ঢাকা শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

রাজধানীর ড্রেনে অর্ধগলিত লাশ, পরিচয় শনাক্তে সহায়তা চায় পুলিশ


রাজধানীর ড্রেনে অর্ধগলিত লাশ, পরিচয় শনাক্তে সহায়তা চায় পুলিশ

রাজধানী ঢাকা শহরের দারুস সালাম থানাধীন বাগবাড়ী এলাকায় অজ্ঞাতনামা এক পুরুষের অর্ধগলিত মৃত দেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে, নিহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করতে পুলিশের যথেষ্ট কষ্ট হচ্ছে।

ডিএমপি পুলিশ লাশের পরিচয় শনাক্তে সহায়তা চেয়েছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ১২ আগস্ট দারুস সালাম থানাধীন বাগবাড়ী এলাকার একটি ড্রেনের পানিতে অর্ধ নিমজ্জিত অবস্থায় অজ্ঞাতনামা ওই ব্যক্তির মৃতদেহটি পাওয়া যায়। এখনও পর্যন্ত মৃতের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পুলিশের ধারণা অনুযায়ী, নিহতের বয়স ৩৮ বছর হতে পারে।

আরও পড়ুন: সচিবালয় স্থানান্তরে নতুন জটিলতার শঙ্কা

এ ঘটনায় দারুস সালাম থানায় একটি হত্যা মামলা ইতোমধ্যেই রুজু করা হয়েছে। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।

ডিএমপি, মৃত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্তে দারুস সালাম থানার (ডিউটি অফিসার ০১৩২০-০৪১২৯৭ অথবা অফিসার ইনচার্জ (০১৩২০-০৪১২৯০) এর নম্বরে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভারতে ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের’ ডাক দিলেন সোনম ওয়াংচুক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:০৬ পি.এম


ভারতে ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের’ ডাক দিলেন সোনম ওয়াংচুক

ভারতের রাজনৈতিক নেতৃত্বের নির্বাচনের পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনার জন্য ‘শান্তিপূর্ণ বিপ্লবের’ আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ ও সামাজিক অধিকারকর্মী সোনম ওয়াংচুক। তিনি বলেছেন, ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে একটি সম্মানজনক দেশ হিসেবে ধরে রাখতে হলে দেশে মৌলিক পরিবর্তন প্রয়োজন।

স্বাধীনতা দিবসের আগে প্রকাশ করা এক ভিডিও বার্তায় ওয়াংচুক ‘ভারতের দ্বিতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের’ আহ্বান জানান। একই সঙ্গে দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে ভূমিকা রাখতে পারেন, এমন ‘নিঃস্বার্থ, নির্ভীক, চরিত্রবান ও যোগ্য’ নারী-পুরুষের নাম প্রস্তাব করতে নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানান।

ওয়াংচুক জানান, গত কয়েক দিন ধরে তিনি অসুস্থ ছিলেন। সেই সময় তিনি ভারতের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা করার সুযোগ পান।

তিনি ভারতের অগ্রগতির সঙ্গে থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশের মতো প্রতিবেশী দেশগুলোর অগ্রগতির তুলনা করেন।

ওয়াংচুক বলেন, ‘৫০ বছর আগে যেসব প্রতিবেশী দেশ আমাদের চেয়ে পিছিয়ে ছিল বা আমাদের সমপর্যায়ে ছিল, তারা এখন আমাদের চেয়ে অনেক দূর এগিয়ে গেছে।’

ওয়াংচুক বলেন, ‘মাথাপিছু মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির কথা যদি বলি এবং এই পরিস্থিতি চলতে থাকে, তাহলে ২০৪৭ সালে আমরা উন্নত দেশ হতে পারব না। এমনকি বিশ্ববাজারে নিজেদের মুখ দেখানোর মতো অবস্থাতেও থাকব না।’

গত দুই মাসে পরিবর্তনের দাবিতে আন্দোলন ও প্রতিবাদকারীদের অভিনন্দন জানান ওয়াংচুক। তিনি বলেন, এই আন্দোলনের ফলে ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়েও পরিবর্তন এসেছে। তিনি বলেন, ‘একদিকে আমি আপনাদের অভিনন্দন জানাতে চাই। আপনারা পরিবর্তন চেয়েছেন এবং গত দুই মাস ধরে প্রতিবাদ করেছেন। এর ফলে পরিবর্তনও এসেছে।

শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন। কিন্তু নতুন শিক্ষামন্ত্রীর কাছ থেকেও আমি কোনো বড় পরিবর্তনের আশা দেখতে পাচ্ছি না।’

ওয়াংচুক ভারতের ভবিষ্যতের সঙ্গে শিক্ষাব্যবস্থার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, শিক্ষাব্যবস্থার দুর্বলতা দেশের অগ্রগতির ওপরও প্রভাব ফেলবে। তিনি বলেন, ‘যতদিন শিক্ষা পিছিয়ে থাকবে, ততদিন দেশের ভবিষ্যৎও পিছিয়ে থাকবে।’

দেশে শাসনব্যবস্থা ও ভিন্নমত দমনকে কোনো একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত করা যায় না বলেও মন্তব্য করেন ওয়াংচুক। তার দাবি, বিভিন্ন দলের সরকার একই ধরনের অবিচার করেছে এবং প্রতিবাদী কণ্ঠ দমন করেছে।

তিনি বলেন, ‘দিল্লিতে একটি দলের সরকারের বিরুদ্ধে মানুষ প্রতিবাদ করেছে। পরে অন্য রাজ্যে অন্য দলের সরকারও একই ধরনের অবিচার করেছে এবং একইভাবে প্রতিবাদী কণ্ঠ দমন করেছে। তাই বিষয়টি শুধু কোনো একটি রাজনৈতিক দলের নয়।’

২০১২-১৩ সালের দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলন এবং এর পরবর্তী রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন ওয়াংচুক। তিনি বলেন, সরকার পরিবর্তন হলেও দুর্নীতি ও অবিচার পুরোপুরি শেষ হয়নি। ওয়াংচুক বলেন, ‘কিন্তু আজ ১২ বছর পর দুর্নীতি ও অবিচার নতুন রূপ নিয়েছে। আগের তুলনায় এটি এখন দুই থেকে তিন গুণ বড় হয়েছে। এটি আমাদের চোখের সামনে দাঁড়িয়ে আছে এবং আমাদের ভয় দেখাচ্ছে।’

ভারতে রাজনৈতিক নেতৃত্ব বেছে নেওয়ার পদ্ধতিতে মৌলিক পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছেন সোনম ওয়াংচুক।

তিনি বলেন, ‘আমাদের বড় ধরনের পরিবর্তন দরকার। এই দেশে একটি বিপ্লব দরকার, তবে সেটি হতে হবে শান্তিপূর্ণ বিপ্লব। যাতে আমরা সঠিক নেতৃত্বের মাধ্যমে সামনে এগিয়ে যেতে পারি।’ তিনি আরো বলেন, ‘সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো আমরা কীভাবে আমাদের নেতৃত্ব বেছে নিই। নেতৃত্ব সঠিক না হলে পুরো দেশই ভুল পথে এগোবে।’

নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে থাকা ফৌজদারি মামলার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন ওয়াংচুক। তিনি বলেন, অনেক নেতা এখনো সত্য ও ন্যায়ের পথে রয়েছেন এবং তারা সম্মানের যোগ্য। তবে সংসদ সদস্যদের একটি বড় অংশের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

ওয়াংচুক বলেন, ‘আপনারা কি জানেন, আমাদের সংসদের দিকে তাকালে দেখা যায়, প্রায় অর্ধেক সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে অপরাধের মামলা রয়েছে। তাদের এক-তৃতীয়াংশের বিরুদ্ধে হত্যা, ধর্ষণ ও অপহরণের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশ কীভাবে উন্নতি করবে?’

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, তার বক্তব্য কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল বা বিরোধী দলকে লক্ষ্য করে নয়। ওয়াংচুক বলেন, ‘আমি কোনো নির্দিষ্ট দল বা বিরোধী দলের কথা বলছি না। আমি দেশের কথা বলছি।’

দেশে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা করতে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের মধ্যে একটি বৃহৎ আলোচনা আয়োজন করতে চান বলেও জানান ওয়াংচুক। তিনি বলেন, ‘দেশের যেখানেই থাকুন না কেন, আমি দেশের সেরা মেধাবী ও চিন্তাশীল মানুষদের সঙ্গে আলোচনা করতে চাই। কী পরিবর্তন দরকার এবং কীভাবে সেই পরিবর্তন আনা যায়, তা নিয়ে আমরা একসাথে চিন্তা করতে চাই।’

তবে ওয়াংচুক স্পষ্ট করেন, তিনি শুধু বুদ্ধিজীবী বা শিক্ষিত ব্যক্তিদের নিয়েই আলোচনা করতে চান না। তিনি সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রের যোগ্য ও অভিজ্ঞ মানুষদেরও এই আলোচনায় যুক্ত করতে চান।

ওয়াংচুক তার এক্স পোস্টে বলেন, ‘শুধু চিন্তা করেন এমন বুদ্ধিজীবী নয়, আমাদের দরকার এমন নিঃস্বার্থ ও নির্ভীক নারী-পুরুষ, যাদের চরিত্র ও যোগ্যতা আছে।’ লাদাখে বসবাস করা ওয়াংচুক বলেন, এমন মানুষদের কোথায় পাওয়া যাবে, তা তিনি জানেন না। তাই তাদের খুঁজে বের করতে তিনি সাধারণ মানুষের সহযোগিতা চান।

তিনি বলেন, ‘লাদাখের প্রত্যন্ত এলাকায় বসে আমি জানি না তারা কারা বা কোথায় আছেন। তাই আপনারা সহযোগিতা করতে পারেন। দেশের এবং আপনাদের নিজ নিজ এলাকার অন্তত একজন এমন যোগ্য মানুষের নাম প্রস্তাব করুন।’

ভিডিও বার্তায় ওয়াংচুক মানুষকে এমন ব্যক্তিদের নাম পাঠানোর আহ্বান জানান এবং বলেন, এটিকে তিনি স্বাধীনতা দিবসের উপহার হিসেবে গ্রহণ করতে চান। তিনি জানান, এমন মানুষের সঙ্গে দেখা করতে চান, যারা মিলে দেশের একটি নতুন মানচিত্র তৈরি করতে সাহায্য করতে পারবেন।

ভারতের কোন কোন ক্ষেত্রে পরিবর্তন প্রয়োজন, তা জানতে দেশের বিভিন্ন রাজ্য ও শহরে যাওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান ওয়াংচুক। সেখানে তিনি সাধারণ মানুষের পরামর্শ ও মতামত নিতে চান। এক্স পোস্টের শেষে ওয়াংচুক ‘ভারতের দ্বিতীয় স্বাধীনতা আন্দোলন শুরু করার’ আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি এই বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার এবং বিভিন্ন আঞ্চলিক ভাষায় অনুবাদ করার জন্য মানুষের প্রতি আহ্বান জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফেনীতে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল পুলিশ কর্মকর্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:০৭ পি.এম


ফেনীতে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল পুলিশ কর্মকর্তার

ফেনীতে একটি সড়ক দুর্ঘটনায় জাহাঙ্গীর আলম নামে এক পুলিশ কর্মকর্তার মৃত্যু ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ফেনির টেকনিক্যাল মোড়ে দুর্ঘটনাটি ঘটে।

জাহাঙ্গীর আলম সোনাপুর গ্রামের মৃত নুরুল হকের সন্তান। তিনি চট্টগ্রাম নগরের খুলশী থানায় কর্মরত ছিলেন।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ছুটির কারণে তিনি নিজ গ্রামের ফেনির সোনাপুরে অবস্থান করছিলেন। ফেনী শহরে যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় তিনি আহত হন টেকনিক্যালের সামনে।

পরে তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

জাহাঙ্গীর আলমের মৃতদেহ এখন হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে, এমনটি জানিয়েছেন চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নুরুল আলম আশেক। খলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক জানিয়েছেন, জাহাঙ্গীর আলম তাদের থানায় কনস্টেবল হিসেবে কাজ করছিলেন এবং দুর্ঘটনার সময় তিনি ছুটিতে ছিলেন। ফেনীর গ্রামের বাড়িতে ঘটনাস্থলে আহত হওয়ার পর তাকে চমেক হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এক যুগ ধরে সংস্কার নেই: কাউখালীর দুই সড়কে বেহাল দশা, চরম ভোগান্তিতে হাজারো মানুষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

কাউখালী প্রতিনিধি

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:০৮ পি.এম


এক যুগ ধরে সংস্কার নেই: কাউখালীর দুই সড়কে বেহাল দশা, চরম ভোগান্তিতে হাজারো মানুষ

পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলা শহরের অন্যতম ব্যস্ততম দু’টি সড়কের করুণ দশা দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় সড়ক দুটি জুড়ে তৈরি হয়েছে অসংখ্য খানাখন্দক। ফলে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীসহ সাধারণ পথচারীদের চলাচলে পোহাতে হচ্ছে চরম ভোগান্তি। যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা, সাধারণ মানুষের পায়ে হেঁটে চলাই এখন দুষ্কর হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কাউখালীর উত্তর বাজারের সুপারি পট্টি থেকে বয়ে যাওয়া কচুয়াকাঠি খালের দু’পাড় দিয়ে সড়ক দু’টি বিস্তৃত। সড়ক দুটি উত্তর বাজার থেকে সিএনবি সড়ক হয়ে সদর ইউনিয়নের মাঝখান দিয়ে চলে গেছে।
উত্তর পাড়ের সড়ক: এই সড়কের পাশে রয়েছে এসবি সরকারি বালিকা বিদ্যালয়, আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, হারুন অর রশিদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কচুয়াকাঠি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং কেন্দ্রীয় আশ্রম। প্রতিদিন শত শত কোমলমতি শিক্ষার্থী ও ভক্তদের চলাচলের একমাত্র পথ এটি।
দক্ষিণ পাড়ের সড়ক: এই রাস্তা দিয়ে কাউখালী বন্দর হয়ে উপজেলা সদর, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, কলেজ এবং পিরোজপুর সদরে গমনাগমনের জন্য সাধারণ পথচারীরা প্রধান মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘ এক যুগ ধরে সড়ক দু’টি মেরামতের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এই রাস্তার উন্নয়নকাজের বরাদ্দকৃত টাকা ঠিকাদার কাজ না করেই তুলে নিয়ে গেছে বলে জানা যায়।
সম্প্রতি খালের তীর ভেঙে গিয়ে সড়ক দু’টি আরও সংকীর্ণ হয়ে পড়েছে। সড়কের পাশে দোকানদার মোঃ সুজন ও এক ছাত্রীর অভিভাবক দুলারি আক্তার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে হাজার হাজার মানুষকে বাধ্য হয়ে চলাচল করতে হয়। ছোট ছোট শিক্ষার্থীরা স্কুলে যেতে গিয়ে কাদা-পানিতে পড়ে জামাকাপড় নষ্ট করছে। প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। দ্রুত পাইলিংসহ রাস্তা সংস্কার করা না হলে যেকোনো সময় সড়ক দুটি খালে বিলীন হয়ে যাবে।
রাস্তার বর্তমান জরাজীর্ণ অবস্থা সম্পর্কে অবগত আছেন জানিয়ে কাউখালী উপজেলা প্রকৌশলী ইমতিয়াজ হোসাইন রাসেল বলেন, "সড়ক দুটির বেহাল দশার বিষয়ে আমরা অবগত আছি। ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় বরাদ্দের জন্য আবেদন পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়ামাত্রই যত দ্রুত সম্ভব সড়ক দু’টি সংস্কারের পরিকল্পনা রয়েছে।
এ বিষয়ে কাউখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ আসাদুজ্জামান জানান, "জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক দুটির কারণে জনগণের যে দুর্ভোগ হচ্ছে, তা আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছি। দ্রুততম সময়ের মধ্যে যাতে সংস্কারকাজ শুরু করা যায়, সে লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্যারোলে মুক্তি পেয়ে মায়ের জানাজায় অংশ নিলেন আ. লীগ নেতা রাসেল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:০৮ পি.এম


প্যারোলে মুক্তি পেয়ে মায়ের জানাজায় অংশ নিলেন আ. লীগ নেতা রাসেল

পাবনা প্রতিনিধির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাত্র চার ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পেয়ে মায়ের জানাজায় অংশ নিয়েছেন পাবনা-৩ এর সাবেক এমপি মকবুল হোসেনের ছেলে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম হাসনাইন রাসেল। তিনি ভাঙ্গুড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এবং সাবেক মেয়র হিসেবে পরিচিত।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকাল সাড়ে নয়টার দিকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে পুলিশের গাড়িতে করে ভাঙ্গুড়া পৌর সদরের সরদারপাড়া মহল্লার নিজ বাড়িতে পৌঁছান রাসেল। এ সময় সেখানে আগে থেকে দলীয় নেতাকর্মী, সমর্থক, স্বজন এবং এলাকার মানুষ ভিড় জমিয়েছিল। গাড়ি থেকে নামার পর বাড়ির উঠোনে ফ্রিজআপ গাড়িতে রাখা মায়ের মুখ শেষবারের মতো দেখেন রাসেল। সেখান থেকে আবার পুলিশের গাড়িতে করে ভাঙ্গুড়া ইউনিয়ন স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে জানাজার স্থানে পৌঁছান তিনি।

গোলাম হাসনাইন রাসেল বলেন, 'আজকে যারা আমার মায়ের জানাজায় হাজির হয়েছেন, তাদের মধ্যে কেউ নেই যে আমার মাকে চেনেন না। তিনি পাটুলিপাড়ার মেয়েও ছিলেন। ছোটবেলা থেকে আমরা যখন থেকেই জ্ঞান অর্জন করেছি, তখন থেকেই দেখে আসছি আমার মা রান্নাঘরে। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি চুলায় রান্না করে গেছেন।

আমার বিশ্বাস, যারা আমাদের বাড়িতে গিয়েছেন, তারা আমার মায়ের হাতে রান্না করা ডাল-ভাত খান নাই এমন কেউ নেই। আমার মা আসলে একজন গৃহিণী ছিলেন।'

তিনি আরও বলেন, 'আমার মা আজ পৃথিবীতে নেই। আজকের এই দিনে ভালোবাসার মানুষ যারা এখানে উপস্থিত হয়েছেন, তাদের কাছে আমার মায়ের জন্য দোয়া চাই। একজন মানুষের ভুল ত্রুটি থাকা স্বাভাবিক, আল্লাহ যেন তাকে জান্নাতবাসী করেন। আল্লাহ যেন তার কবরের সওয়াল জবাবকে সহজ করে দেন। আমার ছেলে আছে, আমাদের পরিবারের জন্য সবাই আপনারা দোয়া করবেন, আল্লাহ যেন আমাদের হেফাজত করেন। এলাকাবাসী যারা এখানে উপস্থিত হয়েছেন, আমাদের পরিবার যদি আপনাদের কাছে কোনো ভুল করে থাকে তার জন্য করজোড়ে ক্ষমা চাচ্ছি। আপনারা মাফ করে দেবেন।'

এরপর তিনি মায়ের জানাজায় অংশ নেন। জানাজায় ভাঙ্গুড়া, চাটমোহর, ফরিদপুর উজেলার সহ বিভিন্ন এলাকার কয়েক হাজার দলীয় নেতাকর্মী, আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসী অংশ নেন। জানাজা শেষে রাসেল পুলিশি পাহারায় পুলিশের গাড়িতে করে পার ভাঙ্গুরা কবরস্থানে যান। সেখানে তিনি মায়ের কবরে মাটি দিয়ে দোয়ায় অংশ নেন এবং শেষে পুলিশের গাড়িতে তিনি কারাগারে ফিরে যান।

এর আগে বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকালে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান রাসেলের মা ও পাবনা-৩ আসনের সাবেক এমপি মকবুল হোসেনের স্ত্রী নুরজাহান রেখা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কিডনিসহ বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগতে থাকেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে প্রায় দেড় মাস আগে তাকে ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল।

গত ২০ জুলাই রাতে ঢাকার মিরপুর এলাকা থেকে সাবেক এমপির ছেলে রাসেল ও তার সহযোগী বশিরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে ভাঙ্গুড়া থানায় দায়ের করা একটি বিস্ফোরক আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। সম্প্রতি মায়ের শারীরিক অবস্থার অবনতি উল্লেখ করে আদালতে জামিনের আবেদন করেছিলেন তার আইনজীবী। দীর্ঘ শুনানি শেষে বুধবার (১২ আগস্ট) পাবনা জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক আফতাবুজ্জামান তার জামিন মঞ্জুর করেন। যথাসময়ে আদালতের জামিনে মুক্তির আদেশ পাবনা জেলা কারাগারে পৌঁছালেও রাসেলকে আর কারামুক্ত করা হয়নি।

এর মধ্যে বৃহস্পতিবার ভোরে মৃত্যুবরণ করেন রাসেলের মা। এদিন রাসেলকে আদালতে হাজির করে চাটমোহর থানায় সম্প্রতি দায়ের হওয়া অন্য একটি মামলায় শোন অ্যারেস্ট দেখায় পুলিশ। ফলে একটি মামলায় আদালতের দেওয়া জামিন কার্যকর হওয়ার আগেই নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোয় তিনি ফের কারাগারে আটকে পড়েন। এতে নিজের মায়ের জানাজায় শেষবারের মতো অংশ নেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা হয় তার। একপর্যায়ে আদালতে থাকাবস্থায় মায়ের জন্য কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। পরে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসকের কাছে প্যারোলে মুক্তির আবেদন মঞ্জুর হওয়ার পর তিনি মায়ের জানাজায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৭ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%