ঢাকা শুক্রবার, ০৬ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২১শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ০৬ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২১শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

রাজশাহী পুলিশের অভিযানে ১৪৩ জন মাদকসহ গ্রেপ্তার


রাজশাহী পুলিশের অভিযানে ১৪৩ জন মাদকসহ গ্রেপ্তার

রাজশাহী, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : রাজশাহী রেঞ্জ পুলিশের গত ২৪ ঘণ্টার অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্যসহ ১৪৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিভিন্ন জেলার পুলিশ অভিযান চালিয়ে ১৪৩ জনকে গ্রেপ্তার করে এবং মাদকদ্রব্য উদ্ধার করে।

আজ সোমবার রাজশাহী রেঞ্জ কার্যালয়ের মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাজশাহী রেঞ্জ এলাকায় ১টি খুনের ঘটনা ঘটেছে এবং ৩টি চুরির মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ৬২টি মামলা দায়ের হয়েছে এবং ১১টি অপমৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

আরও পড়ুন: খাগড়াছড়িতে আগুনে ৯টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পুড়ে ছাই

এই সময়ে ডাকাতি, দস্যুতা, যৌতুকের জন্য হত্যা, সাইবার সুরক্ষা আইন লঙ্ঘন, নারী ও শিশু নির্যাতন কিংবা দ্রুত বিচার আইনে কোনো মামলা বা অন্য কোনো ঘটনা ঘটেনি।

অপরাধ দমনে পরিচালিত অভিযানে মোট ১৪৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পরোয়ানাভুক্ত ৩৯ জন, সাজাপ্রাপ্ত ৮ জন, তদন্তাধীন মামলার ৮৯ জন এবং প্রতিরোধমূলক অন্যান্য ৭ জন আসামি। এছাড়া মাদক ব্যবসায়ী ও সেবী হিসেবে আলাদাভাবে ৩৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

অভিযানকালে পুলিশ বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, মাদক ও বিস্ফোরক দ্রব্যাদি উদ্ধার করেছে। উদ্ধারকৃত অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে ইউএসএ-তে তৈরি ১টি পিস্তল (নম্বর-১১ লেখা), ২ রাউন্ড গুলির খোসা এবং ১টি বার্মিজ চাকু। মাদকদ্রব্যের মধ্যে উদ্ধার হয়েছে ২,১৯৯ পিস ইয়াবা, ৫ গ্রাম হিরোইন, ২৬.৫ লিটার চোলাইমদ, ৩ কেজি ৯০ গ্রাম গাঁজা, ৩,৩৮০ পিস টাপেন্টাডল, ৪৮ বোতল ফেন্সিডিল এবং ৩৪ বোতল উইনসিরাক্স। অপরাধ দমন ও আসামি ধরতে গত ২৪ ঘণ্টায় মোট ১৪৫টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ৮৫৭ জন এবং চলতি মাসে মোট ২৫ হাজার ২৭১ জন নাগরিক পুলিশি সেবা গ্রহণ করেছেন।

আরও পড়ুন: মাদক-জুয়া-যৌতুক সমাজকে ধ্বংসের শেষ প্রান্তে নিয়ে গেছে: ত্রাণমন্ত্রী

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাহাথির মোহাম্মদের স্ত্রী সিতি হাসমাহ মারা গেছেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:০৮ এম


মাহাথির মোহাম্মদের স্ত্রী সিতি হাসমাহ মারা গেছেন

মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদের স্ত্রী তুন ড. সিতি হাসমাহ মোহামাদ আলী মারা গেছেন। কুয়ালালামপুরের ন্যাশনাল হার্ট ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ১০০ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু ঘটে। তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি ছেলে তান শ্রী মোকজানি মাহাথির নিশ্চিত করেছেন।

মালয়েশিয়ার জাতীয় বার্তা সংস্থা বারনামা সিতি হাসমাহর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে জানায়, তিনি সাত সন্তান রেখে গেছেন। তবে তাঁর মৃত্যুর বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

সিতি হাসমাহ ছিলেন মালয়েশিয়ার চিকিৎসা ও জনস্বাস্থ্য খাতের অন্যতম পথিকৃৎ। তিনি দেশটির প্রথম দিকের মালয় নারী চিকিৎসকদের মধ্যে একজন এবং চিকিৎসা ও সামাজিক কল্যাণে দীর্ঘকাল ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

১৯৫৬ সালে মাহাথির মোহাম্মদের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। চলতি বছরের আগস্টে তাঁদের ৭০তম বিবাহবার্ষিকী উদযাপন করা হয়। তাঁদের সাত সন্তানের মধ্যে ব্যবসায়ী মোকজানি মাহাথির, সমাজকর্মী মারিনা মাহাথির এবং রাজনীতিক মুখরিজ মাহাথির রয়েছেন।

চিকিৎসা পেশার পাশাপাশি সিতি হাসমাহ মাতৃ ও শিশুসেবা, জনস্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা এবং সামাজিক কল্যাণমূলক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন। তরুণদের মাদকবিরোধী সচেতনতা তৈরিতেও তিনি কাজ করেছেন।

মালয়েশিয়ার রাজা সুলতান ইব্রাহিম এবং রানি রাজা জারিথ সোফিয়াসহ দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম সিতি হাসমাহর মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন। আনোয়ার তাঁর মৃত্যু দেশ ও সমাজের জন্য বড় ক্ষতি বলে উল্লেখ করেছেন।

সিতি হাসমাহ ১৯২৬ সালের ১২ জুলাই জন্মগ্রহণ করেন। চিকিৎসাশিক্ষায় তিনি ছিলেন পথিকৃৎ। সিঙ্গাপুরের কিং এডওয়ার্ড সপ্তম চিকিৎসা মহাবিদ্যালয়ে চিকিৎসাশাস্ত্র পড়ার সুযোগ পাওয়া প্রথম মালয় নারী ছিলেন তিনি। পরে মাতৃ ও শিশুসেবা বিভাগে চিকিৎসা কর্মকর্তা হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। তথ্যসূত্র: রয়টার্স

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দারিদ্র্যমুক্ত সমাজ গড়ার অঙ্গীকার: নতুন রূপ ও প্রত্যয় নিয়ে এলো স্ট্রমী ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শাহীন আলম, স্টাফ রিপোর্টার

সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:১৯ এম


দারিদ্র্যমুক্ত সমাজ গড়ার অঙ্গীকার: নতুন রূপ ও প্রত্যয় নিয়ে এলো স্ট্রমী ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ

বিশ্বজুড়ে ৫০ বছর এবং বাংলাদেশে সাড়ে তিন দশকের (৩৫ বছর) সফল উন্নয়ন অভিযাত্রা পেরিয়ে নতুন ভিশন ও ব্র্যান্ড আইডেন্টিটি উন্মোচন করেছে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ‘স্ট্রমী ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ’। সম্প্রতি ঢাকার একটি অভিজাত হোটেলে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে সংস্থাটির নতুন লোগো ও ব্র্যান্ডের আত্মপ্রকাশ ঘটে। একই সঙ্গে দারিদ্র্য দূরীকরণে নিজেদের টেকসই ও দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে সংস্থাটি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হাকন আরাল্ড গুলব্রান্ডসেন এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রাশেদা কে. চৌধুরী।

স্ট্রমী ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সহযোগী সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন উন্নয়ন সংস্থা (ইউএস)-এর নির্বাহী পরিচালক ফাহাদ মাহমুদ ইবনে হুদা, এথনিক কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইসিডিও)-এর নির্বাহী পরিচালক লক্ষ্মীকান্ত সিংহ, সাতক্ষীরা উন্নয়ন সংস্থা (এসইউএস)-এর নির্বাহী পরিচালক এস কে ঈমান আলী, কারিতাস-এর প্রতিনিধি রোজী রংমা, গণ উন্নয়ন কেন্দ্র (জিইউকে)-এর প্রতিনিধি আফতাব হোসেন, ইকো-সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও)-এর প্রতিনিধি মশিউর রহমান এবং স্বাবলম্বী উন্নয়ন সমিতি (এসইউএস)-এর প্রোগ্রাম ম্যানেজার কর্নেলিয়াস ডালবোট।

অনুষ্ঠানে অংশীদার সংস্থাসমূহের তৃণমূল প্রতিনিধি ও যুব ফোরামের সদস্যরা অংশ নেন। পুরো আয়োজনটি যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন রাহুল এবং সংস্থাটির ‘সংলাপ’ কর্মসূচির কিশোরী প্রতিনিধি মোছা. ইয়াসমিন আক্তার ঈশিতা।

অনুষ্ঠানের মূল পর্বে অতিথিদের সঙ্গে নিয়ে কাউন্টডাউনের মাধ্যমে স্ট্রমী ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের নতুন লোগো ও ব্র্যান্ড উন্মোচন করা হয়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ব্র্যান্ডের বাহ্যিক রূপ ও লোগোতে আধুনিক পরিবর্তন এলেও সংস্থার মূল দর্শন ও লক্ষ্য অটুট থাকবে; যার মূলমন্ত্র— ‘উই আর পোভার্টি ফাইটার’ (আমরা দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে যোদ্ধা)।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফেনীতে কিশোর গ্যাং বিরোধী অভিযানে আটক ৩৮,মুচলেখায় ছাড়া পেল ২৫

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ফেনী প্রতিনিধি

সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:২০ এম


ফেনীতে কিশোর গ্যাং বিরোধী অভিযানে আটক ৩৮,মুচলেখায় ছাড়া পেল ২৫

ফেনী শহরে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নিয়ন্ত্রণে অভিযান চালিয়ে ৩৮ কিশোরকে আটক করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে ২৫ জনকে অভিভাবকদের জিম্মায় মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আটক অন্যদের অভিভাবকদেরও থানায় আসতে বলা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন স্থানে ফেনী মডেল থানা পুলিশ এ অভিযান পরিচালনা করেন। 
ফেনী মডেল থানা সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা ও কিশোরদের সম্পৃক্ততায় বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগ বাড়তে থাকায় শহরের বিভিন্ন এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে শহরের রাজনন্দিনী দিঘি, পেট্রোবাংলা, একাডেমি, মাস্টারপাড়া ও নাজিররোড থেকে উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘোরাফেরা করছিল এমন ৩৮ কিশোরকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়। তাদের মধ্যে প্রায় সবার বয়স ১৬ থেকে ২২ বছরের মধ্যে।
এ ব্যাপারে ফেনী মডেল থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) সজল কান্তি দাশ বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা কমাতে শহরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানে আটক ৩৮ জনের মধ্যে ২৫ জনের অভিভাবককে থানায় ডেকে এনে মুচলেকা নিয়ে জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। অন্যদের অভিভাবকরা না এলে বিধি অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নিয়ন্ত্রণ এবং অপরাধ প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সিলেটের পর্যটন কেন্দ্র গুলো হারাচ্ছে প্রকৃতির রূপ ও বৈচিত্র্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আবুল কাশেম রুমন, সিলেট প্রতিনিধি

সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:৩২ এম


সিলেটের পর্যটন কেন্দ্র গুলো হারাচ্ছে প্রকৃতির রূপ ও বৈচিত্র্য

সিলেট পর্যটন কেন্দ্র হরাচ্ছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, এক শ্রেণীর লুট চক্রের হোতারা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। ওদের কারণে নানা সৌন্দর্য শুধু মাত্র অসহায়ত্ব বিরাজ করছে। যেমন করে পাহাড়ের বুক চিরে নেমেছে স্বচ্ছ জলধারা। নদীর বুকে বিছানো ধবধবে সাদা পাথর। দূরে মেঘে ঢাকা পাহাড়, কাছে সবুজের সমারোহ। কোথাও নীলাভ স্বচ্ছ জল, কোথাও সারি সারি চা-বাগান। আবার কোথাও বুক ডুবিয়ে দাঁড়িয়ে আছে গাছের সারি। প্রকৃতির এমন বৈচিত্র্যের নাম সিলেট। জাফলং, বিছানাকান্দি, সাদাপাথর, রাতারগুল, লালাখাল, পান্তুমাই- প্রতিটি পর্যটনকেন্দ্র যেন প্রকৃতির আলাদা একেকটি ছবি। তবে প্রকৃতি যেখানে দু’হাত উজাড় করে দিয়েছে, সেখানে মানুষের অব্যবস্থাপনা যেন সেই সৌন্দর্য কেড়ে নেওয়ার প্রতিযোগিতায় নেমেছে। নির্বিচারে বালু-পাথর লুট, পাহাড় কাটা, যত্রতত্র প্লাস্টিক-বর্জ্য ফেলা, অপরিকল্পিত স্থাপনা নির্মাণ- সবমিলিয়ে মানুষই যেন ‘বারোটা বাজাচ্ছে’ প্রকৃতি-পর্যটনের। এরপরও পর্যটনকে ঘিরে রয়েছে অপার সম্ভাবনা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সিলেটের পর্যটন বিকাশে প্রয়োজন মহাপরিকল্পনা। আর এখনই প্রকৃতি রক্ষায় উদ্যোগী না হলে সর্বনাশ ঘটবে পর্যটনের। সিলেটে আসা পর্যটকদের ভ্রমণ তালিকার শীর্ষে থাকে জাফলংয়ের নাম। জাফলংয়ে পৌঁছার আগেই সীমান্তের ওপারের সারি সারি পাহাড় আর চূড়া থেকে নেমে আসা সফেদ ঝর্ণা দেখে শুরু হয় পর্যটকদের উচ্ছ্বাস। পাথরের উপর পিয়াইনের স্বচ্ছ জলরাশি, ডাউকি ঝুলন্ত ব্রিজ, মায়াবি ঝর্ণা, দেশের প্রথম সমতল চা বাগান আর আদিবাসী খাসিয়া সম্প্রদায়ের বৈচিত্র্যময় জীবনধারা দেখতে দেখতে শেষ হয় তাদের প্রকৃতিকন্যা দর্শন। কিন্তু এই জাফলংয়েই এখন প্রকৃতি রক্ষার প্রশ্ন বড় হয়ে উঠেছে। বালু-পাথর লুট, দখল ও অপরিকল্পিত স্থাপনা নির্মাণের কারণে ইসিএভূক্ত জাফলং এখন পার করছে দুঃসময়।
জাফলংয়ের পরই পর্যটকদের গন্তব্য হয়ে ওঠে সাদাপাথর। ধবধবে সাদা পাথরের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া স্বচ্ছ জল¯্রােত, আকাশের গায়ে হেলান দেয়া পাহাড় আর মাথার ওপর ভেসে বেড়ানো মেঘের ভেলা মুগ্ধ করে পর্যটকদের। কিন্তু সেই সাদাপাথরে পড়েছে কালোছায়া। বালু-পাথর লুটের কারণে ধলাই নদী হারিয়েছে স্বাভাবিক গতিপথ। নষ্ট হচ্ছে প্রাকৃতিক  সৌন্দর্য্য। সবচেয়ে দুরাবস্থায় রয়েছে জল-পাথরের বিছানাকান্দি। যোগাযোগ ব্যবস্থা, পর্যটনকেন্দ্র থেকে অবাধে পাথরলুট ও পরিবেশ ধ্বংসের কারণে এখন মৃতপ্রায় পর্যটনকেন্দ্রটি।
সিলেটের পর্যটনে ভিন্নমাত্রা যোগ করেছে সোয়াম্প ফরেস্ট রাতারগুল। বর্ষায় পানিতে গলা ডুবিয়ে থাকে বিশাল বনের সারি সারি গাছ। গাছের ডালে পাখির ডাক, নানা রকম পশুর দেখা, নৌকার বৈঠার শব্দ আর চারপাশের নীরবতা তৈরি করে অন্যরকম পরিবেশ। দেশের অন্যতম মিঠাপানির জলাবনও ভাল নেই। নৌযানের সংখ্যা বৃদ্ধি, পানিতে বর্জ্য ফেলা, শব্দদূষণ ও অপরিকল্পিত কার্যক্রমের কারণে রাতারগুলের জীববৈচিত্র্য রীতিমতো হুমকিতে।
পর্যটনকেন্দ্র লালাখাল যেন পাহাড়ের কোলে আঁকা এক জলরঙের ছবি। নৌকা ভ্রমণে নেমে পান্নাসবুজ স্বচ্ছ পানির সৌন্দর্য্যে  যেন হারিয়ে যান পর্যটকরা। অন্যদিকে সীমান্তঘেঁষা পান্তুমাইয়ে পাহাড়ের বুক থেকে নেমে আসা জলপ্রপাত পর্যটকদের মুগ্ধ করে। বর্ষায় জলধারা যখন পপ্রবল হয়ে ওঠে, তখন দূর থেকেই শোনা যায় পানির গর্জন। কিন্তু লালাখাল ও পান্তুমাই রক্ষায়ও  নেই সরকারি- বেসরকারি কোন উদ্যোগ।
এর বাইরে সিলেটের চা-বাগান, খাদিমনগর উদ্যান, হাকালুকি হাওর, হযরত শাহজালাল (রহ.) ও শাহপরান (রহ.)-এর মাজারসহ ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় স্থাপনাগুলোও পর্যটনকে সমৃদ্ধ করেছে। প্রকৃতি, ইতিহাস, ধর্ম ও সংস্কৃতিকে ঘিরে সিলেটে পর্যটন শিল্প গড়ে ওঠার সুযোগ থাকলেও সেদিকে নজর নেই কারও।
সিলেটের পর্যটনের বিকাশে সবচেয়ে বড় অন্তরায় দুর্বল যোগাযোগব্যবস্থা। বেহাল সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক, ট্রেনের টিকেট সংকট ও আকাশপথে বেশি ভাড়ার কারণে অনেকেই ইচ্ছা থাকাসত্ত্বেও সিলেটমুখী হন না। আর যারা পরিবার নিয়ে আসেন তাদেরকে আসা-যাওয়ায় পোহাতে হয় ভোগান্তি। এছাড়া পরিবেশ ও প্রকৃতি বিনাশী কার্যক্রম বন্ধে জোরালো উদ্যোগ না থাকায় দিন দিন সৌন্দর্য্য হারাচ্ছে সিলেটের পর্যটনকেন্দ্রগুলো।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পর্যটনের সম্ভাবনা কাজে লাগানো গেলে সিলেটের স্থানীয় অর্থনীতি বদলে যাবে। কর্মসংস্থান হবে হাজার হাজার মানুষের। কিন্তু এর জন্য প্রয়োজন মহাপরিকল্পনা।
পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি কাশমির রেজা বলেন, ‘সিলেটের পর্যটন প্রকৃতিনির্ভর। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য দেখতেই এখানে পর্যটকরা আসেন। কিন্তু আমরা প্রকৃতি রক্ষার চেয়ে বিনাশে বেশি ব্যস্ত। এ অবস্থা চলতে থাকলে পর্যটনের সর্বনাশ ঘটবে। প্রকৃতি বাঁচলে সিলেটের পর্যটন বাঁচবে।
সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, “পর্যটন মন্ত্রণালয়সহ সরকারের পর্যটন সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগের সাথে সমন্বয় করে জেলা প্রশাসন কাজ করছে। সিলেটে নতুন নতুন পর্যটন সম্ভাবনা কাজে লাগাতে জেলা প্রশাসন আন্তরিক রয়েছে।  গেল কয়েক দিন আগে জৈন্তাপুরে একটি পর্যটন সম্ভাবনাময় স্থানের সন্ধান পাওয়া যাওয়ার পর সেখানে রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ  নেওয়া হয়েছে। এছাড়া পর্যটনের বিকাশে সিলেট থেকে তামাবিল পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

 
 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৭ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%