০৩:০৫ পি.এম
ছেলেকে বিদেশ পাঠিয়েছিলেন যেন ছেলের আয় দিয়ে সংসারের হাল পরিবর্তন ঘটে। কিন্তু সেই সংসারের হাল পরিবর্তন করতে গিয়ে ছেলেকেই হারাতে হবে, এটা যেন তার জানা ছিলো না। আর তাই কেন ছেলেকে বিদেশ পাঠিয়েছিলেন, সেই আপসোস যেন থামছে না তার।
মঙ্গলবার স্থানীয় সময় ভোর ৩টার দিকে দক্ষিণ আফ্রিকায় আগুনে পুড়ে প্রাণ হারানো ৬ বাংলাদেশির মধ্যে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা আলীরটেক ইউনিয়নের ক্রোকের চর এলাকার আলী মিয়ার ছেলে আপন আহমেদও রয়েছেন। এদিন কুইন্সটাউনের একটি দোকানে আগুন লাগে এবং সেই দোকানে কর্মরত ছিলেন আপন আহমেদ। তার মারা যাওয়ার খবর শোনার পর থেকেই স্বজনরা আহাজারি করে যাচ্ছেন।
তাদের আহাজারিতে আশপাশ এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আশপাশ এলাকার বাসিন্দারা এসে তাদের সান্তনা দিচ্ছেন। কিন্তু সেই সান্তনায় স্বজনদের মন যেন শান্ত হচ্ছে না।
আরও পড়ুন: পীরগাছায় কিশোর কণ্ঠ শিক্ষা মেধাবৃত্তি পরীক্ষায় ১ হাজার ৬০০ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ
আপন আহমেদের বাবা আলী মিয়া জানিয়েছেন, “কেন ছেলে বিদেশ পাঠিয়েছিলাম? বিদেশ যদি না পাঠাতাম তাহলে আজ আমার ছেলে আগুনে পুড়তো না। আমি নিজেকে কি বলে সান্তনা দিবো? আল্লাহ কেন আমাকে সন্তান দিয়েছিলেন? আবার কেনইবা তাকে নিয়ে গেলেন? গতকালও আমার সাথে অনেক্ষণ সময় নিয়ে কথা বলছিলো। এখন আর আমার সাথে কথা হবে না। আমি কাকে নিয়ে বাঁচবো।”
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও ফয়েজ উদ্দিন মন্তব্য করেন, দক্ষিণ আফ্রিকার অগ্নিকাণ্ডে নিহত ছয়জনের মধ্যে ৪ জনের বাড়ি আলীরটেকে, একজনের বাড়ি বক্তাবলীতে এবং একজনের বাড়ি মুন্সিগঞ্জে। ইতোমধ্যে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সঙ্গে কথা হয়েছে। সরকারিভাবে যে সহায়তা ও ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা রয়েছে, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। অগ্নিকাণ্ডের কারণ তদন্ত শেষে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে জানা যাবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন