বৃহস্পতিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১২:০৭ এম
কক্সবাজারের উখিয়া সমুদ্রসৈকতের দুটি পৃথক স্থান থেকে তিনজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর পরিচয় এখনও নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। পুলিশ তদন্ত করছে, এগুলো কি মিয়ানমার থেকে অনুপ্রবেশকালে টেকনাফের বাহারছড়া উপকূলে ঘটিত ট্রলারডুবির ঘটনায় নিখোঁজদের মরদেহ কিনা।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ও বিকেলে উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের মাদারবুনিয়া এবং মনখালী সমুদ্রসৈকত থেকে তিনটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায়, সকাল সাড়ে ১১টার দিকে জালিয়াপালং ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মাদারবুনিয়া নৌকার ঘাট এলাকায় একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।
এর কয়েক ঘণ্টা পর বিকেল ৩টার দিকে একই ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মনখালী সমুদ্রসৈকতে আরও দুটি মরদেহ পড়ে থাকার খবর আসে। পরে ইনানী পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ দুটি উদ্ধার করেন। সৈকতে পাওয়া মরদেহ দুটির মধ্যে প্রায় ৫০০ মিটার দূরত্ব ছিল।
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান মজুমদার জানান, তিনটি মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। টেকনাফের বাহারছড়া এলাকায় ট্রলারডুবির ঘটনায় নিখোঁজ ব্যক্তিদের সঙ্গে মরদেহগুলোর সম্পর্ক আছে কিনা, সেটিও যাচাই করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, মরদেহগুলো ময়নাতদন্তসহ প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ ও কোস্টগার্ডের সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার রাতে টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের কচ্ছপিয়া নৌকাঘাটের কাছে সাগরে মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গাদের নিয়ে আসা একটি ট্রলার ডুবে যায়। সাগরপথে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় দুর্ঘটনার কবলে পড়া ওই ট্রলারে থাকা এক নারী ও এক শিশুর মৃত্যু হয়। কোস্টগার্ড ও স্থানীয়দের সহায়তায় কয়েকজনকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও একজন নারী নিখোঁজ রয়েছে।
জীবিত উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তারা প্রায় এক বছর আগে বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমার হয়ে মালয়েশিয়া যাওয়ার উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়েন। পরে সাগরপথে আবার বাংলাদেশে ফেরার চেষ্টা করছিলেন।
এদিকে, উখিয়ার সৈকত থেকে উদ্ধার হওয়া তিন মরদেহ ওই ট্রলারডুবির ঘটনায় নিখোঁজ ব্যক্তিদের কিনা, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যাচাই-বাছাই শুরু করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্ল্যাকার্ড হাতে। চোখে কালো কাপড় বাঁধা। প্ল্যাকার্ডে লেখা রয়েছে—‘বিচার ব্যবস্থা অন্ধ কেন?’ এভাবেই মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে নড়াইল আদালত চত্বরে দাঁড়িয়ে ছিলেন সবুজ দাস। তিনি দাবি করেছেন, ৯ দিন ধরে নিখোঁজ তার ছোট বোন রুপা দাসকে (১৫) অপহরণ করা হয়েছে। দ্রুত বোনকে উদ্ধার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের দাবিতে প্রতিবাদ জানাতে তিনি সেখানে উপস্থিত হয়েছেন।
রুপা দাস নড়াইল সদর উপজেলার মাইজপাড়া ইউনিয়নের বোড়ামারা গ্রামের বাসিন্দা এবং বোড়ামারা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। গত ১৩ সেপ্টেম্বর স্কুলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর থেকে তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে পাঁচজনের বিরুদ্ধে নড়াইল সদর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সবুজ দাস জানান, তিনি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। ১৩ সেপ্টেম্বর তার বোন স্কুলে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আর ফিরে আসেনি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তার সন্ধান পাননি। তাদের ধারণা, রুপাকে অপহরণ করা হয়েছে।
সবুজ বলেন, ‘আমরা কয়েকজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে উল্লেখ করে থানায় মামলা করেছি। মামলায় একজনকে আটক করা হয়েছিল। কিন্তু দুঃখজনকভাবে আদালত থেকে তাদের জামিন দেওয়া হয়েছে। অথচ আমার ছোট বোনকে এখনো ফিরে পাইনি। পুলিশও এখন পর্যন্ত কোনো সন্ধান দিতে পারেনি।’
তিনি আরও বলেন, ঘটনার পর থেকে বোনের সঙ্গে পরিবারের কারো যোগাযোগ হয়নি। বোনকে দ্রুত উদ্ধার এবং অপহরণের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের দাবিতে তিনি আদালত চত্বরে প্রতিবাদ জানাতে এসেছেন।
রুপার বড় ভাই সাগর দাসের করা এজাহার অনুযায়ী, ১৩ সেপ্টেম্বর দুপুরে স্কুল ছুটির পর বাড়ি ফেরার পথে বোড়ামারা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে থেকে রুপাকে অপহরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে রবিউল ইসলাম (১৯), আলিফ শিকদার (১৯), আম্বিয়া বেগম (৪০), জান্নাতি খানম (২০) ও রুমন বিশ্বাস (৩২) এই পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, রবিউল ইসলাম কিছুদিন ধরে রুপাকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। রুপা তাতে রাজি না হওয়ায় তিনি ক্ষিপ্ত ছিলেন। পরে তাকে অপহরণের পরিকল্পনা করা হয় বলে অভিযোগ পরিবারের।
এজাহারে বলা হয়েছে, ১৩ সেপ্টেম্বর বেলা ২টার দিকে বোড়ামারা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে মাইজপাড়া-তুলারামপুর সড়কে রবিউল ও আলিফ মোটরসাইকেল নিয়ে অবস্থান করছিলেন। স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে তারা ভয়ভীতি দেখিয়ে রুপাকে মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এরপর থেকে তার আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
রুপাকে খুঁজতে গিয়ে পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় কয়েকজনের কাছ থেকে জানতে পারেন, তারা রবিউল ও আলিফকে স্কুলের সামনে থেকে রুপাকে মোটরসাইকেলে করে তুলারামপুরের দিকে নিয়ে যেতে দেখেছেন। পরে পরিবারের সদস্যরা রবিউলের বাড়িতে গিয়ে রুপার বিষয়ে জানতে চান। সেখানে তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করা হয় এবং রবিউল ও আলিফকে রুপাকে নিয়ে অন্যত্র চলে যেতে সহায়তা করা হয় বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ১৪ সেপ্টেম্বর নড়াইল সদর থানায় মামলা করেন সাগর দাস।
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত রবিউল ইসলামের বাড়িতে গিয়ে তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি। স্থানীয়রা জানান, তাদের ফোন নম্বর নেই, ফলে অভিযুক্তদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাসেল সরোয়ার বলেন, ওই মামলায় এক আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছিল। অন্য দুজন আদালতে আত্মসমর্পণ করেছিলেন। তারা এখন আদালত থেকে জামিনে আছেন। প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করতে আমরা কাজ করছি। তাদের অবস্থান শনাক্ত করা গেলে দ্রুত তাকে গ্রেপ্তার করতে পারব।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সাতক্ষীরা পৌর এলাকার একটি গৃহবধূর নির্মাণাধীন বাড়িতে হামলা চালিয়েছে চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের একটি দল। জমি জবরদখল ও পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে এই তাণ্ডব চালানো হয়। হামলাকারীরা শুধু বাড়ি ভাঙচুর ও টাকা-স্বর্ণালঙ্কার লুট করেনি, বরং ওই নারী ও তাঁর ভাইকে মারধর করে গুরুতর আহত করেছে এবং প্রকাশ্যে শ্লীলতাহানির অভিযোগও উঠেছে। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটে ৯ সেপ্টেম্বর বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে সাতক্ষীরা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কামালনগর বউ বাজারের পাশে।
ভুক্তভোগী গৃহবধূ মোছাঃ আরিফা খাতুন (৩৯) সাতক্ষীরা বিজ্ঞ আমলী ১ নম্বর আদালতে একটি সি.আর. মামলা দায়ের করেছেন (আরজি তারিখ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬)। মামলাটিতে দণ্ডবিধির ১৪৭, ১৪৮, ৩২৩, ৩৭৯, ৩০৭, ৩২৫, ৩৫৪, ৩৮৫, ৩৮৬, ৫০৬ (২য় অনুচ্ছেদ), ৩৪ ও ১১৪ ধারায় আসামীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন কামালনগর এলাকার মোঃ রফিকুল ইসলাম (মন্টু) (৪২), মহাসিন আলী (৪০), মুজিবর রহমান (৪৫), আক্তার হোসেন (চঞ্চল) (৪০) এবং আব্দুস সবুর (৪৫)। এছাড়া আরও বেশ কয়েকজন অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসী এ হামলায় অংশ নেয় বলে জানা গেছে।
আরিফা খাতুন জানান, তিনি ও তাঁর বোন ২০১৩ এবং ২০২২ সালে কামালনগর এলাকায় ৮.২৫ শতক জমি খরিদ করেন (কোবলা নং-১০৪৪ ও ৩০১৬)। তাঁর স্বামী ব্যাংকে চাকরি করেন, ফলে তিনি অধিকাংশ সময় বাইরে থাকেন। এই সুযোগে আসামীরা দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের জমি জবরদখলের চেষ্টা করে আসছিল এবং পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করছিল। চাঁদা না দিলে জমিতে ঘর তুলতে বা বসবাস করতে দেবে না বলে তাঁরা ক্রমাগত ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছিল।
৯ সেপ্টেম্বর বিকেলে, যখন আরিফা খাতুন তাঁর নির্মাণাধীন বাড়িতে অবস্থান করছিলেন, আসামীরা মারাত্মক দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে অনধিকার প্রবেশ করে। তারা ছাদের সেন্টারিংয়ের বাঁশ, খুঁটি ও কাঠ ভাঙচুর শুরু করে। ভুক্তভোগী বাধা দিলে রফিকুল ইসলাম, মহাসিন আলী ও আক্তার হোসেন সরাসরি পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে এবং না দিলে মেরে ফেলার হুমকি দেয়।
আতঙ্কিত হয়ে আরিফা খাতুন ছাদের রড কেনার জন্য ব্যাগে থাকা ৮০,০০০ টাকা রফিকুল ইসলামের হাতে দিয়ে মিনতি জানান। কিন্তু এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আসামীরা তাঁর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। রফিকুল ইসলামের নির্দেশে তাঁকে পিচের রাস্তার ওপর ফেলে অমানুষিক মারধর করা হয়। রফিকুল ইসলাম লোহার রড দিয়ে আরিফা খাতুনের মাথায় আঘাত করার চেষ্টা করলে তিনি সরে যাওয়ার চেষ্টা করেন, তবে রডের আঘাত তাঁর পিঠের মেরুদণ্ডে লাগে। এরপর মহাসিন আলী বাঁশ দিয়ে মাথার পেছনে আঘাত করলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
এ সময় বোনকে বাঁচাতে ভাই মনিরুজ্জামান এগিয়ে এলে আক্তার হোসেন ও আব্দুস সবুর তাঁকে লোহার রড ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত ও ফোলা জখম করে। আহত আরিফা খাতুন কোনোমতে উঠে দাঁড়ালে আসামীরা তাঁকে আবার ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। একপর্যায়ে মহাসিন আলী তাঁর বুকের ওপর উঠে দাঁড়ায় এবং আব্দুস সবুর হত্যার উদ্দেশ্যে তাঁর গলার ওপর পা দিয়ে চেপে ধরে।
তাণ্ডব চলাকালে আসামীরা আরিফা খাতুনের গলা থেকে ১ ভরি ওজনের সোনার চেইন (আনুমানিক মূল্য ২,০০,০০০ টাকা) এবং কানের ৮ আনার সোনার দুল (আনুমানিক মূল্য ৯০,০০০ টাকা) জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয়। এছাড়া মহাসিন আলী তাঁর পরনের পোশাক ছিঁড়ে ফেলে শ্লীলতাহানি করে এবং আসামীরা দড়ি দিয়ে তাঁর হাত-পা বেঁধে মুখ চেপে ধরে চরম নির্যাতন চালায়।
পরে মনিরুজ্জামানের আর্তচিৎকারে স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে ছুটে এলে সন্ত্রাসীরা হুমকি দেয় যে-‘এক সপ্তাহের মধ্যে বাকি ৪,২০,০০০ টাকা চাঁদা না দিলে আরিফা খাতুন ও তাঁর সন্তানকে প্রকাশ্য দিবালোকে খুন করে লাশ গুম করে ফেলা হবে’।
ঘটনার পর স্থানীয়দের সহায়তায় আশঙ্কাজনক অবস্থায় আরিফা খাতুন ও তাঁর ভাইকে রাত আনুমানিক ৭টার দিকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা জানান, গৃহবধূর মেরুদণ্ডের হাড়ে আঘাত লাগায় এক্স-রে এবং মাথায় মারাত্মক আঘাত থাকায় সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাঁর ব্রেনের সিটি স্ক্যান করানো হয়। মনিরুজ্জামান ৯ সেপ্টেম্বর থেকে ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এবং আরিফা খাতুন ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার পর ভুক্তভোগী পরিবার সাতক্ষীরা থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ বিজ্ঞ আদালতে মামলা দায়েরের পরামর্শ দেয়। সুস্থ হয়ে আরিফা খাতুন আদালতে সি.আর. মামলা দায়ের করেন। বর্তমানে এ ঘটনায় গভীর আতঙ্ক ও চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে পরিবারটি। আসামীরা প্রকাশ্য দিবালোকে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং মামলা তুলে নেওয়ার জন্য আরিফা খাতুন ও তাঁর পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়রা দাবি জানিয়েছে যে, পরিবারের জীবনের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা এবং চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বয়সের কারণে তিনি অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছেন। বিছানা থেকে ওঠা তাঁর পক্ষে সহজ হচ্ছে না। শরীরে রোগ-শোক বাসা বেঁধেছে, তবে ঘরে থাকতে তিনি রাজি নন। সকাল হলেই তিনি বেরিয়ে পড়েন। খবরপত্র বিলি করতে তিনি ঘুরে বেড়ান। পাশাপাশি, সামাজিক, রাজনৈতিক ও শিক্ষাঙ্গনে তাঁর অসামান্য অবদান রয়েছে। বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার হিজলা গ্রামের মৃত ফজজুল হক কাজীর পুত্র সোহরাব হোসেন কাজী (৮৮) একজন গুণী ব্যক্তি।
সোহরাব হোসেনের সঙ্গে আলাপকালে জানা যায়, তিনি ১৯৬২ সালে নাজিপুরের মালিখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এরপর নওয়াপাড়া থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন এবং খুলনা দৌলতপুর কলেজ থেকে ডিগ্রী অর্জন করেন। ঢাকা ইউনিভার্সিটি থেকে এমএ পাস করার পর তিনি চিতলমারী উপজেলার বোয়ালিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা শুরু করেন। কর্মজীবনে তিনি হিজলা, চরবড়বাড়িয়া, কালশিরা ও চারুপল্লী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি বাংলাদেশ কমিউনিস্ট (সিপিবি) পার্টির সদস্য হন। বর্তমানে তিনি কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির কন্ট্রোল কমিশনের সদস্য। বাগেরহাট জেলা কমিউনিস্ট পার্টির প্রথম সভাপতি হিসাবেও তিনি মনোনীত হন।
রাজনীতির সুষ্ঠ ধারার পাশাপাশি অবহেলিত জনপদে শিক্ষার আলো ছড়াতে তিনি আলোকবর্তিকা হিসেবে কাজ করেছেন। সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে তাঁর অবদানও অসামান্য। অসুস্থ শরীর নিয়েও তিনি পার্টির দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। কমিউনিস্ট পার্টির মুখপাত্র হিসেবে সাপ্তাহিক একতা পত্রিকা নিয়মিতভাবে লোকের হাতে পৌঁছে দেন। জীবনের আয় উপার্জনের অর্থ তিনি সমাজের বিভিন্ন কাজে ব্যয় করেছেন। জীবনের শেষ সময়ে আর্থিক সংকট থাকা সত্ত্বেও তিনি থেমে নেই। শিক্ষাগুরু সোহরাব হোসেনের কর্মকাণ্ড অনেককে অনুপ্রাণিত করছে। একই সঙ্গে এই বয়সে এসে বিভিন্ন স্থানে ঘুরে পত্রিকা বিক্রি করা বিষয়টি অনেকের কাছে ভাবনার উদ্রেক করেছে।
চিতলমারী উপজেলা কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান জানান, সোহরাব হোসেন স্যার একজন গুণী মানুষ। সমাজে তাঁর অবদান অনেক। তিনি নৈতিক আদর্শ নিয়ে রাজনীতি করেন। একজন আদর্শ শিক্ষক হিসেবে তিনি মানুষ গড়ার কারিগর ছিলেন এবং রাজনীতির আদর্শিক দিক তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। তিনি এখন অনেকের কাছে অনুকরণীয় বলে অভিমত দেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
খুলনার কয়রায় সংঘবদ্ধ হয়ে নাশকতার উদ্দেশ্যে কাজ করার অভিযোগে বিএনপি নেতার দায়ের করা মামলায় ইউপি সদস্যসহ তিনজন নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগের নেতা গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার চাঁদআলী ব্রীজ এলাকা ও অন্যান্য স্থান থেকে তাদেরকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়া আসামীরা হলেন কয়রা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মিজানুর রহমান কহিনুর (৪৫), মোঃ আজহারুল ইসলাম (৪০) এবং জহির উদ্দীন সরদার (৫৩)।
মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের সাতহালিয়া গ্রামের মোঃ সহিদ হোসেন এই মামলা দায়ের করেন। মামলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামীলীগের ৩৬ জন নেতাকে আসামী করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা ১৬০ থেকে ১৭০ জনকেও আসামী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কয়রা থানা পুলিশ ও মামলার এজহার সূত্রে জানা যায়, গত ২২ সেপ্টেম্বর রাতে উপজেলার পল্লী বিদ্যুৎ সাবস্টেশন দখল করে জনসাধারণের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার উদ্দেশ্যে থানা এলাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনায় নাশকতা, ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম ও জনমনে ত্রাস সৃষ্টি করার জন্য নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামীলীগ ও বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা চাঁদআলী ব্রীজ এলাকায় জড়ো হন। এসময় মোঃ সহিদ হোসেনসহ আরও কয়েকজন আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের সেখানে জড়ো হতে দেখা যায়। পরে তিনি পুলিশকে খবর দেন।
পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর উক্ত লোকজন ঘটনাস্থল থেকে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। পালানোর সময় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এজহার সূত্রে আরও জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃতদের কাছে চাঁদআলী ব্রীজের এলাকায় জড়ো হওয়ার কারণ জানতে চাইলে তারা জানান যে, সংগ্রাম মোড়ের পল্লী বিদ্যুৎ সাবস্টেশন ধ্বংস করে জনগণের জনজীবনে বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটানোর চেষ্টা করার জন্য তারা সেখানে জড়ো হয়েছিল। আসামীরা সকলেই বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের সদস্য। তারা আওয়ামীলীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার ডিসেম্বর মাসে দেশে ফেরার কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য এধরনের কাজ করেছে। কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশেদুল আলম বলেন, "কয়রায় নাশকতার প্রস্তুতির অভিযোগের মামলায় ৩ জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ