ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

সৌদির স্থল অভিযান নস্যাৎ করার দাবি হুথির


সৌদির স্থল অভিযান নস্যাৎ করার দাবি হুথির

ইয়েমেনি সশস্ত্র বাহিনী হুথি একযোগে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে সৌদি সামরিক বাহিনীর সম্ভাব্য বড় ধরনের স্থল অভিযান নস্যাৎ করতে সক্ষম হয়েছে। এই আকস্মিক হামলা সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়েছে, এবং এর ফলস্বরূপ সৌদি বাহিনী ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের সম্মুখীন হয়েছে। আল মায়াদিনের ন্যায় ইয়েমেনি সামরিক সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে জানা গেছে, সৌদি কর্তৃপক্ষ নিজেদের বাহিনীর ভাঙন অবস্থা লুকাতে ও সৈন্যদের মনোবল ধরে রাখতে হতাহতের প্রকৃত তথ্য চাপা দেওয়ার কঠোর নির্দেশ দিয়েছে।

প্রতিবেদন অনুসারে, সৌদি আরবের সামরিক কর্মকর্তা ও নতুন গঠিত ব্রিগেডগুলো বেশ কয়েক মাস ধরে ইয়েমেনের মুক্ত অঞ্চলগুলোতে আক্রমণের উদ্যোগ নিয়েছিল। কিন্তু ওই প্রস্তুতি চূড়ান্ত রূপ নেওয়ার আগেই ইয়েমেনি বাহিনী আল-রুওয়াইক, আল-আবর ও আল-থানিয়াসহ একাধিক সামরিক ক্যাম্প এবং প্রথম ও তৃতীয় জরুরি ব্রিগেডের প্রধান ঘাঁটিতে একযোগে বড় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। এই মারাত্মক হামলা রিয়াদকে মারাত্মক বিশৃঙ্খলা ও কিংকর্তব্যবিমূঢ় অবস্থা তৈরি করেছে, ফলে তাদের দীর্ঘকাল ধরে পরিকল্পিত স্থল অভিযানটি সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়ে গেছে।

ইয়েমেনি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি এক বিবৃতিতে বলেছিলেন, ইয়েমেনি জনগণের ওপর এক যুগেরও বেশি সময় ধরে চলা অন্যায় অবরোধ ও আগ্রাসনের জবাব হিসেবে এই সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সানার সুপ্রিম পলিটিক্যাল কাউন্সিল ও ইয়েমেন সরকারও স্পষ্ট করে জানিয়েছে, তারা অবরোধের বিপরীতে অবরোধ এবং হামলার বিপরীতে হামলা নীতিতে কোনোভাবেই সরবে না। ইয়েমেনের ওপর চাপিয়ে দেওয়া অন্যায় পুরোপুরি দূর না হওয়া পর্যন্ত এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার জন্য সামরিক বাহিনী যেকোনো সৌদি পরিকল্পনা ধূলিসাৎ করতে প্রস্তুত রয়েছে বলেও সানা থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: নিউইয়র্ক টাইমস: ইরানের বিরুদ্ধে নতুন হামলার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে ম্যাক্রোঁ-সৌদি যুবরাজের ফোনালাপ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৭ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:১০ এম


মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে ম্যাক্রোঁ-সৌদি যুবরাজের ফোনালাপ

মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা এবং সামুদ্রিক চলাচলের স্বাধীনতা নিয়ে আলোচনা করেছেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ।

শুক্রবার ভোরে, ফরাসি প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে সৌদি যুবরাজ ফোনালাপটি পান।

সৌদি প্রেস এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান এবং ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এক ফোনালাপে আঞ্চলিক বিভিন্ন ঘটনাপ্রবাহ, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা জোরদার করার প্রচেষ্টা এবং সামুদ্রিক নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা করেছেন।

আলাপে দুই নেতা সৌদি আরব ও ফ্রান্সের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতার স্থিতি এবং তা আরও সুদৃঢ় করার উপায় নিয়ে পর্যালোচনা করেন।

তারা পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বেশ কিছু আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ইস্যুতেও একে অপরের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন।

এছাড়া, ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠীর সৌদি লক্ষ্যবস্তুতে সাম্প্রতিক হামলার পর উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়েও তারা আলোচনা করেন।

সূত্র: সৌদি গেজেট।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গোলাবারুদ কমে যাওয়ার খবর প্রকাশে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৭ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:১৬ এম


গোলাবারুদ কমে যাওয়ার খবর প্রকাশে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধাস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ দ্রুত কমে যাওয়ার যে খবর প্রকাশিত হয়েছে তা শুনে ডোনাল্ড ট্রাম্প তীব্র অসন্তোষ এবং ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ ও কূটনৈতিক আলোচনার এই সংকটময় মুহূর্তে, এ ধরনের তথ্য প্রকাশ ওয়াশিংটনকে দুর্বল করে দিচ্ছে বলে ট্রাম্প মনে করেন। তিনি জানান, ফাঁস হওয়া এসব সংবেদনশীল তথ্য ওয়াশিংটনের প্রভাব ও অবস্থানকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে এবং এর পেছনে যারা জড়িত রয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

সম্প্রতি ক্যাম্প ডেভিডে অনুষ্ঠিত ক্যাবিনেট বৈঠকে এই ইস্যুটি নিয়ে জোর আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে প্রেসিডেন্টের সাথে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ উপস্থিত ছিলেন। সেখানে ট্রাম্প মিডিয়ার এসব প্রতিবেদন নিয়ে প্রচণ্ড ক্ষোভ প্রকাশ করেন। যদিও প্রেসিডেন্ট বেশ কয়েক মাস ধরেই দেশের গোলাবারুদের ঘাটতি সম্পর্কে অবহিত ছিলেন, কিন্তু আলোচনার এই চূড়ান্ত পর্যায়ে এসে দেশের অস্ত্রাগারের সীমাবদ্ধতার খবর প্রকাশ্যে চলে আসায় তিনি চরম বিরক্ত হয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প অবশ্য দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে প্রচুর অস্ত্র রয়েছে এবং দেশীয় প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো রাতদিন কাজ করে নতুন কারখানা চালু করছে।

কিন্তু পরবর্তীতে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন যে, কিছু উচ্চ প্রযুক্তির বিশেষ অস্ত্রের সরবরাহ বর্তমানে বেশ সংকটজনক পর্যায়ে রয়েছে। বিশেষ করে থাড এবং প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সরবরাহ প্রায় শেষ হতে চলেছে। খবর অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ট্রাম্প প্রশাসন তাদের থাড ইন্টারসেপার ক্ষেপণাস্ত্রের চার-পঞ্চমাংশ এবং প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপর ব্যবস্থার প্রায় অর্ধেক ব্যবহার করে ফেলেছে। মার্কিন সামরিক বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এই ধরনের অত্যাধুনিক অস্ত্রের ঘাটতি তৈরি হওয়ায় শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, তাদের মিত্র মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় দেশগুলোও বেশ আশঙ্কায় পড়েছে, কারণ তারা ইরানের সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিরোধে এসব মার্কিন ব্যবস্থার ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।

হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তাদের ধারণা হলো, প্রশাসনের অভ্যন্তরে যুদ্ধবিরোধী কিছু গোষ্ঠী ইচ্ছাকৃতভাবে এই তথ্যগুলো গণমাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছে, যাতে প্রেসিডেন্টকে ইরানের সাথে নতুন সামরিক সংঘাত বাড়ানো থেকে বিরত রাখা যায়। ইতিমধ্যে জাতীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সুরক্ষায় ট্রাম্প ডিফেন্স প্রোডাকশন অ্যাক্ট জারি করেছেন। তিনি শীর্ষ প্রতিরক্ষা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সিইওদের সাথে জরুরি বৈঠক করে উৎপাদন বাড়াতে তাগিদ দিয়েছেন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, অস্ত্র উৎপাদনের এই নতুন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ কার্যকর হতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে।

সূত্র: সিএনএন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করতে নতুন নির্বাহী আদেশ ট্রাম্পের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৭ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:২০ এম


জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করতে নতুন নির্বাহী আদেশ ট্রাম্পের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সুপ্রিম কোর্টে পূর্ববতী নির্বাহী আদেশ বাতিল হওয়ার পরে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার লক্ষ্যে নতুন দুটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন।

বৃহস্পতিবার ওভাল অফিসে আদেশে স্বাক্ষর করার সময় ট্রাম্প বলেন, ‘জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ছিল। তাই আমরা নতুন করে কিছু সমন্বয় করছি।’

হোয়াইট হাউসের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলার জানান, নতুন আদেশগুলোর মধ্যে একটি ‘বার্থ ট্যুরিজম’ নামক পদক্ষেপ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যার মাধ্যমে সন্তান জন্ম দিয়ে মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য বিদেশিদের যুক্তরাষ্ট্রে আসা ঠেকাতে চেষ্টা করা হচ্ছে।

অন্য আদেশে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের অযোগ্য ব্যক্তিদের সংজ্ঞা আরও বিস্তৃত করা হয়েছে। এর আওতায় বিদেশি সরকারের পক্ষে লবিং করা সম্ভাব্য বিদেশি নাগরিকদের সন্তানদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

তবে এখনো হোয়াইট হাউস নির্বাহী আদেশ দুটি প্রকাশ করেনি সম্পূর্ণরূপে। মিলার বলেন, ‘বহু বছর ধরেই মানুষ এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে আসছে।

অনেকেই পর্যটকের পরিচয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আসে, তারা উল্লেখ করে যে ডিজনিল্যান্ড বা কোনো জাতীয় উদ্যান দর্শন করার উদ্দেশ্যে এসেছেন। কিন্তু প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো এখানে সন্তান জন্ম দেওয়া, যাতে সেই সন্তান স্বয়ংক্রিয়ভাবে মার্কিন নাগরিকত্ব পেয়ে যায়।’

তার দাবি, এভাবে জন্ম নেওয়া মার্কিন নাগরিক সন্তানের মাধ্যমে পরিবার পরে বিভিন্ন সরকারি সুবিধা, এমনকি ভবিষ্যতে ভোটাধিকারসহ অন্যান্য নাগরিক সুবিধা ভোগের সুযোগ পেতে পারে।

এর আগে, ২০২৫ সালের প্রথম দিনেই ট্রাম্প জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলে লক্ষ্য করে একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেছিলেন। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট ৬-৩ ভোটের মাধ্যমে সেটিকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে।

মার্কিন সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীতে উল্লেখ রয়েছে, যে সকল ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ বা নাগরিকত্ব লাভ করছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের এখতিয়ারাধীন আছেন তারা যুক্তরাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের নাগরিক।

দিনের পর দিন, ট্রাম্প জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের বিরুদ্ধে কথা বলে আসছেন। তার দাবি, ১৪তম সংশোধনী মূলত গৃহযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ের দাসপ্রথা থেকে মুক্ত হওয়া মানুষের শিশুর নাগরিকত্ব নিশ্চিত করার জন‍্য তৈরি করা হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘এটি গৃহযুদ্ধের ঠিক পরপরই করা হয়েছিল। এটি ছিল দাসদের সন্তানের জন্য।’

বিশ্লেষকদের ধারণা, জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব নিয়ে ট্রাম্পের এই নতুন আদেশ যুক্তরাষ্ট্রে একটি রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক বিতর্ক পুনরায় উস্কে দিতে পারে। কারণ, এর আগে একই ধরনের আদেশের বিরুদ্ধে সারা আমেরিকাতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় এবং মানবাধিকার ও নাগরিক অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো আইনি লড়াইয়ে নেমেছিল। একসঙ্গে রাজপথে নেমে এসেছিলেন শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন শ্রেণির পেশার মানুষরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘রগ কেটে ইতিহাস তৈরি’ মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিলেন গকসুর এজিএস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৭ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:২৩ এম


‘রগ কেটে ইতিহাস তৈরি’ মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিলেন গকসুর এজিএস

গণ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (গকসু) সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) সামিউল হাসান শোভোন, ‘রগ কেটে ইতিহাস তৈরি’ মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সৃষ্টি হওয়া বিতর্কের মধ্যে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন।

বুধবার (৫ আগস্ট) রাতে তিনি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট শেয়ার করে দাবি করেছেন যে, তার আগের পোস্টটি বাস্তব সহিংসতার আহ্বান ছিল না। বরং, তা রাজনৈতিক প্রতিবাদ, ব্যঙ্গ ও রূপকের ভাষায় লেখা হয়েছিল।

সামিউল হাসান এ বিষয়ে বলেন, তার ৪ আগস্টের ফেসবুক পোস্টটি ‘বিকৃতভাবে উপস্থাপন’ করা হয়েছে। তার দাবি হল, ওই পোস্টটির মূল উদ্দেশ্য ছিল রাজনৈতিক দ্বৈত মানদণ্ড, বিচারহীনতার সংস্কৃতি এবং ক্যাম্পাসের রাজনীতিতে ক্রমবর্ধমান সহিংসতার সমালোচনা করা। এ জন্য তিনি ওই ভাষা ব্যবহার করেছিলেন যে, এটি জাতীয় সংসদ ও শিক্ষাঙ্গনের রাজনৈতিক বাস্তবতার বৈপরীত্য তুলে ধরছে।

রগ কাটার মন্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন যে, এটি কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের বিরুদ্ধে বাস্তব সহিংসতার আহ্বান বা হুমকি হিসেবে নেওয়া উচিত নয়। তিনি উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বহুল আলোচিত ও বিতর্কিত একটি অভিযোগকে রূপক ও ব্যঙ্গাত্মক অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে। তার উদ্দেশ্য ছিল একতরফা হামলা, দমন-পীড়ন এবং বিচারহীনতার অভিযোগের মুখে রাজনৈতিক নীরবতা ও নিষ্ক্রিয়তার সমালোচনা করা।

সাম্প্রতিক সময়ে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রনেতাদের ওপর হামলার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন শোভোন। তিনি বলেন, জকসুর ভিপি, জিএসসহ সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগ তাকে গভীরভাবে মর্মাহত করেছে। একজন নির্বাচিত ছাত্রনেতাকে মারধর করে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ দেশজুড়ে আলোচিত হয়েছে। এ ধরনের ঘটনা শুধুমাত্র কোনো ব্যক্তি বা নির্দিষ্ট সংগঠনের বিষয় নয়; বরং এটা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, শিক্ষাঙ্গনের নিরাপত্তা এবং গণতান্ত্রিক সহাবস্থানের প্রশ্ন।

তিনি সতর্ক করেন যে, ক্যাম্পাসে যদি সহিংসতা, ভয়ভীতি ও প্রতিশোধের রাজনীতি স্বাভাবিক হয়ে যায়, তবে বিচারহীনতার সংস্কৃতি আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করবে।

তিনি বলেন, যেকোনো ছাত্রসংগঠনের সদস্যের ওপর হামলা হোক না কেন, সবার জন্য সমান গুরুত্বের সঙ্গে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের আইনের আওতায় আসা উচিত। যদি আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রয়োগ না হয়, তাহলে মানুষের মধ্যে ক্ষোভ, হতাশা এবং রাষ্ট্রের প্রতি অবিশ্বাস সৃষ্টি হওয়া অনিবার্য।

এছাড়া, তিনি দাবি করেন, তার আগের পোস্টে কোথাও ছাত্রদলের নাম উল্লেখ করা হয়নি। তিনি বলেন, যারা সহিংসতা, দখলদারিত্ব এবং ভয়ের রাজনীতির সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ত মনে করেন, তারা যদি নিজেদের সেই বক্তব্যের সঙ্গে মিলিয়ে নেন, তবে সেই ব্যাখ্যা তার বক্তব্যের বিষয় নয়, বরং তা তাদের নিজের উপলব্ধির বিষয়।

সামিউল হাসান শোভোন সকলকে তার পোস্টটি রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এটি ছিল রাজনৈতিক সহিংসতা, বিচারহীনতা ও দ্বৈত মানদণ্ডের বিরুদ্ধে একটি প্রতিবাদী বক্তব্য। গণতান্ত্রিক সমাজে মতভেদ ও বিতর্ক স্বাভাবিক হলেও, এর সমাধান হয় ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা এবং আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগের মাধ্যমে।

প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সামিউল হাসান শোভোনের একটি ফেসবুক পোস্টে ‘রগ কেটে ইতিহাস তৈরি করুন’ মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনার মুখে গকসুর একাধিক প্রতিনিধি এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা দায়িত্বশীল বক্তব্য দেওয়ার আহ্বান জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%