ঢাকা শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বরিশালে ৩০০ টন গমবাহী কার্গো জাহাজ দুর্ঘটনায় পড়েছে


বরিশালে ৩০০ টন গমবাহী কার্গো জাহাজ দুর্ঘটনায় পড়েছে

বরিশাল কেন্দ্রীয় খাদ্য গুদামের জন্য ৩০০ টন গমবাহী একটি কার্গো জাহাজ কীর্তনখোলা নদীতে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে নগরীর কীর্তনখোলা নদীর খাদ্য গুদামের পন্টুনসংলগ্ন এলাকায়।

দুর্ঘটনাকবলিত কার্গোর ইনচার্জ মো. মানিক জানান, খুলনা থেকে গম বোঝাই করে গত ২৬ অক্টোবর ‘ডি বি পাপিয়া’ নামের ওই কার্গোটি বরিশালের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। বৃহস্পতিবার কার্গোটি বরিশাল কীর্তনখোলা নদীর খাদ্য গুদামের পন্টুনে এসে নোঙর করে। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে কোস্ট গার্ডের একটি জাহাজ আকস্মিকভাবে সজোরে গমবাহী কার্গোটিতে ধাক্কা দেয়। এর ফলে জাহাজের তলদেশে ফাটল ধরে দ্রুত পানি ঢুকতে শুরু করে। জাহাজটি নিমজ্জিত হওয়ার উপক্রম হলে প্রশাসনের লোকজন ও ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়।

বরিশাল ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার রবিউল ইসলাম জানান, খবর পাওয়ার পর তাদের দুটি টিম তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় আধা ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে জাহাজটি সম্পূর্ণ ডুবে যাওয়া থেকে রক্ষা করে। বর্তমানে জাহাজটি আশঙ্কামুক্ত অবস্থায় রয়েছে।

আরও পড়ুন: ১ ডিসেম্বর থেকে দেশব্যাপী সাংস্কৃতিক উৎসব শুরু: সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী

সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আবু সাঈদ জানান, নিয়মিত খাদ্য মজুদের অংশ হিসেবে ৩০০ মেট্রিক টন গম নিয়ে কার্গোটি আনা হয়েছিল। তবে খাদ্য খালাস করার আগেই এই দুর্ঘটনা ঘটে। পানিতে কিছু গম ভিজে গেলেও জাহাজে থাকা অধিকাংশ গম নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ জানিয়েছেন, কী কারণে এবং কিভাবে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইতিহাসের অন্যতম বড় হ্যাকিংয়ের শিকার বাইন্যান্স!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৩৬ পি.এম


ইতিহাসের অন্যতম বড় হ্যাকিংয়ের শিকার বাইন্যান্স!

বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ বাইন্যান্সে একটি বড় ধরনের সাইবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই হামলায় ৬৩০ কোটি ডলার (৪৭০ কোটি পাউন্ড) মূল্যের ডিজিটাল সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘটনাটি ইতিহাসের অন্যতম বড় হ্যাকিং হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।

বাইন্যান্স বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) জানিয়েছে, অন্যান্য ক্রিপ্টো প্ল্যাটফর্মের সহযোগিতায় চুরি হওয়া সম্পদের প্রায় অর্ধেক জব্দ করা সম্ভব হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বাকি ক্ষতির পুরোটা পূরণ করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে।

প্রাথমিক তদন্তে বাইন্যান্সের ধারণা, প্রতিষ্ঠানটির এক প্রকৌশলীর ল্যাপটপ হ্যাক হওয়ার মাধ্যমে এই ঘটনা ঘটেছে। ওই ল্যাপটপ ব্যবহার করে একজন হামলাকারী অননুমোদিতভাবে অর্থ উত্তোলন করতে সক্ষম হয়।

দুটি ক্রিপ্টো বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান এ হামলার জন্য উত্তর কোরিয়ার হ্যাকিং গোষ্ঠী ‘ট্রেডারট্রেটর’কে দায়ী করেছে। তাদের দাবি সত্য হলে, এই হামলার ক্ষয়ক্ষতি ২০২৫ সালে ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ বাইবিটে হওয়া ১৫০ কোটি ডলারের হ্যাকিংকেও ছাড়িয়ে যাবে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর তদন্তকারী প্রতিষ্ঠান টিআরএম ল্যাবস এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বাইন্যান্সে হামলার বেশ কয়েকটি কৌশলের সঙ্গে উত্তর কোরিয়াসংশ্লিষ্ট আগের সাইবার হামলার মিল রয়েছে। এর মধ্যে বাইবিটের হ্যাকিংয়ের ঘটনাও রয়েছে।

টিআরএম ল্যাবসের বৈশ্বিক নীতি বিভাগের প্রধান আরি রেডবোর্ড বিবিসিকে বলেন, বাইন্যান্সে এই হামলা ক্রিপ্টো শিল্পের জন্য একটি ‘যুগান্তকারী মুহূর্ত’। এমন ঘটনা আগে কখনো দেখা যায়নি। হামলাকারীর কাছে এখনো চুরি হওয়া বিপুল পরিমাণ সম্পদ রয়েছে। ফলে এসব অর্থের উৎস শনাক্ত ও উদ্ধারের চেষ্টা এখনো চলছে।

আরেক ক্রিপ্টো বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান চেইনঅ্যানালাইসিসও জানিয়েছে, এ হামলার সঙ্গে উত্তর কোরীয় গোষ্ঠীটির সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তাদের ‘দৃঢ় বিশ্বাস’ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির গবেষণা বিভাগের প্রধান এরিক জার্ডিন সব ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তার মতে, বিপুল পরিমাণ সম্পদ থাকায় এসব প্ল্যাটফর্ম হ্যাকারদের কাছে আকর্ষণীয় লক্ষ্যবস্তু।

হামলার সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার সম্ভাব্য সংশ্লিষ্টতা নিয়ে বিবিসির প্রশ্নের সরাসরি জবাব দেয়নি বাইন্যান্স। তবে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, অপরাধীদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে তারা।

হামলার প্রভাব পড়েছে Binance.com-এ। তবে যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দাদের জন্য ট্রেডিং সেবা দেয়া আলাদা প্ল্যাটফর্ম Binance.US জানিয়েছে, তাদের কার্যক্রমে এ ঘটনার কোনো প্রভাব পড়েনি।

প্রায় ২৪০ কোটি ডলারের সম্পদ জব্দ

বাইন্যান্সের সহ-প্রধান নির্বাহী ই হে একাধিক পোস্টে বিভিন্ন ক্রিপ্টোকারেন্সি ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠানকে চুরি হওয়া সম্পদ জব্দে সহায়তার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, নিরাপত্তাই তাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্ল্যাটফর্মের পরিবেশ নিরাপদ বলে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত অর্থ উত্তোলন বন্ধ রাখা হয়েছে।

এ ঘটনায় দুটি বড় ক্রিপ্টো প্ল্যাটফর্ম টেথার ও সার্কেল মোট প্রায় ২৪০ কোটি ডলারের সম্পদ জব্দ করেছে বলে জানিয়েছে। সার্কেলের প্রধান নির্বাহী জেরেমি অ্যালেয়ার বলেন, বাইন্যান্স-সংশ্লিষ্ট সম্ভাব্য অপব্যবহারের খবর তারা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ৮০ কোটি ডলারের বেশি মূল্যের সম্পদ জব্দ করেছে তার প্রতিষ্ঠান।

সার্কেল বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মার্কিন ডলার-সমর্থিত ক্রিপ্টোকারেন্সি ইউএসডিসির ইস্যুকারী ও সহ-নির্মাতা।

অন্যদিকে, টেথারের প্রধান নির্বাহী পাওলো আরদোইনো বলেন, বাইন্যান্স এক্সচেঞ্জে সম্ভাব্য হ্যাকিংয়ের ঘটনায় তাদের প্রতিষ্ঠান প্রায় ১৬০ কোটি ডলারের সম্পদ জব্দ করেছে। তিনি বলেন, ক্রিপ্টো শিল্প ও অংশীদারদের সুরক্ষা দেয়া তাঁদের প্রধান অগ্রাধিকার। টেথার ইউএসডিটি নামে পরিচিত ক্রিপ্টোকারেন্সি ইস্যু করে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার পরিবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ক্রিপ্টো কোম্পানি ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফিন্যান্সিয়াল জানিয়েছে, তাদেরাও অংশীদারদের সঙ্গে মিলে চুরি হওয়া অর্থ জব্দ করেছে।

এদিকে, আরেক ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ কয়েনবেস জানিয়েছে, এই ঘটনায় তাদের কার্যক্রমে কোনো প্রভাব পড়েনি। তবে তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।

হামলার খবরে কমেছে ক্রিপ্টোকারেন্সির দাম।

বাইন্যান্স নিরাপত্তা সমস্যার বিষয়টি নিশ্চিত করার কয়েক ঘণ্টা আগেই ক্রিপ্টো শিল্পের কয়েকজন পর্যবেক্ষক প্রতিষ্ঠানটিতে সম্ভাব্য হ্যাকিংয়ের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন।

২০১৭ সালে চীনে প্রতিষ্ঠিত বাইন্যান্স ব্যবহারকারীদের ডিজিটাল সম্পদ কেনাবেচার সুযোগ দেয়। বিশ্বজুড়ে প্রতিষ্ঠানটির ৩০ কোটির বেশি নিবন্ধিত ব্যবহারকারী রয়েছে বলে ধারণা করা হয়।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নিয়ন্ত্রক সংস্থার তদন্তের মুখেও রয়েছে এক্সচেঞ্জটি। ২০২৪ সালে বাইন্যান্স জানিয়েছিল, তাদের তত্ত্বাবধানে থাকা সম্পদের পরিমাণ ১৬ হাজার কোটি ডলারের বেশি।

হ্যাকিংয়ের সতর্কবার্তার পর বিটকয়েনের দাম ৪ শতাংশের বেশি কমে গেছে। ইথেরিয়াম ও সোলানাসহ অন্যান্য প্রধান ক্রিপ্টোকারেন্সির দামও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্পেনে এক বছরে দুই ট্রেন দুর্ঘটনা, বেঁচে ফেরা যাত্রীদের নিরাপত্তা বাড়ানোর দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৩৭ পি.এম


স্পেনে এক বছরে দুই ট্রেন দুর্ঘটনা, বেঁচে ফেরা যাত্রীদের নিরাপত্তা বাড়ানোর দাবি

স্পেনে এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে দুটি মারাত্মক ট্রেন দুর্ঘটনায় ১১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর আগে ২০১৩ সালে দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় ৮০ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন। একের পর এক দুর্ঘটনার পর রেলপথের নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণে অধিক বিনিয়োগের দাবি জানিয়েছেন দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে ফেরা যাত্রী ও বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, নতুন রেললাইন নির্মাণের পাশাপাশি পুরোনো লাইন ও সংকেতব্যবস্থার রক্ষণাবেক্ষণে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

বুধবার মধ্য স্পেনের টলেডোর কাছে উর্দা শহরের পাশে দুটি ট্রেনের সংঘর্ষে অন্তত ৬৯ জন নিহত হন। এর মাত্র ১০ মাস আগে, গত জানুয়ারিতে দক্ষিণ স্পেনের কর্দোবার কাছে আদামুজ এলাকায় একই রেলপথে দুটি ট্রেনের সংঘর্ষে ৪৬ জন প্রাণ হারান। ১৩ বছর আগে, ২০১৩ সালে উত্তর-পশ্চিম স্পেনের সান্তিয়াগো দে কম্পোস্তেলার কাছে আংরোইসে দ্রুতগতির একটি ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে ৮০ জন নিহত হয়েছিলেন। সেটিই স্পেনের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাণঘাতী রেল দুর্ঘটনা।

আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশটির তিনটি মারাত্মক রেল দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে ফেরা যাত্রীরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে এমন প্রাণহানি প্রতিরোধে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

২০১৩ সালের আংরোইস দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যাওয়া ক্রিস্টোবাল গনজালেজ বলেন, ‘আমি বেঁচে গেছি, কিন্তু এত বছর পরও সেই মানসিক ক্ষত রয়ে গেছে। আমাদের আরো দুর্ঘটনা বন্ধ করতে হবে।’

গনজালেজের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লেগেছিল। তার মতে, ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার গতিতে চলার কথা ছিল ট্রেনটির, কিন্তু সেটি ঘণ্টায় ২০০ কিলোমিটার গতিতে চলতে গিয়ে লাইনচ্যুত হয়। দুর্ঘটনায় ৮০ জন প্রাণ হারান।

আলজাজিরাকে গনজালেজ বলেন, ‘এখন আমরা আংরোইস, আদামুজ ও উর্দায় তিনটি ভয়াবহ দুর্ঘটনা দেখলাম। ব্যবস্থা না নিলে এমন দুর্ঘটনা ঘটতেই থাকবে।’

তিনি বলেন, আংরোইসে চালক অতিরিক্ত গতিতে ট্রেন চালাচ্ছিলেন। আদামুজ দুর্ঘটনার তদন্তে রেললাইনে ত্রুটি পাওয়া গেছে। উর্দার দুর্ঘটনার পেছনে মানুষের ভুল এবং নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার সমস্যার ভূমিকা থাকতে পারে। নিরাপত্তায় আরো বিনিয়োগ করে এসব দুর্ঘটনা বন্ধ করতে হবে।

আংরোইস দুর্ঘটনার সময় গনজালেজ এক বন্ধুর সঙ্গে সান্তিয়াগো দে কম্পোস্তেলা যাচ্ছিলেন। তিনি ট্রেনটির সামনের বগিতে ছিলেন। দুর্ঘটনার সময় ট্রেনটি লাইন থেকে ছিটকে গিয়ে একটি ঢালে আছড়ে পড়ে। অন্য যাত্রীদের শেষ মুহূর্তে সাহায্য করার চেষ্টা করতে গিয়ে তিনি ট্রেনের ভেতরেই ছিলেন।

সেই দিনের ঘটনা নিয়ে এখনো কথা বলতে কষ্ট হয় তার। মানসিক আঘাতজনিত সমস্যায় ভুগছেন তিনি। গনজালেজ বলেন, ‘যা ঘটেছিল, তা নিজের মধ্যেই রেখে দেব। এ বিষয়ে কথা বলা খুব কঠিন। বলতে চাইলেও পারব কি না জানি না। ঘটনাটি কল্পনারও বাইরে।’

‘বিশ্বাস করতে পারছি না, আবারও এমন ঘটনা ঘটল’

চলতি বছরের জানুয়ারিতে আদামুজ দুর্ঘটনার সময় রেনফে পরিচালিত ট্রেনটির যাত্রী ছিলেন সান্তিয়াগো রোসেন্দো। দুর্ঘটনার ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ট্রেনের যাত্রীদের মধ্যে তখন আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল।

আলজাজিরাকে তিনি বলেন, ‘প্রথমে হঠাৎ করেই ট্রেনটি থেমে যায়। এরপর প্রচণ্ড শব্দে সংঘর্ষ হয়। ট্রেনটি এদিক-ওদিক দুলতে থাকে। একপর্যায়ে কাত হয়ে পড়ে। চারদিকে তখন ঘুটঘুটে অন্ধকার।’

রোসেন্দো জানান, দুর্ঘটনার পর ট্রেন থেকে নেমে প্রথমেই তিনি একটি লাশ দেখতে পান। ওই রাতে তিনি একাই মাদ্রিদ থেকে দক্ষিণ স্পেনের হুয়েলভা যাচ্ছিলেন।

তিনি বলেন, ‘একই রেলপথে আবারও এমন ঘটনা ঘটেছে, এটা আমি বিশ্বাস করতে পারছি না। আমাদের কিছু একটা করতেই হবে।’

আদামুজ দুর্ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে বলা হয়েছে, রেললাইনের একটি অংশ ভেঙে যাওয়ায় একটি ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা আরেকটি ট্রেনের সামনে চলে আসে। ফলে দুটি ট্রেনের সংঘর্ষ ঘটে।

চলতি বছরের এসব দুর্ঘটনার পর বিশেষজ্ঞরা রেলপথের রক্ষণাবেক্ষণে আরও বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন।

ইউরোপীয় কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত স্পেন প্রতিবছর উচ্চগতির রেলপথে গড়ে প্রায় ১৬৭ কোটি ডলার ব্যয় করেছে। একই ধরনের রেল নেটওয়ার্ক থাকা ইউরোপের অন্যান্য দেশের তুলনায় এই ব্যয় বেশি। তবে এই অর্থের মাত্র ১৬ শতাংশ ব্যয় হয়েছে রেলপথের রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতে। বাকি অর্থ ব্যয় হয়েছে অবকাঠামো নির্মাণে।

অন্যদিকে ইতালি, জার্মানি ও ফ্রান্স তাদের রেল নেটওয়ার্কের রক্ষণাবেক্ষণে মোট বাজেটের গড়ে ৩৩ থেকে ৩৯ শতাংশ ব্যয় করেছে। অথচ এসব দেশের প্রতিটির উচ্চগতির রেল নেটওয়ার্ক স্পেনের ৪ হাজার কিলোমিটারের নেটওয়ার্কের চেয়ে ছোট।

রেলপথের রক্ষণাবেক্ষণে বিনিয়োগ বাড়ানোর তাগিদ

স্প্যানিশ অ্যাসোসিয়েশন অব সিভিল ইঞ্জিনিয়ার্সের মুখপাত্র হোসে মারিয়া গোইকোলেয়া আলজাজিরাকে বলেন, রেল নেটওয়ার্কের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এর রক্ষণাবেক্ষণে ব্যয়ও বাড়াতে হবে।

তিনি বলেন, ‘১৯৮২ সালে যখন প্রথম রেলপথ চালু হয়েছিল, তখন নেটওয়ার্কটি ছিল খুব ছোট। এখন এটি অনেক বড় হয়েছে এবং ব্যবহারও বেড়েছে। পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণ ভিন্ন। শুধু নতুন রেললাইন নির্মাণের দিকে নজর দিলে চলবে না, রক্ষণাবেক্ষণেও বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।’

২০২৪ সালে স্পেনের উচ্চগতির ট্রেনে প্রায় ৪ কোটি মানুষ যাতায়াত করেছেন। ২০১৯ সালের তুলনায় এই সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে উচ্চগতির রেল নেটওয়ার্কে যাত্রী ছিলেন প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ। তবে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় যাত্রীর সংখ্যা ১৪ শতাংশ কমেছে।

এ বছর দুটি দুর্ঘটনাই ঘটেছে মাদ্রিদ-সেভিয়া রেলপথে। স্পেনের রেল নেটওয়ার্কে এই একমাত্র পথটিতে জার্মানিতে তৈরি ১৯৭০-এর দশকের এলজেডবি নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়। বর্তমানে এই প্রযুক্তি ধাপে ধাপে সরিয়ে ফেলা হচ্ছে।

গোইকোলেয়া মনে করেন, এলজেডবি ব্যবস্থা পুরোপুরি সরিয়ে না নেওয়া পর্যন্ত মাদ্রিদ-সেভিয়া রেলপথটি বন্ধ রাখা উচিত।

তিনি বলেন, ‘আমি মাদ্রিদ-সেভিয়া রেলপথটি বন্ধ রাখার পক্ষে, যতক্ষণ না এলজেডবি ব্যবস্থা সরিয়ে ফেলা হচ্ছে। বুধবারের দুর্ঘটনার জন্য ব্যবস্থাটি আংশিকভাবে দায়ী ছিল। এটি কাজ করেনি। তবে মনে হচ্ছে, মানুষের ভুলও দুর্ঘটনার আরেকটি কারণ। অবশ্য এ সিদ্ধান্ত রাজনীতিবিদদের, আমার নয়।’

গোইকোলেয়া আরো বলেন, জানুয়ারির দুর্ঘটনার কারণ ছিল রেলপথের ত্রুটি।

কাতালোনিয়ার পলিটেকনিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক ও অবকাঠামো বিশেষজ্ঞ রামিরো আউপিন লোপেরা বলেন, ২০১১ সাল থেকে অর্থনৈতিক সংকটের পর স্পেনের উচ্চগতির রেল নেটওয়ার্কের রক্ষণাবেক্ষণে বিনিয়োগ হাস্যকর পর্যায়ে কমে গেছে।

তিনি আলজাজিরাকে বলেন, ‘একদিকে রেল নেটওয়ার্কের ব্যবহার বেড়েছে, অন্যদিকে রক্ষণাবেক্ষণে বিনিয়োগ কমেছে। এক বছরেরও কম সময়ে দুটি দুর্ঘটনা ঘটেছে, এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। রাজনীতিবিদদের বিজ্ঞান ও অবকাঠামো সম্পর্কে অজ্ঞতা কিংবা এসবের প্রতি অবহেলা থেকে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে।’

স্পেনের রাষ্ট্রীয় রেল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান রেনফে ছাড়াও দেশটিতে দুটি বেসরকারি রেল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এগুলো হলো ফ্রান্সের ওউইগো এবং ইতালির একটি ব্যবসায়ী জোটের অংশ ইরিও। প্রতিষ্ঠান দুটি মাদ্রিদ-সেভিয়া রেলপথের এলজেডবি নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে।

গত বছর স্পেনের ওউইগোর তৎকালীন পরিচালক হেলেন ভেনেজুয়েলা দেশটির রেডিও ক্যাদেনা সেরকে বলেছিলেন, ‘মাদ্রিদ-সেভিয়া রেলপথে এলজেডবির মতো পুরোনো ব্যবস্থা রয়েছে। বিষয়টি অনেকটা সাদাকালো পর্দায় নেটফ্লিক্স দেখার মতো। আমরা নেটফ্লিক্স, অথচ এই ব্যবস্থা এখনো সাদাকালোতেই আটকে আছে।’

এদিকে সর্বশেষ দুর্ঘটনার জন্য রেলকর্মীদের দায়ী করার বিষয়ে সতর্ক করেছেন স্পেনের ট্রেনচালকদের ইউনিয়ন সেমাফের কর্মকর্তা দিয়েগো মার্তিন। তিনি বলেন, ‘দোষারোপ করে দুর্ঘটনা ঠেকানো যায় না। দুর্ঘটনার কারণ চিহ্নিত করা এবং তা নির্ধারণ করাই পারে এমন ঘটনা প্রতিরোধ করতে।’

এএম

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত শ্রমবাজার ও রেমিট্যান্সে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে: এম হুমায়ুন কবির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৩৮ পি.এম


মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত শ্রমবাজার ও রেমিট্যান্সে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে: এম হুমায়ুন কবির

পাকিস্তান, সৌদি আরব এবং তুরস্কের মধ্যে যে মক্কা চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে, তা তাদের নিজস্ব নিরাপত্তার স্বার্থে গৃহীত। মুসলিম বিশ্বের ঐক্যবদ্ধ করার জন্য প্রয়োজনীয় কাঠামো মক্কা চুক্তিতে বিদ্যমান কিনা, তা সন্দেহজনক। এ চুক্তির মাধ্যমে মুসলিম বিশ্বের স্বার্থ কতটা সুরক্ষিত হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

বাংলাদেশের জন্য মক্কা চুক্তিতে যোগদান করা একটি কঠিন সিদ্ধান্ত। এই বিষয়ে কোনো আবেগের পরিবর্তে গভীর চিন্তার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা আবশ্যক। সৌদি আরবে সৈন্য পাঠানোর বিষয়ে বাংলাদেশ কি পদক্ষেপ নেবে, তা বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। প্রয়োজনে, মক্কা চুক্তির আওতায় না গিয়েও সৌদি আরবের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিকভাবে সৈন্য পাঠানো সম্ভব। মধ্যপ্রাচ্য ও সৌদি আরবের চলমান সংঘাত যদি দীর্ঘায়িত হয়, তাহলে বাংলাদেশের শ্রমবাজার এবং রেমিট্যান্সে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

বাংলাদেশ যদি মক্কা চুক্তিতে যুক্ত হয়, তাহলে ভারত, ইসরায়েল এবং ইউএই মিলে একটি নতুন অক্ষশক্তি গঠনের সম্ভাবনা রয়েছে। এতে দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা এবং অর্থনৈতিক পরিবেশ বিঘ্নিত হতে পারে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য সংকট একটি জটিল অবস্থায় পৌঁছেছে। সম্প্রতি সৌদি আরবের সঙ্গে হুতিদের সংঘাত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। হুতিদের ক্ষতিপূরণ এবং পারস্পরিক সম্মান প্রদানের মাধ্যমে এই সংঘাতের সমাধান সম্ভব হতে পারে।

আজ (৩০ অক্টোবর ২০২৬, শুক্রবার) এফডিসিতে মুসলিম বিশ্বের সংকট নিরসনে মক্কা চুক্তি নিয়ে আয়োজিত ছায়া সংসদে সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবির প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব বিষয় তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। প্রতিযোগিতাটি ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজন করে।

সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, বর্তমানে মুসলিম বিশ্ব একটি চরম সংকটের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত করছে। ফিলিস্তিন, কাশ্মীর, রোহিঙ্গা সহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে মুসলমানরা নির্যাতিত, বাস্তুচ্যুত এবং অধিকারবঞ্চিত। অভ্যন্তরীণ কোন্দল, শিয়া—সুন্নী সংঘাত, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং ইসলামবিদ্বেষীদের সন্ত্রাসী তকমা মুসলমানদের দুর্বল করে দিচ্ছে। ওআইসি, জিসিসি, আইএমসিটিসি এর মতো সংস্থাগুলো বর্তমানে কার্যকর নয়।

ইসলামবিদ্বেষীরা মুসলমানদের মধ্যে অনৈক্য ও অভ্যন্তরীণ কোন্দলের সুযোগ নিয়ে ইসলামোফোবিয়া তৈরি করছে। যা ইসলামবিরোধীরা তাদের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। এমনকি মুসলিমবিদ্বেষী মিডিয়া ইসলামকে একটি ‘সহিংস ও উগ্রপন্থী’ ধর্ম হিসেবে উপস্থাপন করছে। তিনি আরও বলেন, যেদিন ইসলামী শক্তিগুলো নিজেদের মধ্যে দেয়াল ভেঙে এক কাতারে দাঁড়াতে পারবে, সেদিন ইসলামবিদ্বেষীদের সব প্রোপাগান্ডা তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়বে।

মুসলিম বিশ্বের সংকট নিরসনে ‘মক্কা চুক্তি’ কতটুকু কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, তা দেখা জরুরি। সম্প্রতি ইরানের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে তেহরানে মক্কা প্যাক্টের অন্তর্ভুক্ত রাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধিদের আলোচনা চলমান সৌদি—হুতি সংঘাত বন্ধের সম্ভাবনা উন্মোচিত করেছে। তবে, দুদিন আগে ইয়েমেনে এবং হুতিদের ওপর সৌদি আরবের বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হুতিদের সঙ্গে সৌদি আরবের যুদ্ধ পরিস্থিতি আবারও উসকে দিচ্ছে। মক্কা চুক্তির প্রতি বাংলাদেশের ইতিবাচক মনোভাবকে কাজে লাগিয়ে শ্রমবাজার সম্প্রসারণ, সৌদি বিনিয়োগ, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানসহ আমাদের স্বার্থ সুরক্ষার উপায় খুঁজে বের করতে হবে।

‘মুসলিম বিশ্বের বিদ্যমান সংকট নিরসনে মক্কা চুক্তি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে’ শীর্ষক ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় সরকারি দল কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহের বিতার্কিকদের পরাজিত করে বিরোধী দল আনন্দ মোহন কলেজ, ময়মনসিংহের বিতার্কিকরা বিজয়ী হন। প্রতিযোগিতায় বিচারক হিসেবে ছিলেন অধ্যাপক আবু মোহাম্মদ রইস, সাংবাদিক মাঈনুল আলম, সাংবাদিক এ কে এম মঈনুদ্দিন, সাংবাদিক ইমরুল কায়েস এবং সাংবাদিক শাতিলা শারমিন। প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী দলকে ট্রফি, ক্রেস্ট এবং সনদপত্র প্রদান করা হয়। ছায়া সংসদটি ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজন করে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নভেম্বর থেকে টিসিবি হলুদ-মরিচের গুঁড়া ও চা বিক্রি করবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৪১ পি.এম


নভেম্বর থেকে টিসিবি হলুদ-মরিচের গুঁড়া ও চা বিক্রি করবে

ভোক্তাদের জন্য পণ্যের পরিসর বৃদ্ধির লক্ষ্যে, বাণিজ্যিক আয় বৃদ্ধি এবং সরকারি ভর্তুকির ওপর নির্ভরতা কমানোর উদ্দেশ্যে আগামী নভেম্বর থেকে প্যাকেটজাত হলুদ গুঁড়া, মরিচ গুঁড়া ও চা বিক্রি শুরু করার পরিকল্পনা করেছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)।

টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ফয়সল আজাদ জানিয়েছেন, সাশ্রয়ী মূল্যে ভোক্তাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহের পাশাপাশি সংস্থার আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করার জন্য বাণিজ্যিক পণ্যের পরিসর সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, “আমরা ইতোমধ্যে সাবান ও ডিটারজেন্ট বিক্রি শুরু করেছি। আগামী নভেম্বর থেকে প্যাকেটজাত হলুদ ও মরিচের গুঁড়া বিক্রির পরিকল্পনা রয়েছে। চা বিক্রিরও অনুমোদন পেয়েছি। আশা করছি, নভেম্বরেই এটি বাজারে আনতে পারব।”

টিসিবি চেয়ারম্যান আরও জানান, সংস্থাটি আটা বিক্রির পরিকল্পনাও করছে। বাজারের চাহিদা যাচাই করে নতুন পণ্য বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে বাজার জরিপ চলছে এবং জরিপের ফল ইতিবাচক হলে নতুন পণ্য বাজারে আনা হবে।

আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে বাণিজ্যিক কার্যক্রম থেকে আয় বাড়িয়ে এবং সরকারি ভর্তুকির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হওয়ার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে টিসিবি পণ্যের পরিসর বাড়াচ্ছে।

ইতোমধ্যে সংস্থাটি কাপড় কাচার সাবান, গোসলের সাবান, ডিটারজেন্ট ও লবণ বিক্রি শুরু করেছে। এসব পণ্য প্রচলিত বাজারদরের চেয়ে কম দামে বিক্রি করা হলেও সংগ্রহমূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।

ফলে ভোক্তারা সাশ্রয়ী মূল্যে প্রয়োজনীয় পণ্য পাচ্ছেন, পাশাপাশি এসব পণ্য থেকে টিসিবি সামান্য মুনাফাও করছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাণিজ্যিক কার্যক্রম থেকে টিসিবি ২৪ কোটি ৩৭ লাখ টাকা মুনাফা করেছে।

ফয়সল আজাদ বলেন, পণ্যের পরিসর বাড়ানো এবং আরো বেশি ভোক্তার কাছে পৌঁছাতে পারলে সংস্থার আয় বৃদ্ধি পাবে। তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হলো পণ্যের পরিসর বাড়িয়ে অতিরিক্ত আয় করা।”

তিনি জানান, সম্প্রসারিত পণ্যসম্ভারের মাধ্যমে এক কোটি গ্রাহকের কাছে পৌঁছাতে পারলে টিসিবির প্রায় ৭০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত আয় বা আর্থিক সুবিধা অর্জনের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে প্রকৃত আয় নির্ভর করবে বিক্রির পরিমাণ ও পরিচালন কার্যক্রমের দক্ষতার ওপর।

বর্তমানে টিসিবি নতুন বাণিজ্যিক পণ্যের মাধ্যমে প্রতি মাসে প্রায় ৫০ লাখ গ্রাহকের কাছে পৌঁছাচ্ছে। চলতি অর্থবছরে এ সংখ্যা ৭০ থেকে ৮০ লাখে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। আগামী অর্থবছরে গ্রাহকসংখ্যা এক কোটিতে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে সংস্থাটি।

টিসিবি চেয়ারম্যান বলেন, মাত্র চার মাস আগে নতুন পণ্যগুলো বিক্রি শুরু হয়েছে। গ্রাহকদের কাছ থেকে সাড়া মোটামুটি ভালো পাওয়া যাচ্ছে। তবে গ্রাহকসংখ্যা আরও বাড়াতে চান তারা।

নতুন পণ্য বিক্রির কারণে বিদ্যমান ভর্তুকির পণ্যের দাম বাড়বে না বলে জানান তিনি। এসব নতুন পণ্য কেনা বা না কেনার সিদ্ধান্ত ভোক্তাদের ওপরই থাকবে।

তিনি বলেন, “সরকার ভর্তুকির আওতায় বর্তমানে যেসব পণ্য বিক্রি করছে, সেগুলোর দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই। আগের দামেই এসব পণ্য বিক্রি অব্যাহত থাকবে।”

নতুন পণ্যগুলো বাজারদরের চেয়ে কম দামে বিক্রি করা হবে কি না, জানতে চাইলে টিসিবি চেয়ারম্যান বলেন, “হ্যাঁ, নতুন পণ্যগুলোর দামও প্রচলিত বাজারদরের চেয়ে কম থাকবে।”

তিনি বলেন, একসঙ্গে সব পরিবর্তন না এনে ধাপে ধাপে পণ্যের পরিসর বাড়ানোর কৌশল নিয়েছে টিসিবি। এর লক্ষ্য হলো, যাতে ভোক্তারা সংস্থার বিক্রয়কেন্দ্র থেকেই এক জায়গায় তাঁদের নিয়মিত প্রয়োজনীয় অধিকাংশ নিত্যপণ্য কিনতে পারেন।

এদিকে স্মার্ট কার্ডভিত্তিক বিতরণ কর্মসূচির বাইরে ভোজ্যতেল, ডাল ও চিনিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রির সুযোগও খতিয়ে দেখছে টিসিবি। এ লক্ষ্যে ভোজ্যতেল বিক্রির একটি পরীক্ষামূলক উদ্যোগ চলছে। প্রস্তাবিত এ কর্মসূচির আওতায় পণ্য বিক্রির জন্য সম্ভাব্য ডিলারদের কাছ থেকে আবেদনও আহ্বান করেছে সংস্থাটি।

পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানোর পাশাপাশি অর্থায়ন ও পরিচালন ব্যয় কমানোর উদ্যোগও নিয়েছে টিসিবি। এর অংশ হিসেবে ব্যাংকঋণের পরিবর্তে নগদ অর্থে চিনি ও মসুর ডাল কেনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তুলনামূলক কম সুদের প্রস্তাব দেওয়া বেসরকারি ব্যাংকের সেবা নেওয়া এবং অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামিং ইন্টারফেসের (এপিআই) মাধ্যমে সরাসরি ব্যাংক হিসাবে বিক্রির অর্থ জমা নেওয়ার ব্যবস্থাও চালু করা হয়েছে।

পরিবহন, পণ্য ওঠানো-নামানো এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যয় কমাতে আঞ্চলিক গুদাম থেকে সরাসরি পণ্য বিতরণের ব্যবস্থাও চালু করেছে সংস্থাটি।

টিসিবি চেয়ারম্যান বলেন, ভোক্তাদের জন্য সাশ্রয়ী মূল্য বজায় রেখেই ভর্তুকির বোঝা কমাতে পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানো জরুরি। শুধু ব্যয় কমিয়ে ভর্তুকির চাপ কমানো সম্ভব নয়, একই সঙ্গে আয়ও বাড়াতে হবে।

তিনি বলেন, “আমরা শুধু খরচ কমিয়ে ভর্তুকির বোঝা কমাতে পারব না। আমাদের আয়ও বাড়াতে হবে।”

নতুন মসলা, চা ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য যুক্ত করার পাশাপাশি গ্রাহকসংখ্যা বাড়লে টিসিবির বাণিজ্যিক কার্যক্রম আরো শক্তিশালী হবে বলে আশা করছে সংস্থাটি। এর মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক স্বনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্য বাস্তবায়ন সহজ হবে।

ফয়সল আজাদ বলেন, নতুন পণ্যগুলোও বাজারদরের চেয়ে কম দামে বিক্রি করা হবে। এ কারণেই চার থেকে পাঁচ বছর মেয়াদি ধাপে ধাপে সম্প্রসারণ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। একসঙ্গে সব পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, “আমরা ইতোমধ্যে কয়েকটি পণ্য বাজারে এনেছি। আগামী মাসগুলোতে আরও পণ্য যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।”

টিসিবি থেকে নিয়মিত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কম দামে কিনতে পারলে একটি পরিবারের বছরে কয়েক হাজার টাকা সাশ্রয় হতে পারে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, “আমরা চাই মানুষ টিসিবির বিক্রয়কেন্দ্রে এসে প্রতি মাসে প্রয়োজনীয় পণ্য কিনুক। ধীরে ধীরে পণ্যের পরিসর বাড়ানো হবে। তবে ভর্তুকির বোঝা কমাতে এবং অতিরিক্ত আয় করতে আমাদের পণ্যের সংখ্যা বাড়াতে হবে।”

বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় পেঁয়াজ কেনে টিসিবি।

পণ্য সংগ্রহ পরিকল্পনা সম্পর্কে টিসিবি চেয়ারম্যান বলেন, চিনি ও অন্যান্য নিয়মিত পণ্য সংগ্রহের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি পরিচালনগত প্রয়োজন অনুযায়ী টয়লেট সাবান ও কাপড় কাচার সাবানও কেনা হচ্ছে।

তবে পেঁয়াজ ও আলু সারা বছর নিয়মিতভাবে সংগ্রহ করে না টিসিবি। বাজারে পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার প্রয়োজন মনে করলে এসব পণ্য কেনা হয়।

তিনি বলেন, “২০২২, ২০২৩ ও ২০২৪ সালে আমরা পেঁয়াজ কিনেছিলাম। বর্তমানে পেঁয়াজের কোনো সংকট নেই। তাই এখনই নতুন করে পেঁয়াজ কেনার পরিকল্পনা নেই।”

তিনি আরও বলেন, বাজার পরিস্থিতি অনুযায়ী সরকারের প্রয়োজন দেখা দিলেই পেঁয়াজ ও আলু সংগ্রহ করা হবে। চাহিদা ও সরবরাহ পরিস্থিতি বিবেচনা না করে সারা বছর এসব পণ্য কেনার পরিকল্পনা নেই টিসিবির।

এ ধরনের নীতি অনুসরণের ফলে বাজারের চাহিদা ও সরবরাহ পরিস্থিতি এবং সরকারের প্রয়োজন অনুযায়ী পণ্য সংগ্রহের সুযোগ থাকে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৪
মাগরিব ০৫:২১
ইশা ০৬:৩৩
সূর্যোদয় : ০৬:০৩ সূর্যাস্ত : ০৫:২১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%