ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

সুইস ব্যাংকে টাকার পাহাড়


সুইস ব্যাংকে টাকার পাহাড়

এক বছরের ব্যবধানে সুইস ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশি ব্যক্তি ও ব্যাংকগুলোর আমানত বেড়েছে প্রায় ৩ হাজার ৯২৯ কোটি টাকা, যা ৪১ দশমিক ৪৯ শতাংশ। ২০২৫ সালে মোট আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ৭৬৩ কোটি টাকা, যা ৮৩ কোটি ৪২ লাখ সুইস ফ্রাঁ।

২০২৪ সালে বাংলাদেশিদের জমা ছিল ৮ হাজার ৮৩৪ কোটি টাকা, যা ৫৮ কোটি ৯৫ লাখ ফ্রাঁ প্রবাহ ছিল। আগের বছর, ২০২৩ সালে, আমানত ছিল ২৬৪ কোটি টাকা, আর ২০২২ সালে বাংলাদেশিদের জমা অর্থের পরিমাণ ছিল ৮২৪ কোটি টাকা। ২০২৩ সালের তুলনায় ২০২৪ সালে আমানত বৃদ্ধি হয়েছিল ৩২৪৬ শতাংশ।

২০২৫ সালে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশিদের আমানত সুইস ব্যাংকে হচ্ছে রেকর্ডে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের মোট আমানত ২০২১ সালের সর্বোচ্চ ১২ হাজার ৯৯৬ কোটি টাকার সামনে চলে এসেছে। সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুইস ন্যাশনাল ব্যাংক (এসএনবি) প্রকাশিত সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। এ তথ্যগুলো সুইস ব্যাংকগুলো কর্তৃক সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকে জমা দেওয়া সরকারি হিসাবের তথ্য। এটি সুইজারল্যান্ডে বাংলাদেশিদের কথিত ‘কালোটাকা’র প্রকৃত পরিমাণ নির্দেশ করে না।

আরও পড়ুন: দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে শিল্প প্রসারের প্রতিশ্রুতি প্রধানমন্ত্রীর

২০২৫ সালে বাংলাদেশি ব্যাংকগুলোর সুইস ব্যাংকে রাখা আমানত ৪১ দশমিক ৪৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৮৩ কোটি ৪১ লাখ সুইস ফ্রাঁ হয়েছে, যা আগের বছর ছিল ৫৮ কোটি ৯৫ লাখ সুইস ফ্রাঁ। মোট আমানতের প্রায় ৯৮ দশমিক ৬ শতাংশই ছিল বাংলাদেশি ব্যাংকগুলোর, যা ২০২৪ সালে ছিল ৯৭ দশমিক ৮ শতাংশ। ২০২৩ সালে এই হার ছিল মাত্র ২০ শতাংশ এবং ২০২১ সালে ৩৫ শতাংশ।

মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান মন্তব্য করেছেন, ‘সুইজারল্যান্ডে বাংলাদেশি ব্যাংকগুলোর রাখা অর্থ মূলত স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রমের অংশ।’ তিনি বলেন, ‘ব্যাংকগুলো কোথায় ভালো মুনাফা পাওয়া যাবে, তার ভিত্তিতে বিভিন্ন দেশ ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে অর্থ বিনিয়োগ করে থাকে।’

তিনি আরো বলেন, ‘বিনিয়োগের সুযোগ ও রিটার্নের ওপর নির্ভর করে ব্যাংকগুলো নিয়মিত বিভিন্ন দেশে অর্থ স্থানান্তর করে। ফলে কোনো নির্দিষ্ট বছরে সুইজারল্যান্ডে বেশি অর্থ রাখা হয়েছে মানেই অস্বাভাবিক কিছু ঘটেছে এমন ধারণা সঠিক নয়।’

অন্যদিকে, ব্যক্তিগত হিসাবের মাধ্যমে রাখা বাংলাদেশিদের আমানত প্রায় ১০ শতাংশ কমে ১১ দশমিক ৪ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁ হয়েছে, যা ২০২৪ সালে ছিল ১২ দশমিক ৬ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁ। একসময় গ্রাহকের গোপনীয়তার জন্য পরিচিত সুইস ব্যাংকগুলো বর্তমানে অর্থ পাচার ও করফাঁকি রোধে অধিক স্বচ্ছতা নীতি অনুসরণ করছে।

আরও পড়ুন: আকুর বিল পরিশোধের পর বাংলাদেশের রিজার্ভ কমে ৩৪.৮৫ বিলিয়ন ডলারে

২০১৮ সালে অটোমেটিক এক্সচেঞ্জ অব ইনফরমেশন (এএইওআই) কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। এর আওতায় বিভিন্ন দেশের কর কর্তৃপক্ষ বিদেশে নাগরিকদের আর্থিক হিসাব সম্পর্কিত তথ্য আদানপ্রদান করতে পারে। ২০২৫ সালে সুইস ফেডারেল ট্যাক্স অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফটিএ) বিশ্বের ১০১ দেশের সঙ্গে প্রায় ৩৪ লাখ আর্থিক হিসাবের তথ্য বিনিময় করেছে।

অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থার (ওইসিডি) গ্লোবাল ফোরামের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত বাংলাদেশ এখনো এএইওআইয়ে অংশগ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেয়নি। প্রতিবেশী দেশ ভারত ও পাকিস্তান ইতোমধ্যে এ তথ্য বিনিময় ব্যবস্থার অংশ।

২০২৫ সালে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সুইস ব্যাংকে সর্বোচ্চ আমানত রয়েছে ভারতের। ভারতীয় ব্যক্তি ও ব্যাংকগুলোর মোট আমানত ৩ দশমিক ২ বিলিয়ন সুইস ফ্রাঁ, যা আগের বছরের তুলনায় ৮ শতাংশ কমেছে। বাংলাদেশ ৮৩৪ দশমিক ২ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁ নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে এবং বড় অর্থনীতিগুলোর মধ্যে একমাত্র উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। অন্যদিকে, শতকরা হিসাবে সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে আফগানিস্তানের, যেখানে আমানত ৪৮ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ৪ দশমিক ৭ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁ হয়েছে। তবে মোট অঙ্কের দিক থেকে তা এখনো খুবই সীমিত।

সামগ্রিকভাবে দক্ষিণ এশিয়ায় মিশ্র চিত্র দেখা গেছে। ২০২৫ সালে ভারত, নেপাল, পাকিস্তান, ভুটানসহ কয়েকটি দেশের আমানত কমলেও বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, আফগানিস্তান ও মালদ্বীপের আমানত বেড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশি আমানতের সাম্প্রতিক উল্লম্ফনের পেছনে মূল ভূমিকা রেখেছে বাংলাদেশি ব্যাংকগুলোর আমানত বৃদ্ধি। ফলে এ পরিসংখ্যানকে সরাসরি অবৈধ অর্থ বা কালো টাকার সূচক হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তবে আন্তর্জাতিক তথ্য বিনিময় ব্যবস্থায় বাংলাদেশের অংশগ্রহণ না থাকায় বিদেশে বাংলাদেশিদের আর্থিক সম্পদের বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া এখনো কঠিন।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশ ব্যাংকের সতর্কতা: বিনা জামানতে ২০ লাখ টাকার ঋণ কর্মসূচি শুরু

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাবনায় গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, পা মাটিতে থাকায় মৃত্যু নিয়ে রহস্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১৯ই জুন, ২০২৬ ইং

০৭:৩৪ এম


পাবনায় গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, পা মাটিতে থাকায় মৃত্যু নিয়ে রহস্য

পাবনায় এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। উদ্ধার করার সময় ওই গৃহবধূর পা মাটিতে লেগে ছিল, যা তার মৃত্যু নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি করেছে। এলাকায় এটি আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত হত্যা, তা নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

পাবনা পৌর সদরের গোপালপুর আইবি রোডের একটি বাসা থেকে বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকাল ১০টার দিকে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দরজা ভেঙে ২২ বছর বয়সী আজমিরা খাতুনের মরদেহ উদ্ধার করেন। মৃত আজমিরা ওই মহল্লার স্কুলশিক্ষক আরিফ হোসেনের দ্বিতীয় স্ত্রী এবং সদর উপজেলার চর বাঙ্গাবাড়িয়া গ্রামের আক্কাস প্রামাণিকের মেয়ে।

পুলিশ জানায়, পারিবারিক কলহের কারণে স্বামীর ওপর অভিমান করে বুধবার (১৭ জুন) রাত ১০টার সময় স্বামীকে ঘরের বাইরে রেখেই আজমিরা দরজা বন্ধ করে দেন। স্বামীর ডাকাডাকির বেশ কিছু ঘণ্টা পরেও দরজা না খোলায় তিনি সারা রাত অন্য একটি কক্ষে ঘুমান।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকাল ৮টার দিকে পরিবারের লোকজন পুনরায় ডাকাডাকি করে কোন সাড়া শব্দ না পেয়ে ভুক্তভোগীর স্বামী তাৎক্ষণিকভাবে ৯৯৯ নম্বরে ফোন দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা সকাল ১০টার দিকে ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। পরে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় ঝুলন্ত মরদেহটি নিচে নামানো হয়। পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করার পর মরদেহটি পাবনার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠান।

একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, যখন লাশ উদ্ধার করা হচ্ছে, তখন গৃহবধূর পা মাটির সঙ্গে লেগে ছিল। এভাবে সাধারণত কেউ আত্মহত্যা করেন না এবং ফাঁস নিয়ে মারা যাওয়ার কথাও নয়। এছাড়াও ওই বাসার জানালায় কবজা সিস্টেম থাকার কারণে সেখানে অনায়াসে লোকজন প্রবেশ করতে পারে। তাই মৃতকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে পরে আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন। তাদের ধারণা, যদি বিষয়টির সঠিক তদন্ত করা হয়, তবে মৃত্যুর আসল রহস্য বেরিয়ে আসবে।

এ বিষয়ে আজমিরার স্বামী আরিফ হোসেন বলেছেন, ‘অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। এ বিষয়ে আমি কথা বলার মতো অবস্থায় নেই।’

আজমিরার বাবা আক্কাস প্রামাণিক জানিয়েছেন, ‘গতরাতে মেয়ে ও জামাইয়ের মধ্যে ঝগড়া হয়। জামাই ফোন করে জানিয়েছিল। সকালে আবার বলে, আপনার মেয়ে ঘরের দরজা খুলছে না, আপনি আসেন। জিজ্ঞাসা করলে সে জানায় যে আরেক রুমে ছিল। পরে আমি দরজার ফাঁক দিয়ে দেখি আমার মেয়ে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছে। কীভাবে মারা গেল, তা বুঝতে পারছি না।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রথমে শিশুপুত্রের কথা ভেবে আপস করার চিন্তা করছিলাম। তবে যেহেতু পুলিশ জানিয়ে দিয়েছে ময়নাতদন্ত করতেই হবে, তাই আমরাও মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সঞ্জয় সাহা বলেছেন, ‘প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে, এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা। এ ঘটনায় মৃত গৃহবধূর পরিবারের পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত কোন অভিযোগ দেয়া হয়নি।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরান চুক্তি নিয়ে ট্রাম্প শিবিরেই অসন্তোষ!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ১৯ই জুন, ২০২৬ ইং

০৭:৩৫ এম


ইরান চুক্তি নিয়ে ট্রাম্প শিবিরেই অসন্তোষ!

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের পর হরমুজ প্রণালী স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নিয়েছে দু’পক্ষ। ওয়াশিংটন তেহরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে নৌ অবরোধ তুলে নিয়েছে। এমনকি জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার জন্য দ্রুত অনুমতি দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান।

এছাড়া, মার্কিন প্রেসিডেন্ট চাপ এবং কৌশল প্রয়োগ করে চুক্তিতে যেতে বাধ্য করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। তবে চুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিজের রিপাবলিকান শিবিরে দেখা দিয়েছে অসন্তোষ।

ইরান যুদ্ধ বন্ধে চুক্তির বিষয়টি সামনে আসার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প তীব্র সমালোচনার শিকার হচ্ছেন তার নিজ দল রিপাবলিকানদের মধ্যেই।

দলটির কিছু প্রভাবশালী নেতা ও সিনেটর অভিযোগ করেছেন যে, এই চুক্তি ইরানকে কৌশলগত সুবিধা প্রদান করছে। তাদের মতে, এই চুক্তির ফলে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি যতটা বন্ধ করার চেষ্টা হয়েছে, ততটা সফল হয়নি। বিশেষত, হরমুজ প্রণালিকে চাপের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ বেড়ে গেছে। এমনকি, কিছু সদস্য এটিকে দশকের সবচেয়ে বড় পররাষ্ট্রনীতির ভুল বলেও মন্তব্য করেছেন।

একজন রিপাবলিকান সিনেটর বলেছেন, এটি ‘গত কয়েক দশকের সবচেয়ে বড় পররাষ্ট্রনীতি ভুল’। অপর একজন সিনেটর মন্তব্য করেছেন, চুক্তির কিছু প্রকাশিত ধারা ‘অবিবেচক এবং অযৌক্তিক’ বলে তাদের মনে হচ্ছে। ট্রাম্পপন্থি বিশ্লেষকও এ ইস্যুতে ট্রাম্পের অবস্থানের বিরোধিতা করেছেন।

লুইজিয়ানার রিপাবলিকান সিনেটর বিল ক্যাসিডি এক্সে (সাবেক টুইটার) লিখেছেন যে, ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি। বরং, তারা বুঝে ফেলেছে যে, হরমুজ প্রণালি বন্ধ করার হুমকি কার্যকর, এবং ভবিষ্যতেও তারা এই হাতিয়ারটি চাপ সৃষ্টি করার জন্য ব্যবহার করবে।

অন্যদিকে, মিসিসিপির রিপাবলিকান সিনেটর এবং পাওয়ারফুল সিনেট আর্মড সার্ভিসেস কমিটির চেয়ারম্যান রজার উইকার বলেছেন, তার আশঙ্কা, এই সমঝোতা স্মারক যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সাফল্যগুলোকে আলোচনার টেবিলে বিসর্জন দিচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের আওতায় ৬০ দিনের গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) থেকে কার্যকর হওয়া এই সময়সীমার মধ্যে যুদ্ধ-পরবর্তী বিরোধ নিষ্পত্তি, পারমাণবিক ইস্যু এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে একটি চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করা হবে।

শান্তিচুক্তির অংশ হিসেবে, ইতোমধ্যে ওয়াশিংটন ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে নৌ অবরোধ তুলে নিয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ইরানের আরব উপসাগর এবং ওমান সাগর উপকূলের বন্দরগুলোতে যাতায়াতকারী জাহাজের ওপর আর কোনো বাধা নেই। তবুও, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে মার্কিন নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজগুলো এখনও উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থান করবে।

ইরানও হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণে নিজেদের প্রভাবকে সন্দর্শন করেছে। জলপথে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার জন্য দ্রুত অনুমতির ঘোষণা দিয়েছে ইরান। ৬০ দিনের জন্য কোনো ট্রানজিট ফি নেয়া হবে না বলেও জানানো হয়েছে, তবে তার জন্য, জাহাজগুলো পারস্য উপসাগরীয় প্রণালী কর্তৃপক্ষের কাছে চলাচলের আবেদন জানাতে হবে।

সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির দাবি অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প নানা চাপ ও কৌশল ব্যবহার করে এই চুক্তিতে যেতে বাধ্য করেছেন। তবে চুক্তি নিয়ে তার ভিন্ন মত থাকলেও ইরানের স্বার্থ রক্ষার প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে তিনি এতে অনুমোদন দিয়েছেন। একইসঙ্গে, তাকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন যে, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা মানেই ওয়াশিংটনের অবস্থান মেনে নেওয়া নয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিশ্ববাজারে আরও কমলো স্বর্ণের দাম, কমতে পারে দেশেও!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১৯ই জুন, ২০২৬ ইং

০৭:৩৬ এম


বিশ্ববাজারে আরও কমলো স্বর্ণের দাম, কমতে পারে দেশেও!

শক্তিশালী ডলারের পাশাপাশি মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের কঠোর নীতিগত সংকেতের চাপের কারণে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম আরও কমে গেছে। এর ফলে এই মূল্যবান ধাতুটি টানা তৃতীয় সপ্তাহের জন্য দরপতনের দিকেই এগিয়ে গেল।

বার্তাসংস্থা রয়টার্সের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, শুক্রবার (১৯ জুন) স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম কমে প্রতি আউন্স ৪,১৮৯ দশমিক ২৬ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে, আগস্ট ডেলিভারির জন্য মার্কিন স্বর্ণের ফিউচারও প্রতি আউন্স ৪,২০৭ দশমিক ৮০ ডলারে নেমে এসেছে।

মার্কিন ডলার এক বছরের সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি অবস্থান করায়, অন্যান্য মুদ্রার ব্যবহারকারীদের জন্য ডলারভিত্তিক স্বর্ণ কেনা আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে। এই অবস্থায় বাজারে অতিরিক্ত চাপ দেখা দিয়েছে।

এদিকে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলবাহী ট্যাঙ্কারগুলো আবার চলাচল শুরু করেছে। পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, যুদ্ধের অবসানের জন্য একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি কার্যকর হওয়ায় তারা ইরানের ওপর আরোপিত অবরোধগুলো প্রত্যাহার করেছে। কিন্তু দুই দেশের মধ্যে এখনও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অমীমাংসিত রয়ে গেছে।

বিশ্লেষকদের দৃষ্টি মতে, ইরান যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট মুদ্রাস্ফীতির চাপ এতটাই বেড়েছে যে, বিশ্বের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো তা উপেক্ষা করতে পারছে না। মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের নেতৃত্বে বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইতোমধ্যে ঋণের খরচ বাড়িয়েছে অথবা মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য ভবিষ্যৎ পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছে।

চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শের প্রথম নীতিনির্ধারণী বৈঠকে, ফেডের সুদের হার ৩.৫০ থেকে ৩.৭৫ শতাংশের মধ্যে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। তবে বুধবার প্রকাশিত পূর্বাভাসে দেখা গেছে, ১৯ জন নীতিনির্ধারকের মধ্যে নয়জন মনে করেন যে, চলতি বছর সুদের হার আরও বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে।

এদিকে, বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাক্স ডিসেম্বরের মধ্যে স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্স ৪,৯০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে একটি পূর্বাভাস দিয়েছে। যদিও এটি তাদের আগের ৫,৪০০ ডলারের পূর্বাভাসের তুলনায় কম। কারণ প্রতিষ্ঠানটি এখন চলতি বছরে ফেডের সুদের হার কমানোর কোনো সম্ভাবনা দেখছে না।

অন্যদিকে, দুবাইয়ের পণ্য বিনিময় কেন্দ্রের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, আমিরাতের বুলিয়ন বাজারে তারল্য বাড়াতে এবং নিরাপদ আশ্রয়সম্পদের চাহিদাকে কাজে লাগাতে তারা সোমবার একই দিনে নিষ্পত্তিযোগ্য একটি নতুন স্বর্ণ ফিউচার চুক্তি চালু করবে।

বিশ্বব্যापী স্বর্ণের দাম কমার ফলে দেশের বাজারেও স্বর্ণের দাম কমতে পারে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন সূত্রে জানা গেছে যে, বিশ্ববাজারে দাম কমলে এই ফলে দেশের বাজারের ওপরও চাপ পড়ে। তাই যে কোনো সময় দেশেও দাম কমানো হতে পারে।

গেল ১৮ জুন সকালে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সেদিন ভরিতে মূল্যবান এই ধাতুটির ২,৫০৮ টাকা ভ্যাট যুক্ত করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের সভায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সর্বসম্মতিক্রমে স্বর্ণালঙ্কারের ভ্যাটসহ দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন দাম বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হবে।

পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই দাম কার্যকর থাকবে। তবে অলঙ্কারের ডিজাইন অনুযায়ী সেখানে মজুরি প্রযোজ্য। স্বর্ণালঙ্কারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত থাকায় গ্রাহকদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না। রুপার অলঙ্কারের ভ্যাট বিষয়ে খুব শিগগিরই সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

দেশের বাজারে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়ছে ২,৩২,৯৩০ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২,২২,৪৯১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১,৯১,৫৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ ১,৫৬,৬৪ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।

এদিকে, বিশ্ববাজারে স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও কমেছে। স্পট মার্কেটে রুপার দাম শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৫ দশমিক ৩২ ডলারে দাঁড়িয়েছে। প্লাটিনামের দাম শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ কমে ১,৬৮০ দশমিক ৮৭ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ কমে ১,২৭২ ডলারে নেমে এসেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরানের সব বন্দর থেকে নৌযান চলাচলে অবরোধ প্রত্যাহার করলো যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ১৯ই জুন, ২০২৬ ইং

০৭:৩৬ এম


ইরানের সব বন্দর থেকে নৌযান চলাচলে অবরোধ প্রত্যাহার করলো যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দর ও উপকূলীয় এলাকায় প্রবেশ ও ছেড়ে যাওয়া সব ধরনের নৌযানের ওপর আরোপিত অবরোধ প্রত্যাহার করেছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) এই তথ্য জানানো হয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনীর মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক কমান্ড সেন্টকম (সেন্ট্রাল কমান্ড) কর্তৃক। আল-জাজিরা তাদের লাইভ প্রতিবেদনে উক্ত তথ্য জানায়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্টে সেন্টকম জানায়, আরব উপসাগর ও ওমান উপসাগরে অবস্থিত ইরানের বন্দরগুলোতে যাওয়া অথবা সেখান থেকে বের হওয়া জাহাজের চলাচলে মার্কিন বাহিনী আর এখন কোনো বাধা দিচ্ছে না। তবে তাঁদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অবরোধ তুলে নেয়া হলেও অঞ্চলটিতে মার্কিন নৌবাহিনীর উপস্থিতি অব্যাহত থাকবে। সেন্টকমের উক্তি অনুযায়ী, ইরানের সাথে হওয়া সমঝোতার ‘সব দিক’ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে কিনা, তা নিশ্চিত করতেই মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো ওই এলাকায় মোতায়েন থাকবে।

সাম্প্রতিক সময়ের উত্তেজনার পর যুক্তরাষ্ট্রের এ সিদ্ধান্তকে আঞ্চলিক সামুদ্রিক বাণিজ্য ও নৌ চলাচলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদিও সমঝোতার বিস্তারিত শর্ত সম্পর্কে সেন্টকমের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে আর কোনো তথ্য জানানো হয়নি।

এই প্রসঙ্গে উল্লেখযোগ্য, বৃহস্পতিবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প ডিজিটাল মাধ্যমে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন। এর মধ্য দিয়ে কার্যকর হয়েছে চুক্তিটি। এই সমঝোতার মধ্যে যুদ্ধ বন্ধ করা, লেবাননের পরিস্থিতি, হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

তবে, চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে উভয় পক্ষ ইতোমধ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের মতো বিষয়গুলো নিয়ে ৬০ দিনের একটি আলোচনা প্রক্রিয়া শুরু করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সূত্র: আলজাজিরা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%