বৃহস্পতিবার, ১৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
১০:১৯ এম
দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এবার ভরিতে ১ হাজার ৬৩৩ টাকা বাড়িয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭৭৯ টাকা নির্ধারণ করেছে সংগঠনটি।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস। নতুন এই দাম আজ সকালে ১০টা থেকে কার্যকর হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য বেড়ে যাওয়ার কারণে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ভ্যাটসহ স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন মূল্যের আওতায়, দেশের বাজারে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম দাঁড়াবে ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭৭৯ টাকা। অন্যদিকে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২৬ হাজার ১৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯৪ হাজার ২০৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাজুস জানিয়েছে, পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত সকল জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই দাম কার্যকর থাকবে। তবে অলঙ্কারের ডিজাইন অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য হবে। স্বর্ণালঙ্কার ও রৌপলঙ্কারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকায় গ্রাহকদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না। এছাড়া, সুনির্দিষ্ট ভ্যাট, মজুরি ও পাথর বাদ দিয়ে অলঙ্কার এক্সচেঞ্জ ও পারচেজের ক্ষেত্রে বাজুসের পূর্বের নিয়ম বহাল থাকবে।
এর আগে, সর্বশেষ ১১ আগস্ট সকালে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন দ্বারা। সেদিন ভরিতে ১ হাজার ১০৮ টাকা বাড়িয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩৫ হাজার ১৪৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
আসন্ন দাম সমন্বয়ের মধ্যে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২৪ হাজার ৫৯০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯২ হাজার ৮৬৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৭ হাজার ৫২২ টাকা নির্ধারণ করা হয়, যা কার্যকর হয়েছিল সেদিন সকাল ১০টা থেকেই।
এখন পর্যন্ত চলতি বছরে দেশে ১০২ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে দাম ৫১ বার বাড়ানো হয়েছে, ৫০ বার কমানো হয়েছে এবং ১ বার ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে। আগের বছর ২০২৫ সালে দেশে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় হয়েছে; যেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল, এবং ২৯ বার দাম কমানো হয়েছিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রেমিট্যান্স প্রবাহে বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে তুলনামূলক স্থিতিশীলতার মাঝে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখাচ্ছে।
বুধবার (১২ আগস্ট) দিন শেষ হওয়ার পর দেশের মোট বা গ্রস রিজার্ভ ৩৭ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে ৩৭ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ হিসাবেও রিজার্ভ বেড়ে ৩২ দশমিক ২৬ বিলিয়ন ডলারে উঠেছে।
চলতি মাসের শুরুতে, ২ আগস্ট দেশের মোট রিজার্ভ ছিল ৩৬ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন ডলার। সেসময় বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩১ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ, মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে গ্রস রিজার্ভ বেড়ে ১ দশমিক ১৩ বিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম-৬ হিসাবেও বেড়েছে ৬১ কোটি ডলার।
তবে মোট রিজার্ভের পুরো অর্থ সরাসরি ব্যবহারযোগ্য নয়। স্বল্পমেয়াদি দায় ও বিভিন্ন আর্থিক বাধ্যবাধকতা বাদ দিলে যা অবশিষ্ট থাকে, সেটি দেশের বৈদেশিক লেনদেনের সক্ষমতা বিবেচনায় বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ ব্যাংক অভ্যন্তরীণভাবে এই অর্থকে ‘ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ’ হিসেবে হিসাব করে।
এই হিসাবের ক্ষেত্রে আইএমএফের বিশেষ উত্তোলন অধিকার (এসডিআর), ব্যাংকগুলোর বৈদেশিক মুদ্রা ক্লিয়ারিং হিসাব এবং এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) বিলসহ বিভিন্ন খাত বাদ দেওয়া হয়। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভের পরিমাণ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করে না।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ প্রায় ২৯ বিলিয়ন ডলার। মাসে গড়ে ৫ বিলিয়ন ডলার আমদানি ব্যয় হলে, এই রিজার্ভ দিয়ে সাড়ে পাঁচ মাসের বেশি আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব।
সাধারণভাবে, একটি দেশের তিন মাসের আমদানি ব্যয়ের সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে ন্যূনতম নিরাপদ মাত্রা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সেই হিসাবে, বর্তমান ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ দেশের বৈদেশিক লেনদেনের সক্ষমতায় তুলনামূলকভাবে স্বস্তিদায়ক অবস্থান নির্দেশ করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গ্যাস সংকটের প্রতিবাদে জামালপুরের সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালকরা জামালপুর-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকালে সকাল ৬টা থেকে জামালপুর-টাঙ্গাইল মহাসড়কের জাবেদ ফিলিং স্টেশনের সামনে এই অবরোধের কার্যক্রম শুরু হয়।
অবরোধের কারণে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং এ অবস্থায় কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। ফলে সাধারণ যাত্রী ও কর্মস্থলগামী মানুষ ভোগান্তির শিকার হন।
চালকরা জানান, দীর্ঘ সময় ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পরেও তারা প্রয়োজনীয় গ্যাস পাচ্ছেন না। এর ফলে তাদের দৈনন্দিন আয় ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং পরিবার নিয়ে তারা চরম সংকটে পড়েছে। তারা গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করা এবং সিএনজিচালিত যানবাহনের জন্য পর্যাপ্ত গ্যাসের ব্যবস্থা না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।
সকালে অবরোধের কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকে মহাসড়কের উভয় পাশে শত শত যানবাহন আটকে যায়। দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, পিকআপ এবং ছোট যানবাহনের যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়েন। অনেককে যানবাহন ছেড়ে হেঁটে গন্তব্যের দিকে যেতে দেখা যায়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ডারউইনে সকালের সময় বাংলাদেশের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট ম্যাচ শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে মুশফিকুর রহিম, যিনি বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলার সুযোগ পেয়েছেন, অন্তত ১০০ টেস্ট খেলা ক্রিকেটারের মধ্যে উঠে এসেছে।
আজ মুশফিক আরও একটি কীর্তি গড়েছেন। সাকিব আল হাসানকে ছাড়িয়ে তিনিই সবচেয়ে বেশি ক্রিকেটারের সঙ্গে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা বাংলাদেশি হয়ে উঠেছেন। যেখানে সাকিব ১০৭৫ জনের সঙ্গে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেছেন, ত সেখানে মুশফিকের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৭৬।
ডারউইন টেস্ট শুরুর আগে, মুশফিকের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতা ছিল ১০৭৩ জনের সঙ্গে। আজ তিনি নতুন করে নাম যুক্ত করেছেন অস্ট্রেলিয়ার জেক ওয়েদারাল্ড, ক্যামেরন গ্রিন এবং বিউ ওয়েবস্টারের সঙ্গে। মুশফিকের হাতে তাসকিন আহমেদের ক্যাচ দিয়ে গ্রিন আউট হয়েছেন।
এটা শুধু বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নয়; এশিয়ার মধ্যে মুশফিকের আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা সবচেয়ে বেশি। তাঁর এবং সাকিবের পরে শচীন টেন্ডুলকার তৃতীয় স্থানে রয়েছেন। ভারতীয় কিংবদন্তি ৯৮৯ জনের সঙ্গে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেছেন দুই যুগের ক্যারিয়ারে।
তবে আন্তর্জাতিক ম্যাচের সবচেয়ে বেশি খেলার রেকর্ডটি পল স্টার্লিংয়ের। আয়ারল্যান্ডের এই অভিজ্ঞ ব্যাটার ১১০০ এরও বেশি ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে ম্যাচ খেলেছেন।
অস্ট্রেলিয়া সফরে মুশফিকের সামনে আরেকটি মাইলফলক স্পর্শের সম্ভাবনা রয়েছে। এই সিরিজে ১৯৪ রান করতে পারলেই তিনি বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটার হিসেবে টেস্টে ৭০০০ রান পূর্ণ করবেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
অস্ট্রিয়ার সলজবুর্গের রেড বুল এরেনায় গতকাল রাতে উয়েফা সুপার কাপের রোমাঞ্চকর ফাইনালে প্যারিস সেন্ট জার্মেইয়ের (পিএসজি) বিরুদ্ধে মুখোমুখি হয়েছিল অ্যাস্টন ভিলা। তবে ইউরোপসেরা হওয়ার এই ট্রফি লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলের ব্যবধানে হেরে শিরোপাটি হাতছাড়া করেছে ইংলিশ ক্লাবটি।
২০২৬-২৭ মৌসুমের প্রথম অফিশিয়াল ম্যাচেই ভিলার জন্য এটি ছিল সবচেয়ে বড় ধাক্কা। কারণ, তাদের এক নম্বর গোলরক্ষক এমিলিয়ানো ‘দিবু’ মার্তিনেজ অনুপস্থিত ছিলেন। কেবল মার্তিনেজই নন, দলের নির্ভরযোগ্য ডিফেন্ডার এজরি কোনসা এবং তারকা স্ট্রাইকার বনাম অলিভার ওয়াটকিন্সকেও এই গুরুত্তপূর্ণ ম্যাচে পায়নি ভিলা।
সদ্য সমাপ্ত ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার হয়ে গত ১৯ জুলাই ফাইনাল খেলেছিলেন মার্তিনেজ। বিশ্বমঞ্চের দীর্ঘ সফরের পর ভিলা কোচ উনাই এমেরি মার্তিনেজসহ ইংল্যান্ডের হয়ে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ খেলে আসা কোনসা ও ওয়াটকিন্সকে পূর্ণ চার সপ্তাহের আবশ্যিক ছুটি প্রদান করেন।
ফলে ফাইনালের হাইভোল্টেজ স্কোয়াডে তাদের না রাখা ছাড়া অন্য কোনো পথ ছিল না কোচের সামনে। ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে ভিলা বস এমেরি পিএসজিকেই ফেভারিট হিসেবে মেনে নিয়েছিলেন। সেই সঙ্গে তিনি আক্ষেপের সুরে বলেছিলেন, ‘তারা দলের সঙ্গে থাকলে জয়ের সম্ভাবনা অনেকটাই বেড়ে যেত।’ তবে মার্তিনেজের অনুপস্থিতি যে ভিলার জন্য কতটা বড় ক্ষতি ছিল, তা ম্যাচের ফলই বলে দিচ্ছে।
বড় ফাইনালগুলোতে মার্তিনেজের রেকর্ড সত্যিই চোখ কপালে তোলার মতো। ক্লাব ও আর্জেন্টিনার হয়ে ক্যারিয়ারে আটটি আন্তর্জাতিক ও বড় টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলে সাতটিতেই জয়ের হাসি হেসেছেন এই বিশ্বসেরা গোলরক্ষক। ২০২০ সালে আর্সেনালের হয়ে এফএ কাপ ও কমিউনিটি শিল্ড দিয়ে শুরু, তারপর আর্জেন্টিনার হয়ে ২০২১ কোপা আমেরিকা, ২০২২ ফিনালিসিমা, ২০২২ বিশ্বকাপ এবং ২০২৪ কোপা আমেরিকা জয় করেন তিনি। এমনকি অ্যাস্টন ভিলার হয়ে ২০২৬ ইউরোপা লিগের শিরোপাও উঁচিয়ে ধরেন তিনি। কেবল ২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে তার সেই অপরাজেয় যাত্রায় ছেদ পড়েছিল।
মার্তিনেজের মতো ‘বিগ ম্যাচ প্লেয়ার’ ছাড়া মাঠে নামার পরও ম্যাচের সিংহভাগ সময় লড়াই করে ভিলা। তবে শেষ রক্ষা হয়নি, ২-১ গোলের ব্যবধানে ম্যাচ জিতে নতুন মৌসুমের প্রথম ট্রফিটি নিজেদের শোকেসে তুলে নিল ফরাসি পরাশক্তি পিএসজি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ