০৪:২৫ পি.এম
দক্ষিণ লেবাননের মারজায়ুনে মর্টার হামলায় ইউনিফিলের (জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনী) এক শান্তিরক্ষী নিহত হয়েছেন। ইউনিফিল এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। খবরটি আল জাজিরার।
আজ বৃহস্পতিবার (৪ জুন) জাতিসংঘের মিশন এক বিবৃতিতে জানায়, গত বুধবার (৩ জুন) রাতে ঘটে যাওয়া মর্টার হামলায় গুরুতর আহত হন ওই শান্তিরক্ষী। পরে বৈরুতের একটি হাসপাতালে তার মৃত্যু ঘটে। ওই বিবৃতিতে তাঁর জাতীয়তা বা হামলার পেছনে দায়ী ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়নি।
এই মর্টার হামলায় আরও দুজন ইউনিফিল শান্তিরক্ষী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। শান্তিরক্ষী বাহিনী জানিয়েছে, ‘এই মর্মান্তিক ঘটনার সঠিক পরিস্থিতি নিরূপণের জন্য’ তারা একটি তদন্ত শুরু করেছে। মিশনটি বলেছে, ‘ইউনিফিল দক্ষিণ লেবাননে ক্রমবর্ধমান সংখ্যক গতিপথ ও তার প্রভাব শনাক্ত করেছে। এই সহিংসতার অবসান ঘটাতে হবে।’
আরও পড়ুন: রাশেদ খাঁন: আগামী তিন মাস বাংলাদেশপন্থীদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে
আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরাইল এবং লেবানন যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নে সম্মত হলেও সংঘাত এখনও বন্ধ হয়নি। গত কয়েক দিনের মতো আজও দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি বিমান ও স্থল হামলা চলছে। হিজবুল্লাহও সকালের দিকে ইসরাইলি সেনাদের লক্ষ্য করে দফায় দফায় রকেট হামলা চালিয়েছে বলে খবর জানা যাচ্ছে।
দক্ষিণ লেবাননের টাইর শহরের দক্ষিণে জেফতা রোডে একটি গাড়িতে করে চলাচলরত একটি পরিবারকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। এই ঘটনায় একজন পুরুষ, তার স্ত্রী এবং মেয়ে আহত হয়েছেন। নাবাতিয়েহ জেলাতেও একটি বড় গোলচত্বরে (রাউন্ডঅ্যাবাউট) বড় ধরনের হামলা হয়েছে যেখানে বেসামরিক লোকজনের আহত হওয়ার খবর রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় বুধবার (৩ জুন) ওয়াশিংটনে ত্রিপক্ষীয় এক বৈঠকে দেশ দুটি তথাকথিত ‘যুদ্ধবিরতি চুক্তি’তে পৌঁছায়। এ বিষয়ে এক যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়।
চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি পুরোপুরি কার্যকর হওয়া ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর হামলা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হওয়ার ওপর নির্ভর করে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার শর্ত হলো, হিজবুল্লাহকে পুরোপুরি হামলা বন্ধ করতে হবে। একইসাথে দক্ষিণ লেবনন থেকে গোষ্ঠীটির সদস্যদের সরিয়ে নিতে হবে।
আরও পড়ুন: দুই বছরেও কর্ণফুলী নদীর দখলদারদের তালিকা দিতে পারেনি প্রশাসন
এছাড়া দুই দেশ কিছু ‘পাইলট জোন’ প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে একমত হয়েছে যেখানে লেবানিজ সশস্ত্র বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ থাকবে এবং সেখানে কোনো অরাষ্ট্রীয় পক্ষ বা সশস্ত্র গোষ্ঠী থাকতে পারবে না। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হিজবুল্লাহ এই যুদ্ধবিরতি চুক্তি মানবে না।
এদিকে ইসরাইলও জানিয়েছে, তারা সামরিক অভিযান চালিয়ে যাবে। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ বলেছেন, ইসরাইলি সেনারা বিউফোর্ট দুর্গ ছাড়বে না। বিউফোর্ট একটি প্রাচীন দুর্গ, যা উঁচু পাহাড়ের ওপর অবস্থিত এবং দক্ষিণ লেবাননের বড় অংশ দেখা যায়। ইসরাইল সম্প্রতি এই এলাকা দখল করেছে।
কাৎজ আরও বলেছেন, দক্ষিণ লেবাননের বাস্তুচ্যুত মানুষেরা হিজবুল্লাহর নিরস্ত্র না হওয়ার সময় পর্যন্ত ফিরে আসতে পারবেন না। কিন্তু হিজবুল্লাহ বলেছে, লেবাননের ভূখণ্ডে ইসরাইলি দখলদারির বিরুদ্ধে তারা লড়াই চালিয়ে যাবে।
আরও পড়ুন: সেতুমন্ত্রী: দেশে আসতে কেউ নিষেধ করেনি, বিচার শুরু হয়েছে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন