০৬:৪০ পি.এম
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেওয়ার পরেও যে, যুদ্ধ বন্ধ করতে উভয় পক্ষই সম্মত হয়েছে, তারপরও লেবাননে ইসরাইলের বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে। দক্ষিণ লেবননের বিভিন্ন স্থানে এই হামলায় গত ২৪ ঘণ্টায় কমপক্ষে আটজন নিহত হয়েছেন এবং আক্রান্ত হয়েছেন আরও অনেক মানুষ। আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
গত সোমবার (১ জুন) ট্রাম্প বলেন, তিনি ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে লেবাননের রাজধানী বৈরুত থেকে সেনা প্রত্যাহার করার জন্য বলেছেন। তিনি দাবি করেছেন, হিজবুল্লাহর কর্মকর্তাদের সঙ্গেও কথা বলেছেন এবং তারা ‘গুলি বন্ধ করতে সম্মত হয়েছে’ বলেও জানান।
লেবনের সিভিল ডিফেন্সের সূত্রে আল জাজিরা জানিয়েছে, সোমবার সিডন জেলার মারওয়ানিয়েহ শহরে ইসরাইলি হামলায় ছয়জন নিহত হয়েছেন। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে একজন নারী ও দুইটি শিশু রয়েছে। হামলায় আরো একজন নারী, একটি শিশু এবং চারজন অন্য ব্যক্তি গুরুতর আহত হন।
আরও পড়ুন: দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির ষড়যন্ত্র চলছে : হারুনুর রশীদ আজাদ
এই সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটন ডিসিতে ইসরাইল এবং লেবাননের মধ্যে আজ মঙ্গলবার (২ জুন) আলোচনার ব্যবস্থা থাকা অবস্থা, আশা করা হচ্ছে, এই আলোচনার ফলস্রুতিতে ইসরাইলি হামলা এবং দখল বন্ধ হবে।
এদিকে ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন যে, তিনি লেবাননের পার্লামেন্ট স্পিকার নাবিহ বেরিকে জানিয়েছেন, যদি ইসরাইল লেবাননের বিরুদ্ধে ‘আগ্রাসন চালিয়ে যায়’, তাহলে তেহরান শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার পথ বন্ধ করবে না, বরং ‘শত্রুর সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে’ জড়াবে।
ইসরাইল সাম্প্রতিক সময়ে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে, লেবাননে হামলার অভিযানে জোরদার করেছে। সোমবার, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলিতে হিজবুল্লাহ-নিয়ন্ত্রিত এলাকায় হামলার নির্দেশ দেন। এর ফলে লেবাননে বাস্তুচ্যুতির একটি নতুন পর্ব শুরু হয়, যেখানে ১০ লাখেরও বেশি মানুষ ইতিমধ্যে ঘরছাড়া হয়েছেন।
নেতানিয়াহুর ঘোষণার পর, ইরানের সামরিক কর্মকর্তারা ইসরাইল এবং তার মিত্রদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তাদের দাবি, লেবাননে ইসরাইলের চলমান আগ্রাসনের উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: গাদি আইজেনকটের হাতে ইসরাইলে সরকার গঠনের দায়িত্ব
ইরানের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড অত্যন্ত সতর্ক করে জানায়, যদি ইসরাইল দক্ষিণ বৈরুতে বোমা হামলার হুমকি বাস্তবায়ন করে, তাহলে অধিকৃত অঞ্চলের উত্তরাংশে বসবাসকারী ইসরাইলি নাগরিকদের এলাকা ছাড়ার প্রস্তুতি নিতে হবে।
এরপর ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আইআরআইবি জানায়, ইসরাইল যদি তেহরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর ওপর লেবাননে হামলা চালাতে থাকে, তাহলে এপ্রিলের শুরুতে ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পন্ন হওয়া যুদ্ধবিরতি ভেঙে যেতে পারে। ইরানের এই কঠোর হুঁশিয়ারির পর পরিস্থিতি ভিন্নমুখে চলে যায়।
ইসরাইলি ব্রডকাস্টিং অথরিটি (কান) জানাচ্ছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জরুরি ফোনকলের পর প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু বৈরুতের দাহিয়েহ এলাকায় বৃহৎ আকারের হামলার পরিকল্পনা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছেন। তবে তিনি দক্ষিণ লেবাননে হামলা চালানোর নির্দেশনা এখনও বহাল রেখেছেন।
ইসরাইলি সেনাবাহিনী দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়েহ শহরের বাসিন্দাদের আবার সতর্কবার্তা দিয়ে জরুরিভিত্তিতে পালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে, কারণ সেটি বড় আকারের হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: দেবিদ্বার বিএনপির সদস্য সচিব আবুল কালাম আজাদ বহিষ্কার
এদিকে, ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাতজ বলেছেন, দক্ষিণ লেবাননে সামরিক অভিযান সব পরিস্থিতিতেই চলতে থাকবে এবং ইসরাইলি সেনাবাহিনী লেবাননে আরও অভিযান চালানোর সম্ভাবনা পর্যালোচনা করছে। সীমান্তের পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে হামলা আরও বিস্তৃত করা হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, ইসরাইলের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হলো হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করা এবং তাৎক্ষণিক লক্ষ্য হলো লিতানি নদীর দক্ষিণের ইসরাইলি নিয়ন্ত্রিত এলাকা থেকে হিজবুল্লাহর অস্ত্র সরানো।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন