০৩:৫৩ পি.এম
কুড়িগ্রামে, জেলার ভূরুঙ্গামারী উপজেলার প্রধান বাজারে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৯৫টি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এই দুঃখজনক ঘটনা আজ শুক্রবার সকালে ঘটে। প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, উপজেলা প্রশাসন জানাচ্ছে যে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১৫ কোটি টাকা হতে পারে। ঈদুল আযহার মাত্র কয়েক দিন পরে এমন বিপর্যয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে হতাশা ও অনিশ্চয়তার ছাপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রের মতে, সকাল সাড়ে ৬টার সময় ভূরুঙ্গামারী বাজারের দক্ষিন পাশে অবস্থানরত ক্ষুদ্র কাপড় ব্যবসায়ীদের একটি দোকান থেকে আগুনের প্রকোপ শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যে, আগুন আশপাশের অন্যান্য দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে।
বাজারজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে অবিলম্বে ব্যবসায়ী ও স্থানীয় লোকজন আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন, কিন্তু দাহ্য সামগ্রীর উপস্থিতির কারণে আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
আরও পড়ুন: বাকেরগঞ্জে জমি বিরোধে হামলার ৯ দিন পর ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় আনোয়ার হোসেনের মৃত্যু
ঘটনার খবর পেয়ে নাগেশ্বরী উপজেলা থেকে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজে লিপ্ত হয়। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টার পর আগুনকে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।
ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে অধিকাংশই কাপড় ব্যবসায়ী। তাদের মধ্যে ৮০টি কাপড়ের দোকান সম্পূর্ণরূপে পুড়ে গেছে। এর পাশাপাশি পাশে অবস্থিত জাকের পার্টির কার্যালয়সহ আরও ১৫টি ফল, জুতা, কসমেটিকস ও বইয়ের দোকানও ভস্মীভূত হয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের পর বাজার এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, যেখানে কয়েক ঘণ্টা আগে ব্যবসার কোলাহল ছিল, সেখানে এখন শুধুই পোড়া টিন, ছাই এবং ধ্বংসস্তূপ। অনেক ব্যবসায়ী নিজেদের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে চোখে জল এনে কান্নায় ভেঙে পড়েন। কেউ কেউ ধ্বংসস্তূপের মধ্যে অবশিষ্ট মালামাল খুঁজে বেড়াচ্ছেন।
সংগঠনটির সভাপতি টুটুল মিয়া জানান, এখানে অধিকাংশ ব্যবসায়ী ব্যাংক ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ব্যবসা চালান। ঈদকে সামনে রেখে অনেকেই নতুন করে মালামাল সংগ্রহ করেছিলেন, কিন্তু এখন আগুনে সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। "আমরা এখন সম্পূর্ণ নিঃস্ব। ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে সরকারি সহায়তা প্রয়োজন।" তিনি আরও জানান।
আরও পড়ুন: সফটওয়্যার ও সাইবার নিরাপত্তায় দক্ষতা বাড়াতে রাবিপ্রবি-জাইকা বৈঠক
নাগেশ্বরী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার খলিলুর রহমান বলেন, "খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এত দ্রুত দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজে যান।" প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটেছে।
ঘটনার পরপরই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমৃত দেব নাথ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি বাসসকে জানান, প্রাথমিক তথ্যমতে ৯৫টি দোকান পুড়ে যাওয়ায় প্রায় ১৫ কোটি টাকার ক্ষতির শিকার হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুতের জন্য ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তিনি আরও বলেছেন, "ক্ষতিগ্রস্ত দোকান মালিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের জন্য বিকেল ৩টায় একটি সভার আয়োজন করা হয়েছে।" সেখানে তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা ও পুনর্বাসনের বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হবে।
আরও পড়ুন: নড়াইল প্রেসক্লাবের উন্নয়নে ২০ লাখ টাকার অনুদান দিলেন এমপি জাহাঙ্গীর আলম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন