ঢাকা বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

চট্টগ্রাম প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এক দিনের শাটডাউন শেষে মঙ্গলবার ক্লাসে ফিরছেন


চট্টগ্রাম প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এক দিনের শাটডাউন শেষে মঙ্গলবার ক্লাসে ফিরছেন

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) শিক্ষার্থীরা সোমবার এক দিনের শাটডাউন কর্মসূচি পালন করেছেন। তারা এই কর্মসূচি পালন করেন উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব অধ্যাপক ড. কাজী দেলোয়ার হোসেনকে দেওয়ার প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে। মঙ্গলবার থেকে তারা আবার নিয়মিত ক্লাসে ফিরবেন।

জানা গেছে, গত রোববার উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) একটি সভায় অংশ নিতে ঢাকায় যাওয়ার কারণে অধ্যাপক কাজী দেলোয়ার হোসেনকে এক দিনের জন্য রুটিন দায়িত্ব দেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্তের পর শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ জানান এবং এক দিনের শাটডাউন কর্মসূচি ঘোষণা করেন। প্রায় এক মাসের অচলাবস্থা কাটিয়ে গত রোববার সব বিভাগে একযোগে ক্লাস শুরু হয়েছিল।

চুয়েটে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে টানা আন্দোলন চলছে। গত ২১ সেপ্টেম্বর তাঁকে সরিয়ে অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নিয়োগ দেওয়ার পরদিন থেকে এই আন্দোলন শুরু হয়। এর মধ্যে ১২ অক্টোবর ক্যাম্পাসে গিয়ে নতুন উপাচার্য ৩০ ঘণ্টা অবরুদ্ধ হন। প্রশাসনের সহায়তায় সেখান থেকে বের হওয়ার পর তিনি ক্যাম্পাসের বাইরে অবস্থান করছেন। ১৬ অক্টোবর চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস থেকে অনলাইনে সিন্ডিকেট সভা করেন উপাচার্য। ওই সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৮ অক্টোবর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ছয় সদস্যের একটি পরামর্শক কমিটি গঠন করে।

আরও পড়ুন: জাবিতে পরিচালক নিয়োগে উত্তেজনা, ছাত্রদল উপাচার্যকে মুক্ত করল

পরে ২৮ অক্টোবর কয়েকটি বিভাগে সীমিত পরিসরে ক্লাস শুরু হয়। এরপর গত রোববার থেকে সব বিভাগে একযোগে শিক্ষা কার্যক্রম ফের চালু হয়। তবে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবি এবং নতুন উপাচার্যের প্রতি অসহযোগিতার অবস্থান থেকে শিক্ষার্থীরা সরে আসেননি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শ্রমিকের ন্যায্য দাবির আড়ালে সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতার অপচেষ্টা?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:৩৪ এম


শ্রমিকের ন্যায্য দাবির আড়ালে সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতার অপচেষ্টা?

॥ জি এম রাজিব হোসেন ॥

রাজধানীর মিরপুরে পোশাকশ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলনের ফলে যে সহিংস পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, সেটিকে শুধুমাত্র একটি শ্রমিক অসন্তোষের ঘটনা হিসেবে দেখা উচিত নয়। শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও জীবনমান উন্নয়নের দাবি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। তবে, সেই দাবিকে পুঁজি করে কেউ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সহিংসতা, অগ্নিসংযোগ ও জনজীবনে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে কিনা, সেটিও গভীরভাবে অনুসন্ধান করা জরুরি। কারণ শ্রমিকের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন এবং সেই আন্দোলনের আড়ালে রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংসের কর্মকাণ্ড এক বিষয় নয়।

বাংলাদেশের পোশাকশিল্প দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। এই শিল্পের কয়েক মিলিয়ন শ্রমিকের শ্রম ও ঘামের ওপর দাঁড়িয়ে রয়েছে দেশের রপ্তানি আয়ের একটি বড় অংশ। অথচ, এই শিল্পের শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয়, খাদ্য, বাসস্থান, চিকিৎসা ও সন্তানদের শিক্ষার খরচ বিবেচনায় নিলে মজুরি বৃদ্ধির দাবি যে বাস্তবসম্মত ও যৌক্তিক, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। একজন শ্রমিকের ন্যূনতম আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধুমাত্র মালিকপক্ষের দায়িত্ব নয়, এটি রাষ্ট্রেরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

এই বাস্তবতা বিবেচনায় সরকার দায়িত্ব গ্রহণের সাত মাসের মধ্যে পোশাকশ্রমিকদের মজুরি পুনর্র্নিধারণে নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। ১ নভেম্বর শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে মালিক, শ্রমিক ও নিরপেক্ষ প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে বোর্ড গঠনের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। বোর্ডের দায়িত্ব হচ্ছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে নতুন ন্যূনতম মজুরি কাঠামোর সুপারিশ তৈরি করা। শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ। তবে, বোর্ড গঠনই শেষ কথা নয়; শ্রমিকদের প্রত্যাশা ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মজুরি নির্ধারণই হবে এর প্রকৃত সাফল্যের মাপকাঠি।

এখানেই স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন ওঠে, যখন সরকার শ্রমিকদের দাবি বিবেচনায় নিয়ে মজুরি বোর্ড গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে এবং মালিকপক্ষও এ প্রক্রিয়ায় সম্মতির কথা জানিয়েছে, তখন আন্দোলন কেন ক্রমেই সহিংসতার দিকে গড়াল? দাবি আদায়ের জন্য আন্দোলন, প্রতিবাদ ও কর্মসূচি গণতান্ত্রিক অধিকার। কিন্তু সেই অধিকার প্রয়োগের নামে পুলিশের ওপর হামলা, গাড়িতে আগুন, সড়ক অবরোধ, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর কিংবা সাধারণ মানুষের চলাচল বন্ধ করে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

১ নভেম্বর মিরপুরে শ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, সড়ক অবরোধ ও পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতির কারণে মিরপুর-১০, মিরপুর-১১ ও পল্লবী এলাকায় সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হয়। মেট্রোরেল স্টেশনে কয়েক ঘণ্টা ট্রেনের যাত্রাবিরতি বন্ধ রাখতে হয়। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এই যোগাযোগব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ায় কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী ও সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগে পড়তে হয়। একটি শিল্পের শ্রমিকদের দাবি আদায়ের আন্দোলনে যখন হাজারো নিরপরাধ মানুষ ভোগান্তির শিকার হন, তখন সেই আন্দোলনের কৌশল ও উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ রাকিব খানের বক্তব্য অনুযায়ী, সহিংসতার ঘটনায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ১১ জন নেতাকর্মীকে ডিবি গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা স্থানীয় পোশাকশ্রমিক নন; বরং বরিশাল, পটুয়াখালী, কক্সবাজার ও গাইবান্ধাসহ বিভিন্ন জেলা থেকে এসে আন্দোলনের আড়ালে নাশকতায় অংশ নিয়েছেন। পুলিশের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, নিষিদ্ধ রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা সাধারণ শ্রমিকদের আন্দোলনে অনুপ্রবেশ করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা করেছেন।

এই অভিযোগগুলো সত্য হলে তা নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক। কারণ রাজনৈতিকভাবে নিষিদ্ধ কোনো সংগঠনের নেতাকর্মীরা যদি শ্রমিকদের প্রকৃত অসন্তোষকে ব্যবহার করে সহিংসতা ছড়ানোর চেষ্টা করেন, তাহলে তাতে একদিকে শ্রমিকদের ন্যায্য আন্দোলন প্রশ্নবিদ্ধ হবে, অন্যদিকে দেশের শিল্প ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাও হুমকির মুখে পড়বে। তবে তদন্তের আগেই সব আন্দোলনকারীকে রাজনৈতিক কর্মী কিংবা নাশকতাকারী হিসেবে চিহ্নিত করাও সমীচীন নয়। প্রকৃত শ্রমিকদের সঙ্গে বহিরাগত উসকানিদাতাদের পার্থক্য শনাক্ত করাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য বড় দায়িত্ব।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় বড় পরিবর্তন এসেছে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে আন্দোলন হয়েছে। এসব আন্দোলনের অনেকগুলোর পেছনে ছিল বাস্তব সমস্যা ও অধিকার আদায়ের আকাঙ্ক্ষা। তবে সেইসব আন্দোলনেও আওয়ামী লীগ অনুপ্রবেশ করে রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের অপচেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্প শুধু একটি উৎপাদন খাত নয়; এটি দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম ভিত্তি। এই শিল্পে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থা, উৎপাদন কার্যক্রম ও রপ্তানি সরবরাহব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। শেষ পর্যন্ত তার চাপ গিয়ে পড়বে শ্রমিকদের ওপরই। কারখানায় উৎপাদন বন্ধ হলে শ্রমিকের আয় কমবে, কর্মসংস্থান অনিশ্চিত হবে এবং দেশের অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সুতরাং শ্রমিকদের দাবি পূরণের পাশাপাশি শিল্পের নিরাপদ পরিবেশ বজায় রাখাও অত্যন্ত জরুরি।

এ ক্ষেত্রে সরকারের দায়িত্ব দ্বিমুখী। একদিকে শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করতে মজুরি বোর্ডকে দ্রুত ও স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয়, মূল্যস্ফীতি, বাসাভাড়া, খাদ্য ও চিকিৎসার খরচ বিবেচনায় নিয়ে বাস্তবসম্মত মজুরি নির্ধারণ করতে হবে। অন্যদিকে আন্দোলনের নামে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর, পুলিশের ওপর হামলা কিংবা রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংসের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের রাজনৈতিক পরিচয় যা-ই হোক, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আইনের আওতায় আনতে হবে। কোনো নিরপরাধ শ্রমিক যেন হয়রানির শিকার না হন, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।

সবচেয়ে বড় কথা, শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের আন্দোলনকে কোনো রাজনৈতিক গোষ্ঠীর স্বার্থসিদ্ধির হাতিয়ার হতে দেওয়া যাবে না। শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি একটি অর্থনৈতিক ও মানবিক দাবি; এটি কোনো দলের রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়। এই দাবিকে কেন্দ্র করে কেউ যদি পরিকল্পিতভাবে সহিংসতা সৃষ্টি করে, তাহলে সরকার কঠোর হবে এটাই স্বাভাবিক।

বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতায় স্থিতিশীলতা রক্ষা করা যেমন জরুরি, তেমনি শ্রমিকের অধিকার প্রতিষ্ঠাও অপরিহার্য। এই দুইয়ের মধ্যে সংঘাত তৈরি না করে সমন্বয় ঘটানোই সরকারের প্রধান দায়িত্ব। মিরপুরের ঘটনাকে তাই শুধু আইনশৃঙ্খলার সমস্যা হিসেবে নয়, শ্রমিক আন্দোলনের পবিত্রতা, রাজনৈতিক দায়িত্বশীলতা এবং রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতার প্রশ্ন হিসেবেও দেখতে হবে। শ্রমিকের হাতে ন্যায্য মজুরি পৌঁছাতে হবে, আর শ্রমিকের পরিচয় ব্যবহার করে যারা সহিংসতা ও নাশকতা চালাবে, তাদের আইনের মুখোমুখি করতে হবে।

শ্রমিকের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হোক, কিন্তু সেই অধিকারের আড়ালে রাষ্ট্র ও অর্থনীতিকে অস্থিতিশীল করার কোনো অপচেষ্টা যেন সফল না হয়।

লেখক : প্রধান প্রতিবেদক, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এইচএসসিতে এক-দুই বিষয়ে অকৃতকার্যদের পরীক্ষা ও ফল ডিসেম্বরেই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:৩৪ এম


এইচএসসিতে এক-দুই বিষয়ে অকৃতকার্যদের পরীক্ষা ও ফল ডিসেম্বরেই

চলতি বছরের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষায় এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য পরীক্ষার্থীদের জন্য পরীক্ষা গ্রহণ, উত্তরপত্র মূল্যায়ন এবং ফলাফল প্রকাশের কার্যক্রম ডিসেম্বর মাসের মধ্যে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। সোমবার এই তথ্যটি জানিয়েছেন ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান।

তিনি উল্লেখ করেছেন, এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা গ্রহণ, উত্তরপত্র মূল্যায়ন এবং ফল প্রকাশের জন্য ২ থেকে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে একটি খসড়া রোডম্যাপ প্রস্তুত করা হয়েছে। অনুমোদন পেলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুরো কার্যক্রম সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

ফলাফল প্রকাশের জন্য আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানান, এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের পুনঃপরীক্ষা এক মাসের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে।

বর্তমানে এসএসসি ও এইচএসসির মতো পাবলিক পরীক্ষায় কোনো পরীক্ষার্থী এক বা একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য হলে তাকে পরের বছর আবার পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়। এ ক্ষেত্রে শুধুমাত্র অকৃতকার্য বিষয়গুলোতে অথবা চাইলে সব বিষয়ে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ থাকে।

ফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এবারের পরীক্ষায় এক বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে ২ লাখ ৯৮ হাজার ৪০ জন শিক্ষার্থী। আর দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে ১ লাখ ২৪ হাজার ৮৬৫ জন। সব মিলিয়ে এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪ লাখ ২২ হাজার ৯০৫। এ ছাড়া মোট অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫ লাখ ৯৪ হাজার ১১৩।

যেসব শিক্ষার্থী এক বা দুই বিষয়ে পুনঃপরীক্ষায় অংশ নেবে, তাদের সনদে কী উল্লেখ থাকবে- এ প্রশ্নের জবাবে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান বলেন, এসব পরীক্ষার্থীর ফলাফল নতুন করে প্রকাশ করা হবে। আগের পরীক্ষায় যেসব বিষয়ে তারা উত্তীর্ণ হয়েছে, সেসব বিষয়ের ফল বহাল থাকবে। নতুন পরীক্ষায় অর্জিত ফল আগের ফলের সঙ্গে যুক্ত হবে।

এক বা দুই বিষয়ে পরীক্ষা গ্রহণের কর্মপরিকল্পনা কবে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে- এ প্রশ্নের জবাবে চেয়ারম্যান জানান, ৪ নভেম্বর কর্মপরিকল্পনাটি প্রকাশের প্রস্তুতি রয়েছে।

এদিকে এইচএসসি পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন গ্রহণ চলবে আগামী ৭ নভেম্বর পর্যন্ত। পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রকাশের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২৭ নভেম্বর।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রূপগঞ্জে পোশাক কারখানায় কম্প্রেসার বিস্ফোরণে ৪ জন দগ্ধ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:৩৫ এম


রূপগঞ্জে পোশাক কারখানায় কম্প্রেসার বিস্ফোরণে ৪ জন দগ্ধ

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে একটি পোশাক কারখানায় ডায়ার কম্প্রেসার মেশিনের বিস্ফোরণে চারজন দগ্ধ হয়েছেন, এমন তথ্য দিয়েছে পুলিশ। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর, এবং তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। তবে কারখানা কর্তৃপক্ষের দাবি, এই ঘটনায় একজন শ্রমিক দগ্ধ হয়েছেন।

সোমবার রাত ৯টার দিকে উপজেলার পাড়াগাঁও এলাকায় সিম গ্রুপের পোশাক কারখানায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

দগ্ধ ব্যক্তিদের মধ্যে নাইমুল হাসান নামের একজনের পরিচয় জানা গেছে। তিনি কারখানার যান্ত্রিক বিভাগের ফায়ার সুপারভাইজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বিস্ফোরণের ফলে তিনি গুরুতরভাবে দগ্ধ হন। পরে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়। বাকি তিনজনের পরিচয় এবং শারীরিক অবস্থা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মেহেদী ইসলাম চারজন আহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তবে আহতের সংখ্যা নিয়ে পুলিশ এবং কারখানা কর্তৃপক্ষের বক্তব্যে অমিল দেখা দিয়েছে। সিম গ্রুপের প্রশাসনিক কর্মকর্তা অবসরপ্রাপ্ত মেজর রেজাউল করিম জানিয়েছেন, এ ঘটনায় একজন শ্রমিক দগ্ধ হয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, রাতে কারখানার বয়লার সেকশনের পাশে থাকা ডায়ার কম্প্রেসার মেশিনে বিস্ফোরণ ঘটে। দগ্ধ ব্যক্তিকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে।

বিস্ফোরণের খবর পেয়ে কাঞ্চন ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে বিস্ফোরণের কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘পতিত সরকারের দোসররা শ্রমিক আন্দোলনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:৩৫ এম


‘পতিত সরকারের দোসররা শ্রমিক আন্দোলনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে’

শ্রমিক বিক্ষোভের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে সাভারের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু মন্তব্য করেছেন যে, পতিত সরকারের দোসররা সাভার ও আশুলিয়ায় গার্মেন্টস অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। বহিরাগতরা শ্রমিকদের কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে পরিস্থিতি জটিল করে তুলছে।

শ্রমিকদের সড়ক অবরোধের ফলে মহাসড়কে তীব্র যানজট পরিদর্শন করতে এসে তিনি এসব কথা বলেন।

এছাড়া সাভার শিল্প পুলিশ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, বহিরাগতরা শ্রমিকদের কারখানা বন্ধ করে মহাসড়কে চলে আসতে বাধ্য করছে। শান্তিপ্রিয় শ্রমিকরাও বাধ্য হয়ে কারখানা ছেড়ে চলে যেতে হচ্ছে।

মজুরি বাড়ানোর মূল দাবিকে কেন্দ্র করে সাভার ও আশুলিয়ার তৈরি পোশাক শিল্প এলাকা উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। শ্রমিক বিক্ষোভে শতাধিক কারখানার শ্রমিকরা রাস্তায় নেমে এসেছে। দুই শতাধিক কারখানায় আজও ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এদিন কাভার্ডভ্যানে আগুন দেয়া হয়েছে দুষ্কৃতকারীদের দ্বারা।

সোমবার সকালে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পালটাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করেছে আশুলিয়ার বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর এবং সাভারের হেমায়েতপুরে। এতে অন্তত দুই শতাধিক শ্রমিক আহত হয়েছেন। শিল্প পুলিশের কয়েকজন সদস্যও আহত হয়েছেন।

দুপুরের পর হেমায়েতপুরের পদ্মার মোড়ে বিএনপি নেতাকর্মীরা লাঠিসোটা নিয়ে অবস্থান নেন। তাদের নেতৃত্বে ছিলেন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আজিজ। তারা শিল্পাঞ্চলে ভাঙচুর ও অস্থিরতার প্রতিবাদ জানিয়ে মহাসড়কে সমাবেশ করেন। এ সময় ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতরা পালিয়ে যায়।

শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, শ্রমিকদের দাবি পূরণে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। বিভিন্ন কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হলেও শ্রমিকরা বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুরের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

সাভার ও আশুলিয়ার বিভিন্ন পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে জানিয়ে ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, আজকে সাভারের পরিবেশ অনেকটাই শান্ত রয়েছে। কিছুটা বিশৃঙ্খলার খবর পাওয়া গেলেও পুলিশ তৎপর থাকার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন, সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলমসহ পুলিশের কর্মকর্তারা এখানে উপস্থিত থেকে সব ব্যবস্থা গ্রহণ করে চলেছেন।

বিকালে সাভারের বিভিন্ন কারখানা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডিআইজি মুস্তাফিজুর রহমান আরও বলেন, শিল্পাঞ্চল সাভার ও আশুলিয়ায় শ্রমিক আন্দোলনের নামে বিশৃঙ্খলাকারীরা সাধারণ শ্রমিক নয়। তাই নাশকতাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, শ্রমিকদের আন্দোলনের সুযোগে কিছু দুষ্কৃতকারী বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। আমরা তাদের খোঁজখবর নিচ্ছি এবং তথ্য সংগ্রহ করছি। আন্দোলনের নামে বহিরাগত বিশৃঙ্খলাকারীদের আইনের আওতায় আনা হবে। এ সময় শ্রমিকদেরও সজাগ হওয়ার আহ্বান জানান ডিআইজি।

আশুলিয়া থানার ওসি তরিকুল ইসলাম যুগান্তরকে জানিয়েছেন, শ্রমিক অসন্তোষের ঘটনায় ১০ জনকে আশুলিয়া-বাইপাইল থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে তারা শ্রমিক না বহিরাগত তা এখনো যাচাই-বাছাই করা হয়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪২
মাগরিব ০৫:১৮
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%