শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৫:৪৯ পি.এম
বাংলাদেশ বর্তমানে অন্যান্য দেশের সঙ্গে সমান অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে অর্থনৈতিক সম্পর্ককে উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে, এমনটি জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, "এ সরকার গোলামির সরকার না। বর্তমান সরকারের ওপর দারুণ আগ্রহ আছে বিশ্বের।"
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর নিয়ে অনুষ্ঠিত এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে এসব মন্তব্য করেন তিনি।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশে এক ট্রিলিয়ন ইয়েন বিনিয়োগের সম্ভাবনাকে স্বাগত জানিয়েছেন দুদেশের প্রধানমন্ত্রী, যা ২ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।
তিনি উল্লেখ করেন, "জাপান থেকে ৬ বিলিয়ন ডলার আসার সম্ভাবনা আছে। তা ঋণ বা বিনিয়োগ আকারে আসতে পারে। ৬.৩৫ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগের বিষয়ে জাপান থেকে অর্থনৈতিক মিশন আসবে দ্রুতই।"
বিগ বি প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঢাকা-টোকিওর মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নে আলোচনা হয়েছে। অন্য কোনো দেশের প্রসঙ্গে আলোচনা করা হয়নি। বিগ বি প্রসঙ্গে বাংলাদেশ-জাপানের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে, তৃতীয় কোনো দেশের প্রসঙ্গ ছিল না।
হুমায়ুন কবির জানান, জাপান থেকে এলএনজি আনতে যাননি প্রধানমন্ত্রী। তিনি জাপানের এলএনজি টার্মিনাল দেখতে গিয়েছিলেন, কারণ বাংলাদেশও টার্মিনাল করার পরিকল্পনা করছে।
তিনি বলেন, "কোনো ধরনের ঊর্ধ্বতন বা অধস্তন হিসেবে নয়, বাংলাদেশ এখন অন্য দেশের সঙ্গে সমান সমান অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে অর্থনৈতিক সম্পর্ক উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে। এ সরকার গোলামির সরকার না। গত ১৫ বছর গোলামি করে বেড়িয়েছে বিগত সরকার। বর্তমান সরকারের ওপর দারুণ আগ্রহ বিশ্বের।"
জামায়াতে ইসলামীর আমিরের মাতারবাড়ি নিয়ে করা মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় হুমায়ুন কবির বলেন, জামায়াতের আমির বাংলাদেশ-জাপান মধ্যকার যৌথ বিবৃতি না পড়েই দেশের সার্বভৌমত্ব নিয়ে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, "আগে যৌথ বিবৃতিটা পড়েন। পড়ে দায়িত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতীয় শাস্ত্রীয় সুরের বাদ্যযন্ত্র তবলায় তাল ও ছন্দ তুলে একটি নতুন রেকর্ড গড়েছে ভারতের কর্ণাটকের উত্তর কন্নড় জেলার হোন্নাভারার বিস্ময়বালিকা স্বরশ্রী হেগড়ে। মাত্র ২ বছর ১০ মাস বয়সে, তবলায় ১২টি ভিন্ন তাল বাজানোর পাশাপাশি মুখে সেগুলোর বোল আবৃত্তি করে ‘ইন্ডিয়া বুক অব রেকর্ডস’-এ তার নাম অন্তর্ভুক্ত করেছে এই ক্ষুদে শিশু।
সাধারণত, শাস্ত্রীয় সংগীতের তালগুলো আয়ত্ত করতে দীর্ঘ সময়ের অনুশীলন ও মনোযোগের প্রয়োজন হয়। কিন্তু স্বরশ্রী ৩ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই নিখুঁত ছন্দজ্ঞান, সমন্বয় এবং হাতের সুনির্দিষ্ট সঞ্চালনে তা আয়ত্তে এনেছে। এই বিষয়টি সংস্কৃতি অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে স্বরশ্রীর রেকর্ড গড়ার মুহূর্তের ভিডিও। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, শুভ্র সাদা ফ্রক পরে তবলা ও মাইক্রোফোনের সামনে বসে রয়েছে স্বরশ্রী। হাজার হাজার দর্শকের সামনে ছোট ছোট হাতে বাজিয়ে শোনাচ্ছে ভিন্ন ভিন্ন তবলার ১২টি তাল।
স্বরশ্রীর পরিবার সংগীতের সাথে যুক্ত। তার বাবা গুরুরাজ হেগড়ে আদুকালা একজন পেশাদার তবলা বাদক এবং মা শ্রিলতা হেগড়ে হিন্দুস্তানি শাস্ত্রীয় সংগীতের শিল্পী। বাবার কাছে শিক্ষার্থীদের তবলা শেখা দেখেই বাদ্যযন্ত্রটির প্রতি তার প্রবল আগ্রহ জন্মায়।
মেয়ের আগ্রহ দেখে তার বাবা-মা তার জন্য বিশেষভাবে ছোট আকারের দুটি তবলা তৈরি করে দেন, যা দিয়ে সে নিয়মিত অনুশীলন শুরু করে। এই আগ্রহ থেকেই ধীরে ধীরে সংগীতচর্চার শুরু হয়, যা এখন অসাধারণ সাফল্যে রূপ নিয়েছে।
এদিকে, স্বরশ্রীর রেকর্ড গড়ার মুহূর্তের ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই শিশুটির অসাধারণ প্রতিভা নিয়ে প্রশংসায় মেতেছেন সংগীতজ্ঞ ও নেটিজেনরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ শিক্ষামন্ত্রীর ট্রান্সজেন্ডার-সম্পর্কিত বক্তব্যকে সমাজবিরোধী ও বিজ্ঞানবহির্ভূত বলে উল্লেখ করে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। সংগঠনটি দাবি করেছে, অবিলম্বে এই বক্তব্য প্রত্যাহার করে জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।
শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব শাহ ইফতেখার তারিক এই দাবি তুলে ধরেন।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘প্রকৃত হিজড়ারা আমাদের সমাজেরই একটি অংশ। তবে যারা বিকৃত মানসিকতা লালন করে এবং ইচ্ছাকৃতভাবে শারীরিক ও মানসিক বিকৃতি সাধন করে, তাদের কোনোভাবেই সমর্থন করা যায় না। হিজড়া এবং ট্রান্সজেন্ডার কোনো অবস্থাতেই এক বিষয় নয়; ট্রান্সজেন্ডারিজম একটি মারাত্মক বিকৃতি।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ট্রান্সজেন্ডারের ধারণা সম্পূর্ণ বিজ্ঞানবহির্ভূত, খামখেয়ালি ও মানবসভ্যতার বিকাশবিরোধী। এর ফলে সমাজের মৌলিক পারিবারিক ও সামাজিক শৃঙ্খলা ভেঙে পড়বে। ইসলামসহ পৃথিবীর সব ধর্ম এবং প্রাচ্য সমাজ সর্বদা এর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। এমনকি পশ্চিমা সমাজেও এখন এর বিরুদ্ধে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে। বিশ্বজুড়ে সমালোচিত ও প্রত্যাখ্যাত এই ধারণাকে উৎসাহিত করে শিক্ষামন্ত্রী মূলত সমাজ, রাষ্ট্র ও ধর্মবিরোধী অবস্থান নিয়েছেন।
শিক্ষামন্ত্রীর ব্যাখ্যার কঠোর সমালোচনা করে ইসলামী আন্দোলনের এই নেতা বলেন, সর্বমহলের প্রবল প্রতিবাদের মুখে মন্ত্রী ভুলবশত তৃতীয় লিঙ্গ বলতে গিয়ে ট্রান্সজেন্ডার বলেছেন বলে যে অজুহাত দাঁড় করিয়েছেন, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তৃতীয় বা চতুর্থ লিঙ্গের ছদ্মাবরণে কোনো ধরনের সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় বিধ্বংসী চক্রান্ত মেনে নেওয়া হবে না।
তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, শিক্ষামন্ত্রীকে অবিলম্বে তার এই বক্তব্য প্রত্যাহার করে জাতির কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে। অন্যথায়, তাকে মন্ত্রিপরিষদ থেকে অপসারণ করতে হবে। এ ধরনের মানসিকতাসম্পন্ন ব্যক্তির হাতে দেশের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষার দায়িত্ব থাকা কোনো বিবেচনাতেই নিরাপদ নয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইরানের পক্ষ থেকে উত্থাপিত সাতটি শর্ত মেনে না নেওয়া হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় কোনো অগ্রগতি হবে না, এমন মন্তব্য করেছেন দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ।
তিনি বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্টে এই কথা জানান।
গালিবাফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের জন্য চলমান আলোচনায় কোনো অগ্রগতি অর্জন করতে হলে ইরানের সাতটি শর্ত মেনে নিতে হবে।
এক্স পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, ইরানের শর্তগুলো মধ্যস্থতাকারীদের কাছে বারবার এবং স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, চাপ প্রয়োগ ও প্রলোভন দেখানোর কৌশলে ইরানকে প্রভাবিত করা সম্ভব নয়। আলোচনায় অগ্রগতি তখনই সম্ভব, যখন ইরানের সাতটি শর্ত মেনে নেওয়া হবে। সূত্র: মেহের
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পার্বত্য চট্টগ্রামের একটি প্রধান পর্যটনকেন্দ্র সাজেকে অস্থিরতা দীর্ঘমেয়াদী হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে আধিপত্য বিস্তার, চাঁদার অর্থের নিয়ন্ত্রণ এবং পারস্পরিক বিরোধের কারণে সৃষ্ট সংকট এখন পর্যটন, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং স্থানীয় মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। যদিও অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়েছে, সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হবে, এমন বিষয়ে সন্দেহ রয়েছে।
পার্বত্য অঞ্চলের পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করে এবং আন্দোলনকারী, ব্যবসায়ী, জনপ্রতিনিধি ও পাহাড়ি নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র উঠে এসেছে। সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে দেখা যায়, সাজেকের বর্তমান সংকট কেবল একটি অবরোধ কর্মসূচির কারণে নয়; বরং এর পেছনে রয়েছে আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর দীর্ঘদিনের বিরোধ, এলাকা নিয়ন্ত্রণের প্রতিযোগিতা এবং চাঁদা আদায়ের অর্থনৈতিক স্বার্থ।
পাহাড়ি দুটি সংগঠনের ডাকে টানা অবরোধের ফলে সাজেকে পর্যটন কার্যক্রম প্রায় অচল হয়ে পড়ে। যদিও পরবর্তীতে অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়েছে, তবুও পর্যটন খাতের ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, পর্যটকদের আস্থা ফিরিয়ে এনে আগের অবস্থায় ফিরে আসতে বেশ সময় লাগবে।
অবরোধের নেপথ্যে অস্ত্রধারী গ্রুপের উপস্থিতির অভিযোগ রয়েছে। সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশন এবং সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির অভিযোগ, সাজেকের মাচালং এলাকায় গত ৩১ আগস্ট থেকে অস্ত্রধারী জেএসএস সন্তু গ্রুপ অবস্থান করছে। তাদের উপস্থিতির কারণে স্থানীয় মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা, কৃষিকাজ এবং চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে।
সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমার দাবি, প্রায় দুই মাস ধরে ওই সশস্ত্র গোষ্ঠী এলাকায় অবস্থান করছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পাড়াপ্রধানদের মারধর, হুমকি, মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া এবং অতিরিক্ত চাঁদা আদায়ের মতো ঘটনা ঘটছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েক শ পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র অবস্থান করতে বাধ্য হয়েছে। এসব পরিবারকে নিরাপদে নিজ এলাকায় ফিরিয়ে আনা এবং সাজেকে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই আন্দোলন শুরু হয়েছে।
আন্দোলনকারীরা বলছেন, অভিযুক্ত অস্ত্রধারী গোষ্ঠীকে সাজেক থেকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে কার্যকর আশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে।
এআরবি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ