ করে বাস চলাচল বন্ধ করে দেন। এতে সংশ্লিষ্ট রুটে বাস চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে বলে জানা গেছে।

দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে এই অবরোধের ঘটনা সামনে এসেছে। তবে বাস চলাচল বন্ধ থাকায় সাধারণ যাত্রীরাও নতুন করে দুর্ভোগে পড়েছেন। কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ীসহ প্রতিদিন যাতায়াতকারী বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে বিকল্প পরিবহনের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

পরিবহন ব্যবস্থার এমন অচলাবস্থায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। একদিকে বাস চলাচল বন্ধ, অন্যদিকে বিকল্প যানবাহন চলাচল নিয়েও দীর্ঘদিনের অভিযোগ। সব মিলিয়ে চরকাউয়া রুটে স্বাভাবিক যাতায়াত ব্যবস্থা কার্যত সংকটের মুখে পড়েছে।

আরও পড়ুন: নান্দাইলে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটে ট্রাকে আগুন, শহর বিদ্যুৎহীন


স্থানীয়দের প্রশ্ন, প্রায় দুই দশক ধরে যদি একটি রুটে পরিবহন নিয়ন্ত্রণ, যাত্রী হয়রানি, অন্য যানবাহনে বাধা এবং রোগীবাহী যান আটকে দেওয়ার মতো অভিযোগ চলতে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি কোথায়?

পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সড়কে বৈধ যানবাহনের চলাচল নির্বিঘ্ন রাখার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও কর্তৃপক্ষের। কোনো সমিতি বা গোষ্ঠীর প্রভাবের কারণে সাধারণ মানুষ যেন তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত না হন, সেটি নিশ্চিত করা জরুরি।

বিশেষ করে রোগীবাহী যানবাহন চলাচলে বাধা দেওয়ার অভিযোগকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি যাত্রীদের জোরপূর্বক বাসে উঠতে বাধ্য করা, অটোরিকশাচালকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং মারধরের অভিযোগগুলোও নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখা দরকার।


চরকাউয়া রুটের ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ ও স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘদিনের কথিত পরিবহন সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বন্ধে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, কোনো নির্দিষ্ট সমিতি বা গোষ্ঠীর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ নয়, বরং আইন ও বিধিবিধান অনুযায়ী সব বৈধ যানবাহনের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে হবে।

একই সঙ্গে রোগীবাহী যানবাহন আটকে দেওয়া, যাত্রীদের জোরপূর্বক বাসে উঠতে বাধ্য করা, অটোরিকশাচালকদের হেনস্তা ও মারধরের অভিযোগ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

ভুক্তভোগীদের প্রত্যাশা, প্রশাসন দ্রুত সরেজমিনে তদন্ত করে চরকাউয়া রুটের প্রকৃত পরিস্থিতি উদ্‌ঘাটন করবে এবং দীর্ঘদিনের এই পরিবহন সংকটের স্থায়ী সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।

সাধারণ মানুষের চলাচলের অধিকার কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী কিংবা পরিবহন সমিতির ব্যক্তিগত নিয়ন্ত্রণাধীন হতে পারে না। জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে চরকাউয়া রুটে আইনসম্মত, নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি এখন স্থানীয়দের।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশের চিকিৎসা ক্ষেত্রের অনন্য দূরদর্শী ব্যক্তিত্ব অধ্যাপক ডা. এম এ হাদীকে স্মরণ করলেন মন্ত্রী জাহিদ হোসেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:০৩ পি.এম


বাংলাদেশের চিকিৎসা ক্ষেত্রের অনন্য দূরদর্শী ব্যক্তিত্ব অধ্যাপক ডা. এম এ হাদীকে স্মরণ করলেন মন্ত্রী জাহিদ হোসেন

বাংলাদেশের চিকিৎসা ক্ষেত্রে অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আবদুল হাদী (এম এ হাদী)-এর অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন নারী ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, এমপি।

মন্ত্রী বলেন, "বাংলাদেশের চিকিৎসাক্ষেত্রে কোনো দূরদর্শী ব্যক্তিত্বের কথা স্মরণ করলে অধ্যাপক ডা. এম এ হাদীর নাম সর্বাগ্রে উচ্চারিত হবে।" তিনি উল্লেখ করেন যে, অধ্যাপক ডা. হাদী শুধু চিকিৎসকদের পেশাগত উন্নয়ন ও কল্যাণে কাজ করেননি, বরং নার্স, টেকনোলজিস্ট সহ সামগ্রিক চিকিৎসাব্যবস্থার মানোন্নয়নেও যুগান্তকারী অবদান রেখেছেন।

সোমবার (২ নভেম্বর) রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ ডা. মিলন হলে অধ্যাপক ডা. এম এ হাদীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা ও স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, "দেশের মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব।" তিনি বলেন, এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে রেফার্ডকৃত রোগীদের জন্য বছরের ৩৬৫ দিন ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন ও মানসম্মত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও চিকিৎসা কার্যক্রম এগিয়ে নিতে গতানুগতিক ধারার বাইরে এসে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, গবেষণা কার্যক্রম আরও জোরদার করতে হবে। চিকিৎসকদের মৌলিক ও প্রায়োগিক গবেষণায় উৎসাহিত করতে প্রয়োজনীয় প্রণোদনা বাড়ানোর বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের উদ্যোগী হতে হবে।

অনুষ্ঠানে আলোচক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অধ্যাপক ডা. এম এ হাদীর কর্মময় জীবন, কঠোর সময়ানুবর্তিতা, চিকিৎসা সেবায় ঐতিহাসিক ভূমিকা, রোগীদের প্রতি মমত্ববোধ এবং শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা প্রদানের অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

সভায় আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, এমপি এবং ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন, এমপি।

অধ্যাপক ডা. এম এ হাদী ফাউন্ডেশনের আহ্বায়ক ডা. মোফাখখারুল ইসলাম রানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ডা. এ কে এম আজিজুল হক, অধ্যাপক ডা. মো. রফিকুল ইসলাম, অধ্যাপক ডা. রফিকুল কবীর লাবু, ডা. আ ন ম মনোয়ারুল কাদির বিটুসহ বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, শিক্ষক, চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

উল্লেখ্য, অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আবদুল হাদী ১৯৪১ সালের ৩১ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৬৪ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস এবং ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনস (বিসিপিএস) থেকে সার্জারিতে এফসিপিএস ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ উপাচার্য, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি, ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন অনুষদের ডিনসহ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের অধিকারী এই চিকিৎসক ২০০৭ সালের ১৬ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নিউইয়র্কে শীতের খরচ মেটাতে ৯৯০ ডলার সহায়তা, আবেদন করার পদ্ধতি জানুন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:০৩ পি.এম


নিউইয়র্কে শীতের খরচ মেটাতে ৯৯০ ডলার সহায়তা, আবেদন করার পদ্ধতি জানুন

নিউইয়র্কের নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর জন্য শীতকালে ঘর গরম রাখার খরচ কমানোর উদ্দেশ্যে আর্থিক সহায়তার আবেদন প্রক্রিয়া চলতি বছর সোমবার (২ নভেম্বর) থেকে শুরু হয়েছে এবং এটি চলবে ১৬ এপ্রিল ২০২৭ তারিখ পর্যন্ত।

নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুলের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬–২০২৭ অর্থবছরের গৃহস্থালি জ্বালানি সহায়তা কর্মসূচির আওতায় যোগ্য পরিবারগুলো সর্বোচ্চ ৯৯০ ডলার পর্যন্ত সহায়তা পেতে সক্ষম হবে।

নিউইয়র্কের গৃহস্থালি জ্বালানি সহায়তা কর্মসূচি (এইচইএপি) মূলত শীতের মৌসুমে বাড়ি গরম রাখার ব্যয় কমাতে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোকে সহায়তা প্রদান করে। তবে, সহায়তার পরিমাণ নির্ভর করবে পরিবারের আয়, সদস্যসংখ্যা, ব্যবহৃত জ্বালানির ধরন এবং কর্মসূচির নির্ধারিত শর্তের ওপর।

কারা পাবেন সর্বোচ্চ ৯৯০ ডলার

তেল, কেরোসিন বা প্রোপেনের মতো জ্বালানি ব্যবহারকারী যোগ্য পরিবারগুলো সর্বোচ্চ ৯৯০ ডলার পর্যন্ত সহায়তা পেতে পারে। অন্য জ্বালানি ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী সহায়তার পরিমাণ ভিন্ন হতে পারে।

তবে, সর্বোচ্চ ৯৯০ ডলারের সহায়তা সবার জন্য প্রযোজ্য নয়। আবেদন করলেই নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ পাওয়া নিশ্চিত হবে না। আবেদনকারীর আয় ও অন্যান্য যোগ্যতা যাচাই করেই সহায়তা প্রদান করা হবে।

বাড়ির মালিক ও ভাড়াটিয়ারাও আবেদন করতে পারবেন। এই কর্মসূচিতে যোগ্য বাড়ির মালিকদের পাশাপাশি ভাড়াটিয়ারাও আবেদন করতে পারবেন। এমনকি যেসব বাড়ির ভাড়ার মধ্যেই ঘর গরম রাখার খরচ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, সেসব বাড়ির কিছু বাসিন্দা শর্ত পূরণ করলে সহায়তা পেতে পারেন।

আবেদনের আগে ঠিকানার প্রমাণ, পরিবারের সদস্যদের পরিচয়পত্র, সাম্প্রতিক আয়ের প্রমাণ এবং জ্বালানি বা বিদ্যুৎ বিল প্রস্তুত রাখা ভালো। পরিবারের সদস্যদের পরিচয় ও সামাজিক নিরাপত্তা নম্বরসংক্রান্ত শর্তও পূরণ করতে হতে পারে।

কোথায় ও কীভাবে আবেদন করবেন

নিউইয়র্ক সিটির বাসিন্দারা অনলাইনে আবেদন ও বিস্তারিত তথ্যের জন্য অ্যাকসেস এইচআরএ ওয়েবসাইট দেখতে পারবেন। এ ছাড়া আবেদন ও যোগ্যতা সম্পর্কে জানতে ৭১৮-৫৫৭-১৩৯৯ নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে। নিউইয়র্ক স্টেটজুড়ে কর্মসূচির তথ্য জানতে ফোন করা যাবে ১-৮০০-৩৪২-৩০০৯ নম্বরে।

কর্মসূচির আওতায় সাধারণত অনুমোদিত সহায়তার অর্থ সরাসরি জ্বালানি সরবরাহকারী অথবা বিদ্যুৎ ও গ্যাস সেবাদাতার কাছে পাঠানো হয়। এতে শীতকালে ঘর গরম রাখার ব্যয় কমাতে পরিবারগুলো সহায়তা পায়। তাই যোগ্য পরিবারগুলোকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করে আবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বেরোবিতে জাঁকজমকপূর্ণভাবে হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার সোসাইটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বেরোবি সংবাদদাতা

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:০৪ পি.এম


বেরোবিতে জাঁকজমকপূর্ণভাবে হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার সোসাইটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) উৎসবমুখর পরিবেশে হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার সোসাইটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে।

রোববার (২ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মিডিয়া চত্বরে রংপুর জেলা শাখা ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখার যৌথ আয়োজনে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মিডিয়া চত্বরে কেক কেটে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার সোসাইটি রংপুর জেলা শাখা ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ অন্যান্য সদস্যরা।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রংপুর জেলা হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার সোসাইটির সভাপতি সাজ্জাদুর রহমান বলেন, মানবাধিকার সুরক্ষায় আমাদের এই কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। শুধু আমাদের একার পক্ষে এই অধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব নয়, এজন্য সরকারসহ সমাজের সকল স্তরের মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। সকলে সচেতন হলেই একটি মানবাধিকারবান্ধব সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।

বেরোবি শাখার সভাপতি মো আবুল খায়ের জায়ীদ বলেন, “মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা ও সুরক্ষায় তরুণ প্রজন্মের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসসহ সমাজের সর্বস্তরে মানবাধিকার বিষয়ে সচেতনতা তৈরি এবং মানুষের অধিকার রক্ষায় কাজ করতে চাই। অন্যায়, বৈষম্য ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকার পাশাপাশি অসহায় ও অধিকারবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোই আমাদের মূল লক্ষ্য। এ কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে সবার সহযোগিতা কামনা করছি।”

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পুষ্টিমানসম্পন্ন খাদ্য উৎপাদনের জন্য জৈব ও রাসায়নিক সারের সমন্বিত ব্যবহারের পরামর্শ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:০৪ পি.এম


পুষ্টিমানসম্পন্ন খাদ্য উৎপাদনের জন্য জৈব ও রাসায়নিক সারের সমন্বিত ব্যবহারের পরামর্শ

বাংলাদেশ খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করলেও পুষ্টিমানসম্পন্ন খাদ্য নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এখনো পিছিয়ে রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে রাসায়নিক সার ব্যবহারের ফলে মাটির উর্বরতা হ্রাস পাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা, পুষ্টিমানসম্পন্ন ফসল উৎপাদন এবং টেকসই কৃষিব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য বিশেষজ্ঞরা জৈব ও রাসায়নিক সারের সমন্বিত ব্যবহার বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন। তারা জৈব সার উৎপাদন ও ব্যবহারে ভর্তুকি দেওয়ার পাশাপাশি উদ্যোক্তাদের নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ করার এবং সারের মান নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।

সোমবার (২ নভেম্বর) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘সুস্থ মাটি, ফসল ও পরিবেশের জন্য জৈব সার উৎপাদনকে উৎসাহিত করা এবং ভর্তুকি প্রদান’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে বিশেষজ্ঞ ও নীতিনির্ধারকেরা এসব বিষয় তুলে ধরেন।

একশনএইড বাংলাদেশ, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটসহ (বারি) ২০টি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা এবং পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে এই বৈঠক আয়োজন করা হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস, এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজির শিক্ষক অধ্যাপক আবদুল করিম। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বারির জ্যেষ্ঠ বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এম. নাজিম উদ্দিন এবং গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকাবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও ইনস্টিটিউট অব ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টের পরিচালক মো. মিজানুর রহমান।

বৈঠকে কৃষি মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবিরা সুলতানা বলেন, "একজন মাকে সুস্থ রাখতে পারলে যেমন সুস্থ সন্তানের জন্ম নিশ্চিত করা সম্ভব, তেমনি মাটির স্বাস্থ্য ভালো রাখতে পারলে পুষ্টিমানসম্পন্ন ফসল উৎপাদন করা যাবে।" তিনি জৈব সারের মান নিশ্চিত করে তা বাজারজাত করার গুরুত্বও তুলে ধরেন।

কৃষকদের কাছে সরকারি সেবা পৌঁছে দিতে কৃষি কার্ডের উদ্যোগ নেওয়ার কথা উল্লেখ করে সাবিরা সুলতানা বলেন, "এ ক্ষেত্রে প্রকৃত কৃষক নির্বাচন এবং তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী সেবা নিশ্চিত করতে হবে।"

জৈব সার উৎপাদনকারী উদ্যোক্তাদের নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ করার প্রস্তাব দেন বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পরিচালক মো. আনোয়ার ফারুক। তিনি বলেন, "কৃষিব্যবস্থাকে টেকসই করতে প্রাকৃতিক পদ্ধতির বিকল্প নেই।" তিনি মাটির স্বাস্থ্য ও কাঙ্ক্ষিত পিএইচ মাত্রা বজায় রাখতে জৈব বালাইনাশক ও জৈব সারের সুষম ব্যবহার জরুরি বলে উল্লেখ করেন। তবে কৃষকদের কাছে সময়মতো বিজ্ঞানসম্মত তথ্য পৌঁছে দেওয়া এখনো বড় চ্যালেঞ্জ।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের নির্বাহী চেয়ারম্যান এম. আব্দুস সালাম জৈব সার উৎপাদনকারী উদ্যোক্তাদের নিবন্ধন প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি এ প্রক্রিয়া সহজ করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতামতও জানতে চান।

একশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ্ কবির বলেন, "পুষ্টিমানসম্পন্ন খাদ্য নিশ্চিত করতে মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা এবং জৈব সারের ব্যবহার বাড়ানো জরুরি।" তিনি সারের মান নিয়ন্ত্রণ, বাজারজাতকরণে অনিয়ম দূর করা এবং উদ্যোক্তাদের প্রশাসনিক জটিলতা কমাতে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

বৈঠকে আরও বক্তব্য দেন বারির সাবেক মহাপরিচালক এম. শহিদুল ইসলাম, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ডিন অধ্যাপক এম. জহির উদ্দিন, বারির উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের সাবেক পরিচালক শাহাবুদ্দিন আহমেদ, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক মো. আসাদুল্লাহ এবং ন্যাশনাল অ্যাগ্রিকালচারাল ট্রেনিং একাডেমির (নাটা) মহাপরিচালক এম. সাইফুল আলম খান।

দিনব্যাপী এই বৈঠকে জৈব সার উৎপাদনকারী উদ্যোক্তাদের জন্য ভর্তুকির নীতিমালা প্রণয়ন, নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ করা, মাটি পরীক্ষার ভিত্তিতে সারের প্রয়োগমাত্রা নির্ধারণ এবং কৃষকের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়। বক্তারা জৈব সারের মান নিয়ন্ত্রণ ও সুষ্ঠু বাজারজাতকরণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২২শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৮
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪২
মাগরিব ০৫:১৮
ইশা ০৬:৩১
সূর্যোদয় : ০৬:০৫ সূর্যাস্ত : ০৫:১৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%