বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১২:০৬ পি.এম
হুথিরা ইয়েমেনের এডেন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা পরিচালনা করেছে। এই হামলায় বেশ কয়েকজন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন এবং অবকাঠামোর ক্ষতি হয়েছে। বুধবারের এই হামলার পর সাময়িকভাবে বিমান চলাচল বন্ধ রাখা হয়।
এ বিষয়ে ইয়েমেনের সামরিক মুখপাত্র ও পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা যায়, বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। এর আগে, ৭ অক্টোবরেও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছিল। ওই হামলার সময় রানওয়ের নিকটে ক্ষেপণাস্ত্র পড়ার কারণে কায়রো থেকে আসা একটি বিমান জেদ্দায় অবতরণে বাধ্য হয়।
বারবার হামলার ফলে বেসামরিক মানুষের জীবন ও বিমান চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইয়েমেনের পশ্চিমা সমর্থিত সরকারের পরিবহন মন্ত্রণালয়। দক্ষিণ ইয়েমেনের এই গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার বিমানবন্দরটি মানবিক সহায়তা, চিকিৎসাসামগ্রী ও ত্রাণ পৌঁছানোর জন্য ব্যবহৃত হয়।
সূত্র: গালফ নিউজ
আরএ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যুবদলের ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করেছে কমলনগর উপজেলা যুবদলের নেতাকর্মীরা।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) এই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিভিন্ন স্থানে, বিশেষ করে ব্যবহারের অনুপযোগী টয়লেট ও ওয়াশ রুমের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। হাসপাতালের পরিবেশকে পরিচ্ছন্ন রাখা, রোগীদের জন্য স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
যুবদলের নেতাকর্মীরা হাসপাতাল প্রাঙ্গণসহ বিভিন্ন স্থানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন। তাদের এই উদ্যোগকে জনসেবামূলক ও ইতিবাচক কার্যক্রম হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।
নেতাকর্মীরা জানান, কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে এবং লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের সাংসদ সদস্য, বর্তমান সংসদের হুইপ জননেতা এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান সাহেবের নির্দেশে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জনকল্যাণমূলক কাজের অংশ হিসেবে এই পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তারা ভবিষ্যতে সাধারণ মানুষের কল্যাণে এ ধরনের সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের উদ্যোগ হাসপাতালের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এ সময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেন উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মাওলানা ইউনুছ পাটোয়ারী, সদস্য সচিব আবু ছায়েদ দোলন, উপজেলা যুবদলের একমাত্র যুগ্ম আহ্বায়ক এ্যাডভোকেট আমজাদ হোসেন, উপজেলা যুবদলের সদস্য কামরুল হাসান, মাইন উদ্দিন তালুকদার, এ্যাডভোকেট ফখরুল ইসলাম সহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মাদারীপুরে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে নিহত হয়েছেন তানভীর হাওলাদার (২৫), যিনি ইতালিতে প্রবাসী ছিলেন এবং মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলেন।
এ দুর্ঘটনাটি ঘটে বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের সদর উপজেলার মস্তফাপুর এলাকায়।
তানভীর সদর উপজেলার ঘটমাঝি ইউনিয়নের ঝিকরহাটি গ্রামের দেলোয়ার হাওলাদারের পুত্র।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতে মস্তফাপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে বাড়ি ফেরার পথে মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলেন তানভীর। ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে যাওয়ার সময় একটি ট্রাকের সঙ্গে তার মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ ঘটে। দুর্ঘটনার ফলে তিনি মোটরসাইকেল থেকে সড়কে ছিটকে পড়েন এবং ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু ঘটে।
অন্যদিকে, পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, মাত্র ১৫ দিন আগে বিয়ে করেছিলেন তানভীর। নতুন জীবনের সূচনায় এমন ভয়াবহ দুর্ঘটনার কারণে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারি হয়ে উঠেছে।
মাদারীপুর সদর মডেল থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ জানিয়েছেন, সড়ক দুর্ঘটনায় প্রবাসী নিহত হওয়ার খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনার পর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশের কৃষকদের নিবন্ধন, কৃষি উপকরণ সহায়তা প্রদান এবং পর্যায়ক্রমে দেশব্যাপী কৃষক কার্ড বিতরণের উদ্দেশ্যে একটি ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার।
আগামী চার বছরের মধ্যে প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ কৃষককে এই কর্মসূচির আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৪৩ লাখ কৃষককে কৃষক কার্ড কর্মসূচির আওতায় আনার কাজ চলমান রয়েছে।
দেশের ৬৪ জেলার ৫০৩টি উপজেলায় ১৪ হাজার ১৮০টি কৃষি ব্লককে কেন্দ্র করে এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যেই কৃষকদের তথ্য সংগ্রহ, ব্যাংক হিসাব খোলা, প্রাক-পাইলটিংয়ের মাধ্যমে কার্ড বিতরণ এবং কৃষি উপকরণ সহায়তা প্রদানের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
গত ১ অক্টোবর দেশের ৫৬ জেলার ৭৭টি উপজেলায় একযোগে কর্মসূচির কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। কৃষক কার্ড কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষকদের একটি সমন্বিত তথ্যভান্ডার গড়ে তোলা এবং তাদের কাছে আর্থিক ও কৃষি উপকরণ সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এই কর্মসূচির প্রাথমিক পর্যায়ে ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কৃষক কার্ড কর্মসূচির আওতায় আগামী চার বছরে প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ কৃষককে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ বিশাল কর্মসূচি বাস্তবায়নে দেশের সব জেলা, উপজেলা ও কৃষি ব্লককে পর্যায়ক্রমে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যেই তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে দেশের কৃষকদের অন্তর্ভুক্তির জন্য।
সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৬৪ জেলার ৫০৩টি উপজেলার ১ হাজার ৬৮১টি কৃষি ব্লকে এ কার্যক্রমের অগ্রগতি হয়েছে। এসব ব্লকে এখন পর্যন্ত ১৯ লাখ ২৫ হাজার কৃষকের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। পাশাপাশি কৃষক কার্ড-সংক্রান্ত ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে ৯ লাখ।
কৃষকদের তথ্য সংগ্রহ ও ব্যাংক হিসাব খোলার এই কার্যক্রম কর্মসূচির প্রাথমিক বাস্তবায়ন পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পরবর্তী সময়ে কৃষক কার্ড বিতরণ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
কৃষক কার্ড কর্মসূচির বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া যাচাই ও প্রাথমিক কার্যক্রম পরিচালনার অংশ হিসেবে চলতি বছরের মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত প্রাক-পাইলটিং কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়। এ পর্যায়ে দেশের আটটি বিভাগের ১০টি জেলার ১১টি উপজেলার ১১টি কৃষি ব্লকে ২০ হাজার ৮৩২ জন কৃষকের মধ্যে কৃষক কার্ড বিতরণ করা হয়েছে।
গত ১৪ এপ্রিল ২০২৬, বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনে টাঙ্গাইল সদর উপজেলায় আনুষ্ঠানিকভাবে কৃষক কার্ড বিতরণের প্রাক-পাইলটিং কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। এরপর নির্ধারিত এলাকাগুলোতে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়।
প্রাক-পাইলটিংয়ের আওতায় ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের মধ্যে ২০ হাজার ৪৮০ জনকে আর্থিক প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। জনপ্রতি বছরে ২ হাজার ৫০০ টাকা হারে এ পর্যায়ে মোট ৫ কোটি ১২ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়।
প্রাক-পাইলটিংয়ের এই অভিজ্ঞতার পর কর্মসূচির কার্যক্রম আরও বিস্তৃত এলাকায় সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে অক্টোবর মাসে দেশের বিভিন্ন জেলার নির্বাচিত উপজেলায় একযোগে কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়।
গত ১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে দেশের ৫৬ জেলার ৭৭টি উপজেলায় ভার্চুয়ালি একই সঙ্গে কৃষক কার্ড কর্মসূচির কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। এ পর্যায়ে প্রতিটি উপজেলা থেকে একটি করে কৃষি ব্লক নির্বাচন করা হয়েছে। ফলে মোট ৭৭টি কৃষি ব্লকে কর্মসূচির কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
এ পর্যায়ে মোট ১ লাখ ১০ হাজার ১৬৫ জন কৃষককে কর্মসূচির আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ফেনী জেলার ছয়টি উপজেলার ৭ হাজার ৬৪৩ জন কৃষক রয়েছেন।
নির্বাচিত এলাকাগুলোতে কৃষক কার্ড কর্মসূচি সম্প্রসারণের পাশাপাশি কৃষি উপকরণ সহায়তা প্রদানের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। এই সহায়তার আওতায় ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
কর্মসূচির তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যায়ে কৃষি উপকরণ সহায়তার আওতাভুক্ত কৃষকের সংখ্যা ১ লাখ ৪৭ জন। এর মধ্যে ফেনী জেলার ছয়টি উপজেলার ৭ হাজার ১৫৩ জন ও বাকি ৫৫ জেলার ৯২ হাজার ৮৯৪ জন কৃষক রয়েছেন।
কৃষক কার্ড কর্মসূচির আওতায় কৃষকদের তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি ব্যাংক হিসাব খোলার কার্যক্রমও পরিচালিত হচ্ছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ১৯ লাখ ২৫ হাজার কৃষকের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে এবং কৃষক কার্ড-সংক্রান্ত ব্যাংক হিসাবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯ লাখে।
দেশের ৬৪ জেলার ৫০৩টি উপজেলার ১ হাজার ৬৮১টি কৃষি ব্লকে এ পর্যন্ত তথ্য সংগ্রহের অগ্রগতি হয়েছে। এটি কর্মসূচির দেশব্যাপী বাস্তবায়নের প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
চার বছরে প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ কৃষককে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্য অর্জনে বিপুলসংখ্যক কৃষকের তথ্য সংগ্রহ ও তা ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন হবে। সে বিবেচনায় এ কর্মসূচির আওতায় তথ্য সংগ্রহ, নিবন্ধন, ব্যাংক হিসাব খোলা ও কার্ড বিতরণের অগ্রগতি ধারাবাহিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ।
কৃষক কার্ড কর্মসূচি একযোগে দেশের সব কৃষি ব্লকে বাস্তবায়ন না করে পর্যায়ক্রমে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ফেনী জেলার ছয়টি উপজেলার ছয়টি কৃষি ব্লকের কৃষকদের মধ্যে ৭ হাজার ৬৪৩টি কৃষক কার্ড বিতরণ করা হবে।
এ পরিকল্পনার আওতায় দেশের ৬৪ জেলা, ৫০৩টি উপজেলা ও ১৪ হাজার ১৮০টি কৃষি ব্লককে কর্মসূচির আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে। চার বছরে প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ কৃষককে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা পূরণে বিভিন্ন পর্যায়ে কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৪৩ লাখ কৃষককে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্য অর্জনের অগ্রগতি মূল্যায়নে কৃষক নিবন্ধন, কার্ড বিতরণ, ব্যাংক হিসাব খোলা ও কৃষি উপকরণ সহায়তা প্রদানের হালনাগাদ তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, কৃষক কার্ড কর্মসূচির মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে দেশের বিপুলসংখ্যক কৃষককে একটি সমন্বিত কার্যক্রমের আওতায় আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ও ব্যাংকগুলোর সক্ষমতা অনুযায়ী কার্ড বিতরণ সম্প্রসারণের মাধ্যমে এ কর্মসূচি দেশব্যাপী বাস্তবায়নের উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে।
কৃষক কার্ড কর্মসূচী বাস্তবায়নে মাঠ পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছে প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনারশিপ অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার) প্রকল্প।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রকল্পের ডেপুটি প্রোগ্রাম ডিরেক্টর (ডিপিডি) মো. রাকিবুজ্জামান খান বলেন, কৃষকদের সঠিক তথ্য সংগ্রহ, তাদের চাহিদা নিরূপণ ও কৃষির আধুনিকায়নে সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ চলমান রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কৃষকের চাহিদা যেহেতু সৃজনভিত্তিক পরিবর্তন হয়, তাই কিছুটা চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তবে একটি নির্ভরযোগ্য তথ্যভান্ডার গড়ে তোলার পর তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশিক্ষণ, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও কৃষি উদ্যোক্তা তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ সহজ হবে।
রাকিবুজ্জামান খান বলেন, ইতোমধ্যেই ২২ হাজার কৃষকের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। কৃষক কার্ড কর্মসূচির সঙ্গে তথ্য ও কার্যক্রমের সমন্বয়ের মাধ্যমে কৃষককে বিভিন্ন কৃষিসেবার আওতায় আনা ও মাঠপর্যায়ে সরকারি উদ্যোগগুলোর কার্যকারিতা বাড়ানো সম্ভব হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কৃষি মন্ত্রণালয়ের কৃষক কার্ড সেলের অতিরিক্ত সচিব মো. ইয়াসীন বলেন, কৃষক কার্ড কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হচ্ছে কৃষকদের সঠিক তথ্য সংরক্ষণ এবং তাদের কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছানোর প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও কার্যকর করা। এ জন্য কৃষকদের তথ্য সংগ্রহ, যাচাই, ব্যাংক হিসাব খোলা এবং পর্যায়ক্রমে কার্ড বিতরণের কার্যক্রম সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম খান বলেন, কৃষক কার্ড কর্মসূচি দেশের কৃষকদের একটি সমন্বিত তথ্যভান্ডারের আওতায় আনার গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। এর মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকদের শনাক্ত করা, তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী কৃষি উপকরণ ও আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া এবং কৃষিসেবা কার্যক্রম আরও সুশৃঙ্খল করার সুযোগ তৈরি হবে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের কৃষি ও কৃষক বান্ধব প্রধানমন্ত্রী কৃষকের কল্যাণে ‘কৃষক কার্ড’ প্রবর্তন করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন ও নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী চার বছরের মধ্যে ২ কোটি ৪০ লাখ কৃষককে কৃষক কার্ড প্রদান করা হবে।
মো. সেলিম খান বলেন, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকগণ ১০টি সেবা পাবেন। কৃষক স্বল্প সুদে কৃষি ঋণ, সেচ, সার, বীজ, প্রণোদনা, কৃষি বীমা, আবহাওয়া তথ্য ও বালাই নাশক পরামর্শ ইত্যাদি সুবিধাসহ ১০ ধরনের সুবিধা পাবেন। কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষককে তার প্রাপ্য সম্মান প্রদর্শনসহ সরকার ও রাষ্ট্র যে তাদের পাশে রয়েছে এরই প্রতিফলন হচ্ছে কৃষক কার্ড।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবি নিয়ে আবারও সড়কে নেমে এসেছে পোশাকশ্রমিকেরা। আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন কয়েকটি পোশাক কারখানার কয়েকশ শ্রমিক। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচির ফলে ওই এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট।
এর আগে একই দাবিতে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে মিছিল ও সড়ক অবরোধ করেছে পোশাকশ্রমিকেরা। গত ১৪ অক্টোবর উত্তরখান এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে শ্রমিকেরা উত্তরার ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অবস্থান নেন। পরদিনও উত্তরার আজমপুর এলাকায় একই দাবিতে সড়ক অবরোধ করা হয়। এসব কর্মসূচির ফলে গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে ব্যাপক ভোগান্তির সৃষ্টি হয়।
সেই ধারাবাহিকতায় আজ বৃহস্পতিবার সকালে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরে অবস্থান নেন শ্রমিকেরা। একপর্যায়ে তাঁদের অবরোধের কারণে ওই মোড় দিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে আশপাশের সড়কে যানজট সৃষ্টি হয়।
পল্লবী ট্রাফিক জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার সাজিয়া আফরোজ জানান, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর অবরোধ করেন। তবে কোন কোন কারখানার শ্রমিকেরা এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
মিরপুর বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার হাসান মোহাম্মদ নাসের রিকাবদার বলেন, ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে শ্রমিকেরা সড়কে অবস্থান নিয়েছেন। তাঁদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে পুলিশ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ