ঢাকা রবিবার, ০৮ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২৩শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ০৮ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২৩শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

রাজশাহীতে মানববন্ধনে সেচ্ছাসেবক কর্মী আবিরের মায়ের প্রধানমন্ত্রীর নিকট আকুতি


রাজশাহীতে মানববন্ধনে সেচ্ছাসেবক কর্মী আবিরের মায়ের প্রধানমন্ত্রীর নিকট আকুতি

৯৬ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও সাংবাদিক ও স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আবির হোসেনের ওপর হামলার ঘটনায় চিহ্নিত আসামিদের গ্রেফতার না হওয়ায় রাজশাহীতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আসামিরা জামিনে বের হয়ে ভুক্তভোগী পরিবারকে হুমকি ও মিথ্যা মামলায় হয়রানির অভিযোগ তুলে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।

সোমবার সকাল ১১টায় রাজশাহীর সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল, রাজশাহী মহানগর শাখার উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাঈদ আলী।

বক্তারা বিস্তারিত অভিযোগ করেন যে, গত ২ আগস্ট শাহমখদুম থানা এলাকায় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে ফটোসাংবাদিক ও স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আবির হোসেন, তাঁর পরিবার এবং দৈনিক গণকণ্ঠের মাল্টিমিডিয়া প্রতিনিধি ও রাজশাহী রিপোর্টার্স ইউনিটির দপ্তর সম্পাদক ইব্রাহিম হোসেন সম্রাটের ওপর হামলা চালানো হয়।

আরও পড়ুন: বাকেরগঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও ড্রেন পরিষ্কার কার্যক্রম

হামলার চার দিন পেরিয়ে গেলেও চিহ্নিত প্রধান আসামিদের গ্রেফতার না হওয়ায় বক্তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেন। অভিযোগ করা হয় যে, হামলাকারীরা জামিনে বের হয়ে ভুক্তভোগীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হয়রানির চেষ্টা করছে।

মানববন্ধনে আবির হোসেনের মা আফরোজা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে হামলার বর্ণনা দিয়ে বলেন, হামলায় তাঁর পরিবারের সদস্যরা গুরুতর আহত হয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, হামলাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একইসাথে পরিবারের বিরুদ্ধে দায়ের করা কথিত মিথ্যামামলার নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচারেরও দাবি জানান।

সমাবেশে মহানগর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শ্যামল, জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা রাজশাহী বিভাগীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক সুরুজ আলীসহ বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা হামলার ঘটনায় দ্রুত তদন্ত, অভিযুক্তদের গ্রেফতার এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মামলার তদন্তকারী অফিসার এসআই সুভাস জানান, আসামীদের গ্রেফতারে নিয়মিত অভিযান চলছে। তবে অভিযুক্তরা পালিয়ে থাকায় তাদের গ্রেফতার করা সম্ভব হচ্ছে না।

আরও পড়ুন: জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদ্‌যাপন

শাহমখদুম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ কবির হোসেন জানান, অভিযুক্তদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। যতদ্রুত সম্ভব তাদের গ্রেফতার করা হবে।

এদিকে, একাধিক স্থানীয়রা বলেন, আসামী দিনে বাড়িতে ঘুমায় এবং এলাকায় প্রকাশ্যে চলাফেরা করছে। পুলিশ এলাকায় তেমন একটা আসে না। তাছাড়া সরকার দলীয় প্রভাবশালী নেতার কাছে যারা আসামি, তাদের তারা এড়িয়ে চলছে বলেও অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের বিষয়টি পর্যালোচনা করছে ভারত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:৩৫ পি.এম


শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের বিষয়টি পর্যালোচনা করছে ভারত

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ ভারত সরকারের প্রচলিত ও প্রতিষ্ঠিত প্রক্রিয়ার অধীনে পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (এমইএ)।

মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘আমাদের অবস্থান খুবই স্পষ্ট। আমরা আমাদের প্রতিষ্ঠিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী বিষয়টি দেখছি।’

জয়সওয়ালের এই বক্তব্যের একদিন আগে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকা শহরে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীর সাথে প্রথম বৈঠকে শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে প্রত্যর্পণের বিষয়টি তুলে ধরেন।

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদীর হত্যা মামলার দুই সন্দেহভাজনকে ভারত থেকে বাংলাদেশে ফেরত দেওয়ার অনুরোধের বিষয়ে জানতে চাইলে জয়সওয়াল এটিকে ‘আইনি বিষয়’ হিসেবে চিহ্নিত করেন। তিনি আরও বলেন, ‘এ ঘটনায় তদন্ত চলমান রয়েছে।’

প্রসঙ্গত, গত বছরের ১২ ডিসেম্বর ঢাকায় গুলিবিদ্ধ হন শরীফ ওসমান হাদী। পরে সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান। তার হত্যাকাণ্ডের প্রধান দুই সন্দেহভাজন ফয়সাল করিম মাসুদ ও আলমগীর হোসেনকে চলতি বছরের মার্চে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) গ্রেপ্তার করে।

এতে আরও উল্লেখ্য যে, তারেক রহমানকে ব্রিকস ও দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ভারতের হাইকমিশনারের বৈঠক নিয়ে কী কী আলোচনা হয়েছে জানতে চাইলে জয়সওয়াল বলেন, ‘দুই পক্ষ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছে।’

ঢাকায় ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইংয়ের (র) প্রধান পরাগ জৈন এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার মধ্যে বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে জয়সওয়াল জানান, এ বিষয়ে তার কাছে কোনও তথ্য নেই। তিনি এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পরামর্শ দেন।

আসন্ন সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনের আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারত দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণ দেবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে জয়সওয়াল বলেন, ‘দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। পাশাপাশি বঙ্গোপসাগরীয় বহুমুখী কারিগরি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা উদ্যোগের (বিমসটেক) বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে তারেক রহমানকে আসন্ন ব্রিকস সম্মেলনেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ট্রাম্পের কঠোর নীতিতে বাতিল এক লাখ ৭৫ হাজারের বেশি ভিসা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:৩৬ পি.এম


ট্রাম্পের কঠোর নীতিতে বাতিল এক লাখ ৭৫ হাজারের বেশি ভিসা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পর বিদেশি নাগরিকদের এক লাখ ৭৫ হাজারের বেশি ভিসা বাতিল করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর সোমবাবার এ তথ্য জানিয়েছে।

অভিবাসনবিরোধী কঠোর নীতির অংশ হিসেবে ট্রাম্প প্রশাসন ব্যাপকভাবে ভিসা ও অভিবাসন সুবিধা বাতিল করে আসছে। এর ফলে বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ বা অভিবাসনের সুযোগ থাকা বহু বিদেশি নাগরিকও বিভিন্ন ধরনের বিধিনিষেধের মুখে পড়েছেন।

পররাষ্ট্র দফতর এক বিবৃতিতে বলেছে, যেসব বিদেশি নাগরিক ভিসার শর্ত লঙ্ঘন করেছেন, অপরাধে জড়িয়েছেন, মার্কিন নাগরিকদের বিরুদ্ধে সহিংসতার আহ্বান জানিয়েছেন, আমেরিকানদের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন, অভিবাসন ব্যবস্থার অপব্যবহার করেছেন কিংবা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করেছেন- তাদের ভিসা বাতিল করা হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে জড়ানোই বড় কারণ। পররাষ্ট্র দফতরের তথ্যানুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ভিসা বাতিল করা হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঘটনায় জড়িয়ে পড়ার পর।

এর মধ্যে হামলা, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো, চুরি এবং মাদক-সংক্রান্ত অপরাধ ছিল ভিসা বাতিলের প্রধান কারণ।

বিভাগটি কয়েকটি নির্দিষ্ট মামলার কথাও উল্লেখ করেছে। এর মধ্যে একজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। আরেকজনের বিরুদ্ধে অপহরণ ও মানবপাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে। অন্য এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে শিশু যৌন নির্যাতনের উপকরণ রাখার এক ডজনেরও বেশি অভিযোগ রয়েছে।

পররাষ্ট্র দফতর বলেছে, এসব ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িত বিদেশি নাগরিকদের ভিসা বাতিল করা হয়েছে।

‘বার্থ ট্যুরিজম’-এর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর আফ্রিকার একটি দূতাবাস শতাধিক বিদেশি নাগরিকের ভিসা বাতিল করেছে। পররাষ্ট্র দফতরের ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের মধ্যে এমন বাবা-মা ছিলেন, যারা মূলত যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দেওয়ার উদ্দেশ্যেই দেশটিতে গিয়েছিলেন।

এই প্রবণতাকে যুক্তরাষ্ট্রে ‘বার্থ ট্যুরিজম’ বলা হয়। এর মাধ্যমে সন্তান যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করলে মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়- এমন উদ্দেশ্যে বিদেশি বাবা-মায়েরা যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

পররাষ্ট্র দফতর জানিয়েছে, এ ধরনের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

চার্লি কার্ক হত্যাকাণ্ড উদযাপনের অভিযোগেও ভিসা বাতিল হয়েছে। ভিসা বাতিলের তালিকায় এমন কয়েকজন বিদেশিও রয়েছেন, যারা রক্ষণশীল রাজনৈতিক কর্মী চার্লি কার্কের হত্যাকাণ্ডকে ‘উদযাপন’ করেছিলেন বলে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর দাবি করছে।

দফতর জানিয়েছে, তাদের মধ্যে একজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন মন্তব্য করেছিলেন যে, কার্ক ‘দেরিতে মারা গেছেন’।

ওই ধরনের বক্তব্যকে সহিংসতা সমর্থন বা উদযাপনের সঙ্গে যুক্ত হিসেবে বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভিসা বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন প্রশাসন।

জানুয়ারিতেই বাতিল হয়েছিল এক লাখের বেশি ভিসা। ভিসা বাতিলের এই সংখ্যা ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির ব্যাপকতার একটি ইঙ্গিত দিচ্ছে।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর জানিয়েছিল, তখন পর্যন্ত এক লাখের বেশি ভিসা বাতিল করা হয়েছে। সে সময় সেটিকে ভিসা বাতিলের রেকর্ড সংখ্যা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।

এর পর কয়েক মাসের মধ্যেই সেই সংখ্যা ১ লাখ ৭৫ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। ট্রাম্প দ্বিতীয়বার হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার পর থেকেই অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক ও কঠোর অভিযান শুরু করে তার প্রশাসন। এর অংশ হিসেবে বিপুলসংখ্যক অভিবাসীকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে এমন ব্যক্তিও ছিলেন, যাদের বৈধ ভিসা ছিল।

ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রে কড়াকড়ি। শুধু বিদ্যমান ভিসা বাতিল নয়, নতুন করে ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রেও ট্রাম্প প্রশাসন কঠোর নীতি গ্রহণ করেছে।

আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কর্মকাণ্ড আরও ব্যাপকভাবে যাচাই করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নিরাপত্তা যাচাই ও ব্যাকগ্রাউন্ড স্ক্রিনিংয়ের পরিধিও বাড়ানো হয়েছে।

মার্কিন প্রশাসনের যুক্তি, এসব পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো অপরাধী, প্রতারণাকারী এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সম্ভাব্য হুমকি তৈরি করতে পারে- এমন ব্যক্তিদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ ঠেকানো।

তবে এই নীতির সমালোচনা করেছেন মানবাধিকারকর্মী ও নাগরিক অধিকার বিশেষজ্ঞরা। অভিবাসন ও মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো ট্রাম্প প্রশাসনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যাচাইয়ের নীতির তীব্র সমালোচনা করেছে।

তাদের মতে, ভিসা আবেদনকারীদের রাজনৈতিক মতামত, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট কিংবা অনলাইন কর্মকাণ্ডের ওপর অতিরিক্ত নজরদারি মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে।

অভিবাসন অধিকারকর্মীদের কেউ কেউ এই নীতিকে ‘নজরদারি’ এবং বিদেশিদের নির্দিষ্টভাবে লক্ষ্যবস্তু করার সঙ্গে তুলনা করেছেন।

তাদের আশঙ্কা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনও বক্তব্য বা মতামতকে বিচ্ছিন্নভাবে বিবেচনা করে ভিসা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা ব্যক্তির মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ন্যায্য প্রক্রিয়ার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

ট্রাম্পের অভিবাসন নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন নীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ জোরদার, অবৈধ অভিবাসীদের বহিষ্কার, ভিসা যাচাই কঠোর করা এবং বিদেশিদের অনলাইন কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ- সব মিলিয়ে অভিবাসন নীতিতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ওয়াশিংটন।

এক লাখ ৭৫ হাজারের বেশি ভিসা বাতিলের ঘটনা সেই কঠোর নীতিরই প্রতিফলন। মার্কিন প্রশাসন বলছে, জাতীয় নিরাপত্তা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের পদক্ষেপ প্রয়োজন। অন্যদিকে অধিকারকর্মীরা বলছেন, নিরাপত্তার যুক্তিতে ভিসা ও অভিবাসন ব্যবস্থায় অতিরিক্ত কড়াকড়ি করলে বৈধ ভ্রমণকারী ও অভিবাসীরাও অযথা হয়রানি বা বৈষম্যের শিকার হতে পারেন।

ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের এই ব্যাপক ভিসা বাতিলের সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও অভিবাসন নীতিতে কঠোরতার নতুন মাত্রা যোগ করার পাশাপাশি নাগরিক অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়েও নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। সূত্র: রয়টার্স

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লিভারপুলে ধারে নাম লেখালেন বার্সেলোনার আরাউজো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:৪০ পি.এম


লিভারপুলে ধারে নাম লেখালেন বার্সেলোনার আরাউজো

ঢাকা, ১১ আগস্ট ২০২৬ : এক মৌসুমের জন্য ধারে বার্সেলোনা থেকে লিভারপুলে পাড়ি জমিয়েছেন উরুগুয়ের সেন্টার-ব্যাক রোনাল্ড আরাউজো।

স্প্যানিশ চ্যাম্পিয়ন ক্লাব সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

যদিও বার্সেলোনা চুক্তির বিস্তারিত কিছু প্রকাশ করেনি। কিন্তু স্প্যানিশ গণমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী ৫৫ মিলিয়ন ইউরোতে আরাউজো লিভারপুলের সাথে চুক্তি সম্পন্ন করেছেন।

এক বিবৃতিতে বার্সেলোনা জানিয়েছে, ‘২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত রোনাল্ড আরাউজোর সাথে ধারের চুক্তিতে একমত হয়েছে এফসি বার্সেলোনা ও লিভারপুল এফসি। রোনাল্ডের জন্য শুভকামনা।’

২০২৫ সালে কাতালান জায়ান্টদের সাথে চুক্তি নবায়ন করেন আরাউজো। নবায়নকৃত চুক্তি অনুযায়ী ২০৩১ সাল পর্যন্ত বার্সেলোনায় তিনি থাকবেন। বার্সেলোনার রক্ষনভাগে তরুণ পাও কুবারসি নিজেকে দারুনভাবে প্রমান করায় কোচ হান্সি ফ্লিকের অধীনে ২৭ বছর বয়সী আরাউজো মূল দলে অনিয়মিত হয়ে পড়েন।

গত মৌসুমে সব ধরনের প্রতিযোগিতায় আরাউজো মাত্র ৩৫টি ম্যাচ খেলেছেন। মানসিক অবসাদের কারণে তিনি বেশ কিছুদিন বিশ্রামে ছিলেন। জানুয়ারিতে তিনি আবারও মাঠে ফেরেন। কিন্তু এই সময়ের মধ্যে তাকে ছাড়িয়ে রক্ষনভাগে নিজেদের আসন পোক্ত করে নেন এরিক গার্সিয়া ও জেরার্ড মার্টিন।

বিশ্বকাপে উরুগুয়ে দলে থাকলেও একটি ম্যাচও খেলেননি আরাউজো। ভার্জিল ফন ডাইকের সাথে সেন্টার-ব্যাক পজিশনে লিভারপুলকে সহযোগিতা করার জন্য আরাউজো ইংল্যান্ডে এসেছেন। এই মুহূর্তে জো গোমেজ ও গিওভান্নি লিওনি ইনজুরিতে আছেন এবং ইব্রাহিমা কোনাটে দল ছেড়ে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দিয়েছেন।

আরাউজো বলেন, ‘‘এত ইতিহাসসমৃদ্ধ বিশাল একটি ক্লাবে এসে আমি খুবই রোমাঞ্চিত। আমি আমার সতীর্থদের সঙ্গে দেখা করতে এবং খেলা শুরু করতে মুখিয়ে আছি। আমি খুবই অনুপ্রাণিত এবং মাঠে নামার জন্য সত্যিই উদগ্রীব।

“ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে এটি আমার জন্য আদর্শ সিদ্ধান্ত ছিল। আমার মনে হয়, এই পদক্ষেপ নেওয়াটা আমার জন্য জরুরি ছিল।”

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নির্মাণাধীন মাদরাসার তদন্তে গিয়ে পুলিশের ওপর হামলা, নারীসহ গ্রেপ্তার ৭

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নোয়াখালী প্রতিনিধি

মঙ্গলবার, ১১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:৪০ পি.এম


নির্মাণাধীন মাদরাসার তদন্তে গিয়ে পুলিশের ওপর হামলা, নারীসহ গ্রেপ্তার ৭

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে ভূমি বিরোধকে কেন্দ্র করে অভিযোগের তদন্তে যাওয়ার সময় পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নারীসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুর ১টার সময় বসুরহাট পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মওদুদ স্কুল রোডের হাবা সফিদের বাড়িতে এই ঘটনা ঘটছে।

আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন কোম্পানীগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মঞ্জুর আহামেদ, কোম্পানীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আরিফ মহিনউদ্দিন, পুলিশ কনস্টেবল মো. ইছাক, মো. ইউছুফ ও শাহাদাত হোসেন।

পুলিশ ও স্থানীয়দের তথ্যমতে, দারুল ইহছান মাদরাসার চেয়ারম্যান মো. নূরুল আবছার একই এলাকার মানিক মিয়াসহ সাতজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৯-১০ জনের বিরুদ্ধে চাঁদার দাবি, প্রাণনাশের হুমকি ও ক্ষতিসাধনের অভিযোগ এনেছেন। মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে এই অভিযোগের প্রাথমিক তদন্তের জন্য কোম্পানীগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মঞ্জুর আহামেদ, এসআই আরিফ মহিউদ্দিনসহ অন্যান্য পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। তদন্ত শেষ করে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ফিরে আসার সময় অভিযোগকারী পক্ষ ফোন করে জানায় যে, বিবাদীরা নির্মাণাধীন ভবনের সিসি ক্যামেরা ভাঙচুর করছে। পরে পুলিশ সদস্যরা পুনরায় সেখানে গিয়ে ভাঙচুরের কারণ জানতে চাইলে বিবাদীদের পুলিশের ওপর হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। এ সময় ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও লাঠি দিয়ে আঘাত করে পুলিশ সদস্যদের জখম করা হয়েছে।

পরে হামলায় জড়িত সন্দেহভাজন ছেমনা খাতুন, বিয়াধুনি, মনোয়ারা, আয়েশা, অজি উল্লা, আবু সুফিয়ান ও বোবা জাবেরকে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা সরকারি হাসপাতাল থেকে গ্রেপ্তার করে থানায় নেওয়া হয়। পুলিশ সদস্যরাও হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। তবে গ্রেপ্তারকৃতদের স্বজন মো. বাবুল দাবি করেন যে, পুলিশ বাকবিতন্ডার একপর্যায়ে আমার শার্টের কলার ধরে। পরে বাড়ির নারীদের মারধর করা হয়। এর ফলস্বরূপ নারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে সড়কে থাকা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেছেন। এতে দুজন পুলিশের হাতে হালকা আঘাত লেগেছে।

পুলিশের ভাষ্য হচ্ছে, মাদরাসার নির্মাণাধীন ভবনের জায়গাটি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছে। বিবাদী পক্ষ জায়গাটিতে মৌরসী স্বত্ব দাবি করে নোয়াখালীর দায়রা জজ আদালতে মামলা করেছে। অপরদিকে, অভিযোগকারী পক্ষ জায়গাটিকে ক্রয়সূত্রে মালিক হিসেবে দাবি করছে।

কোম্পানীগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মঞ্জুর আহামেদ জানিয়েছেন, তদন্তে যেতে গিয়ে তিনি ও পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা দায়েরের ব্যাপারে প্রক্রিয়া চলছে। তাৎক্ষণিকভাবে নারীসহ ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া ঘটনার পর দারুল ইহছান মাদরাসার চেয়ারম্যান মো. নূরুল আবছার বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫১
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%