১২:০৪ এম
শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন আজ সোমবার দুপুরে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ২০তম বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদানকালে বলেন, “আগামী দিনে মাদ্রাসা এবং সাধারণ শিক্ষার যেসব কমন বিষয় রয়েছে সেগুলোর পরীক্ষা একই প্রশ্নে নেয়া হবে।” তিনি আরও জানান, আইনি জটিলতা কাটিয়ে আগামী জুলাই মাসের মধ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিয়োগের জট কেটে যাবে এবং পরবর্তী তিন মাসের মধ্যে আরও ৫০ হাজার প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দেয়া সম্ভব হবে।
এসময় শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষাব্যবস্থায় সংস্কার ও বৈষম্য দূরীকরণের ঘোষণা দেন। শিক্ষার মানোন্নয়ন ও সিলেবাস ক্রমান্বয়ে পরিবর্তনের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী উল্লেখ করেন, “আমরা চাই না শিক্ষার মধ্যে কোনো বৈষম্য থাকুক। আগামী দিনে মাদ্রাসার ও সাধারণ শিক্ষার যেসব বিষয় কমন রয়েছে, যেমন: বাংলা, ইংরেজি, গণিত, ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি, অ্যাকাউন্টিং, ইকোনমিক্স ও সোসিওলোজি- সেসব বিষয়ে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেয়া হবে।”
তিনি বলেন, ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই কারিগরি শিক্ষা গুরত্ব দেওয়া হচ্ছে এবং সেকেন্ডারি ও টারশিয়ারি এডুকেশনসহ পুরো শিক্ষাব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো হচ্ছে। শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেছেন, এবারে নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড একযোগে একই প্রশ্নে এইচএসসি পরীক্ষা দেবে।
আরও পড়ুন: এমপি আব্দুল আজিজের আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল, ক্ষোভ বৃদ্ধি
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিয়োগের দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতা প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, ২০১৭ সালের একটি মামলার কারণে সারা দেশের ৬৫ হাজার ৫০০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে প্রায় ৩২ হাজার ৫০০ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া থমকে আছে। ফলে বহু সহকারী শিক্ষক পদোন্নতি না পেয়ে অবসরে যাচ্ছেন।
তিনি জানান, ‘সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে আলোচনা এবং ৩০০ বিধিতে আমার বক্তব্যের পর বিষয়টি আদালতের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। আগামী ২ জুলাইয়ের মধ্যে আদালত এই সমস্যার সমাধান করে দেবেন। এটি হলে আগামী তিন মাসের মধ্যে আমরা আরও ৫০ হাজার প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দিতে পারব।’
শিক্ষকদের ভোগান্তি কমাতে এনটিআরসিএ-এর মাধ্যমে এক জেলা থেকে অন্য জেলায় কর্মরত শিক্ষকদের বদলি প্রক্রীয়া আগামী ১৬ জুলাইয়ের মধ্যে সম্পূর্ণ ‘অটোমেটেড’ বা স্বয়ংক্রিয় করার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।
মাদ্রাসা শিক্ষকদের মে ও জুন মাসের বকেয়া বেতন বিষয়ে পূর্ববর্তী ব্যবস্থার সমালোচনা করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ২০১৭ সালে শুরু হওয়া ১০ কোটি টাকার ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার প্রজেক্ট ৮০ কোটি টাকায় ঠেকলেও তা এখনও শেষ হয়নি। বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ১৭ হাজার মাদ্রাসা শিক্ষক নিয়োগ দিলেও সঠিক ইএফটি ডাটাবেজ না থাকায় বেতনের জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ নির্ধারণে পদ্ধতিগত ভুল ছিল। বর্তমানে সরকার এই জটিলতা নিরসনে দ্রুত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
আরও পড়ুন: স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ঢামেকে আনা হলো আনিসুল, পলক ও মামুন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন