০৯:২৬ এম
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার চারটি ইউনিয়নের অন্তত ছয় হাজার একর জমির ফসল ও বসতবাড়ি মধুমতী নদীর পানিতে বছরের পর বছর প্লাবিত হয়ে আসছে। প্রতি বছরের বর্ষা মৌসুমে নদীর জল বৃদ্ধির ফলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। সেই সঙ্গে হাজারো পরিবারও ঘরবাড়ির ক্ষতির শিকার হচ্ছে। এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, বেড়িবাঁধ নির্মাণ প্রকল্প শুরুর পরেও সাত বছর পেরিয়ে গেছে, প্রকল্পটি শেষ হয়নি। এই অবস্থায় তাঁরা দ্রুত বেড়িবাঁধ তৈরির দাবি জানিয়েছেন। তবে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কাজটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সম্পন্ন করার আশ্বাস দেয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসন এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কিছু দশকের ভাঙন ও ক্ষতির ফলে মধুমতী নদীর পাড়ে পাকা সড়ক পুরোপুরি বিলীন হয়ে গেছে। বারবার নদীর পানি ঢুকা অব্যাহত থাকায় অন্তত ছয় হাজার একর জমির ফসল রোপণ করা বিফলে গেছে। শুধু ফসলি জমি নয়, বরং ঘরবাড়িতেও এ জল ঢুকে অনেক পরিবারকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
এই বিপজ্জনক পরিস্থিতি মোকাবেলায় ২০১৯ সালে নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার কোটাকোল থেকে ঘাঘা চেয়ারম্যানের বাড়ি পর্যন্ত (ধলইতলা) ৩ দশমিক ১ কিলোমিটার এলাকায় বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য একনেক সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন করা হয়েছিল। প্রকল্পের জন্য প্রাথমিকভাবে ব্যয় নির্ধারণ করা হয় ৩৪২ কোটি টাকা।
আরও পড়ুন: কুলিয়ারচরে পূর্ব গাইলকাটা জুনিয়র ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনালে আকাশ-নিলয় একাদশ চ্যাম্পিয়ন
স্থানীয় জনগণের আপত্তি ও আদালতের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ২০২৩ সালে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড ও জেলা প্রশাসন প্রকল্পের কাজ শুরু করে। যদিও প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৫ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা, সেই সময়ের মধ্যে কাজের অগ্রগতি খুবই সন্তোষজনক নয়। দু'দফা সময় বৃদ্ধির পরেও কাজের গতি অত্যন্ত ধীর। কিছু স্থানে খনন কাজ হয়েছে, কিন্তু অন্য কোথাও দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। এছাড়া, প্রকল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণে থাকা ১৬১ জনের মধ্যে ২৪ জন মাত্র ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন। বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য ঠিকাদारी প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিমূল্য ধরা হয়েছে ৫ কোটি ৯৫ লাখ টাকা।
উপজেলার চারটি ইউনিয়নের অন্তত ১৫টি গ্রামের ফসলি জমি ও বাড়িঘর রক্ষার জন্য স্থানীয়রা দ্রুত বেড়িবাঁধ নির্মাণ শেষ করার দাবি জানিয়েছেন। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো জানাচ্ছে, জমির ক্ষতিপূরণ না পাওয়া পর্যন্ত তারা প্রকল্পের কাজ চলতে দেবেন না।
এস এ ইউবি জে বি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক মো. মিলন আলী সময় সংবাদকে জানান, বেড়িবাঁধের কাজ নিয়ে তাঁরা কিছুটা সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন। তিনি বলছেন, এখনো পানি উন্নয়ন বোর্ড পুরো জমি তাঁদের বুঝিয়ে দেয়নি। কাজ করতে গেলে স্থানীয়দের কিছু বাধার সম্মুখীন হচ্ছে। তারা বলছেন, ক্ষতিপূরণ না পেলে কাজ করতে দেবেন না। এ অবস্থায় কিছু অংশে কাজ চলছে, কিন্তু পুরো জমি বুঝে পেলে কাজ দ্রুত শেষ করা সম্ভব হবে।
জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অভিজিৎ কুমার সাহা জানিয়েছেন, প্রকল্পটি ২০১৯ সালে অনুমোদিত হয়, কিন্তু আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে ২০২২ সাল পর্যন্ত কোনো অগ্রগতি হয়নি। বর্তমানে ২০২৩ সাল থেকে কাজ শুরু হয়েছে। কিন্তু স্থানীয় বাধা ও জমি জটিলতার কারণে ঠিকাদার নিয়মিতভাবে কাজ করতে পারছেন না। তিনি আরও বলেন, লাল পতাকা দিয়ে জমি চিহ্নিত করলেও পরবর্তীতে তা তুলে ফেলা হচ্ছে। সমস্যা সমাধান হলে দ্রুত কাজ শেষ করার আশা ব্যক্ত করেছেন।
আরও পড়ুন: পূর্বধলায় ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ সিজন-২ এর উদ্বোধন
অন্যদিকে জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) হোসনে আরা তান্নি জানিয়েছেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডকে একাধিকবার জমি চিহ্নিত করতে বলা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ২৪ জন ক্ষতিগ্রস্তকে যাচাই-বাছাই করে ক্ষতিপূরণের চেক দেয়া হয়েছে। বাকিদের আবেদন এবং কাগজপত্র যাচাই করে পর্যায়ক্রমে ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন