ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৮ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২২শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ০৩ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৮ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

পুষ্টিমানসম্পন্ন খাদ্য উৎপাদনের জন্য জৈব ও রাসায়নিক সারের সমন্বিত ব্যবহারের পরামর্শ


পুষ্টিমানসম্পন্ন খাদ্য উৎপাদনের জন্য জৈব ও রাসায়নিক সারের সমন্বিত ব্যবহারের পরামর্শ

বাংলাদেশ খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করলেও পুষ্টিমানসম্পন্ন খাদ্য নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এখনো পিছিয়ে রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে রাসায়নিক সার ব্যবহারের ফলে মাটির উর্বরতা হ্রাস পাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা, পুষ্টিমানসম্পন্ন ফসল উৎপাদন এবং টেকসই কৃষিব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য বিশেষজ্ঞরা জৈব ও রাসায়নিক সারের সমন্বিত ব্যবহার বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন। তারা জৈব সার উৎপাদন ও ব্যবহারে ভর্তুকি দেওয়ার পাশাপাশি উদ্যোক্তাদের নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ করার এবং সারের মান নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।

সোমবার (২ নভেম্বর) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘সুস্থ মাটি, ফসল ও পরিবেশের জন্য জৈব সার উৎপাদনকে উৎসাহিত করা এবং ভর্তুকি প্রদান’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে বিশেষজ্ঞ ও নীতিনির্ধারকেরা এসব বিষয় তুলে ধরেন।

একশনএইড বাংলাদেশ, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটসহ (বারি) ২০টি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা এবং পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে এই বৈঠক আয়োজন করা হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস, এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজির শিক্ষক অধ্যাপক আবদুল করিম। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বারির জ্যেষ্ঠ বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এম. নাজিম উদ্দিন এবং গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকাবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও ইনস্টিটিউট অব ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টের পরিচালক মো. মিজানুর রহমান।

আরও পড়ুন: মৌলভীবাজারে ১৬ বছর বয়সী কিশোরীকে জিম্মি করে ধর্মান্তর ও ধর্ষণের অভিযোগে মানববন্ধন

বৈঠকে কৃষি মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবিরা সুলতানা বলেন, "একজন মাকে সুস্থ রাখতে পারলে যেমন সুস্থ সন্তানের জন্ম নিশ্চিত করা সম্ভব, তেমনি মাটির স্বাস্থ্য ভালো রাখতে পারলে পুষ্টিমানসম্পন্ন ফসল উৎপাদন করা যাবে।" তিনি জৈব সারের মান নিশ্চিত করে তা বাজারজাত করার গুরুত্বও তুলে ধরেন।

কৃষকদের কাছে সরকারি সেবা পৌঁছে দিতে কৃষি কার্ডের উদ্যোগ নেওয়ার কথা উল্লেখ করে সাবিরা সুলতানা বলেন, "এ ক্ষেত্রে প্রকৃত কৃষক নির্বাচন এবং তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী সেবা নিশ্চিত করতে হবে।"

জৈব সার উৎপাদনকারী উদ্যোক্তাদের নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ করার প্রস্তাব দেন বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পরিচালক মো. আনোয়ার ফারুক। তিনি বলেন, "কৃষিব্যবস্থাকে টেকসই করতে প্রাকৃতিক পদ্ধতির বিকল্প নেই।" তিনি মাটির স্বাস্থ্য ও কাঙ্ক্ষিত পিএইচ মাত্রা বজায় রাখতে জৈব বালাইনাশক ও জৈব সারের সুষম ব্যবহার জরুরি বলে উল্লেখ করেন। তবে কৃষকদের কাছে সময়মতো বিজ্ঞানসম্মত তথ্য পৌঁছে দেওয়া এখনো বড় চ্যালেঞ্জ।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের নির্বাহী চেয়ারম্যান এম. আব্দুস সালাম জৈব সার উৎপাদনকারী উদ্যোক্তাদের নিবন্ধন প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি এ প্রক্রিয়া সহজ করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতামতও জানতে চান।

আরও পড়ুন: ১১ জেলায় ৮৭৯ জন গ্রেপ্তার, ৩০৩ কিশোর অভিভাবকের জিম্মায় মুক্ত

একশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ্ কবির বলেন, "পুষ্টিমানসম্পন্ন খাদ্য নিশ্চিত করতে মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা এবং জৈব সারের ব্যবহার বাড়ানো জরুরি।" তিনি সারের মান নিয়ন্ত্রণ, বাজারজাতকরণে অনিয়ম দূর করা এবং উদ্যোক্তাদের প্রশাসনিক জটিলতা কমাতে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

বৈঠকে আরও বক্তব্য দেন বারির সাবেক মহাপরিচালক এম. শহিদুল ইসলাম, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ডিন অধ্যাপক এম. জহির উদ্দিন, বারির উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের সাবেক পরিচালক শাহাবুদ্দিন আহমেদ, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক মো. আসাদুল্লাহ এবং ন্যাশনাল অ্যাগ্রিকালচারাল ট্রেনিং একাডেমির (নাটা) মহাপরিচালক এম. সাইফুল আলম খান।

দিনব্যাপী এই বৈঠকে জৈব সার উৎপাদনকারী উদ্যোক্তাদের জন্য ভর্তুকির নীতিমালা প্রণয়ন, নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ করা, মাটি পরীক্ষার ভিত্তিতে সারের প্রয়োগমাত্রা নির্ধারণ এবং কৃষকের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়। বক্তারা জৈব সারের মান নিয়ন্ত্রণ ও সুষ্ঠু বাজারজাতকরণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেন।

আরও পড়ুন: বেনাপোলে পাসপোর্ট যাত্রীর ১৩ হাজার টাকা ছিনতাই, দুই ব্যক্তি আটক

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মৌলভীবাজারে ‘জিন্নী মুমিনের’ নামে প্রতারণা, ৪ জন গ্রেফতার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:০৫ পি.এম


মৌলভীবাজারে ‘জিন্নী মুমিনের’ নামে প্রতারণা, ৪ জন গ্রেফতার

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় ‘জিন্নী মুমিনের’ নামে অভিনব কৌশলে একটি নারীর কাছ থেকে দুই দফায় ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকার স্বর্ণালংকার আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করেছে এবং উদ্ধার করা হয়েছে স্বর্ণালংকারও।

গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন: বড়লেখা উপজেলার আহমদপুর গ্রামের করবুল নেছা, হিনাইনগর গ্রামের তাজ উদ্দিন, জুড়ী উপজেলার আমতৈল গ্রামের বিজয় বৈদ্য এবং হরিরামপুর গ্রামের রিপন মিয়া।

সোমবার (২ নভেম্বর) বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, প্রথমবার গত ৩ আগস্ট অজ্ঞাত পরিচয়ে এক নারী বড়লেখার হিনাইনগর গ্রামের রোকেয়া বেগমকে ফোন করে জানান, তার অসুস্থ ছেলেকে কথিত জিন্নী মুমিন দ্বারা সুস্থ করে দিতে সক্ষম। তবে এর জন্য কিছু শর্ত মানতে হবে এবং বিষয়টি কাউকে জানাতে নিষেধ করা হয়। যদি কাউকে এ বিষয়ে জানান, তাহলে তার ছেলের ক্ষতি হবে বলেও ভয় দেখানো হয়।

ওসি আরও জানান, রোকিয়া বেগম ছেলের সুস্থতার জন্য ওই নারীর কথায় বিশ্বাস করেন। এরপর বসতঘরের পেছনের ডিপ টিউবওয়েলের ম্যানহোলের ঢাকনার ওপর একটি পরিষ্কার বাটিতে স্বর্ণালংকার রেখে আসেন। দুই ঘণ্টা পর তিনি দেখেন স্বর্ণালংকারগুলো নেই। বিষয়টি জানতে অজ্ঞাত নারীকে ফোন করলে তাকে জানানো হয়, জিন্নী মুমিন স্বর্ণালংকার নিয়ে গেছে। তবে এক মাসের মধ্যে তার ছেলে সুস্থ হবে এবং স্বর্ণালংকারগুলো ফিরে পাবেন।

গত ১৬ অক্টোবর একই নারী পুনরায় ফোন করে আরও স্বর্ণালংকার একই স্থানে রাখতে বলেন। তবে এবার ভয় দেখানো হয় যে, যদি স্বর্ণালংকার না রাখেন তাহলে তার ছেলে পাগল হয়ে যাবে। এ সময় আরও জানানো হয়, এক ঘণ্টার মধ্যে আগের স্বর্ণালংকারসহ সব ফেরত দেয়া হবে। রোকেয়া বেগম তার ছেলের ক্ষতির কথা ভেবে দ্বিতীয়বার আবারও একই স্থানে স্বর্ণালংকার রেখে আসেন। তবে আবারও তিনি দেখেন স্বর্ণালংকার নেই।

এভাবে দুই দফায় রোকেয়া বেগমের কাছ থেকে ৫ ভরি ৬ আনা ২ রতি ২ পয়েন্ট ওজনের স্বর্ণালংকার আত্মসাৎ করা হয়। এর আনুমানিক বাজার দর ১১ লাখ ৭৪ হাজার ৭১২ টাকা।

এ ব্যাপারে রোকেয়া বেগম ১ নভেম্বর (রোববার) বড়লেখা থানায় মামলা করেন। পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে পৃথক স্থান থেকে তাদের গ্রেফতার করে। সেইসঙ্গে তাদের কাছ থেকে স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত মালামালের মধ্যে রয়েছে একটি সিতাহার, দুই জোড়া ঝুমকা ও একটি আংটি।

পুলিশ বড়লেখা ও জুড়ী থানা এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রনির সেঞ্চুরিতে চট্টগ্রামের বিপক্ষে ময়মনসিংহের ৭ রানের লিড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:০৫ পি.এম


আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রনির সেঞ্চুরিতে চট্টগ্রামের বিপক্ষে ময়মনসিংহের ৭ রানের লিড

এবিজি স্পোর্টস সিটির আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) দ্বিতীয় একাদশের ৬ষ্ঠ রাউন্ডের দ্বিতীয় দিনে, ময়মনসিংহ দ্বিতীয় একাদশ রনি চৌহানের সেঞ্চুরি ও আরফান শাকিলের দায়িত্বশীল ফিফটিতে প্রথম ইনিংসে ৩১২ রান সংগ্রহ করেছে। এই রান চট্টগ্রাম বিভাগের ৩০৫ রানের জবাবে ৭ রানের লিড এনে দিয়েছে ময়মনসিংহকে।

রবিবার, তিন দিনের ম্যাচে চট্টগ্রাম বিভাগের ৩০৫ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বিপদে পড়ে ময়মনসিংহ। মাত্র ২৭ রানে তারা প্রথম তিন উইকেট হারায়। আশফিকুল আলম মাহিন ১, মাজহারুল ইসলাম শূন্য এবং ইমরান ফাহাদ আনন্দ ৯ রান করে আউট হন।

তবে প্রাথমিক ধাক্কা কাটিয়ে রনি মাহাথির মোহাম্মদকে সঙ্গে নিয়ে ৮৫ রানের একটি জুটি গড়েন। ১০৫ বল মোকাবিলা করে ৮টি চার ও ৭টি ছক্কায় ১২৪ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন রনি। মাহাথিরের ব্যাট থেকে আসে ২৩ রান। ১২৪ রানের ইনিংস খেলে শাহরিয়ার আহমেদের হাতে আউট হন তিনি।

মিডল অর্ডারে তায়েব আলম দিগন্ত ৩১ ও মুসাব্বির হোসেন মুন ১০ রান করেন। এরপর লোয়ার মিডল অর্ডারে দলের হাল ধরেন আরফান শাকিল, যিনি ৭টি চারে ৫৭ রান করে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। শেষ দিকে তানভীর আনজুমের ২৬ রানের অপরাজিত ইনিংসে ৯৩ ওভারে ৩১২ রানে অলআউট হয় ময়মনসিংহ।

চট্টগ্রামের হয়ে মো. নোবায়েত আলম ৮৪ রানে সর্বোচ্চ ৪ উইকেট নেন। শাহরিয়ার আহমেদ ও ফাহাদ হোসেন দুটি করে উইকেট শিকার করেন।

এর আগে, ময়মনসিংহের বোলারদের দাপটে প্রথম ইনিংসে চট্টগ্রাম দ্বিতীয় একাদশ ৩০৫ রানে অলআউট হয়। চট্টগ্রামের হয়ে ইরফান সাবরি তাকরীর ৯৫ ও ওমর হাসান ৫২ রান করেন। তানভীর আনজুম ৫টি এবং রাকিবুল আতিক ৪টি উইকেট নেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সৌদি আরবে বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য সরকারের জরুরি দিকনির্দেশনা প্রকাশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:০৬ পি.এম


সৌদি আরবে বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য সরকারের জরুরি দিকনির্দেশনা প্রকাশ

বাংলাদেশি শ্রমজীবীদের জন্য প্রধান গন্তব্যস্থল সৌদি আরব। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশে প্রায় ৩৫ লাখ বাংলাদেশি কর্মরত আছেন, যাদের থেকে দেশে রেমিট্যান্সের একটি বড় অংশ আসছে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য করণীয় ও বর্জনীয় বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রকাশ করা হয়েছে।

সোমবার (২ নভেম্বর) প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় তাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে সৌদি প্রবাসীদের জন্য বিস্তারিত দিকনির্দেশনা সংবলিত জরুরি বার্তা প্রকাশ করেছে।

সরকারের পক্ষ থেকে সৌদি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য দেওয়া দিকনির্দেশনাগুলো নিম্নরূপ—

বিদেশ যাত্রার আগে

১। ভিসা, নিয়োগকর্তা ও নিয়োগচুক্তি ভালোভাবে যাচাই করুন।

২। বিএমইটি ছাড়পত্র, প্রশিক্ষণ ও মেডিকেল টেস্ট সম্পন্ন করুন।

৩। পাসপোর্টসহ গুরুত্বপূর্ণ কাগজ দেশে ও নিজ হেফাজতে রাখুন।

৪। দালালের মৌখিক আশ্বাসে টাকা দেবেন না।

৫। ভিজিট ভিসায় কাজের জন্য যাবেন না।

৬। পাসপোর্ট নিয়োগকর্তা বা অন্য কারও কাছে রাখবেন না।

ইকামা ও কাগজপত্র

১। ইকামা সঙ্গে রাখুন ও Absher-এ মেয়াদ চেক করুন।

২। QIWA-তে নিয়োগচুক্তি ও ওয়ার্ক পারমিট যাচাই করুন।

৩। পাসপোর্টের মেয়াদ ৬ মাস বাকি থাকতে নবায়ন বা রিইস্যু করুন।

৪। না বুঝে বা সাদা কাগজে কখনো সই বা টিপসই দেবেন না।

৫। OTP ও পাসওয়ার্ড কাউকে দেবেন না।

৬। ইকামা নবায়ন নিয়োগকর্তার দায়িত্ব, কাউকে টাকা দেবেন না।

চুক্তি, বেতন ও অধিকার

১। নিয়োগচুক্তির কপি ও কাজের প্রমাণ সংরক্ষণ করুন।

২। ব্যাংকিং চ্যানেলে বেতন নিন, স্টেটমেন্ট সংরক্ষণ রাখুন।

৩। সমস্যা হলে মকতব আমল (১৯৯১১) বা দূতাবাসকে জানান।

৪। ‘স্কিল ভিসা’য় বা নিজ নিয়োগকর্তার বাইরে কাজ করবেন না।

৫। নিয়োগকর্তার সঙ্গে বিরোধ হলে কর্মস্থল থেকে পালাবেন না।

৬। কর্মবিরতি, ধর্মঘট বা কাজে বাধা দেবেন না।

চাকরি পরিবর্তন ও দেশে ফেরা

১। QIWA-প্ল্যাটফর্মে বৈধভাবে চাকরি ট্রান্সফার করুন।

২। দেশে ফেরার আগে জরিমানা ও ট্রাভেল ব্যান যাচাই করুন।

৩। দেশে ফেরার আগে মোবাইল সিম ও অ্যাকাউন্ট বন্ধ করুন।

৪। ৪০ হাজার রিয়াল বা এর বেশি নগদ/সোনা কাস্টমসে ঘোষণা করুন।

৫। অনুমোদনের আগে নতুন কাজে যোগ দেবেন না।

৬। ভিসা ইস্যু যাচাই না করে বিমানবন্দরে যাবেন না।

৭। Final Exit ভিসার নির্ধারিত মেয়াদ অতিবাহিত করবেন না।

৮। টাকার বিনিময়ে অন্যের সোনা বা মোবাইল বহন করবেন না।

জনসমক্ষে আচরণ

১। শালীন পোশাক ও ভদ্র আচরণ বজায় রাখুন।

২। লাইনে দাঁড়ান, বয়স্কদের সালাম দিন ও সম্মান করুন।

৩। পুলিশ চাইলে শান্তভাবে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখান।

৪। রাস্তায় থুতু, পানের পিক ও ময়লা ফেলবেন না বা প্রস্রাব করবেন না।

৫। প্রকাশ্যে ঝগড়া, গালাগালি, মারামারি করবেন না।

৬। জাতি, দেশ বা গায়ের রং নিয়ে কটূক্তি করবেন না।

শিশু, নারী ও প্রতিবেশী

১। অচেনা শিশুকে দূর থেকে সম্বোধন করুন বা সালাম নিন।

২। দৃষ্টি সংযত ও দূরত্ব বজায় রাখুন।

৩। হারানো শিশু পেলে নিরাপত্তাকর্মী বা পুলিশকে জানান।

৪। পুরুষ সদস্যের উপস্থিতিতে বাসায় কাজে প্রবেশ করুন।

৫। অপরিচিত বা প্রতিবেশীর বাড়িতে অনুমতি নিয়ে প্রবেশ করুন।

৬। বাচ্চাদের আদর, স্পর্শ, কোলে নেওয়া বা খাবার দেবেন না।

৭। নারীদের দিকে তাকিয়ে থাকা, পিছু নেওয়া, স্পর্শ করা বা অন্য কোনোভাবে হয়রানি করবেন না।

৮। অচেনা নারীর কাছে নম্বর চাওয়া বা মেসেজ পাঠাবেন না।

৯। মার্কেটে বা পার্কের ফ্যামিলি সেকশনে পুরুষরা একা ঢুকবেন না এবং প্রতিবেশীর বাড়িতে উঁকি দেবেন না।

ধর্ম ও সংস্কৃতি

১। নামাজের সময় কাজ বন্ধ রাখুন ও নামাজ আদায় করুন।

২। রমজানে দিনে প্রকাশ্যে খাওয়া-ধূমপান থেকে বিরত থাকুন।

৩। ডান হাতে খাবার ও জিনিস আদান-প্রদান করুন।

৪। মসজিদে মোবাইল নীরব রাখুন।

৫। ধর্ম, রাজপরিবার বা সরকার নিয়ে মন্তব্য ও পোস্ট করবেন না।

৬। মিছিল, সমাবেশ, ধর্মঘটে যাবেন না।

৭। তাবিজ-কবচ, তন্ত্র-মন্ত্র বা কবিরাজি করবেন না।

৮। মসজিদে কোনো ধর্মীয় সংগঠনের কার্যক্রম চালাবেন না।

ছবি, ভিডিও ও অনলাইন ব্যবহার

১। কোনো খবর শেয়ার করার আগে যাচাই করুন।

২। কঠিন পাসওয়ার্ড ও দুই ধাপের নিরাপত্তা কোড ব্যবহার করুন।

৩। শুধু অফিসিয়াল অ্যাপ ব্যবহার করুন।

৪। ভিপিএন ব্যবহারে বিরত থাকুন।

৫। অনুমতি ছাড়া শিশু, নারী, পরিবারের ছবি তুলবেন না।

৬। গুজব, অশ্লীল ভিডিও বা মিম ফরোয়ার্ড করবেন না।

৭। ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, প্রতিরোধ, আঘাতস্থল, নিরাপত্তা-সংবেদনশীল স্থানের ছবি-ভিডিও গ্রহণ, সংরক্ষণ ও শেয়ার করবেন না।

সড়ক ও ট্রাফিক

১। বৈধ লাইসেন্স ও গাড়ির বিমা নিশ্চিত করুন।

২। সিটবেল্ট ও গতিসীমা মেনে চলুন।

৩। দুর্ঘটনায় নাজম ও পুলিশ রিপোর্ট নিন।

৪। ট্রাফিক সাইন অনুসরণ করুন।

৫। লাইসেন্স বা বিমা ছাড়া গাড়ি চালাবেন না।

৬। চালানোর সময় মোবাইল ব্যবহার করবেন না।

৭। ট্রাফিক জরিমানা বকেয়া রাখবেন না।

৮। নিজের গাড়ির দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থল ছেড়ে যাবেন না।

দুর্ঘটনা ও আহত ব্যক্তি

১। দুর্ঘটনা হলে ৯৯৭ (অ্যাম্বুলেন্স) বা ৯১১ ও ৯৯৯-এ ফোন করুন।

২। উদ্ধারকারীদের জন্য পথ খালি রাখুন।

৩। সাক্ষী হলে যা দেখেছেন শুধু তা সত্যভাবে বলুন।

৪। প্রাণঝুঁকি না থাকলে আহত ব্যক্তিকে টেনে তুলবেন না।

৫। দুর্ঘটনাস্থলে ভিড় বা ছবি-ভিডিও করবেন না।

৬। আহত বা মৃতের মোবাইল-টাকায় হাত দেবেন না।

অর্থ, ঋণ ও সঞ্চয়

১। শুধু ব্যাংক ও অনুমোদিত এক্সচেঞ্জে টাকা পাঠান।

২। প্রতি মাসে কিছু সঞ্চয় করুন।

৩। বিল ও ঋণ সময়মতো পরিশোধ করুন।

৪। অনুমোদিত সিলিংয়ের (সীমা) মধ্যে টাকা পাঠান।

৫। হুন্ডিতে টাকা পাঠাবেন না।

৬। নিজের সিম, কার্ড বা অ্যাকাউন্ট অন্যকে দেবেন না।

৭। অন্যের ঋণের জামিনদার হবেন না।

৮। অন্যের নামে ব্যবসা করবেন না।

কমিউনিটি ও ক্যাম্প জীবন

১। কমিউনিটির সঙ্গে সদ্ভাব রাখুন, দেশের সুনাম অক্ষুণ্ণ রাখুন।

২। অনুষ্ঠান বা সভার আগে অনুমতির নিয়ম জেনে নিন।

৩। ময়লা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলুন, অন্যের পথ আটকে পার্কিং নয়।

৪। অনুমতি ছাড়া চাঁদা বা অর্থ সংগ্রহ করবেন না।

৫। ব্যাচেলর ক্যাম্প বা বাসায় নারী অতিথি আনবেন না।

৬। আতশবাজি ফোটাবেন না, গাছ কাটবেন না ও শিকার করবেন না।

ওষুধ ও মাদক

১। দেশ থেকে ওষুধ নিয়ে আসতে SFDA-এর অনুমতি নিন।

২। ওষুধের প্রেসক্রিপশন ও মূল প্যাকেট সঙ্গে রাখুন।

৩। SFDA-এর অনুমতির লিংক https://cds.sfda.gov.sa

৪। অন্যের দেওয়া প্যাকেট, ব্যাগ ও ওষুধ বহন করবেন না।

৫। মদ ও জুয়া থেকে দূরে থাকুন। মাদকে মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে।

৬। প্রেসক্রিপশন বহির্ভূত ও অতিরিক্ত পরিমাণে ওষুধ আনবেন না।

স্বাস্থ্য ও কর্মস্থলের নিরাপত্তা

১। গরমের সময় প্রচুর পানি পান করুন ও গরমে ছায়ায় বিশ্রাম নিন।

২। হেলমেট, সেফটি বেল্ট ও সুরক্ষাসামগ্রী ব্যবহার করুন।

৩। বিদ্যুৎ ও অগ্নি নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করুন।

৪। ১৫ জুন থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত রোদে কাজ করবেন না।

৫। বন্ধ ঘরে চুলা জ্বালিয়ে ঘুমাবেন না।

৬। বৈদ্যুতিক লাইন বা সকেটে ধারণক্ষমতার বেশি লোড দেবেন না।

উমরাহ-হজ, পরিবার ও বিয়ে

১। নুসুক অ্যাপে অনুমতি নিয়ে উমরাহ-হজ ও জিয়ারাহ করুন।

২। বিয়ে আইনসম্মতভাবে নিবন্ধন করুন।

৩। সন্তানের জন্মনিবন্ধন করুন।

৪। অনুমতি ছাড়া হজ করবেন না বা হাজি বহন করবেন না।

৫। গোপন বা নিবন্ধনহীন বিয়ে করবেন না।

৬। বিয়ে বহির্ভূত সম্পর্কে জড়াবেন না।

বিপদে পড়লে

১। জরুরি অবস্থায় ৯১১ ও ৯৯৯ নম্বরে ফোন করুন।

২। দূতাবাসের শ্রমকল্যাণ উইংয়ে যোগাযোগ করুন।

৩। প্রয়োজনে দূতাবাসের অনুবাদ ও আইনি সহায়তা নিন।

৪। না বুঝে আরবি কাগজে সই করবেন না।

৫। পুলিশের সঙ্গে তর্ক ও ঝগড়ায় লিপ্ত হবেন না।

৬। সমস্যা সমাধানের জন্য কোনো দালালকে টাকা দেবেন না।

জরুরি নম্বর

৯১১ (রিয়াদ, মক্কা, মদিনা ও পূর্বাঞ্চল)। ৯৯৯ (অন্যান্য অঞ্চল)। অ্যাম্বুলেন্স ৯৯৭। অগ্নি ৯৯৮। ট্রাফিক ৯৯৩। শ্রম অভিযোগ ১৯৯১১। দূতাবাসের শ্রমকল্যাণ ৮০০১০০০১২৫, কনস্যুলার ৮০০১০০০১২৬। প্রবাসবন্ধু ১৬১৩৫।

পরিশেষে বিজ্ঞপ্তিতে সৌদি প্রবাসীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়েছে, বৈধভাবে থাকুন, আইন মেনে চলুন, লেনদেনে প্রমাণ রাখুন, বিপদে একা সিদ্ধান্ত না নিয়ে দূতাবাস ও কর্তৃপক্ষের সাহায্য নিন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভাণ্ডারিয়ায় ফুটপাত দখলমুক্ত করতে প্রশাসনের অভিযান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভান্ডারিয়া ( পিরোজপুর) প্রতিনিধি

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:০৬ পি.এম


ভাণ্ডারিয়ায় ফুটপাত দখলমুক্ত করতে প্রশাসনের অভিযান

পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া পৌর শহরে ফুটপাত, ড্রেন ও সড়ক দখল করে ব্যবসা পরিচালনার বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। এ সময় অবৈধভাবে সড়ক ও ফুটপাত দখলকারী ব্যবসায়ীদের সতর্ক করে ভবিষ্যতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
সোমবার দুপুরে পৌর শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বাজারে এ অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসিবুল হাসান।
অভিযানে শহরের জুতাপট্টি এলাকায় ড্রেনের ওপর ব্যাগ ও জুতার অ্যাঙ্গেল ঝুলিয়ে রাখা, প্রধান সড়কের ফুটপাত দখল করে কাঁচামাল বিক্রি, মাছবাজারের প্রবেশমুখে রাস্তার পাশে টেবিল বসিয়ে শাকসবজি ও কাঁচামাল বিক্রি এবং কাঠপট্টি রোডে সড়কের ওপর কাঠ রেখে চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির চিত্র দেখা যায়।
এসব অবৈধ দখলের কারণে সাধারণ পথচারী ও ক্রেতাদের চলাচলে ভোগান্তি হচ্ছিল। অভিযানকালে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের এসব দখল ও প্রতিবন্ধকতা থেকে বিরত থাকতে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়।

অভিযানে পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্য, পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারী, ভাণ্ডারিয়া উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আবুল কালাম আজাদ জোমাদ্দার এবং স্থানীয় বাজার কমিটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাসিবুল হাসান বলেন, ভবিষ্যতে কেউ আবার ফুটপাত ও সড়ক দখল করে অবৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা করলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২২শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৮
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪২
মাগরিব ০৫:১৮
ইশা ০৬:৩১
সূর্যোদয় : ০৬:০৫ সূর্যাস্ত : ০৫:১৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%