০৬:৩৯ পি.এম
২০২৫ দুর্নীতিবিরোধী যুব আন্দোলনের মুখে সরকারের পতনের পর মঙ্গলবার প্রথম ভারত সফরে গেছেন নেপালের ক্ষমতাসীন দলের প্রধান রবি লমিছানে। এ সময় দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতা আরও জোরদারের আহ্বান জানান তিনি।
নয়াদিল্লি থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এর মাধ্যমে এ খবর জানানো হয়েছে।
তবে এই গুরুত্বপূর্ণ সফরে নতুন প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ যাননি। ৩৬ বছর বয়সী সাবেক র্যাপশিল্পী বালেন্দ্র শাহ ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই তুলনামূলকভাবে নীরব রয়েছেন।
আরও পড়ুন: দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির ষড়যন্ত্র চলছে : হারুনুর রশীদ আজাদ
নেপালে নিযুক্ত কয়েকজন বিদেশি দূতের সঙ্গে সাক্ষাৎও তিনি এড়িয়ে চলছেন। যদিও বালেন্দ্র শাহের সহযোগীরা জানান, অর্থনীতি ও দেশের বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য তিনি ক্ষমতার প্রথম এক বছরে বিদেশ সফরে যাবেন না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ভারতে এই প্রথম উচ্চপর্যায়ের সফরে গেছেন রবি লামিছানে। তিনি নেপালের সাবেক উপ প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন। বর্তমানে তিনি রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি)-এর সভাপতি।
গত মার্চে বালেন্দ্র শাহের নেতৃত্বে দলের নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর এখন তিনি রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। আরএসপির মুখপাত্র মনীশ ঝা জানান, আশা করা হচ্ছে যে, লামিছানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করবেন।
নেপাল, যা তিন কোটি জনসংখ্যার স্থলবেষ্টিত হিমালয় ঘেরা রাষ্ট্র, প্রতিবেশী দুই পরাশক্তি ভারত ও চীনের মধ্যে কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে বাধ্য। ভারত দীর্ঘদিন ধরে নেপালকে ঐতিহ্যগত মিত্র বলে মনে করছে, এবং দুই দেশের সমতল অঞ্চলে উন্মুক্ত সীমান্ত বিদ্যমান।
আরও পড়ুন: গাদি আইজেনকটের হাতে ইসরাইলে সরকার গঠনের দায়িত্ব
বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, নেপালের প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার হলো ভারত। দেশটির মোট আমদানির ৬৩ শতাংশ বা ৮৬০ কোটি ডলার আসে ভারত থেকে, যেখানে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে চীন, যার অংশ ১৩ শতাংশ বা ১৮০ কোটি ডলার।
মঙ্গলবার দ্য হিন্দুস্তান টাইমসে প্রকাশিত নিবন্ধে লামিছানে উল্লেখ করেছেন, ‘স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ নেপাল ভারতের উত্তর সীমান্তে একটি স্বাভাবিক সুরক্ষা বলয় হিসেবে কাজ করে। অন্যদিকে রাজনৈতিকভাবে বিভক্ত নেপাল প্রতিবেশী অঞ্চলের অস্থিতিশীলতা নিয়ে ভারতকে উদ্বিগ্ন করে তোলে।’
তিনি আরও লিখেছেন, ‘তাই নেপালের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ভারতের জন্যও একটি কৌশলগত প্রয়োজন।’
ক্ষমতায় আসার পর থেকে বালেন্দ্র শাহ খুব কমই প্রকাশ্যে বক্তব্য দিয়েছেন। নির্বাচনে জয়লাভের পরে তিনি একটি র্যাপ গানের মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানান, যেখানে তিনি দেশের সাফল্য নিশ্চিত করতে ‘চিতাবাঘের মতো ছুটে চলার’ অঙ্গীকার করেন।
আরও পড়ুন: দেবিদ্বার বিএনপির সদস্য সচিব আবুল কালাম আজাদ বহিষ্কার
এ সফরের মাঝেই নেপাল, ভারত ও চীনের সীমান্তসংলগ্ন লিপুলেখ গিরিপথ নিয়ে দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধ আবারও সামনে এসেছে।
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৫ হাজার ৩৩৪ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত এই তুষারাবৃত গিরিপথ দিয়ে ভারতীয় তীর্থযাত্রীরা হিন্দু ও তিব্বতি বৌদ্ধদের পবিত্র কৈলাস পর্বতে যাতায়াত করেন। একই সঙ্গে এটি ভারত ও চীনের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের পথও রয়েছে।
২০২০ সালে ভারত এই গিরিপথে যাওয়ার জন্য নতুন একটি সড়ক উদ্বোধন করলে নেপালে বিক্ষোভ শুরু হয়।
গত রোববার সংসদে দেওয়া বক্তব্যে বালেন্দ্র শাহ বলেন, ভারত ও নেপাল উভয়ই পরস্পরের ভূখণ্ডে 'অনুপ্রবেশ' করেছে।
আরও পড়ুন: ছাত্রদল রাজপথে পাহারা দিচ্ছে, শিবির বা সুবিধাবাদীরা মাঠে নেই: রাশেদ খান
তিনি বন্ধুপ্রতিম মনোভাব নিয়ে এই বিরোধের নিষ্পত্তির আহ্বান জানান। তার এমন মন্তব্য কাঠমান্ডুর সংসদে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন