০১:৪৯ পি.এম
ইসরাইলি সেনাবাহিনী দক্ষিণ লেবাননে নিজেদের সামরিক অবস্থানগুলোর মধ্যে যোগাযোগ স্থাপনের জন্য পাহাড় ও উপত্যকার মধ্য দিয়ে নতুন সড়ক নির্মাণ করছে। এ তথ্য লেবাননের জাতীয় সংবাদ সংস্থা এনএনএ প্রকাশ করেছে।
এনএনএ-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দক্ষিণ লেবাননের পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলে সড়ক নির্মাণের কাজ চলছে। এই অঞ্চলে লেবাননের দখলকৃত ভূখণ্ডে সামরিক অবস্থান গড়ে তুলেছে ইসরাইলি বাহিনী। সড়ক নির্মাণের পাশাপাশি সেখানে বিভিন্ন স্থাপনা ও অবকাঠামো ধ্বংসের কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।
মধ্যাঞ্চলে সড়ক নির্মাণের কাজ চলছে আইতা আল-শাব, মারুন আল-রাস, বিনত জবেইল ও আইতারুন শহর এলাকায়। উল্লেখ্য, মারুন আল-রাস শহরটি সীমান্তের ওপারে অবস্থিত ইসরাইলি বসতি আভিভিমের দিকে মুখ করে রয়েছে।
আরও পড়ুন: ইরান: যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের মাধ্যমে বৈশ্বিক অর্থনীতি বিপর্যস্ত করতে চায়
অন্যদিকে, পশ্চিমাঞ্চলের নাকুরা, ইয়ারিন, ধাইরা, মারওয়াহিন ও আলমা আল-শাব এলাকায়ও নতুন সড়ক নির্মাণের কার্যক্রম চলছে। এসব এলাকায় লেবাননের সেনাবাহিনীর পাশাপাশি জাতিসংঘের অন্তর্বর্তীকালীন বাহিনী ইউনিফিল মোতায়েন রয়েছে।
গত ২০ ও ২১ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে ফ্লোরিডার টাম্পায় লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যে সামরিক ও কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। ওই আলোচনার পরই দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি বাহিনীর এই তৎপরতা সামনে এসেছে।
তবে বৈঠক থেকে কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির ঘোষণা আসেনি। দুই পক্ষের পক্ষ থেকে যৌথ বিবৃতিও প্রদান করা হয়নি। আলোচনা চালিয়ে যেতে উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছে। তবে লেবানন থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার এবং হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে মতবিরোধ এখনো বিদ্যমান রয়েছে।
জুনে হওয়া একটি কাঠামোগত চুক্তিতে উল্লেখ করা হয়েছিল, দখলকৃত লেবাননের ভূখণ্ড থেকে ধাপে ধাপে সেনা প্রত্যাহার করবে ইসরাইল। এর বিনিময়ে ওই এলাকায় লেবাননের সেনাবাহিনী মোতায়েন এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে নিরস্ত্র করার কথা রয়েছে।
আরও পড়ুন: মণিপুরে জাতিগত সহিংসতায় নিহত ৫, বিক্ষোভ অব্যাহত
তবে চুক্তি সত্ত্বেও লেবাননে সামরিক অভিযান অব্যাহত রেখেছে ইসরাইল। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২ মার্চ থেকে ইসরাইলি হামলায় দেশটিতে অন্তত ৪ হাজার ৩৮৬ জন নিহত এবং ১২ হাজার ৪০৭ জন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ১০ লাখের বেশি মানুষ।
সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর ও আনাদোলু এজেন্সি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন