০৫:৪১ পি.এম
মেহেরপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে আকস্মিকভাবে পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের আমির তাজ উদ্দিন খান। এসময় বিএনপির এক কর্মীকে দেখে জামায়াতের নেতাকর্মীরা 'দালাল' বললে তাদের মধ্যে হট্টগোল শুরু হয়ে যায়।
বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে হাসপাতালের নতুন ভবনে এই ঘটনাটি ঘটে। তবে এ ঘটনায় হতাহতের কোনও খবর পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন: কক্সবাজার সাংবাদিক কল্যাণ সমিতির সভাপতি আশেক উল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান
প্রত্যক্ষদর্শী ও হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, হাসপাতালে বিভিন্ন অনিয়ম এবং আউটসোর্সিং কর্মীদের বিষয়ে খোঁজ নিতে গিয়ে সংসদ সদস্য পরিচয়পত্র এবং নিয়োগসংক্রান্ত তথ্য জানতে চান। এ সময় উপস্থিত বিএনপির এক পক্ষের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার সাথে থাকা লোকজনের বাগবিতণ্ডা শুরু হয়।
একপর্যায়ে সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত দেহরক্ষী, ছাত্রদলের এক কর্মীকে থাপ্পড় দেওয়ার পর উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়ে যায়।
খবর পেয়ে মেহেরপুর সদর থানা পুলিশের একাধিক দল ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নিরাপত্তার স্বার্থে সংসদ সদস্য তাজউদ্দিন খানকে হাসপাতাল থেকে সরিয়ে তার ব্যক্তিগত কার্যালয়ে পৌঁছে দেওয়া হয়।
এই খবর ছড়িয়ে পড়লে ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা হাসপাতাল গেটে অবস্থান নিয়ে জামায়াতবিরোধী স্লোগান দিতে শুরু করে।
আরও পড়ুন: ফটিকছড়িতে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে যুবক জিসান নিহত, আহত ৪
মেহেরপুর জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, এমপি হাসপাতালে আকস্মিক পরিদর্শনে আসেন। সেখানে আমাদের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন। এক সময় একজন দালালকে চিহ্নিত করে তাকে এখানে কে রেখেছে জানতে চাইলে জামায়াতের নেতাকর্মীরা দলবেঁধে এসে হট্টগোল সৃষ্টি করে।
এদিকে, জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি সানি আহমেদ জানান, রবি নামের তাদের এক কর্মীকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে নিয়োগ দেন। জামায়াতের কর্মীরা তাকে দেখে মারধর করলে সেখানে হট্টগোল শুরু হয়।
সদর উপজেলা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান অভিযোগ করেন, হাসপাতালের বৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মচারীদের তারা অবৈধ আখ্যা দিয়ে সংসদ সদস্যের সঙ্গে থাকা লোকজন মারধর করেছেন। এ ঘটনার জন্য তিনি নিন্দা জানান।
অন্যদিকে, জেলা জামায়াতে ইসলামীর সাধারণ সম্পাদক মো. ইকবাল হোসেন দাবি করেন, হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় অতিরিক্ত আউটসোর্সিং কর্মীদের বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রদলের এক কর্মী অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। পরে দেহরক্ষীর সঙ্গে ওই কর্মীর সংঘর্ষের জেরে ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা হামলার চেষ্টা চালান।
আরও পড়ুন: বাকেরগঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও ড্রেন পরিষ্কার কার্যক্রম
হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা. ফজলুর রহমান বলেন, এমপি হাসপাতালে ভিজিটে এসেছিলেন। নতুন ভবনের প্যাথলজিতে গিয়ে তিনি সেখানে নতুন কিছু স্বেচ্ছাসেবক দেখেছেন, যাদের এখনো আইডি কার্ড দেওয়া হয়নি। তার সঙ্গে কিছু নেতাকর্মীও ছিলেন। তারা দালাল মনে করে কিছু কথা বলেছেন। পরে উভয় পক্ষের লোকজনের সঙ্গে একটু হট্টগোল হয়ে যায়।
মেহেরপুর সদর থানার ওসি হুমায়ুন কবীর বলেন, পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং সংসদ সদস্যকে নিরাপদে তার ব্যক্তিগত কার্যালয়ে পৌঁছে দেয়। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন