শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১২:৩৪ এম
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে উইকেটের ডাবল সেঞ্চুরি!
আফগানিস্তানের তারকা লেগ স্পিনার রশিদ খান ইতিহাসের প্রথম বোলার হিসেবে ২০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। আজ শারজায় জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে টাডিওয়ানাশে মারুমানিকে আউট করে তিনি এই অনন্য কীর্তি গড়েন।
রশিদের এই অসাধারণ অর্জন এসেছে তার ১২০তম ম্যাচে। বর্তমানে তার বোলিং গড় ১৩.৯৬ এবং ওভারপ্রতি রান খরচ মাত্র ৬.১৩। তার ঝুলিতে রয়েছে দুটি ৫ উইকেটের কীর্তিও।
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি হলেন আদিল রশিদ। ইংল্যান্ডের এই লেগ স্পিনার ১৫৩ ম্যাচ খেলে ১৭১ উইকেট নিয়েছেন।
হংকংয়ের এহসান খান ও নিউজিল্যান্ডের ইশ সোধি যৌথভাবে তিনে আছেন, দুজনের উইকেট সংখ্যা ১৬৫টি করে।
বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সবচেয়ে বেশি উইকেট নিয়েছেন মুস্তাফিজুর রহমান; তার উইকেট সংখ্যা ১৬৩টি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফরিদপুরের ভাঙ্গা এলাকায় কৃষকদের কাছে সরকার নির্ধারিত মূল্যে সার বিক্রি না করে কালোবাজারে বিক্রির সময় পুলিশ ডিলার ও আওয়ামী লীগ নেতা ইলিয়াস হাওলাদারকে আটক করেছে। এই ঘটনায় স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় ২৫০ বস্তা (সাড়ে ১২ টন) ডিএপি সার উদ্ধার করা হয়েছে এবং পাচারের জন্য ব্যবহৃত ট্রাকটিও জব্দ করা হয়েছে।
ঘটনাটি গত বুধবার রাতে ভাঙ্গার মালিগ্রাম বাজার এলাকায় ঘটে। আটক হওয়া ইলিয়াস চান্দ্রা ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সহসভাপতি। তিনি আওয়ামী সরকারের আমলে ডিলারের অনুমোদন লাভ করেছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, ভাঙ্গা থানায় এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
পুলিশ ও কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, কৃত্রিম সার সংকট সৃষ্টির লক্ষ্যে আওয়ামী সরকারের অনুমোদিত কিছু ডিলারের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে তারা কৃষকদের সার না দিয়ে কালোবাজারে বিক্রি করছে। উপজেলা কৃষি বিভাগ এই ডিলারদের চিহ্নিত করতে ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি অফিসারদের নির্দেশ দিয়েছে, তবে অনেক ডিলার কালোবাজারে সার বিক্রির জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে।
বুধবার রাতে, ইলিয়াস চান্দ্রা বাজারের নিজের গোডাউন থেকে কালোবাজারে ডিএপি সার বিক্রি করতে ট্রাকে লোড করছিলেন। স্থানীয় জনগণ খবর পেয়ে সারভর্তি ট্রাকের চারপাশ ঘিরে রাখে। পরে ৯৯৯ কল করে ঘটনাটি পুলিশ এবং ভাঙ্গা উপজেলা কৃষি অফিসার মোল্লা আল মামুনকে জানান।
খবর পেয়ে ভাঙ্গা থানার ওসি, কৃষি অফিসার ও কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কাজী রমজান আলী ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষুব্ধ জনতাকে শান্ত করেন। ঘটনার সত্যতা পেয়ে পুলিশ সারভর্তি ট্রাকসহ মালামাল জব্দ করে। এ সময় ট্রাকের মধ্যে থাকা আওয়ামী লীগ নেতা ইলিয়াসকে আটক করা হয়।
কৃষি অফিসার আল মামুন জানান, সারের কৃত্রিম সংকট যাতে কেউ সৃষ্টি করতে না পারে, সে জন্য উপর মহল থেকে নির্দেশনা রয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিস সব সময় এই বিষয়ে সচেতন রয়েছে।
ভাঙ্গা থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, সরকারি সার কালোবাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে রাতে ট্রাকে করে নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ২৫০ বস্তা সার উদ্ধার করেছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ডিলারকে সার উদ্ধার এবং ট্রাকসহ আটক করা হয়েছে। থানায় এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ও নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল বলেছেন, যুবসমাজ দেশের সম্পদ। নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে, যাতে তাদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত থাকে। তরুণরা যেন বিদেশে কর্মসংস্থানের নামে প্রতারণার শিকার না হন কিংবা আর্থিক ও সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে বিষয়ে সকলকে সতর্ক থাকতে হবে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাতে নাটোরের লালপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অডিটরিয়ামে দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিদেশে বাংলাদেশি তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভাটি ‘স্টাডি অ্যাব্রড কনসালটেন্সি জিটি গ্রুপ’ আয়োজন করে।
প্রতিমন্ত্রী পুতুল আরও বলেন, দেশের যুবসমাজের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বিদেশে কাজের সুযোগ তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি। তবে বিদেশে কর্মসংস্থানের নামে তরুণদের প্রতারণার শিকার হওয়া থেকে রক্ষা করতে হবে। কর্মসংস্থানের উদ্যোগ তরুণদের জন্য সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে, কিন্তু তা যেন ঝুঁকি কিংবা দুর্ভোগের কারণ না হয়।
তিনি উল্লেখ করেন, দক্ষিণ কোরিয়াসহ উন্নত দেশগুলোতে বাংলাদেশের তরুণদের কাজের সুযোগ সৃষ্টি হলে তা দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী করা এবং বেকারত্ব নিরসনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। এজন্য তরুণদের কারিগরি ও পেশাগত প্রশিক্ষণ, ভাষাগত দক্ষতা এবং প্রয়োজনীয় যোগ্যতা অর্জনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। বৈধ অভিবাসন প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা জরুরি বলেও তিনি জানান।
বিদেশে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিশ্বাসযোগ্যতা, চাকরির চুক্তি, বেতন-ভাতা এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। কর্মীদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকলের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনেরও তাগিদ দেন প্রতিমন্ত্রী।
সভায় জিটি গ্রুপের চেয়ারম্যান পার্ক জি ইয়ং, গ্রুপটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মাহমুদুল হাসান মামুন, লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী মো. মেশকাতুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবির হোসেন এবং লালপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব হারুনার রশিদ পাপ্পুসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় দক্ষিণ কোরিয়ায় বাংলাদেশি তরুণদের কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা, দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা এবং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের অংশগ্রহণ সম্প্রসারণের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। তরুণদের আত্মকর্মসংস্থান ও বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মাতৃত্ব একটি নতুন অধ্যায়, তবে মা হওয়ার ফলে কি অভিনয়জীবনে ইতি টানতে হবে? এই ধারণার সঙ্গে একমত নন বলিউডের অভিনেত্রী পরিণীতি চোপড়া। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, সন্তান জন্ম দেওয়ার কারণে কাজের সুযোগ হারাতে চান না। বরং সংসার, সন্তান এবং পেশাগত জীবনের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে আরও ভালো কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। নতুন ওয়েব সিরিজ ট্রাস্ট নো ওয়ান (Trust No One)-এ অভিনয়, অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা, স্বামী রাঘব চাড্ডার সহযোগিতা এবং মাতৃত্বের পর ক্যারিয়ার নিয়ে নিজের ভাবনা শেয়ার করেছেন এই অভিনেত্রী।
চিত্রনাট্যটি হাতে পাওয়ার পর পরিণীতির অভিজ্ঞতা ছিল বিশেষ। তিনি জানান, বই পড়া তার অন্যতম প্রিয় অভ্যাস, তবে মাঝে মাঝে মনোযোগ অন্যদিকে চলে যায়। তাই অনেক সময় অন্য কাউকে দিয়ে পড়তে পছন্দ করেন। কিন্তু যখন সিদ্ধার্থ পি মালহোত্রা ও রেনসিল ডি’সিলভা সিরিজটির চিত্রনাট্য পাঠান, তখন তিনি শহরের বাইরে ছিলেন। তার ধারণা ছিল, পুরো চিত্রনাট্য শেষ করতে দু-তিন দিন লাগবে। কিন্তু বাস্তবে মাত্র আড়াই ঘণ্টায় এক বসায় পুরো চিত্রনাট্য পড়ে শেষ করেন।
শেষ পাতা পড়ার পর পরিণীতির মনে হয়েছিল, এই সিরিজে অভিনয় করতেই হবে। গল্পের আকর্ষণ তাকে বিশেষভাবে টেনেছিল। কাজটির সঙ্গে যুক্ত মানুষের প্রতি তার আশাবাদও ছিল। পরিণীতির মতে, চিত্রনাট্য এতটাই ভালো ছিল যে প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়ার কোনো কারণই ছিল না। নেটফ্লিক্সের মতো আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে কাজের সুযোগ, প্রযোজক সিদ্ধার্থ পি মালহোত্রা এবং পরিচালক রেনসিল ডি’সিলভার মতো অভিজ্ঞদের সঙ্গে কাজ করার সম্ভাবনা—সব মিলিয়ে প্রকল্পটি তার কাছে বিশেষ হয়ে উঠেছিল।
ট্রাস্ট নো ওয়ান সিরিজের শুটিংয়ের সময় পরিণীতি অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। জীবনের এমন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কাজ চালিয়ে যাওয়া সহজ ছিল না। তবে শুটিংয়ের পরিবেশ এবং সহকর্মীদের সহযোগিতা তার অভিজ্ঞতাকে অনেকটাই সহজ করে দিয়েছিল। তিনি জানান, শুটিংয়ের সময় ইউনিটের সবাই তার শারীরিক অবস্থার প্রতি বিশেষ যত্নশীল ছিলেন। কাজের পরিবেশে বাড়তি চাপ ছিল না, বরং সবাই একে অপরকে সহযোগিতা করেছেন। ফলে শুটিংয়ের সময়সূচি সামলাতে বড় কোনো সমস্যার মুখে পড়তে হয়নি।
পরিবারের সদস্যরাও এই সময়ে পরিণীতির পাশে ছিলেন। বিশেষ করে স্বামী রাঘব চাড্ডার সহযোগিতার কথা বলতে গিয়ে তার কণ্ঠে কৃতজ্ঞতা ফুটে ওঠে। সুখবরটি শোনার পর রাঘব শিমলায় ছুটে গিয়েছিলেন। পরিণীতির মা, শাশুড়ি এবং ভাইয়েরাও তাকে দেখতে সেখানে পৌঁছে যান। পরিবারের সবার উপস্থিতি নিয়ে মজার ছলে পরিণীতি বলেন, পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছিল, তার পুরো পরিবারই যেন শুটিংয়ে চলে এসেছে!
মা হওয়ার পরও কাজের সুযোগ চান পরিণীতি। মাতৃত্বের অভিজ্ঞতা তার জীবনকে নতুনভাবে সাজিয়েছে। তবে মা হওয়ার কারণে অভিনয় থেকে দূরে সরে যাওয়ার কোনো ইচ্ছা তার নেই। বরং সন্তান জন্মের পর একজন অভিনেত্রীর কাজের সুযোগ কমে যেতে পারে—এই আশঙ্কাই তাকে বেশি ভাবায়। পরিণীতির মতে, মা হওয়া জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অভিজ্ঞতা। কিন্তু সেই অভিজ্ঞতার কারণে পেশাগত জীবনে পিছিয়ে পড়তে হবে, এমনটা হওয়া উচিত নয়।
বলিউডে মাতৃত্বের পরও নিয়মিত কাজ করে চলেছেন এমন অভিনেত্রীর সংখ্যা বাড়ছে। বিষয়টিকে ইতিবাচক পরিবর্তন হিসেবে দেখেন পরিণীতি। উদাহরণ হিসেবে আলিয়া ভাট, দীপিকা পাড়ুকোন এবং তার দিদি প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার নাম উল্লেখ করেছেন। পরিণীতির মতে, তাদের প্রজন্মের অভিনেত্রীরা মাতৃত্বের পরও নিজেদের কাজ চালিয়ে যেতে পারছেন, যা আনন্দের বিষয়। প্রিয়াঙ্কা যেমন বলিউডের বাইরেও আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রে কাজ করছেন, তেমনই অন্য অভিনেত্রীরাও নিজেদের পেশাগত জায়গা ধরে রেখেছেন। তার বিশ্বাস, তারা এখন ভালো কাজ করছেন এবং অভিজ্ঞতার সঙ্গে সঙ্গে আরও ভালো কাজ করার সুযোগও তৈরি হচ্ছে।
পরিণীতি কাজের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনকেও গুরুত্ব দেন। পরিবার, বন্ধু, ভ্রমণ, ছুটি কাটানো, উৎসব কিংবা একান্তে নিজের জন্য কিছুটা সময়—জীবনের এই ছোট ছোট আনন্দগুলো তার কাছে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। তবে মা হওয়ার পর সময়ের হিসাব অনেকটাই বদলে গেছে। এখন নিজের কাজের পাশাপাশি সন্তানের প্রয়োজন এবং পরিবারের দায়িত্বও সমান গুরুত্ব পায়। তাই জীবনের ভারসাম্য বজায় রাখার বিষয়টি আগের চেয়ে আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
পরিণীতির কাছে সাফল্য মানে শুধু পেশাগত অর্জন নয়; বরং জীবনের বিভিন্ন দিককে একসঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। কাজের ব্যস্ততার মধ্যেও প্রিয়জনদের সময় দেওয়া এবং নিজের ভালো থাকার দিকে নজর রাখা—এই দুইয়ের সমন্বয়ই তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
ছেলের দায়িত্ব মা-বাবার দুজনেরই
রাজনীতির ব্যস্ততায় সময় কাটে রাঘব চাড্ডার, অন্যদিকে অভিনয়, শুটিং ও প্রচারের কাজে ব্যস্ত থাকেন পরিণীতি। ফলে তাদের ছোট্ট ছেলের দেখাশোনা কীভাবে হয়, তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে। এ বিষয়ে পরিণীতির উত্তর একেবারেই স্পষ্ট— সন্তানের দায়িত্ব তারা দুজন সমানভাবে ভাগ করে নিয়েছেন।
অভিনেত্রীর কথায়, তারা দুজনেই মা-বাবা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাই সন্তানের দায়িত্বও দুজনেরই। পরিণীতি যখন কাজে ব্যস্ত থাকেন, তখন রাঘব ছেলের সঙ্গে সময় কাটান। আবার রাঘবের কাজ থাকলে সন্তানের দায়িত্ব সামলান পরিণীতি। অর্থাৎ, সংসার ও সন্তান পালনের দায়িত্বকে তারা একজনের ওপর চাপিয়ে দেননি। বরং নিজেদের কাজের সময় এবং প্রয়োজন বুঝে দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়ার পথ বেছে নিয়েছেন।
স্বামীর এই সহযোগিতা পরিণীতির কাছে বিশেষভাবে মূল্যবান। কারণ, অভিনয়ের ব্যস্ততা সব সময় একই রকম থাকে না। কোনো দিন শুটিং বা কাজের চাপে ক্লান্ত হয়ে পড়েন তিনি। তখন রাঘবের আশ্বাস তাকে নতুন করে সাহস জোগায়। পরিণীতি জানান, এমন অনেক দিন যায়, যখন কাজের শেষে তিনি একেবারে ক্লান্ত হয়ে পড়েন। কিন্তু কাজ চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলে রাঘব তাকে আশ্বস্ত করেন, তিনি নিশ্চিন্তে কাজে যেতে পারেন, বাকি সব দায়িত্ব তিনি সামলে নেবেন।
অভিনয় আর রাজনীতি—দুজনের জগৎ আলাদা
পরিণীতি চোপড়া ও রাঘব চাড্ডার পেশাগত জগৎ সম্পূর্ণ আলাদা। একজন অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত, অন্যজন রাজনীতির মানুষ। সংসারে তাদের বোঝাপড়া ভালো হলেও কাজের ক্ষেত্রে একে অপরকে পরামর্শ দেওয়ার অভ্যাস খুব একটা নেই। রাজনীতির জটিল হিসাব, সংসদীয় বক্তৃতা কিংবা নির্বাচনের বিষয়ে নিজের বিশেষ জ্ঞান নেই বলেই জানান পরিণীতি। তাই এসব বিষয়ে রাঘবকে পরামর্শ দেওয়ার প্রশ্ন ওঠে না। অন্যদিকে সিনেমার চিত্রনাট্য বা অভিনয়ের জগতেও রাঘবের অভিজ্ঞতা সীমিত।
এই প্রসঙ্গে মজার একটি ঘটনাও শোনান অভিনেত্রী। কোথাও তার নিজের গান বাজছিল, অথচ গানটি যে তারই, তা রাঘবকে আলাদা করে জানাতে হয়েছিল তাকে! ঘটনাটি বলতে গিয়ে হেসে ফেলেন পরিণীতি। তার বক্তব্য, কাজের ক্ষেত্রে দুজনের জগৎ আলাদা থাকাই ভালো। একে অপরের পেশাগত পরিসরে অযথা হস্তক্ষেপ না করেও যে ভালো বোঝাপড়া বজায় রাখা যায়, তাদের সম্পর্ক যেন তারই উদাহরণ।
মাতৃত্বের সঙ্গে স্বপ্নের সহাবস্থান
পরিণীতি চোপড়ার সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতার গল্পে উঠে এসেছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দিক। অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় শুটিং চালিয়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতা, মা হওয়ার পরও নিজের পেশাগত পরিচয় ধরে রাখার দৃঢ় ইচ্ছা, স্বামী রাঘব চাড্ডার সহযোগিতা, পরিবারের সমর্থন এবং দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়ার বাস্তব চিত্র।
তাঁর বক্তব্যের মূল সুর একটাই— মাতৃত্ব জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হলেও তা কোনো নারীর পেশাগত স্বপ্নের সমাপ্তি হতে পারে না। একজন নারী একই সঙ্গে মা এবং সফল পেশাজীবী হতে পারেন, যদি তার কাজের সুযোগ থাকে এবং পরিবার ও কর্মক্ষেত্র থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা মেলে।
পরিণীতির কাছে তাই মা হওয়া মানে অভিনয়জীবন থেকে সরে দাঁড়ানো নয়। বরং জীবনের নতুন দায়িত্বকে সঙ্গে নিয়েই এগিয়ে চলা। আর সেই পথচলায় নিজের পরিচয়, ভালোবাসার মানুষদের সময় দেওয়া এবং কাজের প্রতি দায়বদ্ধতা—সবকিছুকেই সমান গুরুত্ব দিতে চান তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সপ্তাহখানেক আগে ত্রিদেশীয় সিরিজের অধীনে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৪৩০ রান তাড়ায় শ্রীলঙ্কার রেকর্ড গড়া জয়কে নেতৃত্ব দেন পভন রাথনায়াকে। ওই ম্যাচে রাথনায়া ১৩০ রান করেছিলেন। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ইংল্যান্ড তাদের জন্য ৩৮৭ রানের লক্ষ্য নির্ধারণ করে। রান তাড়ায় রাথনায়া আজ ঝোড়ো সেঞ্চুরি করেন। তবে তার ৭৭ বলের ১১৮ রানের ইনিংস শ্রীলঙ্কাকে জয় এনে দিতে পারেনি।
গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে ২৯ বল বাকি থাকতে শ্রীলঙ্কাকে ৩৩১ রানে অলআউট করে ইংল্যান্ড ৫৫ রানে জয়লাভ করে। ত্রিদেশীয় সিরিজে এটি ইংল্যান্ডের জন্য প্রথম জয়, যা তাদের জন্য কিছুটা স্বস্তির কারণ। আগের তিন ম্যাচের তিনটিতেই পরাজিত হয়ে তারা ফাইনাল থেকে ছিটকে গিয়েছিল। ৩১ অক্টোবরের ফাইনালে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা মুখোমুখি হবে।
রাথনায়া সেঞ্চুরি করলেও ১১ রানের আক্ষেপে ভুগতে হয়েছে দলপতি কুশাল মেন্ডিসকে। তাদের দুজনের মধ্যে ৮০ রানের একটি জুটি গড়ে ওঠে। এরপর জানিথ লিয়ানাজ ২৭ ও সাহান আরাচিগে ৩০ রান করে রাথনায়াকে সমর্থন দেন। অষ্টম ব্যাটার হিসেবে রাথনায়া দলীয় ৩২৯ রানে আউট হলে শ্রীলঙ্কার জয়ের আশা মূলত ফিকে হয়ে যায়।
পরবর্তী দুই উইকেটে শ্রীলঙ্কা আর মাত্র ২ রান সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়। ইংল্যান্ডের পক্ষে লিয়াম ডওসন ৪টি ও সনি বেকার ২টি উইকেট নেন, এছাড়া স্যাম কুরান, হেনরি ক্রোকোম্বে ও জো রুট একটি করে উইকেট লাভ করেন।
ইংল্যান্ড বড় সংগ্রহ অর্জন করে বেন ডাকেটের সেঞ্চুরিতে। তার ১৩২ বলে ১৬৭ রানের ইনিংসে ৭৪ রান করে সহায়তা করেন টম ব্যান্টন। এদিন ইশান মালিঙ্গা লজ্জার সম্মুখীন হন। তিনি দ্বিতীয় লঙ্কান হিসেবে ওয়ানডে ক্রিকেটে এক ইনিংসে একশর বেশি রান খরচ করেন, ১০১ রানের বিনিময়ে মাত্র এক উইকেট নেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ