শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৩:৩৫ পি.এম
বলিউডের অন্যতম আলোচিত স্টার কিড জুটি ইব্রাহিম আলি খান এবং পলক তিওয়ারির প্রেমের গল্প নিয়ে আলোচনা কম হয়নি। দীর্ঘ তিন বছরের সম্পর্ক থাকার পর, অবশেষে তারা নিজেদের পথ আলাদা করে নিয়েছেন। ইব্রাহিম প্রেমের সম্পর্কের ইতি টেনেছেন।
অভিনেতা সাইফ আলি খান ও অমৃতা সিংয়ের ২৫ বছর বয়সি পুত্র ইব্রাহিম এবং অভিনেত্রী শ্বেতা তিওয়ারির ২৬ বছর বয়সি কন্যা পলকের বিচ্ছেদের খবর বলিপাড়ায় এবং সামাজিক মাধ্যমে নেটিজেনদের মধ্যে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। জানা গেছে, এই বিচ্ছেদের সিদ্ধান্তটি মূলত ইব্রাহিম আলি খানের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে।
চলতি মাসের শুরুতে রণথম্বোরে একসঙ্গে টাইগার সাফারিতে তাদের দেখা গিয়েছিল। তাই হঠাৎ করে বিচ্ছেদের কারণ নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিচ্ছেদের খবরের পর, তাদের একসঙ্গে পরিকল্পিত শুটিংয়ের কার্যক্রম বাতিল করা হয়েছে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) এক অনুষ্ঠানে পলককে একা ক্যামেরাবন্দি করেছেন পাপারাজ্জিরা।
বিচ্ছেদ ঘটলেও তারা সামাজিক মাধ্যমে একে অপরকে এখনও ফলো করে যাচ্ছেন। খুব শিগগিরই ইব্রাহিম আলি খানের একটি জনপ্রিয় সেলিব্রিটি চ্যাটশোতে বিশেষ পর্ব প্রচারিত হবে। এই চ্যাটশোর জন্য নিজের অনস্ক্রিন আত্মপ্রকাশ যাতে বিচ্ছেদের খবরের আড়ালে চাপা না পড়ে, সে কারণে তাড়াহুড়ো করে সামাজিক মাধ্যমে আনফলো করা থেকে বিরত রয়েছেন ইব্রাহিম আলি খান।
ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাদের বিচ্ছেদ পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে হয়েছে এবং তারা এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো কাদা ছোড়াছুড়িতে জড়াতে চান না। বর্তমানে নিজেদের অভিনয় ও ক্যারিয়ারে মন দিতে চান ইব্রাহিম এবং পলক।
২০২২ সালে মুম্বাইয়ের একটি রেস্তোরাঁ থেকে বের হওয়ার সময় গাড়ি থেকে পাপারাজ্জিদের দেখে পলকের মুখ লুকানোর দৃশ্য ভাইরাল হলে, তখনই ইব্রাহিম-পলকের সম্পর্কের গুঞ্জন প্রথম প্রকাশ্যে আসে। পরে তাদের একসঙ্গে ছুটি কাটানো এবং পারিবারিক অনুষ্ঠানে প্রায়ই দেখা যেত।
২০২৩ সালের শেষের দিকে সামাজিক মাধ্যম ইনফ্লুয়েন্সার ওরির সঙ্গে পলকের একটি হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট ফাঁস হয়, যেখানে ইব্রাহিম আলি খানের বোন সারা আলির নাম উল্লেখ করে ক্ষমা চাইতে দেখা গিয়েছিল পলককে। ইনফ্লুয়েন্সার অরি সেই ক্ষমা খারিজ করলেও বিতর্কের কারণ স্পষ্ট হয়নি। তবে সম্পর্কের সূত্রপাত বা বিচ্ছেদ— কোনো বিষয়েই এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেননি ইব্রাহিম বা পলক কেউই।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) চলতি মৌসুমে পাঁচটি হলুদ কার্ড দেখার পরও নিষেধাজ্ঞার সম্মুখীন হতে হচ্ছে না ইন্টার মায়ামির অধিনায়ক লিওনেল মেসিকে। লিগের ‘গুড বিহেভিয়ার’ বা সুআচরণ নীতির সুবিধা পাওয়ার কারণে আপাতত নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি থেকে মুক্ত রয়েছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। এর ফলে নিউ ইংল্যান্ড রেভোলিউশনের বিপক্ষে পরবর্তী ম্যাচে মাঠে নামতে তার কোনো বাধা নেই।
সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সিনসিনাটির বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র হওয়া ম্যাচে হলুদ কার্ড দেখেন মেসি। ম্যাচের ৪৪ মিনিটে প্রতিপক্ষের মিডফিল্ডার স্যামুয়েল গুইডিকে ফাউল করার কারণে রেফারি তাকে হলুদ কার্ড প্রদর্শন করেন। যদিও নিয়ম অনুযায়ী পাঁচ হলুদ কার্ডের কারণে নিষেধাজ্ঞা পাওয়ার কথা ছিল, বিশেষ সুবিধার কারণে তিনি সেটি এড়াতে সক্ষম হয়েছেন।
এ মৌসুমে এর আগে কলোরাডো র্যাপিডস, অরল্যান্ডো সিটি, ন্যাশভিল ও আটলান্টার বিপক্ষে হলুদ কার্ড দেখেছিলেন মেসি। এমএলএসের নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সংখ্যক হলুদ কার্ড জমা হলে একজন খেলোয়াড়কে এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা ভোগ করতে হয়। তবে ধারাবাহিকভাবে শৃঙ্খলাপূর্ণ আচরণের জন্য রয়েছে বিশেষ ছাড়।
এই বিশেষ নিয়মের নাম ‘গুড বিহেভিয়ার’। এর আওতায় কোনো খেলোয়াড় টানা পাঁচ বা তার বেশি ম্যাচ হলুদ কার্ড ছাড়া খেললে তার ডিসিপ্লিনারি রেকর্ড থেকে একটি হলুদ কার্ড বাদ দেওয়া হয়। তবে পুরো মৌসুমে একজন খেলোয়াড় সর্বোচ্চ তিনবার এই সুবিধা গ্রহণ করতে পারেন।
মেসি চলতি মৌসুমে ইতোমধ্যে দুবার এই সুবিধা গ্রহণ করেছেন। অরল্যান্ডো সিটি ও ন্যাশভিলের মধ্যবর্তী সময়ে তিনি টানা পাঁচ ম্যাচ হলুদ কার্ড ছাড়া খেলেছিলেন। একইভাবে পরবর্তী কার্ড দেখার আগে টানা ১০ ম্যাচ হলুদ কার্ডমুক্ত ছিলেন আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই ফুটবলার।
সুতরাং, সিনসিনাটির বিপক্ষে নতুন করে হলুদ কার্ড দেখার পরও মেসির কার্যকর হলুদ কার্ডের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে তিনটিতে। তাই আপাতত নিষেধাজ্ঞার শঙ্কা নেই তার।
সবকিছু ঠিক থাকলে রোববার নিয়মিত মৌসুমের ৩৩তম ম্যাচে নিউ ইংল্যান্ড রেভোলিউশনের বিপক্ষে ইন্টার মায়ামির জার্সিতে মাঠে দেখা যাবে মেসিকে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর বাজারে শীতকালীন নতুন সবজির উপস্থিতি থাকলেও, দাম বেশি হওয়ার কারণে ক্রেতাদের মধ্যে অস্বস্তি দেখা দিয়েছে। নতুন আলুর দাম প্রতি কেজি ১৬০ টাকা এবং দেশি টমেটো ১৮০ থেকে ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অধিকাংশ সবজির দাম কেজিপ্রতি ৬০ থেকে ১৪০ টাকার মধ্যে রয়েছে। মাছের বাজারেও দাম চড়া। বিশেষ করে বড় আকারের ও সামুদ্রিক মাছ কিনতে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাজধানীর মোহাম্মদপুর টাউন হল মার্কেটে গিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, মোহাম্মদপুর টাউন হল মার্কেটে সবজি, মাছ ও মুরগির বাজারে ক্রেতাদের তুলনামূলকভাবে বেশি টাকা খরচ করতে হচ্ছে। বিশেষ করে বড় আকারের মাছ, ইলিশ এবং কিছু সবজি কিনতে ক্রেতাদের বাড়তি অর্থ গুনতে হচ্ছে।
ব্যবসায়ী রমিজ উদ্দিন জানিয়েছেন, বাজারে নতুন কোনো সবজি বা পণ্য উঠলে দাম শুরুতে কিছুটা বেশি থাকে।
ক্রেতা সিদ্দিকুর রহমান বলেছেন, "টেলিভিশনে দেখি, পাঁচ টাকা দিয়েও কেউ লাউ কিনছে না। অথচ রাজধানীর বাজারে ৭০ থেকে ৮০ টাকার নিচে কোনো লাউ পাওয়া যাচ্ছে না। অধিকাংশ সবজির দামই ১০০ টাকার আশপাশে।"
বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি ঝিঙার দাম ১০০ টাকা, গোল বেগুন ১২০ টাকা, লম্বা বেগুন ১০০ টাকা, ফুলকপি ও বাঁধাকপি ৬০ টাকা, লাউ ৬০ থেকে ৮০ টাকা এবং পটোল ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া কাঁকরোল ১০০ টাকা, কচুমুখী ৮০ টাকা, মুলা ৭০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৮০ টাকা, গাজর ১৪০ টাকা, শিম ১০০ টাকা, সাধারণ টমেটো ১২০ টাকা এবং দেশি টমেটো ১৮০ থেকে ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
তুলনামূলকভাবে কম দামে পাওয়া যাচ্ছে পেঁপে ও মিষ্টিকুমড়া। প্রতি কেজি পেঁপের দাম ৩০ টাকা এবং মিষ্টিকুমড়া ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া কাঁচা মরিচ ১৪০ টাকা, জলপাই ৮০ টাকা এবং নতুন আলু ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
সবজির বাজারে কিছু পণ্যের দাম ১০০ টাকা ছাড়ালেও, কয়েকটির দাম তুলনামূলকভাবে কম। বিশেষ করে পেঁপে, মিষ্টিকুমড়া, ফুলকপি, বাঁধাকপি ও পটোল ক্রেতারা ৩০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে কিনতে পারছেন।
মুরগির বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগির দাম ১৯০ টাকা। অন্যদিকে সোনালি মুরগির দাম কেজিপ্রতি ৩১০ থেকে ৩২০ টাকা। ব্রয়লারের তুলনায় সোনালি মুরগি কিনতে ক্রেতাদের বেশি টাকা গুনতে হচ্ছে।
এদিকে, মাছের বাজারেও দামের ক্ষেত্রে বড় ধরনের পার্থক্য দেখা গেছে। তুলনামূলক কম দামে প্রতি কেজি পাঙাশ ২৩০ টাকা এবং তেলাপিয়া ২৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া রুই মাছ ৩৫০ টাকা, পাবদা ৪০০ টাকা, চাষের শিং ৪৫০ টাকা, বায়লা ৫৫০ টাকা।
অন্যদিকে, বড় আকারের কাতল মাছের দাম কেজিপ্রতি ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, ট্যাংরা ৭০০ টাকা, আইড় ৭০০ থেকে ১,২৫০ টাকা এবং বাইন মাছ ৯০০ থেকে ১,২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি শিং মাছ বিক্রি হচ্ছে ১,০০০ টাকা কেজি দরে। বড় আকারের চিংড়ির দাম কেজিপ্রতি ১,৪০০ টাকা। সাগরের পাঙাশ বিক্রি হচ্ছে ১,২০০ টাকায়।
ইলিশের দামও বেশ চড়া। ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতি কেজির হিসাবে ২,০০০ থেকে ২,২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আর এক কেজি ওজনের ইলিশের দাম ২,৬০০ টাকা।
মাছ ব্যবসায়ী মোজাম্মেল বলেছেন, "সাগরের মাছ সব সময় বেশি থাকে। হাজারের নিচে বিক্রি হয় না। আবার দেশি মাছের দামও বেশি। চাষের মাছের দামও ২০০ টাকার উপরে। আজকে আইড় মাছ ৭০০ থেকে ১,২৫০ টাকা কেজি বিক্রি করছি।"
আজাদ রহমান নামে এক ক্রেতা জানিয়েছেন, মোহাম্মদপুরে অন্যান্য বাজারের তুলনায় টাউন হল মার্কেটে মাছের দাম একটু বেশি থাকে। দাম বেশি হলেও এখানে তরতাজা মাছ পাওয়া যায়।
এদিকে, আজকে প্রতি ডজন ব্রয়লা ডিম (ব্রাউন) ১৪০ ও সাদা ১৩০ টাকা বিক্রি করা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরিশাল কেন্দ্রীয় খাদ্য গুদামের জন্য ৩০০ টন গমবাহী একটি কার্গো জাহাজ কীর্তনখোলা নদীতে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে নগরীর কীর্তনখোলা নদীর খাদ্য গুদামের পন্টুনসংলগ্ন এলাকায়।
দুর্ঘটনাকবলিত কার্গোর ইনচার্জ মো. মানিক জানান, খুলনা থেকে গম বোঝাই করে গত ২৬ অক্টোবর ‘ডি বি পাপিয়া’ নামের ওই কার্গোটি বরিশালের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। বৃহস্পতিবার কার্গোটি বরিশাল কীর্তনখোলা নদীর খাদ্য গুদামের পন্টুনে এসে নোঙর করে। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে কোস্ট গার্ডের একটি জাহাজ আকস্মিকভাবে সজোরে গমবাহী কার্গোটিতে ধাক্কা দেয়। এর ফলে জাহাজের তলদেশে ফাটল ধরে দ্রুত পানি ঢুকতে শুরু করে। জাহাজটি নিমজ্জিত হওয়ার উপক্রম হলে প্রশাসনের লোকজন ও ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়।
বরিশাল ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার রবিউল ইসলাম জানান, খবর পাওয়ার পর তাদের দুটি টিম তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় আধা ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে জাহাজটি সম্পূর্ণ ডুবে যাওয়া থেকে রক্ষা করে। বর্তমানে জাহাজটি আশঙ্কামুক্ত অবস্থায় রয়েছে।
সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আবু সাঈদ জানান, নিয়মিত খাদ্য মজুদের অংশ হিসেবে ৩০০ মেট্রিক টন গম নিয়ে কার্গোটি আনা হয়েছিল। তবে খাদ্য খালাস করার আগেই এই দুর্ঘটনা ঘটে। পানিতে কিছু গম ভিজে গেলেও জাহাজে থাকা অধিকাংশ গম নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ জানিয়েছেন, কী কারণে এবং কিভাবে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ বাইন্যান্সে একটি বড় ধরনের সাইবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই হামলায় ৬৩০ কোটি ডলার (৪৭০ কোটি পাউন্ড) মূল্যের ডিজিটাল সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘটনাটি ইতিহাসের অন্যতম বড় হ্যাকিং হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।
বাইন্যান্স বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) জানিয়েছে, অন্যান্য ক্রিপ্টো প্ল্যাটফর্মের সহযোগিতায় চুরি হওয়া সম্পদের প্রায় অর্ধেক জব্দ করা সম্ভব হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বাকি ক্ষতির পুরোটা পূরণ করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে বাইন্যান্সের ধারণা, প্রতিষ্ঠানটির এক প্রকৌশলীর ল্যাপটপ হ্যাক হওয়ার মাধ্যমে এই ঘটনা ঘটেছে। ওই ল্যাপটপ ব্যবহার করে একজন হামলাকারী অননুমোদিতভাবে অর্থ উত্তোলন করতে সক্ষম হয়।
দুটি ক্রিপ্টো বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান এ হামলার জন্য উত্তর কোরিয়ার হ্যাকিং গোষ্ঠী ‘ট্রেডারট্রেটর’কে দায়ী করেছে। তাদের দাবি সত্য হলে, এই হামলার ক্ষয়ক্ষতি ২০২৫ সালে ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ বাইবিটে হওয়া ১৫০ কোটি ডলারের হ্যাকিংকেও ছাড়িয়ে যাবে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর তদন্তকারী প্রতিষ্ঠান টিআরএম ল্যাবস এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বাইন্যান্সে হামলার বেশ কয়েকটি কৌশলের সঙ্গে উত্তর কোরিয়াসংশ্লিষ্ট আগের সাইবার হামলার মিল রয়েছে। এর মধ্যে বাইবিটের হ্যাকিংয়ের ঘটনাও রয়েছে।
টিআরএম ল্যাবসের বৈশ্বিক নীতি বিভাগের প্রধান আরি রেডবোর্ড বিবিসিকে বলেন, বাইন্যান্সে এই হামলা ক্রিপ্টো শিল্পের জন্য একটি ‘যুগান্তকারী মুহূর্ত’। এমন ঘটনা আগে কখনো দেখা যায়নি। হামলাকারীর কাছে এখনো চুরি হওয়া বিপুল পরিমাণ সম্পদ রয়েছে। ফলে এসব অর্থের উৎস শনাক্ত ও উদ্ধারের চেষ্টা এখনো চলছে।
আরেক ক্রিপ্টো বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান চেইনঅ্যানালাইসিসও জানিয়েছে, এ হামলার সঙ্গে উত্তর কোরীয় গোষ্ঠীটির সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তাদের ‘দৃঢ় বিশ্বাস’ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির গবেষণা বিভাগের প্রধান এরিক জার্ডিন সব ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তার মতে, বিপুল পরিমাণ সম্পদ থাকায় এসব প্ল্যাটফর্ম হ্যাকারদের কাছে আকর্ষণীয় লক্ষ্যবস্তু।
হামলার সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার সম্ভাব্য সংশ্লিষ্টতা নিয়ে বিবিসির প্রশ্নের সরাসরি জবাব দেয়নি বাইন্যান্স। তবে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, অপরাধীদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে তারা।
হামলার প্রভাব পড়েছে Binance.com-এ। তবে যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দাদের জন্য ট্রেডিং সেবা দেয়া আলাদা প্ল্যাটফর্ম Binance.US জানিয়েছে, তাদের কার্যক্রমে এ ঘটনার কোনো প্রভাব পড়েনি।
প্রায় ২৪০ কোটি ডলারের সম্পদ জব্দ
বাইন্যান্সের সহ-প্রধান নির্বাহী ই হে একাধিক পোস্টে বিভিন্ন ক্রিপ্টোকারেন্সি ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠানকে চুরি হওয়া সম্পদ জব্দে সহায়তার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, নিরাপত্তাই তাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্ল্যাটফর্মের পরিবেশ নিরাপদ বলে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত অর্থ উত্তোলন বন্ধ রাখা হয়েছে।
এ ঘটনায় দুটি বড় ক্রিপ্টো প্ল্যাটফর্ম টেথার ও সার্কেল মোট প্রায় ২৪০ কোটি ডলারের সম্পদ জব্দ করেছে বলে জানিয়েছে। সার্কেলের প্রধান নির্বাহী জেরেমি অ্যালেয়ার বলেন, বাইন্যান্স-সংশ্লিষ্ট সম্ভাব্য অপব্যবহারের খবর তারা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ৮০ কোটি ডলারের বেশি মূল্যের সম্পদ জব্দ করেছে তার প্রতিষ্ঠান।
সার্কেল বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মার্কিন ডলার-সমর্থিত ক্রিপ্টোকারেন্সি ইউএসডিসির ইস্যুকারী ও সহ-নির্মাতা।
অন্যদিকে, টেথারের প্রধান নির্বাহী পাওলো আরদোইনো বলেন, বাইন্যান্স এক্সচেঞ্জে সম্ভাব্য হ্যাকিংয়ের ঘটনায় তাদের প্রতিষ্ঠান প্রায় ১৬০ কোটি ডলারের সম্পদ জব্দ করেছে। তিনি বলেন, ক্রিপ্টো শিল্প ও অংশীদারদের সুরক্ষা দেয়া তাঁদের প্রধান অগ্রাধিকার। টেথার ইউএসডিটি নামে পরিচিত ক্রিপ্টোকারেন্সি ইস্যু করে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার পরিবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ক্রিপ্টো কোম্পানি ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফিন্যান্সিয়াল জানিয়েছে, তাদেরাও অংশীদারদের সঙ্গে মিলে চুরি হওয়া অর্থ জব্দ করেছে।
এদিকে, আরেক ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ কয়েনবেস জানিয়েছে, এই ঘটনায় তাদের কার্যক্রমে কোনো প্রভাব পড়েনি। তবে তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
হামলার খবরে কমেছে ক্রিপ্টোকারেন্সির দাম।
বাইন্যান্স নিরাপত্তা সমস্যার বিষয়টি নিশ্চিত করার কয়েক ঘণ্টা আগেই ক্রিপ্টো শিল্পের কয়েকজন পর্যবেক্ষক প্রতিষ্ঠানটিতে সম্ভাব্য হ্যাকিংয়ের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন।
২০১৭ সালে চীনে প্রতিষ্ঠিত বাইন্যান্স ব্যবহারকারীদের ডিজিটাল সম্পদ কেনাবেচার সুযোগ দেয়। বিশ্বজুড়ে প্রতিষ্ঠানটির ৩০ কোটির বেশি নিবন্ধিত ব্যবহারকারী রয়েছে বলে ধারণা করা হয়।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নিয়ন্ত্রক সংস্থার তদন্তের মুখেও রয়েছে এক্সচেঞ্জটি। ২০২৪ সালে বাইন্যান্স জানিয়েছিল, তাদের তত্ত্বাবধানে থাকা সম্পদের পরিমাণ ১৬ হাজার কোটি ডলারের বেশি।
হ্যাকিংয়ের সতর্কবার্তার পর বিটকয়েনের দাম ৪ শতাংশের বেশি কমে গেছে। ইথেরিয়াম ও সোলানাসহ অন্যান্য প্রধান ক্রিপ্টোকারেন্সির দামও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ