ঢাকা শুক্রবার, ০৬ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২১শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ০৬ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২১শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

বিদেশি প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা কমাতে বাংলাদেশকে নিজস্ব এআই প্রযুক্তির সক্ষমতা অর্জন জরুরি


বিদেশি প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা কমাতে বাংলাদেশকে নিজস্ব এআই প্রযুক্তির সক্ষমতা অর্জন জরুরি

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) বিশ্বে অর্থনীতি, শিল্প ও ব্যবসার চিত্র দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। যে দেশগুলো নিজস্ব প্রযুক্তি তৈরি করতে সক্ষম, তারা বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশেও এআই ব্যবহারের প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে, বিদেশি প্রযুক্তি ব্যবহার করে কি এই প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা সম্ভব? সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র প্রযুক্তির ব্যবহারকারী হয়ে থাকলে চলবে না, বরং বাংলাদেশকে নিজস্ব এআই তৈরি, গবেষণা, দক্ষ জনবল ও প্রযুক্তিগত অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং নতুন শিল্প গড়ে তোলার সম্ভাবনাও তৈরি হচ্ছে। তবে, এই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা অর্জন করা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় শুধু বিদেশি প্রযুক্তি ব্যবহার করে এগিয়ে থাকা সম্ভব নয়। দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও প্রযুক্তিগত স্বাধীনতা অর্জন করতে হলে নিজস্ব এআই অবকাঠামো, বাংলা ভাষার লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল (এলএলএম), গবেষণা, দক্ষ মানবসম্পদ এবং দেশীয় উদ্ভাবন গড়ে তুলতে হবে। এ লক্ষ্যে আগামী ১২ মাসের মধ্যে বাংলাদেশের নিজস্ব সার্বভৌম এআই অবকাঠামো চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে এআইকে কেন্দ্র করে নতুন বিনিয়োগ, প্রযুক্তি উদ্যোক্তা তৈরি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সম্ভাবনাও তৈরি হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ জানিয়েছেন, আগামী বছরের মধ্যে বাংলাদেশে সার্বভৌম এআই অবকাঠামো চালু করা হবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় কম্পিউটিং চিপ ও মেমোরি মডিউল সংগ্রহের ব্যবস্থা নিশ্চিত হয়েছে। এই অবকাঠামো বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, স্টার্টআপ, বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে। এর মাধ্যমে দেশীয় প্রযুক্তিবিদরা বাংলা ভাষার নিজস্ব এলএলএম তৈরি এবং নতুন এআইভিত্তিক সেবা উদ্ভাবনের সুযোগ পাবেন। বর্তমানে এআইয়ের ব্যবহার বাড়লেও উন্নত মডেল তৈরি ও পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় কম্পিউটিং অবকাঠামো, উচ্চক্ষমতার জিপিইউ, বিপুল তথ্যভাণ্ডার এবং গবেষণার সুযোগ সীমিত। ফলে বিদেশি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের তৈরি মডেল ও ক্লাউড সেবার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। নিজস্ব অবকাঠামো তৈরি হলে এ নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি স্থানীয় উদ্যোক্তাদের নতুন পণ্য ও সেবা তৈরির সুযোগ বাড়বে।

আরও পড়ুন: ‘বিজনেস ব্রেইন’ ও ‘জয়া’ দিয়ে ব্যবসা সামলাবে বিটোপিয়া

উপদেষ্টার ভাষ্য অনুযায়ী, শুরুতেই বিশাল কোনো এআই কেন্দ্র নির্মাণের পরিবর্তে ছোট ও মডিউলার অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। বেসরকারি খাতের চাহিদা বাড়লে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোও সেখানে নিজস্ব প্রযুক্তিগত সক্ষমতা যুক্ত করতে পারবে। উন্নতমানের জিপিইউ সংগ্রহের জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনা চলছে।

এদিকে এআই ও সেমিকন্ডাক্টর খাতকে কেন্দ্র করে বিনিয়োগের নতুন সম্ভাবনা দেখছে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)। বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন (আশিক চৌধুরী) প্রযুক্তিনির্ভর শিল্প, উচ্চমূল্য সংযোজন এবং উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। বিশেষ করে সেমিকন্ডাক্টর খাতে বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, এ খাতে বিপুল বিনিয়োগের সুযোগ থাকলেও তৈরি পোশাকশিল্পের মতো ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে না; বরং প্রযুক্তিগত দক্ষতা, উচ্চমূল্যের উৎপাদন ও নতুন বাজার তৈরির সম্ভাবনা বেশি। এখানে বিনিয়োগের বিষয়টি শুধু এআই সফটওয়্যার তৈরিতে সীমাবদ্ধ নয়। ডেটা সেন্টার, ক্লাউড কম্পিউটিং, সেমিকন্ডাক্টর, চিপ ডিজাইন, সাইবার নিরাপত্তা, সফটওয়্যার উন্নয়ন এবং এআইভিত্তিক শিল্পসেবা সব ক্ষেত্রেই নতুন বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে।

তবে এসব খাতে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের পাশাপাশি স্থানীয় প্রতিষ্ঠান ও উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইকোনমিক রিসার্চের (সিএসইআর) চেয়ারম্যান ও ল্যাবএইড হাসপাতাল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাকিফ শামীমের মতে, বাংলাদেশকে এখন প্রযুক্তি ব্যবহারের পর্যায় থেকে নিজস্ব প্রযুক্তি তৈরির সক্ষমতা অর্জনের দিকে যেতে হবে। বিদেশি প্রতিষ্ঠানের তৈরি সফটওয়্যার, ক্লাউড সেবা কিংবা এআই মডেল ব্যবহার করে তাৎক্ষণিক সুবিধা পাওয়া সম্ভব। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক মূল্য তৈরি করতে হলে নিজস্ব গবেষণা, দক্ষ মানবসম্পদ, স্থানীয় তথ্যভাণ্ডার, প্রযুক্তি উন্নয়নের অবকাঠামো এবং উদ্ভাবনী উদ্যোগ প্রয়োজন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের কৃষি, জলবায়ু, জনসংখ্যার ঘনত্ব, ভাষা ও শিল্পের সামঞ্জস্যতা উন্নত দেশগুলোর চেয়ে আলাদা। ফলে বিদেশে তৈরি প্রযুক্তি সরাসরি ব্যবহার করে দেশের সব সমস্যার কার্যকর সমাধান পাওয়া সম্ভব নয়। আকস্মিক বন্যার পূর্বাভাস, কৃষকের জন্য আবহাওয়াভিত্তিক পরামর্শ, নগর পরিবহনের যানজট নিয়ন্ত্রণ, পোশাকশিল্পের উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বাংলা ভাষায় নির্ভুল ডিজিটাল সেবা নিশ্চিতকরণে স্থানীয় তথ্য ও বাস্তবতার ভিত্তিতে এআই তৈরি করতে হবে। তার মতে, গুরুত্ব দিতে হবে বাংলা ভাষাভিত্তিক এআই উন্নয়নে। শুধু প্রমিত বাংলা নয়, আঞ্চলিক ভাষা, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটও বুঝতে সক্ষম প্রযুক্তি তৈরি করা প্রয়োজন। এ জন্য মানসম্মত বাংলা ডিজিটাল তথ্যভাণ্ডার, ভাষা প্রক্রিয়াকরণে গবেষণা এবং নিজস্ব এআই মডেল উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ জরুরি।

সাকিফ শামীমের বিশ্লেষণে আরও উঠে এসেছে, বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও শিল্প খাতের মধ্যে কার্যকর সহযোগিতা ছাড়া এ সক্ষমতা তৈরি হবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাকে শিল্পের বাস্তব সমস্যার সমাধানে কাজে লাগাতে যৌথ গবেষণা, প্রযুক্তি স্থানান্তর, গবেষণায় অর্থায়ন এবং মেধাস্বত্ব সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে এআই, ডেটা সায়েন্স, মেশিন লার্নিং, রোবটিক্স ও সাইবার নিরাপত্তায় প্র‍্যাক্টিক্যাল লার্নিং বাড়াতে হবে। বিদ্যমান কর্মীদেরও নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর জন্য পুনঃদক্ষতা অর্জনের সুযোগ দিতে হবে। সাকিফ শামীমের মতে, বাংলাদেশের ডিজিটাল অগ্রযাত্রার পরবর্তী ধাপ হওয়া উচিত প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি প্রযুক্তি তৈরির সক্ষমতা অর্জন। বিদেশি প্রযুক্তি গ্রহণের প্রয়োজন থাকবে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের জন্য নিজস্ব জ্ঞান, গবেষণা ও উদ্ভাবনের ভিত্তি তৈরি করতে হবে। এআই খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা শুধু প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ব্যাংকিং, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি, শিক্ষা, তৈরি পোশাক, পরিবহণ ও সরবরাহব্যবস্থায় এআইয়ের ব্যবহার বাড়লে উৎপাদনশীলতা এবং সেবার মান বাড়বে। পাশাপাশি দেশীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের জন্য নতুন বাজার তৈরি হবে।

আরও পড়ুন: এআই দিয়ে অপতথ্য ছড়ানো বন্ধের আহ্বান জানালেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ

এ বক্তব্যের সঙ্গে এআই খাতের বিনিয়োগের বিষয়টি বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক। কারণ, শুধু বিদেশি প্রযুক্তি কিনে ব্যবহার করলে অর্থনীতিতে সীমিত সুফল পাওয়া যাবে। কিন্তু বিদেশি বিনিয়োগের সঙ্গে প্রযুক্তি স্থানান্তর, স্থানীয় প্রকৌশলী তৈরি, গবেষণা এবং দেশীয় প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতা তৈরি হবে।

সাকিফ শামীমের নেতৃত্বে ল্যাবএইড এআইভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা প্রযুক্তি উন্নয়নে কাজ করছে। প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোগে চিকিৎসাবিষয়ক তথ্য বিশ্লেষণ এবং চিকিৎসকদের দ্বিতীয় মতামত প্রদানে সহায়ক নিজস্ব এআই মডেল তৈরির কাজ হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চিকিৎসাবিষয়ক ২০০ থেকে ৩০০ কোটি ডেটাসেট ব্যবহার করে নিজস্ব লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল তৈরি করার উদ্যোগ ১০০০ এর উপর কর্মী ও ৪ টি প্রতিষ্ঠান কাজ করে যাচ্ছে। এ ধরনের উদ্যোগ দেখায়, স্থানীয় সমস্যাকে কেন্দ্র করে দেশীয় প্রতিষ্ঠানও এআই প্রযুক্তি উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে।

এআই নিয়ে সিএসইআর এর বিশ্লেষণ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এখন আর ভবিষ্যতের কোনো প্রযুক্তি নয়। এটি বিশ্ব অর্থনীতি, উৎপাদনব্যবস্থা, বাণিজ্য, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি এবং রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের কাঠামো পরিবর্তন করছে। যে দেশগুলো এই প্রযুক্তির গবেষণা, উন্নয়ন ও প্রয়োগে এগিয়ে যাচ্ছে, তারা নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তৈরি করছে। অন্যদিকে যেসব দেশ প্রযুক্তির ব্যবহারকারী হিসেবেই সীমাবদ্ধ থাকছে, তাদের জন্য দীর্ঘমেয়াদে নির্ভরশীলতার ঝুঁকি বাড়ছে। বাংলাদেশের সামনে এখন মূল প্রশ্নটি তাই এআই প্রযুক্তি গ্রহণ করা হবে কি না, তা নয়; বরং এই প্রযুক্তির বৈশ্বিক পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজস্ব সক্ষমতা কতটা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

আরও পড়ুন: লিও আইসিটি ক্যাবলস ইআরপি বাস্তবায়ন শুরু করেছে

বিশ্বের উন্নত অর্থনীতিগুলো এআইকে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, নতুন শিল্প গড়ে তোলা এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকার কৌশলগত উপাদান হিসেবে বিবেচনা করছে। শিল্পকারখানায় স্বয়ংক্রিয় উৎপাদন, কৃষিতে আবহাওয়া ও মাটির তথ্য বিশ্লেষণ, স্বাস্থ্যসেবায় রোগ শনাক্তকরণ, আর্থিক খাতে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং সরকারি সেবায় সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে এআইয়ের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। ফলে প্রযুক্তিটি আর কোনো নির্দিষ্ট শিল্পের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটি সামগ্রিক অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও প্রতিযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্ধারক হয়ে উঠছে।

বাংলাদেশেও এআই ব্যবহারের ক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে। ব্যাংকিং, টেলিযোগাযোগ, ই-কমার্স, স্বাস্থ্যসেবা, পোশাকশিল্প এবং বিভিন্ন ডিজিটাল সেবায় প্রযুক্তিটির প্রয়োগ বাড়ছে। তবে প্রযুক্তি ব্যবহার এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা অর্জন এক বিষয় নয়। বিদেশি প্রতিষ্ঠানের তৈরি সফটওয়্যার, ক্লাউড সেবা কিংবা এআই মডেল ব্যবহার করে তাৎক্ষণিক সুবিধা পাওয়া সম্ভব। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক মূল্য তৈরি করতে হলে প্রয়োজন নিজস্ব গবেষণা, দক্ষ মানবসম্পদ, স্থানীয় তথ্যভাণ্ডার, প্রযুক্তি উন্নয়নের অবকাঠামো এবং উদ্ভাবনী উদ্যোগ। এই জায়গাতেই বাংলাদেশের প্রস্তুতি নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে।

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সম্ভাবনার একটি ক্ষেত্র হলো স্থানীয় বাস্তবতার উপযোগী এআই প্রযুক্তি তৈরি। আমাদের কৃষি, জলবায়ু, জনসংখ্যার ঘনত্ব, ভাষা, শিল্পের ধরন এবং ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য অনেক ক্ষেত্রে উন্নত দেশগুলোর বাস্তবতা থেকে আলাদা। ফলে অন্য দেশের জন্য তৈরি প্রযুক্তি ব্যবহার করলেই দেশের সব সমস্যার কার্যকর সমাধান পাওয়া যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। হাওর অঞ্চলের আকস্মিক বন্যার পূর্বাভাস, কৃষকের জন্য ফসল ও আবহাওয়াভিত্তিক পরামর্শ, নগর পরিবহনের যানজট ব্যবস্থাপনা, তৈরি পোশাকশিল্পের উৎপাদন দক্ষতা বৃদ্ধি কিংবা বাংলা ভাষায় নির্ভুল ডিজিটাল সেবা নিশ্চিত করতে স্থানীয় তথ্য ও বাস্তবতার ভিত্তিতে প্রযুক্তি তৈরি করা জরুরি।

এ ক্ষেত্রে বাংলা ভাষাভিত্তিক এআই উন্নয়নের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাওয়ার দাবি রাখে। দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষের জন্য ডিজিটাল সেবা সহজলভ্য করতে হলে প্রযুক্তিকে বাংলা ভাষা, স্থানীয় উচ্চারণ, আঞ্চলিক ভাষার বৈচিত্র্য এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট বুঝতে সক্ষম হতে হবে। ভাষাগত সক্ষমতা না থাকলে এআইয়ের সুবিধা সমাজের একটি সীমিত অংশের মধ্যে আটকে থাকার আশঙ্কা থাকে। তাই বাংলা ভাষার মানসম্মত ডিজিটাল তথ্যভাণ্ডার তৈরি, ভাষা প্রক্রিয়াকরণে গবেষণা এবং স্থানীয় এআই মডেল উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ প্রয়োজন।

আরও পড়ুন: বাংলালিংক চালু করল ডিজিটাল পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম ‘মুক্ত পে’

এই সক্ষমতা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং শিল্প খাতের মধ্যে কার্যকর সহযোগিতা অপরিহার্য। বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রকৌশল, গণিত, পরিসংখ্যান ও কম্পিউটার বিজ্ঞানে দক্ষ শিক্ষার্থী তৈরি হচ্ছে। কিন্তু শিক্ষার সঙ্গে শিল্পের বাস্তব সমস্যা সমাধানের সংযোগ আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। গবেষণাগারে তৈরি জ্ঞান যেন বাস্তব পণ্য, সেবা ও উৎপাদনব্যবস্থায় কাজে লাগে, সে জন্য বিশ্ববিদ্যালয় ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের যৌথ গবেষণা, উদ্ভাবনী প্রকল্প এবং প্রযুক্তি স্থানান্তরের ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে গবেষণায় অর্থায়ন, মেধাস্বত্ব সুরক্ষা এবং নতুন উদ্যোগের জন্য প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি।

মানবসম্পদ উন্নয়নেও দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন প্রয়োজন। বাংলাদেশের তরুণেরা আন্তর্জাতিক বাজারে সফটওয়্যার উন্নয়ন, তথ্যপ্রযুক্তি সেবা এবং আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। তবে বৈশ্বিক এআই অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি অবস্থান তৈরি করতে হলে কোড লেখা বা প্রযুক্তিগত সেবা দেওয়ার দক্ষতার পাশাপাশি সমস্যা চিহ্নিত করা, গবেষণা করা এবং নতুন সমাধান উদ্ভাবনের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। এ জন্য শিক্ষাব্যবস্থায় এআই, ডেটা সায়েন্স, মেশিন লার্নিং, রোবোটিকস ও সাইবার নিরাপত্তার মতো বিষয়ে ব্যবহারিক শিক্ষা এবং গবেষণার সুযোগ বাড়ানো দরকার। পাশাপাশি বিদ্যমান কর্মীদের নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার জন্য পুনঃদক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করতে হবে।

এখানে বেসরকারি খাতের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। এআইকে কেবল বিদেশি প্রযুক্তি কেনার মাধ্যম হিসেবে দেখলে দেশীয় উদ্ভাবনের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়বে। বরং শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রমে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। ব্যাংক, হাসপাতাল, কৃষি, উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থার নিজস্ব সমস্যাগুলোকে কেন্দ্র করে দেশীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। এতে একদিকে প্রতিষ্ঠানের উৎপাদনশীলতা বাড়বে, অন্যদিকে স্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বাজার তৈরি হবে। প্রযুক্তি খাতে উদ্যোক্তা তৈরির পাশাপাশি তাদের উদ্ভাবিত পণ্য ও সেবাকে আন্তর্জাতিক বাজারে নেওয়ার সক্ষমতাও গড়ে তুলতে হবে।

তবে এআই সক্ষমতা অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও নিরাপত্তার বিষয়টি উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। উন্নত কম্পিউটিং সুবিধা, নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ, উচ্চগতির ইন্টারনেট, মানসম্মত ডেটা সেন্টার এবং দক্ষ প্রযুক্তিবিদ ছাড়া বড় পরিসরে এআই গবেষণা ও উন্নয়ন সম্ভব নয়। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা, তথ্য ব্যবহারের নীতিমালা, সাইবার নিরাপত্তা এবং প্রযুক্তির জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। এআই ব্যবস্থায় ব্যবহৃত তথ্য কোথায় সংরক্ষিত হচ্ছে, কারা তা নিয়ন্ত্রণ করছে এবং কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, এসব প্রশ্ন অর্থনৈতিক ও জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গেও যুক্ত। তাই প্রযুক্তিগত অগ্রগতির পাশাপাশি তথ্যের নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনায় প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা তৈরি করা প্রয়োজন।

আরও পড়ুন: ঢাকা ডিবিতে ইকবাল সোবহান চৌধুরীর জিজ্ঞাসাবাদ চলছে

বাংলাদেশের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ রয়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে। এশিয়া ও আফ্রিকার অনেক উন্নয়নশীল দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতার সঙ্গে বাংলাদেশের বেশ কিছু মিল রয়েছে। কৃষি, স্বাস্থ্য, ক্ষুদ্র ব্যবসা, শিক্ষা ও নগর ব্যবস্থাপনার মতো ক্ষেত্রে এসব দেশের সমস্যার ধরনও অনেক ক্ষেত্রে কাছাকাছি। বাংলাদেশ যদি নিজস্ব বাস্তবতার ভিত্তিতে কার্যকর ও সাশ্রয়ী এআই পণ্য তৈরি করতে পারে, তবে সেগুলো দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের বাজারেও সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি করতে পারে। এতে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের রপ্তানি আয় বাড়ার পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান ও বৈদেশিক বিনিয়োগের সম্ভাবনাও তৈরি হবে।

এআইয়ের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা তাই বাংলাদেশের জন্য একদিকে চ্যালেঞ্জ, অন্যদিকে নতুন শিল্প ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তৈরির সুযোগ। এই সুযোগ কাজে লাগাতে হলে বিচ্ছিন্ন কিছু উদ্যোগের পরিবর্তে একটি সমন্বিত জাতীয় কৌশল প্রয়োজন। শিক্ষা ও গবেষণা, শিল্প খাতের বিনিয়োগ, প্রযুক্তিগত অবকাঠামো, তথ্যের নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের বিষয়গুলোকে একই নীতিকাঠামোর আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি খাতের দায়িত্ব ও অগ্রাধিকার স্পষ্ট করতে হবে, যাতে বিনিয়োগের কার্যকারিতা মূল্যায়ন করা যায় এবং গবেষণার ফলাফল বাস্তব অর্থনীতিতে কাজে লাগে।

বাংলাদেশের ডিজিটাল অগ্রযাত্রার পরবর্তী ধাপ হওয়া উচিত প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি প্রযুক্তি তৈরির সক্ষমতা অর্জন। বিদেশি প্রযুক্তি গ্রহণের প্রয়োজন থাকবে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের জন্য নিজস্ব জ্ঞান, গবেষণা ও উদ্ভাবনের ভিত্তি তৈরি করাও সমান জরুরি। এআইয়ের বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান নির্ধারিত হবে আমরা কত দ্রুত প্রযুক্তি ব্যবহার করছি, তার পাশাপাশি কতটা নিজস্ব সমাধান তৈরি করতে পারছি, কতটা দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলছি এবং বৈশ্বিক বাজারে কতটা প্রতিযোগিতামূলক হতে পারছি, তার ওপর। এখনই কার্যকর পরিকল্পনা ও বিনিয়োগ নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশ প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মেলানোর পাশাপাশি সেই পরিবর্তনের অংশীদারও হতে পারবে।

আরও পড়ুন: গ্রামীণফোন প্রথম অপারেটর হিসেবে চালু করল বাংলা কিউআর

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৫২ বছর বয়সে এইচএসসি পাস করলেন শেফালী বেগম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:১৫ পি.এম


৫২ বছর বয়সে এইচএসসি পাস করলেন শেফালী বেগম

শৈশবেই বাবাকে হারানোর পর শেফালী বেগমের পড়াশোনা থেমে গিয়েছিল। পরিবারের আর্থিক সংকট এবং সংসারের দায়িত্বের চাপের কারণে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন বিসর্জন দিতে হয়েছিল তাকে। বিয়ে, স্বামী ও সন্তানের দায়িত্ব পালন করতে করতে দীর্ঘ সময় কেটে গেছে। তবে শিক্ষিত হওয়ার স্বপ্নটি কখনো হারিয়ে যেতে দেননি শেফালী। অবশেষে ৫২ বছর বয়সে এইচএসসি পাস করে তিনি এলাকায় অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়নের কালীগঞ্জ নক্তপাড়া গ্রামের বাসিন্দা শেফালী বেগম। তিনি মকছেদুল আলম মঞ্জুর স্ত্রী। ৪৮ বছর বয়সে নতুন করে পড়াশোনা শুরু করে ২০২৬ সালের এইচএসসি (বিজনেস ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড টেকনোলজি) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় তিনি জিপিএ ৩.৯৬ এবং ঐচ্ছিক বিষয়সহ জিপিএ ৪.২১ অর্জন করেছেন। তিনি গোমনাতি টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শেফালী ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় মেধাবী ছিলেন। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের পরীক্ষাগুলোতে তার ভালো ফলাফল ছিল। কিন্তু বাবাকে হারানোর পর পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে তার পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়। ১৯৮৫ সালে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় তার বিয়ে হয়। এরপর স্বামীর সংসারে এসে নিয়মিত পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি।

সংসার, স্বামী-সন্তান ও পরিবারের দায়িত্ব পালনের মধ্যেই শেফালীর জীবন কেটে গেছে। তবে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন তাকে সবসময় তাড়িত করেছে। অবশেষে ২০২০ সালে স্বামী ও তিন সন্তানের অনুপ্রেরণায় আবারও পড়াশোনা শুরু করেন। সংসারের কাজ সামলে নিয়মিত পড়াশোনা চালিয়ে ২০২৩ সালে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৪.২৯ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। এরপর ২০২৬ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় সফলতার মাধ্যমে দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ করেন।

শুধু পড়াশোনা নয়, সামাজিক কর্মকাণ্ডেও শেফালী সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। সংসার ও সন্তানদের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ২০১১ সালে ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি টানা দুই মেয়াদে ২০১১ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।

মায়ের এই অর্জনে পরিবারের সদস্যরাও আনন্দিত। তার মেয়ে মাকছুরা খানম নাসমুন বর্তমানে রংপুর সরকারি কলেজে মাস্টার্সে অধ্যয়নরত। তিনি বলেন, ‘মায়ের এই অর্জন শুধু আমাদের পরিবারের আনন্দের বিষয় নয়, সমাজের অন্য নারী ও শিক্ষাবঞ্চিত মানুষের জন্যও বড় অনুপ্রেরণা। তিনি দেখিয়ে দিয়েছেন, শেখার কোনো নির্দিষ্ট বয়স নেই। ইচ্ছাশক্তি থাকলে যেকোনো বয়সেই স্বপ্ন পূরণ করা যায়।’

নিজের সাফল্যের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত শেফালী বেগম বলেন, ‘ছোটবেলায় বাবাকে হারানোর পর গ্রামের কুসংস্কার রোধে আমার বিয়ে হয়। তখন আমি অষ্টম শ্রেণি পাস করেছি। এরপর সংসারজীবনে কাজের ব্যস্ততার কারণে আর পড়াশোনা করা হয়নি। তবে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পরীক্ষাগুলোতে বরাবরই মেধাতালিকায় ছিলাম।’

তিনি আরও বলেন, ‘স্বামী ও সন্তানদের অনুপ্রেরণায় ২০২০ সালে আবার পড়াশোনা শুরু করি। ২০২৩ সালে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৪.২৯ পেয়ে পাস করি। আর ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৪.২১ পেয়ে উত্তীর্ণ হতে পেরে মনে হচ্ছে, জীবনের অনেক বড় একটি স্বপ্ন পূরণ হয়েছে।’

শেফালীর স্বামী মকছেদুল আলম মঞ্জু বলেন, ‘আমার স্ত্রী পরিবারের কথা ভেবে নিজের স্বপ্ন বিসর্জন দিয়েছিলেন। দীর্ঘদিন পর হলেও নিজের সেই স্বপ্ন পূরণ করতে পেরেছেন। এটাই আমাদের কাছে সবচেয়ে বড় আনন্দের বিষয়। ভবিষ্যতেও তার পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার পথে পাশে থাকব।’

গোমনাতি টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজের অধ্যক্ষ দিলীপ রায় বলেন, ‘দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে এমন সংগ্রামী শিক্ষার্থী খুব কমই দেখেছি। শেফালী বেগমের সাফল্য প্রমাণ করে, শিক্ষার জন্য বয়স কোনো বাধা নয়। প্রয়োজন শুধু প্রবল ইচ্ছাশক্তি ও অধ্যবসায়। তার সাফল্যে আমরা গর্বিত।’

৫২ বছর বয়সে শেফালী বেগমের এই অর্জন শুধু একটি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার গল্প নয়; এটি প্রতিকূলতার কাছে হার না মানা, নিজের স্বপ্নকে নতুন করে বাঁচিয়ে তোলার গল্প। তার এই সাফল্য সমাজের শিক্ষাবঞ্চিত নারীসহ সব বয়সী মানুষের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্কুল মিল কর্মসূচির তহবিল সংগ্রহে ১৭ দেশের কূটনীতিকদের র‍্যাম্পে হাঁটা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:১৬ পি.এম


স্কুল মিল কর্মসূচির তহবিল সংগ্রহে ১৭ দেশের কূটনীতিকদের র‍্যাম্পে হাঁটা

বাংলাদেশের স্কুলশিক্ষার্থীদের জন্য পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তহবিল সংগ্রহের একটি ব্যতিক্রমী আয়োজনের অংশ হিসেবে র‍্যাম্পে হেঁটেছেন ১৭টি দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনার। গত ৩০ অক্টোবর রাজধানীর ক্রাউন প্লাজা ঢাকা এয়ারপোর্টে ‘থ্রাইভ বেনিফিট ফ্যাশন শো’ শীর্ষক এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।

থ্রাইভ বাংলাদেশের স্কুল মিল কর্মসূচির জন্য অর্থ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে কূটনৈতিক সম্প্রদায়ের সদস্য, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার প্রধান, করপোরেট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, দাতা ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের হসপিটালিটি পার্টনার হিসেবে ছিল ক্রাউন প্লাজা ঢাকা এয়ারপোর্ট।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি উল্লেখ করেন, সরকার দেশব্যাপী স্কুল মিল কর্মসূচি সম্প্রসারণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এ সময় থ্রাইভ বাংলাদেশের মতো উদ্যোগ শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করা এবং বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বাড়ানোর প্রচেষ্টাকে আরও শক্তিশালী করছে। তিনি বলেন, "ক্ষুধার কারণে কোনো শিশুর শিক্ষাজীবন বাধাগ্রস্ত হওয়া উচিত নয়।"

২০১২ সালে প্রিসিলা পেরি হেফেলফিঙ্গার, জিনা গ্যাবেল ও রেজিনা ল্যান্ডারের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত থ্রাইভ বাংলাদেশ একটি অলাভজনক সংস্থা। প্রতিষ্ঠানটি দেশের বিভিন্ন স্কুলের শিশুদের পুষ্টিকর খাবার সরবরাহ করে আসছে। সংস্থাটি বিশ্বাস করে যে, ক্ষুধার্ত পেটে কোনো শিশুর পড়াশোনা করা উচিত নয়।

অনুষ্ঠান আয়োজনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার এবং তাঁর স্ত্রী ফিলিপা উড।

থ্রাইভ বাংলাদেশের চেয়ার আমনা রহমান বলেন, "বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা বাংলাদেশের শিশুদের জন্য র‍্যাম্পে হেঁটেছেন। প্রতিটি টিকিট ও অনুদানের অর্থ সরাসরি শিশুদের খাবার সরবরাহে সহায়তা করবে।" তিনি আরও বলেন, "একটি শিশুর শিক্ষার সুযোগ পাওয়া কিংবা ক্ষুধার কারণে সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়ার মধ্যে এ উদ্যোগ পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।"

সংস্থাটির ডেপুটি চেয়ার কানওয়াল বক্সী ভগত বলেন, "থ্রাইভের খাবার শিশুদের বিদ্যালয়ে আসতে এবং পড়াশোনা চালিয়ে যেতে সহায়তা করে।" তিনি উল্লেখ করেন, প্রতিদিন পুষ্টিকর খাবার সরবরাহের মাধ্যমে শিশুদের সুস্থ রাখা, বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং শিক্ষাজীবনে ভালো ফল অর্জনে সহায়তা করা হচ্ছে।

আরেক ডেপুটি চেয়ার সাদিয়া মইন বলেন, "প্রতিটি পুষ্টিকর খাবারই সুস্বাস্থ্য, আশার আলো ও উজ্জ্বল আগামীর উপহার।"

ক্রাউন প্লাজা ঢাকা এয়ারপোর্টের ক্লাস্টার জেনারেল ম্যানেজার অশ্বানি নায়ার জানান, থ্রাইভ বাংলাদেশের হসপিটালিটি পার্টনার হতে পেরে তারা সম্মানিত। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এ আয়োজন ঢাকার অন্যতম অর্থবহ বার্ষিক অনুষ্ঠানে পরিণত হবে।

আয়োজন থেকে সংগৃহীত অর্থ থ্রাইভ বাংলাদেশের ১৩টি সহযোগী স্কুলের শিক্ষার্থীদের প্রতিদিনের খাবার সরবরাহে ব্যয় করা হবে। এসব খাবারের তালিকায় থাকবে তাজা ফলমূল, শাকসবজি, ডিম, দুধ ও বাদামের মতো প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার। পাশাপাশি, নতুন স্কুলগুলোকে এ কর্মসূচির আওতায় আনার সুযোগ তৈরি হবে।

অনুষ্ঠানের পৃষ্ঠপোষকতা করেছে করতোয়া গ্রিন স্পিনিং মিলস লিমিটেড, সিটি ব্যাংক পিএলসি, অ্যাজাইল মাইন্ডস সলিউশন লিমিটেড, র‍্যাংকন, জেডএক্সওয়াই ইন্টারন্যাশনাল ও নেসলে বাংলাদেশ পিএলসি। আয়োজনে সহযোগিতার জন্য ক্রাউন প্লাজা ঢাকা এয়ারপোর্টের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে থ্রাইভ বাংলাদেশ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জেলেনস্কির জন্য মস্কোর দরজা খোলা: ক্রেমলিন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:১৭ পি.এম


জেলেনস্কির জন্য মস্কোর দরজা খোলা: ক্রেমলিন

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সাথে যোগাযোগের জন্য রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন কখনোই অস্বীকার করেননি। ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পুতিন সরাসরি ফোন কল আসলে সেই কল গ্রহণ করবেন এবং আলোচনা করবেন।

ক্রেমলিনের জ্যেষ্ঠ সহযোগী (এইড) ইউরি উশাকভ রুশ চ্যানেল ‘ভেস্তি’র সাংবাদিক পাভেল জারুবিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই তথ্য প্রকাশ করেন।

উশাকভকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, যদি জেলেনস্কি ফোন করেন তবে কি পুতিন তা রিসিভ করবেন? তার জবাবে তিনি বলেন, "আমি মনে করি তিনি অবশ্যই উত্তর দেবেন। পুতিন কখনো আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেননি।"

এছাড়া, ক্রেমলিনের এই কর্মকর্তা ইঙ্গিত দেন যে, জেলেনস্কি যদি সত্যিই রুশ প্রেসিডেন্টের সাথে সরাসরি আলোচনা করতে চান, তবে মস্কোর দরজা তার জন্য খোলা রয়েছে।

উশাকভ আরও বলেন, "তিনি (জেলেনস্কি) বিভিন্ন মাধ্যমে আলোচনার বার্তা পাঠাচ্ছেন। যদি তিনি সত্যিই পুতিনের সাথে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা করতে চান, তবে সরাসরি মস্কোতে চলে আসতে পারেন।" সূত্র: তাস।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বগুড়ায় চারমাথা-কামারগাড়ী মহাসড়ক ৪ লেনে উন্নীতকরণে মতবিনিময়সভা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:১৭ পি.এম


বগুড়ায় চারমাথা-কামারগাড়ী মহাসড়ক ৪ লেনে উন্নীতকরণে মতবিনিময়সভা

বগুড়া শহরের যানজট নিরসন ও আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়নে চারমাথা থেকে নূরানী মোড় হয়ে কামারগাড়ী রেলঘুমটি পর্যন্ত আঞ্চলিক মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময়সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষ করতোয়ায় এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া-৬ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা।

সভায় সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা ৫০ থেকে ১০০ বছরের শহরের চাহিদা মাথায় রেখে দূরদর্শী পরিকল্পনা করার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, চারমাথা থেকে কামারগাড়ী পর্যন্ত সড়কটি চার লেনে উন্নীত হলে শহরের যোগাযোগ ব্যবস্থায় অভূতপূর্ব পরিবর্তন আসবে। এর পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ বাইপাস দিয়ে ৪০ ফিট রাস্তা নির্মাণ, স্টেডিয়াম রোড প্রশস্তকরণ এবং শহরকে যানজটমুক্ত করতে সার্বিক পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।

রাজশাহীর মতো সুন্দর শহরের দৃষ্টান্ত টেনে বগুড়াকে দৃষ্টিনন্দন করতে সড়ক প্রশস্তকরণে অন্তত ৬ ইঞ্চি জায়গা ছেড়ে দেওয়ার মানসিকতা তৈরি এবং পরিচ্ছন্নতার মাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিল্ডার ও সর্বসাধারণকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান বাদশা।

সভায় প্রকল্পের বিস্তারিত রূপরেখা তুলে ধরেন সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ) বগুড়া জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সুরুজ মিয়া নেতৃত্বে নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদুল হক। তিনি জানান, ২.৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়ক চার লেনে উন্নীত করতে প্রায় ২৯৯ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। প্রকল্পে ১.৯৮ হেক্টর ব্যক্তিগত জমি এবং ২.০৬ হেক্টর সরকারি জমি অধিগ্রহণ করা হবে। সড়কের মিডিয়ান, ড্রেন, ফুটপাত, বাস-বে, ইউ-লুপ ট্রাক ওভারপাস এবং সোলার লাইটিংয়ের পাশাপাশি বগুড়ায় প্রথমবারের মতো মাটির নিচে ইউটিলিটি ডাক্ট নির্মাণ করে বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও ক্যাবল লাইন স্থানান্তরের সুসংবাদ দেন তিনি।

অন্যদিকে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব আনোয়ারুল আলম বলেন, মাস্টার প্ল্যানের আওতায় সরকারের সমন্বিত ভাবনার অংশ হিসেবেই বগুড়ার একের পর এক মেগা প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে।

মতবিনিময় পর্বে উপস্থিত অংশীজনরা নিজ নিজ মতামত ও প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। বগুড়া জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুল হামিদ মিটুল নূরানী মোড় থেকে ব্যাটালিয়ন এলাকা পর্যন্ত রেলওয়ের জায়গা ব্যবহারের ওপর জোর দেন, যাতে সাধারণ ব্যবসায়ী ও ব্যক্তি মালিকানাধীন জায়গা রক্ষা পায়। বগুড়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আতিকুর রহমান বাদল চার লেনের পথটি দত্তবাড়ি হয়ে চেলোপাড়া ব্রিজ ও দ্বিতীয় বাইপাস পর্যন্ত এবং স্টেডিয়াম পর্যন্ত সম্প্রসারণের দাবি জানান।

এনসিপি বগুড়া জেলা শাখার আহ্বায়ক প্রকৌশলী এম এস এ মাহমুদ নির্দিষ্ট কিছু সড়ক একমুখী করার পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি ইউটিলিটি ডাক্টে গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ লাইনের নিরাপত্তা সুনির্দিষ্ট রাখার কারিগরি তাগিদ দেন।

জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান জানান, অংশীজনদের দেওয়া সমস্ত যৌক্তিক মতামত সওজ ও কারিগরি কমিটির মাধ্যমে পর্যালোচনা করে নকশায় অন্তর্ভুক্ত করার পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

জনস্বার্থ ও শহরের সার্বিক সুবিধা নিশ্চিত করেই প্রকল্পের চূড়ান্ত বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করার আশাবাদ ব্যক্ত করে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। সভায় সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, প্রকৌশলী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৭ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%