০৯:২৭ এম
আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে একটি স্কুলের নিকটে ভয়াবহ হ্যান্ড গ্রেনেড বিস্ফোরণের ফলে ৪২ জন শিশু গুরুতর আহত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) জাতিসংঘের রাজনৈতিক মিশন (ইউএনএএমএ) জানিয়েছে, আহত শিশুদের বয়স ৯ থেকে ১৪ বছরের মধ্যে।
স্থানীয় সূত্র ও আফগান গণমাধ্যমের তথ্যমতে, সোমবার (১৭ আগস্ট) ঘটে যাওয়া এই ভয়াবহ বিস্ফোরণের ফলে আহত শিশুদের সংখ্যা ৫০-এ পৌঁছাতে পারে। নৃশংস এই হামলার পর পরই জাতিসংঘ ক্ষোভ প্রকাশ করে এবং দ্রুত ও স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়েছে।
ঘটনাটি কাবুলের দশত-ই-বার্চি নামক মহল্লায় ঘটেছে, যা মূলত হাজারা শিয়া মুসলিম অধ্যুষিত এলাকা। আফগানিস্তানের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৯ শতাংশ হাজারা সম্প্রদায়, তারা দীর্ঘদিন ধরে সুন্নি উগ্রপন্থী গোষ্ঠী (যেমন—আইএস) এবং বিভিন্ন চরমপন্থীদের বৈষম্য ও ধারাবাহিক হামলার শিকার হয়ে আসছে।
আরও পড়ুন: অক্টোবর মাসে হুথিদের ওপর ৪০ হাজার হামলা, নিহত ও আহত ২০ হাজার
এর আগে ২০২১ সালে একই এলাকার একটি স্কুলে ভয়াবহ তিনটি বোমা হামলায় বহু শিক্ষার্থী নিহত হয়েছিল, যাদের অধিকাংশই ছিল কিশোরী।
আফগানিস্তানের জন্য জাতিসংঘের স্বাধীন তদন্তকারী রিচার্ড বেনেট এই ঘটনার জন্য একটি জঘন্য হামলা হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আবারো কাবুলের হাজারা এলাকাকে লক্ষ্যবস্তু করা হলো। অপরাধীদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনতে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি।
এদিকে জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক নিশ্চিত করেছেন যে, সংস্থাটি বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ ও পরিস্থিতি উদঘাটনের কাজ শুরু করেছে।
এই হামলার পাশাপাশি আফগানিস্তানের বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থার বেহাল দশাও জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা দপ্তর তুলে ধরেছে। তালেবান সরকারের অধীনে ষষ্ঠ শ্রেণির পর মেয়েদের শিক্ষা বন্ধ রয়েছে। এছাড়া, সম্প্রতি দেশে ফিরে আসা ৯ লাখ শিশুর মধ্যে প্রায় ৬ লাখ শিশুই স্কুলের বাইরে রয়েছে। চরম অর্থসংকটের কারণে জাতিসংঘ সহায়তার হাত বাড়ালেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হয়ে পড়ছে।
আরও পড়ুন: ১০০ টাকার জন্য কলেজছাত্রী পিংকির মর্মান্তিক মৃত্যু
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন