০৬:০৯ পি.এম
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) হলের সিট পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের একটি ঘটনা ঘটে। এ সংঘর্ষের ফলে দুই গ্রুপের অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল দাবি করেছে যে, বহিরাগতদের সাথে ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
গত সোমবার (১৭ আগস্ট) গভীর রাত থেকে মঙ্গলবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের আব্দুল মালেক উকিল হল ও পকেট গেট এলাকায় এই সংঘর্ষটি হয়।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন, শাখা ছাত্রদলের ছাত্রকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক ও পরিসংখ্যান বিভাগের ১৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আনিসুর রহমান সিফাত, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক ও ফলিত গণিত বিভাগের ১৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলাম হাসান, এবং ছাত্রদলের আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক আরিফ হাসান।
আরও পড়ুন: বাকেরগঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও ড্রেন পরিষ্কার কার্যক্রম
স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায়, সোমবার দিবাগত রাত ২টার দিকে আব্দুল মালেক উকিল হলের একটি কক্ষের সিট পরিবর্তন নিয়ে ছাত্রদলের দুই পক্ষের সিনিয়র-জুনিয়র কর্মীদের মধ্যে একটি বাগ্বিতণ্ডা হয়। এর পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদ হাসান ও সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হোসেনের অনুসারীদের সাথে সিনিয়র সহ-সভাপতি সাব্বির হোসেন শান্তর অনুসারীদের মধ্যে বিরোধের কারণেই এ সংঘর্ষ সৃষ্টি হয়। ঘটনার সময় সাব্বির হোসেন শান্তর গ্রুপ বহিরাগতদের এনে হলে প্রতিপক্ষ গ্রুপের ওপর হামলা চালায়। এক পর্যায়ে নোবিপ্রবি ছাত্রদলের সভাপতি এবং সেক্রেটারির সালাম হলের রুমে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়। পাশাপাশি, নোবিপ্রবির সালাম ও মালেক হলের বিভিন্ন রুমেও ভাঙচুর করা হয়। পরবর্তীতে, সালাম হল প্রাঙ্গণ থেকে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক গ্রুপের নেতাকর্মীরা একজোট হয়ে সাব্বির গ্রুপের অনুসারীদের ধাওয়া দেয়। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলে অডিটোরিয়াম থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ মিনার প্রাঙ্গণ পর্যন্ত। সেখানে উভয়পক্ষ সংঘর্ষ ও মারামারিতে জড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় অন্তত পাঁচজন আহত হন। আহতদের মধ্যে একজনকে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ সময় পেশাগত দায়িত্ত্ব পালনকালে বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত দুই সাংবাদিকও হেনস্তার শিকার হন।
নোবিপ্রবি ছাত্রদলের একাধিক নেতা দাবি করেন যে, বহিরাগতদের সাথে নোবিপ্রবি ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ ঘটে। ছাত্রদলের একটি নেতা বহিরাগত কিছু লোক নিয়ে এসেছে এবং তারা ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীদের ওপর দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়েছে। ব্যক্তিগত বিরোধ থেকেই এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছে। গতকাল সোমবার দিবাগত রাত থেকে এ সংঘর্ষের ঘটনার শুরু।
নোবিপ্রবি সহকারী পরিচালক (তথ্য ও জনসংযোগ) ইফতেখার হোসাইন স্বাক্ষরিত একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে যে, মঙ্গলবার বিকেলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘটিত এই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে যে, ভাষা শহীদ আব্দুস সালাম হল ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মালেক উকিল হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১৭ আগস্ট রাতে এবং মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সংঘটিত ঘটনাগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিন সদস্যের তদন্ত কমিটিতে নোবিপ্রবির কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দিনকে আহ্বায়ক হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মহিনুজ্জামান, এবং সদস্য সচিব করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ এফ এম আরিফুর রহমানকে। তদন্ত কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) ভিসি অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, "এ ঘটনায় যিনি জড়িত থাকুক তাদের শাস্তির আওতায় আনা হবে।" পাশাপাশি, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার কথাও জানান।
আরও পড়ুন: জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদ্যাপন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন