০৭:৪৬ পি.এম
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফ্রন্টলাইনে আটকে থাকা দুই বাংলাদেশি যুবক দেশে ফেরার জন্য আকুতি জানিয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, উচ্চ বেতনের চাকরির লোভ দেখিয়ে তাদের রাশিয়ায় নিয়ে যাওয়া হলেও পরে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি যুদ্ধক্ষেত্রের এক অস্থায়ী ক্যাম্প থেকে গোপনে ধারণকৃত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
ভিডিওতে দেখা যায়, জামালপুর সদর উপজেলার গোদাশিমলা এলাকার বাসিন্দা আরমান আলী এবং মাইনউদ্দিন নামের দুই যুবক নিজেদের দুর্দশার কথা জানাচ্ছেন। তারা অভিযোগ করছেন, ড্রোন কোম্পানি ও নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাদের রাশিয়ায় নিয়ে আসা হয়। এরপর কিছুদিনের প্রশিক্ষণের পর সরাসরি যুদ্ধের ফ্রন্টলাইনে পাঠানোর বিষয়টি ঘটে।
আরমান আলী ভিডিওতে বলেন, আমাদের বলা হয়েছিল ড্রোন কোম্পানি বা কনস্ট্রাকশন সাইটের কাজে নিয়োগ দেওয়া হবে। কিন্তু বাস্তবে আমাদের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমাদের ১৬ জনের ক্যাম্প থেকে ১২ জন মারা গেছে এবং আমরা চারজন জীবিত আছি, এর মধ্যে চারজনই আহত।
আরও পড়ুন: হুথিদের সউদী আরবের তেলক্ষেত্র, রিয়াদ বিমানবন্দর ও সেনাক্যাম্পে হামলার দাবি
তিনি আরও বলেন, আহত হওয়ার পরও তাদেরকে পুনরায় যুদ্ধে যাওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে। রাজি না হলে তাদের মারধর করা হয়েছে এবং কয়েকদিন বাংকারে আটকে রেখে খাবার ও পানি অবধি দেওয়া হয়নি।
আবেগঘন কণ্ঠে আরমান আরও বলেন, আমরা এই জীবন চাইনি। ছোটোখাটো কাজ করে পরিবার নিয়ে বাঁচতে চেয়েছিলাম। আমার পাঁচ মাসের একটি কন্যাসন্তান আছে। আমরা মুসলমান, চাই দেশের মাটিতে মরতে, যেন জানাজা হয়। এভাবে শেয়াল-কুকুরের মতো মরতে চাই না। আমাদের বাঁচান।
ভিডিওটি প্রকাশিত হওয়ার পর আরমানের পরিবারে উদ্বেগ ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আরমানের বাবা রফিকুল ইসলাম জানান, তার ছেলের সঙ্গে সর্বশেষ দুদিন আগে কথা হয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা রাশিয়ার দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি কিন্তু কোনো সহযোগিতা পাইনি। দূতাবাস জানিয়েছে, তারা স্বেচ্ছায় চুক্তিতে সই করেছে। তবে আমার বিশ্বাস, বন্দুকের মুখে তাদের দিয়ে সই করানো হয়েছিল।
আরও পড়ুন: ‘দার–এ–নিজাত’ ধারাবাহিকের ২৩ পর্বে ১৭০ কোটি ভিউ, পাকিস্তানের ইতিহাসে নতুন রেকর্ড
তিনি আরও জানান, ছেলের যুদ্ধক্ষেত্রে আটকে থাকার খবর জানার পর থেকে পরিবারের সদস্যরা চরম মানসিক কষ্টে আছেন এবং বিশেষ করে আরমানের মা সারাক্ষণ কান্নাকাটি করছেন। আরমানের পাঁচ মাস বয়সী মেয়ের নাম আরশি।
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য মাহবুবুল আলম সুমন বলেন, বিষয়টি তিনি শুনেছেন এবং ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে প্রশাসনকে অবহিত করবেন।
জামালপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজনীন আখতার বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত আবেদন পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জামালপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আফসানা তাসলিম বলেন, পরিবার আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে বিস্তারিত তথ্য নিয়ে সহযোগিতার চেষ্টা করা হবে।
আরও পড়ুন: রাজধানীতে আবারও যাত্রীবাহী বাসে অগ্নিকাণ্ড
এদিকে, ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়রা দুই বাংলাদেশিকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। পরিবারগুলোর একমাত্র প্রত্যাশা হচ্ছে যুদ্ধের বিভীষিকা থেকে তাদের স্বজনরা যেন জীবিত অবস্থায় দেশে ফিরতে পারেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন