জাকির হোসেন পাটোয়ারী রাজবাড়ী প্রতিনিধি
০৫:৪৯ পি.এম
রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে অনুষ্ঠিত ‘জুলাই ফটো কনটেস্ট’-এর বিজয়ীদের জন্য পুরস্কার বিতরণ করা হয়েছে।
বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে ইসলামপুর ইউনিয়নের স্বাবলম্বী ইসলামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ শহিদুল ইসলাম। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোঃ ফারুক হোসেন, বালিয়াকান্দি উপজেলা মাধ্যমিক সহকারী শিক্ষা অফিসার।
ফটো কনটেস্টে প্রথম স্থান অর্জন করেন আরাফাত ইসলাম রাতুল, দ্বিতীয় এস কে সাব্বির রহমান এবং তৃতীয় স্থানে রয়েছেন মুশতারী।
পরে প্রধান অতিথি মোঃ ফারুক হোসেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ শহিদুল ইসলাম এবং বালিয়াকান্দি টাইমসের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক তাসসীন আহমেদ মিঠু বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।
বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণ করেন প্রধান অতিথি মোঃ ফারুক হোসেন। তিনি বক্তব্যে বলেন, “সত্য ও নিষ্ঠার সঙ্গে চললে একদিন বালিয়াকান্দি টাইমস বালিয়াকান্দির মানুষের ভরসার জায়গা হয়ে উঠবে। বালিয়াকান্দি টাইমস ফেসবুক পেজের জন্য শুভকামনা রইলো।”
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ শহিদুল ইসলাম বলেন, “অল্প কিছুদিনের মধ্যেই এই অনলাইন মিডিয়া চ্যানেলটি বালিয়াকান্দির মানুষের মাঝে আস্থার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। বালিয়াকান্দি উপজেলার ঘটমান ঘটনাগুলো আমরা এই পেজের মাধ্যমে দ্রুত জানতে পারছি। এছাড়াও বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রমেও তাদের অবদান রয়েছে। আগামী দিনে এই পেজের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করি।”
বালিয়াকান্দি টাইমসের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক তাসসীন আহমেদ মিঠু বলেন, “আমি এবং আমার টিম বালিয়াকান্দি উপজেলার মানুষের আস্থার প্রতীক হয়ে দাঁড়ানোর জন্য যথেষ্ট চেষ্টা করছি। রক্তদানসহ বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রমে আমরা আরও এগিয়ে আসার চেষ্টা করছি। পাশাপাশি উপজেলার ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো দ্রুত প্রকাশের চেষ্টা করছি। ইনশাআল্লাহ, আগামী দিনে আরও ভালো কিছু করার চেষ্টা চালিয়ে যাব। এ ক্ষেত্রে বালিয়াকান্দি উপজেলার মানুষের সহযোগিতা কামনা করছি।”
অনুষ্ঠানে বালিয়াকান্দি টাইমস ফেসবুক পেজের সহকারী পরিচালক মুহাম্মাদ মামুনসহ অন্যান্য শুভাকাঙ্ক্ষী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকরা জানান, স্থানীয় মানুষের প্রতিভা ও সৃজনশীলতাকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি বালিয়াকান্দির ইতিবাচক কর্মকাণ্ড তুলে ধরতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য জোবায়েদ হোসেনের হত্যা মামলার বিচারের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
এজন্য ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতে বদলির আদেশ জারি করেছেন আদালত। আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার ব্যাপারে দিন ধার্য করা হয়েছে।
বুধবার (১২ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নাজমিন আক্তার এই মামলাটি ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে বদলির নির্দেশ দেন। বিষয়টি প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই কামাল হোসেন জানিয়েছেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত বছরের ১৯ অক্টোবর পুরান ঢাকার আরমানিটোলায় একটি টিউশনি দিতে গিয়ে জোবায়েদ খুন হন। সেই দিন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে নুর বক্স লেনের রৌশান ভিলায় শিক্ষার্থী বার্জিস শাবনাম বর্ষার বাসায় পড়াতে যান তিনি।
পরে ভবনের তৃতীয় তলার সিঁড়িতে তার রক্তাক্ত মরদেহ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে আরো খোঁজ নেওয়া হলে জানা যায়, ঘটনার পর দুই দিন পর, ২১ অক্টোবর, নিহতের বড় ভাই এনায়েত হোসেন সৈকত বাদী হয়ে বংশাল থানায় হত্যা মামলা করেন।
মামলাটি তদন্ত শেষে গত ৩০ জুন আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা মো. আশরাফ হোসেন। অভিযোগপত্রে জোবায়েদের ছাত্রী বার্জিস শাবনাম বর্ষা, তার প্রেমিক মো. মাহির রহমান এবং মাহিরের বন্ধু ফারদীন আহম্মেদ আয়লানকে আসামি করা হয়েছে।
তদন্তে এই ত্রিভুজ প্রেমের সম্পর্কের বিষয়টি উঠে এসেছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, জোবায়েদ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করার পাশাপাশি টিউশনি করতেন। ঘটনার দিন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তিনি বর্ষাকে পড়াতে রৌশান ভিলায় যান। সন্ধ্যা ৫টা ৪৮ মিনিটে বর্ষা জোবায়েদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ছোট ভাই সৈকতকে মেসেঞ্জারে খবর দেন যে, জোবায়েদকে কে বা কারা হত্যা করেছে।
পরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. কামরুল হাসান রাত সাড়ে ৭টার দিকে জোবায়েদের বড় ভাই এনায়েত হোসেনকে ফোন করে ঘটনার বিষয়ে জানান।
এনায়েত তার শ্যালক শরীফ মোহাম্মদকে সঙ্গে নিয়ে রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। সেখানে তারা ভবনের সিঁড়ি ও দেয়ালে রক্তের দাগ দেখতে পান। পরে তৃতীয় তলার সিঁড়িতে জোবায়েদের রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়।
মামলার তিন আসামিই বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আমি সেদিন বাসা থেকে বের হয়েছিলাম পুরোপুরি জীবনের অনিবার্য ঝুঁকি নিয়েই- হয় মরবো, না হয় বাঁচবো মাথা উঁচু করে।' ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের উত্তাল দিনগুলোর স্মৃতি স্মরণ করে নিজের অদম্য মানসিকতার কথা এভাবেই ব্যক্ত করেন নেত্রকোণার তরুণী সোমাইয়া আক্তার মিতু।
৪ আগস্ট নেত্রকোণা শহরের কুরপাড় এলাকায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের চলাকালে একদফা দাবিতে অংশ নিয়ে মারাত্মক হামলার মুখে পড়েন ২৪ বছর বয়সী এই তরুণী। আত্মরক্ষার্থে দৌড়ে একটি দোকানে আশ্রয় নিতে গেলে ওপরে থেকে পড়া শাটারের তীব্র আঘাতে তার কোমর ও মুখের চোয়াল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চিকিৎসকদের মতে, কোমরের পিএলআইডি (PLID) এবং চোয়ালের জয়েন্টের জটিলতার পাশাপাশি থ্যালাসেমিয়া মাইনরজনিত শারীরিক সমস্যার কারণে বর্তমানে হুইলচেয়ারেই থমকে গেছে তার স্বাভাবিক চলাচল। তবে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা ও দীর্ঘ চিকিৎসার চরম আর্থিক ভোগান্তি সত্ত্বেও অসীম আত্মত্যাগের বিনিময়ে পাওয়া নতুন বাংলাদেশে বৈষম্যহীন ও মানবিক সমাজ গড়ার স্বপ্নে তিনি অবিচল আছেন।
সোমাইয়া আকের মিতু, নেত্রকোণা শহরের প্রয়াত মোফাজ্জল হোসেন ও রেহেনা খানমের সন্তান। ৮ বোন ও ৫ ভাইয়ের বিশাল পরিবারে বেড়ে উঠা মিতু ২০১৭ সালে দত্ত উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ২০১৯ সালে নেত্রকোণা সরকারি মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন থাকলেও পরিবারিক আর্থিক বাস্তবতায় তা সফল হয়নি।
পরবর্তীতে ২০২১ সালে সরকারি নার্সিং ইনস্টিটিউটে ভর্তি হয়ে সফলভাবে ‘ডিপ্লোমা ইন নার্সিং সায়েন্স অ্যান্ড মিডওয়াইফারি’ কোর্স সম্পন্ন করেন। মানুষের সেবায় আত্মনিয়োগের লক্ষ্য নিয়ে তৈরি হওয়া এই তরুণী ২০২৪ সালের জুলাইয়ে আন্দোলনে শহীদ আবু সাঈদ ও ওয়াসিম আকরামের রক্তাক্ত ছবি দেখে ঘরে বসে থাকতে পারেননি।
রাজপথ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সোচ্চার হয়ে ওঠেন তিনি। প্রতিবাদে নানা হুমকি ও ছাত্রলীগের হেনস্তার মুখে পড়লেও পরিবারের সদস্যরা একপর্যায়ে মিতুর পাশে এসে দাঁড়ান। মিতুর এই দূরন্ত পথচলার বিষয়ে তার সহোদর বড় বোন কবি, লেখক ও উন্নয়নকর্মী তহুরা আক্তার বলেন, 'মিতু শুধু আমার ছোট বোন নয়; সে আমাদের পরিবার ও নতুন প্রজন্মের সাহস ও প্রতিবাদের এক জীবন্ত প্রতীক। আন্দোলন চলাকালে ওর নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ ছিল, নানা হুমকি-ধমকিও এসেছে। কিন্তু ওর অদম্য জেদ আর সত্যের পক্ষে দাঁড়ানোর মানসিকতা দেখে আমরা পিছু হটতে পারিনি। আমরা ওকে বলেছিলাম- ‘তুমি সবার মতো ন্যায্য প্রতিবাদ চালিয়ে যাও।’ এখন হুইলচেয়ারে থমকে গেলেও ওর চিন্তার স্বাধীনতা ও স্বপ্নের জায়গায় সে একটুও হারেনি। আমরা চাই সে দ্রুত সুস্থ হয়ে আবার নিজের পায়ে দাঁড়াক।'
এদিকে, মিতু জানান, তার বড় বোন তহুরা আক্তারের নিবিড় ছায়ার পাশাপাশি তহুরার স্বামী কবি, প্রাবন্ধিক ও সাংবাদিক স্বাধীন চৌধুরীর মুক্তচিন্তা, সততা, প্রগতিশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধের শিক্ষা তার অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর নৈতিক শক্তিকে আরও মজবুত করেছে।
২০২৪ সালের ৪ আগস্ট জেলা শহরের কুরপাড় এলাকায় গুরুতর আঘাত পাওয়ার পর মিতুর স্বাভাবিক চলাফেরার সক্ষমতা কমতে থাকে। চিকিৎসায় পরিবারের প্রায় ৬ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে এ পর্যন্ত। ৫ আগস্টের পর সহযোদ্ধাদের সঙ্গে শহরের বিভিন্ন দেয়াল গ্রাফিতি আঁকা ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নিলেও পরবর্তীতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতিকে পুঁজি করে সুবিধা নিতে চাওয়া সুযোগসন্ধানী ভুয়া আন্দোলনকারীদের অপতৎপরতার বিরুদ্ধে কথা বলায় নতুন করে সাইবার বুলিং ও হেনস্তার শিকার হন তিনি। অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় সাবাবা হক প্রাপ্তিসহ তাদের সক্রিয় নারী শিক্ষার্থীদের ওপর অপপ্রচারের বিষয়ে স্থানীয় সেনাক্যাম্পে লিখিত অভিযোগ জানালে কর্তৃপক্ষে অভিযুক্তদের ডেকে আনা হয় এবং মিতুর সামনে ক্ষমা চাওয়া ও ভবিষ্যতে হেনস্তা না করার লিখিত অঙ্গে রাখা হয়।
নিজের শারীরিক কষ্ট ও আন্দোলনের অবদানকে কোথাও বিক্রি না করে নীরব থেকে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার এই বিরল দৃষ্টান্ত সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরেন নিশাত তাবাসসুম প্রাপ্তি।
এই বিষয়টি সিএমএইচে আহতদের প্রতিনিধি হিসেবে সিনিয়র প্রতিনিধি নুসরাত জাহানের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে পৌঁছালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিশেষ নির্দেশে এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধানের সরাসরি তত্ত্বাবধানে সিএমএইচে মিতুর উন্নত চিকিৎসার সুব্যবস্থা করা হয়।
২০২৬ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ আমন্ত্রণে যোগ দেন মিতু। কিন্তু সময়সূচির কারণে বক্তব্য বাদ পড়ে যায়। বিষয়টি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজে প্রত্যক্ষ করেন এবং পরবর্তীতে মিতুকে ডেকে নেন।
প্রধানমন্ত্রী তার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিয়ে বলেন, 'সোমাইয়া, তোমার শরীরের কী অবস্থা এখন? তোমার কথা তো অনেক শুনলাম!' জবাবে মিতু বলেন, 'খানিকটা উন্নতি হলে আবার অবনতি হয়, এভাবেই চলছে সিএমএইচে চিকিৎসা। দেখা যাক, আল্লাহ ভরসা।' তখন প্রধানমন্ত্রী তাকে আশ্বস্ত করে বলেন, 'আমি সেনাপ্রধানকে বলে দিয়েছি তোমার সকল প্রকার চিকিৎসা যেন সঠিকভাবে চলে সে ব্যবস্থা নিতে। তোমার উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশের বাহিরে যেতে হলে আমি আমার নিজের অর্থায়নে বাহিরে পাঠাবো, চিন্তা করো না।'
প্রধানমন্ত্রীর এই আশ্বাসের জবাবে মিতু নিজের ব্যক্তিগত সুবিধার চেয়ে দেশ ও নারীদের নিরাপত্তার কথা তুলে ধরে বলেন, 'ধন্যবাদ স্যার, লাগবে না। আপনাদের দোয়া চাই এবং একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে, একজন নারী হিসেবে আমাদের নিরাপত্তা চাই।
তিনি আরও বলেন, ৫ আগস্টের পর নতুন বাংলাদেশ তো আমরা এমন চাইনি, যেখানে নারীদের নিরাপত্তা দিন দিন কমতে শুরু করবে কিংবা অন্যায়ের প্রতিবাদ করলেই সাইবার বুলিংয়ের শিকার হতে হবে। আমরা নারীদের নিরাপত্তার পাশাপাশি খেটে খাওয়া দিনমজুর মানুষের খাদ্য, বস্ত্র ও বাসস্থানের নিশ্চয়তাটুকু চাই।' উত্তরে প্রধানমন্ত্রী আশ্বস্ত করে বলেন, 'ইনশাআল্লাহ, সব হবে। তোমার চিকিৎসা তো একটা লম্বা প্রসেস, তাই এমআইএস (গওঝ) প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে হবে। এটা লাগবেই। আগে তুমি সুস্থ হও, এরপর আবার একসাথে বসে তোমার কথা শুনবো।'
সাক্ষাৎকালে এক অনন্য হৃদ্যতাপূর্ণ মুহূর্তের সৃষ্টি হয়, যখন প্রধানমন্ত্রীর কন্যা জাইনাহ রহমান বসা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে মিতুর সঙ্গে অত্যন্ত আন্তরিক ও সহজ-সরলভাবে কুশল বিনিময় করেন। প্রধানমন্ত্রীর এই মানবিক উদ্যোগ ও খোঁজখবর রাখার বিষয়ে মিতু বলেন, 'যে বৈষম্যহীন মানবিক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলাম, তা এখনো পুরোপুরি হয়ে ওঠেনি। আমি সেই বাংলাদেশের অপেক্ষাতেই আছি।' সিএমএইচে চিকিৎসাধীন মিতু সুস্থ হয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ, চাকরি এবং পিছিয়ে পড়া নারীদের কল্যাণে কাজ করার অদম্য প্রত্যয় নিয়ে আজও পথচেয়ে আছেন সেই স্বপ্নের বাংলাদেশের দিকে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আমতলী উপজেলার নুরজাহান ক্লাবে বুধবার সকাল ১০.০০ টায় যুব নেতৃত্বাধীন নেক্সাস পরিকল্পনা বিষয়ক একটি কমিউনিটি পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা নজরুল স্মৃতি সংসদ (এনএসএস)-এর বাস্তবায়নে এবং একশনএইড বাংলাদেশ-এর সহযোগিতায় আয়োজিত হয়।
সভার মধ্যে স্থানীয় জনগণ, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি, যুব প্রতিনিধি, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, উন্নয়নকর্মী, নাগরিক সমাজ সংগঠনের প্রতিনিধি, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত নারী প্রতিনিধি, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমকর্মীসহ মোট ৪০ জন অংশগ্রহণ করেন।
উপকূলীয় উপজেলা আমতলীর জনগণ জলবায়ু পরিবর্তন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, জীবিকার অনিশ্চয়তা, সামাজিক বৈষম্য এবং প্রয়োজনীয় সরকারি সেবা প্রাপ্তির সীমাবদ্ধতা সহ বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে।
ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙ্গণ, জলাবদ্ধতা, লবণাক্ততার বিস্তার এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত জীবিকার ঝুঁকি এ উপজেলার মানুষের জীবন ও অর্থনীতিকে প্রতিনিয়ত প্রভাবিত করছে।
বিশেষ করে নারী, যুব, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এবং অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ জনগণ এ অবস্থার কারণে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পটুয়াখালীর মহিপুরে জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধের কারণে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এটি মাদ্রাসা শিক্ষক, প্রবাসী ও স্থানীয় সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলা প্রত্যাহার এবং হয়রানি বন্ধের দাবিতে সংগঠিত হয়েছে। বুধবার ১২ আগস্ট সকাল বেলা মহিপুর থানা সদর ইউনিয়নের পাইকবাড়ী স্ট্যান্ড এলাকায় এলাকাবাসীর উদ্যোগে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে প্রায় দুই শতাধিক স্থানীয় ছাত্র/ছাত্রী, নারী ও পুরুষ অংশগ্রহণ করেন। ফলে বক্তারা জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে মাদ্রাসা শিক্ষক, প্রবাসীসহ কয়েকজন নিরীহ ব্যক্তিকে চাঁদাবাজি মামলায় আসামি করার প্রতিবাদ জানান। তারা এই মামলাটিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করেন এবং জানান যে এর মাধ্যমে আসামিদের হয়রানি করা হচ্ছে। এই মিথ্যা মামলাটি দ্রুত প্রত্যাহার করে হয়রানি বন্ধ করার দাবি জানান বক্তারা।
মানববন্ধনে অংশ নেয়া মাওলানা মো. আইয়ুব আলী জানান, মামলাটি আইনগতভাবে আরও বিশদভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। মাদ্রাসা শিক্ষক মাওলানা মোহাম্মদ মাহতাব উদ্দিন ও প্রবাসীসহ স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হওয়ায় তারা এ মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান। তিনি বলেন, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা ব্যক্তিরা সমাজে অত্যন্ত ভালো মানুষ এবং তাদের কারো সাথে বিরোধ থাকার কথা নয়। এছাড়া ফাতেমা বেগমসহ স্থানীয় আরও বিশিষ্টজন বলেন, জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তির সুযোগ রয়েছে এবং তারা সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি না করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান। খুব গুরুত্ব সহকারে নিরীহ মানুষকে হয়রানি থেকে বিরত থাকার জন্য তারা সংগঠিত হয়েছেন। মানববন্ধনে অংশ নেওয়া কয়েকজন ছাত্র/ছাত্রী জানান, মামলায় যাদের আসামি করা হয়েছে তাদের মধ্যে শিক্ষক, প্রবাসী ও স্থানীয় সাধারণ মানুষ রয়েছেন এবং সুসম্পূর্ণ তদন্তের আওতায় প্রকৃত ঘটনা যাচাই করে নির্দোষ ব্যক্তিদের মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, সম্প্রতি জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধের কারণে ইমরান হোসেন বাদী হয়ে মহিপুর থানায় একটি চাঁদাবাজি মামলা দায়ের করেছেন। সে মামলায় মোট আটজনকে আসামি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে লতিফপুর ও মনোহারপুর এলাকার ব্যক্তি রয়েছে। এখন বলা হচ্ছে মামলাটি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তদন্তের অধীনে রয়েছে। মামলার আসামিরা হলো: মো. দেলোয়ার হোসেন (৩৭), আব্দুল মতিন গাজী (৩৫), মো. শহিদুল ইসলাম (৩৫), মাওলানা মো. মাহতাব উদ্দিন (৫৫), মো. আলতাফ হোসেন গাজী (৫৫), মো. রাজু খলিফা (২৫), মো. শাহিন মীর (৩৮) ও মঞ্জু হাওলাদার (৩৭) এবং মামলার অভিযোগ বা আসামিদের ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থার তেমন কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য পাওয়া যায়নি। মানববন্ধনে থেকে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানানো হয়, এবং অভিযোগ প্রমাণিত না হলে আসামিদের হয়রানি বন্ধ করার জন্যও দাবি জানানো হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ