১০:২৯ এম
ঢাকা, ১২ অক্টোবর, ২০২৬ : যুদ্ধ, অর্থনৈতিক চাপ এবং বাজেট সংকট—এমন বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মধ্যেই জাতিসংঘের প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য বিষয়ক সম্মেলন কপ১৭ শুরু হতে যাচ্ছে।
জাতিসংঘের জীববৈচিত্র্য বিষয়ক প্রধান অ্যাস্ট্রিড শোমেকার জানিয়েছেন, বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাব এই সম্মেলনে পড়বে। তবে তিনি উল্লেখ করেছেন, প্রকৃতি রক্ষায় দেশগুলোকে মতপার্থক্য দূরে রেখে একসঙ্গে কাজ করার প্রয়োজন রয়েছে।
এএফপি সংবাদ সংস্থার খবর অনুযায়ী, আগামী ১৯ অক্টোবর আর্মেনিয়ার রাজধানী ইয়েরেভানে শুরু হবে এই সম্মেলন, যা প্রতি দুই বছর পরপর অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনের লক্ষ্য হলো, বিশ্বজুড়ে প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় আন্তর্জাতিক উদ্যোগকে জোরদার করা।
আরও পড়ুন: বেলজিয়াম ও সুইডেনের সুপারমার্কেটের ফ্রিজে সাইবার হামলা
জাতিসংঘের জীববৈচিত্র্য বিষয়ক কনভেনশনের (সিবিডি) নির্বাহী সচিব শোমেকার কানাডার মন্ট্রিল থেকে এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘আমি সরলভাবে বিষয়টি দেখতে চাই না।’
তিনি আরও বলেন, জীববৈচিত্র্য নিয়ে আলোচনাতেও ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাব পড়ছে। তবে ২০৩০ সালের মধ্যে প্রকৃতির ধ্বংস ঠেকানোর অঙ্গীকার পূরণে পিছিয়ে পড়া প্রায় ২০০টি দেশকে ইয়েরেভেন সম্মেলনে নতুন করে অগ্রগতির পথ খুঁজতে হবে।
চার বছর আগে নির্ধারিত বৈশ্বিক লক্ষ্যগুলোর অধিকাংশই এখনো নির্ধারিত গতিতে এগোচ্ছে না। এসব লক্ষ্যের মধ্যে রয়েছে ক্ষতিকর বহিরাগত প্রজাতির বিস্তার নিয়ন্ত্রণ, স্থলভাগ ও সমুদ্রের ৩০ শতাংশ সংরক্ষণ, দূষণ কমানো এবং বিলুপ্তির ঝুঁকিতে থাকা প্রজাতিগুলোকে রক্ষা করা।
তবে শোমেকার সতর্ক আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, দেশগুলো মতপার্থক্য কাটিয়ে উঠতে পারবে। তিনি মন্তব্য করেন, ‘কঠিন পরিস্থিতিতেই বহুপক্ষীয় সহযোগিতার কার্যকারিতা প্রমাণ করতে হয়। নানা বাধা সত্ত্বেও আমরা সব সময়ই সামনে এগোনোর পথ খুঁজে পেয়েছি।’
আরও পড়ুন: জেলেনস্কির অভিযোগ, রাশিয়া অব্যাহতভাবে মানুষ হত্যা করছে
-প্রতিদ্বন্দ্বী অগ্রাধিকারের চাপ-
২০২২ সালে বিশ্বের অধিকাংশ দেশ প্রকৃতি রক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এতে অংশ নেয়নি। দেশটি জাতিসংঘের জীববৈচিত্র্য বিষয়ক কনভেনশনের সদস্য নয় এবং এ-সংক্রান্ত আলোচনাতেও অংশ নেয় না।
এমনকি ইয়েরেভেনের প্রকৃতি সম্মেলন কিংবা আগামী ৯ নভেম্বর তুরস্কে শুরু হতে যাওয়া জাতিসংঘের জলবায়ু বিষয়ক সম্মেলন কপ৩১-এ যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত অবস্থানের প্রভাব পড়তে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউক্রেনের সংঘাত এবং জ্বালানি ও পণ্যের উচ্চমূল্য—এসব বিষয় দুই সম্মেলনেই আলোচনা প্রভাবিত করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: চালকবিহীন জাহাজের বাজারে আধিপত্যের লক্ষ্যে দক্ষিণ কোরিয়া
শোমেকার বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে সংঘাত চলছে। অর্থনৈতিক চাপ ও ঋণের বোঝা রয়েছে। একই সঙ্গে সরকারগুলোর মনোযোগ ও সম্পদের ওপর নানা প্রতিযোগী চাহিদা তৈরি হয়েছে।’
তবে তিনি মনে করেন, ‘প্রকৃতি এমন একটি বিষয়, যা রাজনৈতিক সীমান্ত মানে না।’
খাদ্য ও পানির নিরাপত্তার উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, এসব সমস্যা কোনো একটি দেশের পক্ষে এককভাবে সমাধান করা সম্ভব নয়। আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অপরিহার্য।
ইয়েরেভেন সম্মেলনের আগে শোমেকারের দপ্তর ২০৩০ সালের জীববৈচিত্র্য রক্ষার লক্ষ্যগুলো অর্জনে বিশ্ব কতটা এগিয়েছে, তার একটি সামগ্রিক মূল্যায়ন প্রতিবেদন চূড়ান্ত করছে।
আরও পড়ুন: মালয়েশিয়া নিরাপত্তা হুমকি মোকাবেলায় প্রস্তুতি যাচাই করছে, প্রধানমন্ত্রী জানালেন নজরদারির কথা
তিনি অগ্রগতির চিত্রকে ‘মিশ্র’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার মতে, উন্নতি হচ্ছে ঠিকই, তবে তা ধীরগতির এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমানভাবে হচ্ছে না।
শোমেকার বলেন, ‘কোনো লক্ষ্য অর্জিত হবে কি হবে না, তা বলার সময় এখনো আসেনি। তবে আমরা স্পষ্টভাবে বলতে পারি, সব লক্ষ্য অর্জন করা এখনো সম্ভব—কিন্তু সে জন্য উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন