০৬:১৬ পি.এম
রাঙামাটি কাপ্তাই লেকের সীমানা নির্ধারণের জন্য প্রকৃত ম্যাপ অনুযায়ী জরিপ চালানোর নির্দেশনা দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে অবৈধভাবে লেক দখলকারীদের তালিকা তৈরি করে আগামী বছর ৬ জানুয়ারির মধ্যে আদালতে তা দাখিল করার কথা বলা হয়েছে।
এই নির্দেশ আদালত রাঙামাটির জেলা প্রশাসক এবং জরীপ অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে দিয়েছেন। রবিবার (১৬ আগস্ট) বিচারপতি জে বি এম হাসান এবং বিচারপতি আজিজ আহমেদ ভুঁইয়ার হাইকোর্ট বেঞ্চের শুনানির পর এই আদেশ এসেছে। আদালতে এই আবেদনের পক্ষে শুনানির জন্য ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।
কাপ্তাই লেক দখলের বিষয়ে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে ২০২২ সালে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করা হয়েছিল। পরিবেশবাদী এবং মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) এর পক্ষ থেকে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. ছারওয়ার আহাদ চৌধুরী এবং রিপন বাড়ৈ রিট আবেদনটি করেন। রিটের প্রাথমিক শুনানির পর ১৭ অক্টোবর ২০২২ হাইকোর্ট রুলসহ আদেশ দেয়। লেকে অবৈধ দখল, ভরাট অথবা স্থাপনা নির্মাণ বন্ধ করতে কার্যকরী ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: কক্সবাজার সাংবাদিক কল্যাণ সমিতির সভাপতি আশেক উল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান
আদালতের নির্দেশ অনুসারে উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু হলে অবৈধ দখল বা স্থাপনা নির্ধারণ করতে জরিপ প্রয়োজন হয়ে পড়ে। সে অনুযায়ী আদালত জেলা প্রশাসককে জরিপ করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়। জেলা প্রশাসক সে সময় জরিপ করার জন্য জরিপ অধিদপ্তরের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেন।
এরপর সম্পূরক আবেদন করে রাঙামাটির জেলা প্রশাসক এবং জরিপ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের প্রতি নির্দেশনা বিবেচনা করার জন্য বলা হয়। গতকাল এই আবেদনে শুনানির পর আদালত আদেশ দেয়। আইনজীবী মনজিল মোরসেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, “কাপ্তাই লেকের প্রকৃত ম্যাপ অনুসারে জরিপ চালিয়ে সীমানা নির্ধারণের পাশাপাশি অবৈধ দখলদারদের তালিকা দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।”
এই আইনজীবী আরও বলেন, ‘কাপ্তাই লেক হচ্ছে একটি কৃত্রিম জলাশয়। এর নির্দিষ্ট সীমানা আছে। কিন্তু প্রভাবশালীরা নানা কৌশলে লেকটি দখল করছে।’ জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ১৯৫৬ সালে কর্ণফুলী নদীতে বাঁধ দেওয়ার ফলে কাপ্তাই লেকের সৃষ্টি হয়েছে। ১৯৬২ সালে বাঁধের নির্মাণকাজ শেষ হয়। বাঁধের কারণে ৫৪ হাজার একর কৃষিজমি ডুবে যায়, যা ওই এলাকার মোট কৃষিজমির ৪০ শতাংশ। রাঙামাটির বরকল উপজেলার বড় হরিণা এলাকা বাংলাদেশ প্রান্তে লেকের সীমানা। ভারতের মিজোরামেও এর বিস্তৃতি রয়েছে। মিজোরামের লুসাই পাহাড় থেকে কর্ণফুলীর উৎপত্তি। রাঙামাটির আট উপজেলা এবং খাগড়াছড়ির মহালছড়ি এলাকার সংলগ্ন এই হ্রদটির অবস্থান। বর্তমানে হ্রদের আয়তন ৬৮ হাজার ৮০০ হেক্টর।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাঙামাটি পৌর এলাকায় হ্রদের জায়গা সবচেয়ে বেশি দখল হয়েছে। আর কিছু জায়গা দখল হয়েছে কাপ্তাই উপজেলায়। তবে কতটা জায়গা দখল হয়েছে, কারা জড়িত, তার পূর্ণাঙ্গ তালিকা কোন সংস্থার কাছে নেই। ২০১৯ সালে জাতীয় নদী কমিশন অবৈধ দখলদারদের একটি তালিকা তৈরি করেছিল। তালিকায় পৌরসভার ২২ জন এবং কাপ্তাইয়ের ৮ জন দখলদারের নাম রয়েছে। তবে তাদের মাঝে সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং রাজনীতিকদের নাম নেই। এরপর আর কোন তালিকা হয়নি।
আরও পড়ুন: ফটিকছড়িতে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে যুবক জিসান নিহত, আহত ৪
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন