ঢাকা শুক্রবার, ০৬ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২১শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ০৬ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২১শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

কারাগারে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিতে ৭ দফা নির্দেশনা


কারাগারে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিতে ৭ দফা নির্দেশনা

দেশের কারাগারগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার, শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সাত দফা নির্দেশনার আলোকে একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে কারা অধিদপ্তর।

এই পদক্ষেপগুলোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে— লকআপের পরবর্তী কার্যক্রমের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ, সার্বক্ষণিক সিসিটিভি নজরদারি, দায়িত্বে অননুমোদিত অনুপস্থিতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, তত্ত্বাবধায়ক কর্মকর্তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা, দায়িত্ব পালনে অবহেলাকারী কর্মীদের পুনঃপ্রশিক্ষণ, প্রতিকূল আবহাওয়ায় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আকস্মিক পরিদর্শনের মাধ্যমে নিয়মিত তদারকি করা।

কারাগারে কর্তব্য পালনে অবহেলা, শৃঙ্খলাহীনতা এবং বিদ্যমান নিয়মকানুন সঠিকভাবে অনুসরণ না করার কারণে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে এবং সংশোধনাগারগুলোর সার্বিক ব্যবস্থাপনা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থেকে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: আর্থিক খাত রাজনীতিমুক্ত করার চেষ্টা চলছে: পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী

কারা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল মেসবাহুল আলম সেলিম জানান, নির্দেশনাগুলোর কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে কারা অধিদপ্তর ইতোমধ্যেই পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা জোরদার করেছে। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে, সারা দেশের প্রতিটি কারাগারে প্রতিদিন তদারকি করা হচ্ছে এবং সকল কারাগারকে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে নিয়মিতভাবে মতামত জমা দিতে হবে।

তিনি আরো বলেন, নির্দেশনাগুলো কতটা মানা হচ্ছে, তা পর্যবেক্ষণের জন্য অধিদপ্তরের অপারেশনাল শাখাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর ডেপুটি জেলারসহ অতিরিক্ত জনবল নিয়োগের উদ্যোগও নিয়েছে, যাদেরকে সারাদেশের কারাগারগুলো পর্যবেক্ষণের জন্য নিযুক্ত করা হবে।

সেলিম উল্লেখ করেন, অধিদপ্তরটি নির্দেশনাগুলোর অন্তত ৯০ শতাংশ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করেছে এবং আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যেই এই পদক্ষেপগুলোর সুফল দৃশ্যমান হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

তিনি আরো জানান, দায়িত্ব পালনে অবহেলার জন্য দোষী সাব্যস্ত কারা কর্মীদের আন্তঃকারাগারে বদলির নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

আরও পড়ুন: রোহিঙ্গা গণহত্যার রায় ১৯ নভেম্বর, ন্যায়বিচার পাওয়ার আশা বাংলাদেশের

নির্দেশিকা অনুযায়ী, উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত জরুরি ক্ষেত্র ব্যতীত লক-আপের পরবর্তী কার্যক্রম কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ ও নিরুৎসাহিত করতে হবে। যেকোনো ব্যতিক্রমী ব্যবস্থার জন্য জেলারের লিখিত অনুমোদন, একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা ও সংশ্লিষ্ট রেজিস্টারে বাধ্যতামূলক নথিভুক্তিকরণ থাকতে হবে।

এই নির্দেশিকায় প্রতিটি কারাগারে ২৪-ঘণ্টা সিসিটিভি নজরদারি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যেখানে সম্ভব, সেখানে পৃথক পর্যবেক্ষণ কক্ষ স্থাপন করতে হবে এবং সার্বক্ষণিক নজরদারি বজায় রাখার জন্য প্রশিক্ষিত ও তথ্যপ্রযুক্তি-দক্ষ কারারক্ষীদের নিযুক্ত করতে হবে। আর যেখানে নির্দিষ্ট কক্ষ নেই, সেখানে নিরবচ্ছিন্ন পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করার জন্য উপযুক্ত স্থানে মনিটর স্থাপন করতে হবে।

কর্নেল মেসবাহুল আলম সেলিম বলেন, নিরাপত্তাজনিত ত্রুটি রোধ করতে অধিদপ্তরটি দায়িত্বের স্থান থেকে অননুমোদিত অনুপস্থিতির ক্ষেত্রে শূন্য-সহনশীলতার নীতি গ্রহণ করেছে।

তিনি আরো বলেন, কোনো প্রহরী বা অন্য কোনো পাহারাদার কর্মীকে অনুমতি ছাড়া নির্ধারিত স্থান ত্যাগ করতে দেখা গেলে, অবিলম্বে লিখিতভাবে জানাতে হবে এবং বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

আরও পড়ুন: টেকনাফে নিহত সেনাসদস্য তিতাসের লাশ বাড়িতে যাচ্ছে, পরিবারে শোকের মাতম

অবহেলা বা অননুমোদিত অনুপস্থিতির ঘটনা গোপন করা, রিপোর্ট করতে বিলম্ব বা এড়িয়ে যাওয়া অথবা দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হওয়ার জন্য তত্ত্বাবধায়ক কর্মকর্তাদেরও জবাবদিহি করতে হবে বলে জানান তিনি।

এই নির্দেশিকায় অবহেলার জন্য বারবার রিপোর্ট করা পাহারাদার কর্মীদের জন্য পুনঃপ্রশিক্ষণ, কাউন্সেলিং ও অনুপ্রেরণামূলক ব্যবস্থারও বিধান রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী ও প্রশাসনিক স্বার্থে এই ধরনের কর্মীদের বদলি করা হতে পারে অথবা বিদ্যমান প্রবিধান অনুসারে তারা বিভাগীয় কার্যক্রমের সম্মুখীন হতে পারেন।

মেসবাহুল আলম সেলিম বলেন, বৃষ্টি ও বজ্রপাতসহ প্রতিকূল আবহাওয়ার জন্য বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রহরী কর্মীদেরকে অবশ্যই তাদের নির্ধারিত স্থানে থাকতে হবে এবং দায়িত্ব পালনের সময় সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখতে হবে।

অধিদপ্তর কারাগারের সুপারিনটেনডেন্ট, জেলার ও অন্যান্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নিয়মিত তত্ত্বাবধান ও আকস্মিক পরিদর্শন পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছে। তারা নিরাপত্তা চৌকি, সিসিটিভি পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা, প্রহরীদের দায়িত্ব ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার সামগ্রিক কার্যকারিতা পরীক্ষা করবেন এবং যেকোনো ত্রুটি দূর করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।

আরও পড়ুন: হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে ১৮ ডিসেম্বর শাহবাগে মহাসমাবেশের ডাক

আগস্টে জারি করা সাত দফা নির্দেশনায় সতর্ক করা হয়েছিল যে কারাগারের অভ্যন্তরে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা পুরো কারাগার প্রশাসনের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে পারে এবং বিরূপ জনমত সৃষ্টি করতে পারে।

অধিদপ্তর নিরাপত্তা ত্রুটি প্রতিরোধ, প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং কারাগার প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে বৃহত্তর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তাকে অবিলম্বে এই ব্যবস্থাগুলো বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শিক্ষার্থীরা আগামী দিনের দেশ গড়ার কারিগর: পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:২৩ পি.এম


শিক্ষার্থীরা আগামী দিনের দেশ গড়ার কারিগর: পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী

ভূমি ও চট্টগ্রাম পার্বত্য বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন আজকের শিক্ষার্থীদের আগামী দিনের দেশ গড়ার কারিগর হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

তিনি বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাতে চট্টগ্রামে টিভি ক্যামেরা জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন (টিসিজেএ) এর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ কৃতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা বৃত্তি ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘শুধু ভালো ফলাফল নয়, নৈতিকতা, মানবিকতা ও দেশপ্রেমের চর্চার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। মেধাবীদের উৎসাহিত করার পাশাপাশি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে টিসিজেএ মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।’

ভিডিও সাংবাদিকদের অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘নানা ঝুঁকি ও প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে মাঠপর্যায়ে কাজ করেন ক্যামেরা সাংবাদিকরা। সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে তাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

অনুষ্ঠানে টিসিজেএ সভাপতি এনামুল হকের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন নগর যুবদলের সভাপতি মোশাররফ হোসেন দীপ্তি, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব লায়ন হেলাল উদ্দিন, যুবদলের সহসভাপতি মো. ইকবাল হোসেন, বাংলাদেশ স্কাউটস চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপ-কমিশনার লায়ন সালাউদ্দিন, রেড ক্রিসেন্ট চট্টগ্রাম জেলার ভাইস চেয়ারম্যান আসিফ চৌধুরী এবং নাগরিক হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. এনামুল ইসলাম।

এ সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন টিসিজেএর সাবেক সভাপতি শফিক আহমেদ সাজিব, সহসভাপতি সঞ্জীব দে বাবুসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল আলম মামুন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকায় ২৪ ঘণ্টার অভিযানে আটক ৫৪৪ জন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:২৩ পি.এম


ঢাকায় ২৪ ঘণ্টার অভিযানে আটক ৫৪৪ জন

রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৪৪ জনকে আটক করা হয়েছে। একই সময়ের মধ্যে ৬২টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার আকতার হোসেন এই তথ্য প্রকাশ করেন।

আটককৃতদের মধ্যে রমনা বিভাগ থেকে ৪১ জন, লালবাগ বিভাগ থেকে ৪২ জন, ওয়ারী বিভাগ থেকে ৯৫ জন, মতিঝিল বিভাগ থেকে ৪৪ জন, তেজগাঁও বিভাগ থেকে ৫৯ জন, মিরপুর বিভাগ থেকে ১৪৪ জন, গুলশান বিভাগ থেকে ৫৫ জন, উত্তরা বিভাগ থেকে ৪৯ জন, এবং এসআরইউ-২ ও গোয়েন্দা বিভাগ থেকে ১৩ জনকে আটক করা হয়েছে।

অভিযানের সময় ৫৪০ গ্রাম গাঁজা, ৬ হাজার ২৫৮ পিস ইয়াবা, ৪.২ গ্রাম ৪ পুরিয়া হেরোইন, ৩৭টি প্যাথেড্রিন ইনজেকশন, ২টি চাকু এবং ২টি কাটার উদ্ধার করা হয়।

আকতার হোসেন জানান, বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাজধানীর বিভিন্ন থানায় অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন আলামত ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে এবং আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে ডিএমপি জানিয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মধুপুরে জমি দখলের অভিযোগ, ছাপড়া ঘর তুলে বেদখলের চেষ্টা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মধুপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:২৫ পি.এম


মধুপুরে জমি দখলের অভিযোগ, ছাপড়া ঘর তুলে বেদখলের চেষ্টা

টাঙ্গাইলের মধুপুর পৌরসভার টেংরী গ্রামে জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরে ছাপড়া ঘর নির্মাণ করে জমি জবরদখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী শিরিনা জেসমিনের দাবি, তাঁর ক্রয় করা জমিতে জোরপূর্বক ঘর নির্মাণ করে দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রতিবাদ করায় তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এতে তাঁরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, টেংরী গ্রামের মৃত ফরজ আলীর মেয়ে শিরিনা জেসমিন স্থানীয় আজাহার আলীর কাছ থেকে জমি ক্রয় করেন। জমিটি টেংরী মৌজার আরএস খতিয়ান নং-৪২ ও ৪৬৮, ডিপি নং-১০৭, নামজারি খতিয়ান নং-৪৩৩ এবং আরএস দাগ নং-১৭৫-এর অন্তর্ভুক্ত ১৮ শতাংশ জমির অংশ। এর মধ্যে সাড়ে তিন শতাংশ জমি তিনি ক্রয় করেছেন বলে দাবি করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯১৩ সালের ২৯ অক্টোবর সম্পাদিত দলিলের মাধ্যমে আজাহার আলীর ঘরসহ ওই জমি ক্রয়ের বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে।
শিরিনা জেসমিনের অভিযোগ, বর্তমানে আলী আকবর, আজাহার আলীর মেয়ে কল্পনা, তাঁর ছেলের স্ত্রী ফাতেমা বেগমসহ কয়েকজন ওই জমিতে জোরপূর্বক ছাপড়া ঘর নির্মাণ করে দখলের চেষ্টা করছেন। নির্মিত ঘর সরিয়ে নিতে বললে তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এমনকি ঘর সরানোর উদ্যোগ নিলে হামলার চেষ্টা এবং মামলা-মোকদ্দমার ভয় দেখানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তবে এ অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত আলী আকবর ভিন্ন দাবি করেছেন। তিনি বলেন, “আমি আমার স্ত্রীর নামে আজাহার আলীর ছেলে আনোয়ার হোসেনের কাছ থেকে ২০২৬ সালে ওই জমি ক্রয় করেছি।”
অন্যদিকে, স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, আজাহার আলী জীবিত থাকতেই তাঁর সব জমি বিক্রি করে দিয়েছিলেন। তাঁর নামে আর কোনো জমি অবশিষ্ট ছিল না। তাঁদের ভাষ্য, আনোয়ার হোসেন আলী আকবরের স্ত্রীর কাছে যে জমি বিক্রি করেছেন, সেটির বৈধ মালিকানা তাঁর ছিল না। জমিটির প্রকৃত মালিক আনোয়ার হোসেনের ফুফু রেজিয়া বেগম বলে দাবি করেন তাঁরা।
এদিকে, একই জমির মালিকানা নিয়ে উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি দাবিতে বিরোধ আরও জটিল হয়ে উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তি না হলে যেকোনো সময় এলাকায় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে। তাই সম্ভাব্য সংঘাত এড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তাঁরা।
ভুক্তভোগী পক্ষ জমির প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট দলিলপত্র, নামজারি ও ভূমি রেকর্ড যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে জমির বর্তমান দখল পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কিংবদন্তী: বালকের স্বপ্ন, যে ঘুমাতে দেয়নি রোনালদোকে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:২৫ পি.এম


কিংবদন্তী: বালকের স্বপ্ন, যে ঘুমাতে দেয়নি রোনালদোকে

একসময় মাদেইরার একটি ছোট্ট বাড়িতে বসে ফুটবল খেলার স্বপ্ন দেখতেন এক বালক। পায়ে থাকত কখনো ভাই বা আত্মীয়ের পুরোনো বুট, আর্থিক অবস্থাও ছিল সীমিত। ফুটবল ছিল তাঁর আনন্দ, ফুটবল ছিল তাঁর পৃথিবী। সেই ছেলেকে মাত্র ১২ বছর বয়সে পরিবার ছেড়ে পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে পাড়ি দিতে হয়েছিল। নতুন শহর, অচেনা মানুষ, পরিবারের জন্য মন কাঁদা, সহপাঠীদের ঠাট্টা—সবকিছুর সঙ্গে লড়াই করে একদিন সেই বালক হয়ে উঠেছেন বিশ্বের সবচেয়ে পরিচিত ক্রীড়া তারকাদের একজন।

তিনি ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। ট্রফি, অশ্রু, রেকর্ড, বিতর্ক, আত্মবিশ্বাস আর কখনো কখনো অহংকারের অভিযোগ—সবকিছুই ছিল তাঁর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে। ২৩ বছর ধরে পর্তুগালের জার্সি গায়ে কখনো তিনি ছিলেন জাতির সবচেয়ে বড় আশা, কখনো সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দু। তাঁর গোলেই উৎসবে মেতেছে পুরো দেশ, আবার বড় মঞ্চে ব্যর্থতার পর তাঁর চোখের জল হয়ে উঠেছে পর্তুগিজ ফুটবলের হতাশার প্রতিচ্ছবি। অবশেষে ৫ নভেম্বর ২০২৬, ৪১ বছর বয়সে জাতীয় দলকে বিদায় জানিয়ে সেই দীর্ঘ অধ্যায়ের ইতি টানলেন ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই তারকা।

ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত বিদায়ী ভিডিওতে নিজের সিদ্ধান্ত জানান রোনালদো। ২০০৩ সালের আগস্টে যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, তা শেষ হলো ২৩৪ ম্যাচ ও ১৪৬ গোলের অবিশ্বাস্য পরিসংখ্যান নিয়ে। পুরুষদের আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বোচ্চ ম্যাচ ও সর্বোচ্চ গোলের বিশ্বরেকর্ড—দুটিই নিজের করে রেখে বিদায় নিলেন তিনি। তবে সংখ্যার বাইরেও রোনালদোর এই যাত্রার মূল্য অনেক বড়। তাঁর সময়ে পর্তুগাল পেয়েছে ইতিহাসের সবচেয়ে সফল আন্তর্জাতিক ফুটবল অধ্যায়।

১৯৮৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি পর্তুগালের স্বায়ত্তশাসিত দ্বীপাঞ্চল মাদেইরার রাজধানী ফুনশালে জন্ম রোনালদোর। চার সন্তানের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার ছোট। বাবা হোসে দিনিস আভেইরো স্থানীয় ক্লাবে সরঞ্জাম দেখাশোনার কাজ করতেন, মা মারিয়া দোলোরেস রান্না ও পরিচ্ছন্নতার কাজে নিয়োজিত ছিলেন। পরিবারের আর্থিক অবস্থা স্বচ্ছল ছিল না। শৈশবের সেই দিনগুলোতে দামি বুট কিংবা আধুনিক প্রশিক্ষণসুবিধা ছিল না; ছিল ফুটবলের প্রতি অসীম ভালোবাসা আর বড় হওয়ার স্বপ্ন।

মাত্র সাত বছর বয়সে স্থানীয় ক্লাব আন্দোরিনহায় খেলা শুরু করেন রোনালদো। এরপর খেলেন নাসিওনালে। ছোটবেলা থেকেই তাঁর মধ্যে প্রবল প্রতিযোগিতার মানসিকতা ছিল। সতীর্থদের কাছে তিনি ছিলেন এমন এক শিশু, যে বল না পেলে রাগ করত, হারলে কাঁদত। প্রতিভা ছিল, কিন্তু সেটিকে বড় করে তোলার জন্য ছিল কঠোর পরিশ্রম ও জেদ।

মাত্র ১২ বছর বয়সে জীবনের সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্তগুলোর একটি নিতে হয় তাঁকে। মাদেইরা ছেড়ে লিসবনে স্পোর্টিংয়ের একাডেমিতে যোগ দিতে যান। পরিবারের কাছ থেকে দূরে থাকা সেই বয়সের একটি শিশুর জন্য সহজ ছিল না। নতুন পরিবেশে মানিয়ে নিতে কষ্ট হতো, বাড়ির জন্য মন কাঁদত। তাঁর মাদেইরান উচ্চারণ নিয়ে অন্য শিক্ষার্থীরা হাসাহাসিও করত। পরবর্তী সময়ে নিজের শৈশবের স্মৃতিচারণায় রোনালদো জানিয়েছেন, লিসবনে থাকার সময় প্রায় প্রতিদিনই কাঁদতেন। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগও ছিল সীমিত।

রোনালদোর জীবনের সবচেয়ে আবেগঘন অধ্যায়গুলোর একটি তাঁর বাবা। হোসে দিনিস আভেইরো ছেলেকে ফুটবল খেলতে দেখতেন, উৎসাহ দিতেন। কিন্তু ছেলের বিশ্বসেরা হয়ে ওঠা তাঁর দেখা হয়নি। ২০০৫ সালে মাত্র ৫২ বছর বয়সে মারা যান তিনি। তখন রোনালদোর বয়স ছিল মাত্র ২০। পরবর্তী সময়ে রোনালদো যখন ব্যালন ডি’অর জিতেছেন, চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছেন, ইউরোপের সেরা ফুটবলার হয়েছেন, তখন তাঁর বাবা আর বেঁচে ছিলেন না। জীবনের সবচেয়ে বড় সাফল্যগুলো বাবার সঙ্গে ভাগ করে নিতে না পারার আক্ষেপ বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে প্রকাশ করেছেন তিনি। এক সাক্ষাৎকারে বাবার পুরোনো একটি ভিডিও দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছিলেন রোনালদো। চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি। বলেছিলেন, তাঁর বাবা ছেলের এত বড় হয়ে ওঠা দেখতে পারেননি—এটাই তাঁর কষ্ট।

অন্যদিকে মা মারিয়া দোলোরেস ছিলেন তাঁর দীর্ঘ পথচলার সবচেয়ে বড় আশ্রয়গুলোর একটি। মায়ের সংগ্রাম, পরিবারের ত্যাগ এবং শৈশবের অভাব রোনালদোকে মনে করিয়ে দিয়েছে, তিনি কোথা থেকে উঠে এসেছেন। আজ বিশ্বের সবচেয়ে পরিচিত ক্রীড়া তারকাদের একজন হয়েও নিজের পরিবারের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশে কখনো সংকোচ করেননি তিনি। ফুটবল তাঁকে বিশ্বজোড়া পরিচিতি দিয়েছে, কিন্তু তাঁর জীবনের গল্পে মাদেইরার সেই পরিবারটি সব সময়ই থেকে গেছে।

কিন্তু সেই একাকিত্ব তাঁকে থামাতে পারেনি। বরং ফুটবল হয়ে উঠেছিল তাঁর সবচেয়ে বড় আশ্রয়। ১৬ বছর বয়সে স্পোর্টিংয়ের মূল দলের সঙ্গে অনুশীলনের সুযোগ পান, ১৭ বছর বয়সে মূল দলে অভিষেক। ২০০২-০৩ মৌসুমে ক্লাবটির হয়ে ৩১ ম্যাচে পাঁচ গোল করেন। এরপর ২০০৩ সালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে স্পোর্টিংয়ের একটি ম্যাচে তাঁর পারফরম্যান্স এতটাই নজর কাড়ে যে ইংলিশ ক্লাবটির খেলোয়াড়েরা কোচ স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনকে তাঁকে দলে নেওয়ার পরামর্শ দেন। মাত্র ১৮ বছর বয়সে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে যোগ দিয়ে শুরু হয় বিশ্বমঞ্চে তাঁর উত্থান।

মাদেইরা থেকে লিসবন, লিসবন থেকে ম্যানচেস্টার—এই পথচলা শুধু একজন ফুটবলারের ক্লাব বদলের গল্প নয়। এটি পরিবারের কাছ থেকে দূরে থাকা এক কিশোরের স্বপ্নের পেছনে ছুটে চলার গল্প। যে ছেলেটি একসময় পুরোনো বুট পরে খেলতেন, তাঁর নামেই পরে তৈরি হয়েছে মাদেইরায় জাদুঘর। দ্বীপটির পরিচিতিও বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে তাঁর মাধ্যমে।

২০০৩ সালের ২০ আগস্ট। কাজাখস্তানের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে দ্বিতীয়ার্ধে লুইস ফিগোর বদলি হিসেবে মাঠে নামলেন ১৮ বছর বয়সী এক তরুণ। সেটিই ছিল পর্তুগালের জার্সিতে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর প্রথম ম্যাচ। তখনো তিনি বিশ্বসেরা তারকা নন; ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে নিজের জায়গা তৈরি করছেন, আর জাতীয় দলে তাঁর সামনে অপেক্ষা করছে দীর্ঘ পথ।

অভিষেকের পর প্রথম গোলের জন্য খুব বেশি অপেক্ষা করতে হয়নি। ২০০৪ সালের ১২ জুন ইউরোর উদ্বোধনী ম্যাচে গ্রিসের বিপক্ষে গোল করে আন্তর্জাতিক গোলের খাতা খুলেছিলেন রোনালদো। যদিও ম্যাচটি ২-১ গোলে হেরেছিল পর্তুগাল। সেই আসরেই প্রথমবারের মতো বড় কোনো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে খেলতে নেমে ফাইনালে উঠেছিল দলটি। কিন্তু ঘরের মাঠে অপ্রত্যাশিতভাবে গ্রিসের কাছে হেরে শিরোপা হাতছাড়া হয়। মাত্র ১৯ বছর বয়সী রোনালদোর জন্য সেটি ছিল প্রথম বড় আন্তর্জাতিক বেদনা।

২০০৬ সালে জার্মানি বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো বিশ্বমঞ্চে খেলেন রোনালদো। ইরানের বিপক্ষে পেনাল্টি থেকে করেন বিশ্বকাপে নিজের প্রথম গোল। পর্তুগাল পৌঁছে যায় সেমিফাইনালে—১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপে তাদের সেরা সাফল্য। ২০০৭ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি ব্রাজিলের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে প্রথমবার পর্তুগালের অধিনায়কত্ব করেন তিনি। পরে সেই আর্মব্যান্ডই হয়ে ওঠে তাঁর পরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

পর্তুগালের ফুটবলে লুইস ফিগো, রুই কস্তা, ডেকো ও পাউলেতার মতো তারকারা আগে থেকেই নিজেদের জায়গা করে নিয়েছিলেন। তাঁদের পরবর্তী প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে রোনালদোর দায়িত্ব ছিল দলকে নতুন উচ্চতায় নেওয়া। ২০১২ সালের ১৬ অক্টোবর উত্তর আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে শততম আন্তর্জাতিক উপস্থিতি পূর্ণ করেন তিনি।

২০১৩ সালের ৬ সেপ্টেম্বর উত্তর আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ৪-২ গোলের জয়ে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের প্রথম হ্যাটট্রিক করেন রোনালদো। একই বছরের নভেম্বরে সুইডেনের বিপক্ষে ২০১৪ বিশ্বকাপের প্লে-অফের ফিরতি লেগেও করেন আরেকটি স্মরণীয় হ্যাটট্রিক। স্টকহোমে জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচের সুইডেনকে ৩-২ গোলে হারায় পর্তুগাল; স্বাগতিকদের দুটি গোলই করেছিলেন ইব্রাহিমোভিচ। দুই লেগ মিলিয়ে ৪-২ ব্যবধানে জিতে বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করে পর্তুগাল। সেই রাতে রোনালদো একাই ছিলেন দলের পার্থক্য গড়ে দেওয়া খেলোয়াড়।

২০১৪ সালের মার্চে ক্যামেরুনের বিপক্ষে জোড়া গোল করে পাউলেতাকে ছাড়িয়ে পর্তুগালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হন রোনালদো। তখন তাঁর গোলসংখ্যা ছিল ৪৯। পরে সেই সংখ্যাকে নিয়ে গেছেন ১৪৬-এ। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে তাঁর ৪১ গোলের রেকর্ডও পর্তুগালকে বড় টুর্নামেন্টে পৌঁছানোর পথে তাঁর গুরুত্বের প্রমাণ।

রোনালদোর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় অর্জন নিঃসন্দেহে ২০১৬ সালের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ জয়। ২০০৪ সালে ঘরের মাঠে ফাইনালে হারের ১২ বছর পর আবারও শিরোপার মঞ্চে পৌঁছায় পর্তুগাল। তবে ফ্রান্সের বিপক্ষে ফাইনালে শুরুটা ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। ম্যাচের প্রথমার্ধেই চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে হয় অধিনায়ক রোনালদোকে। সাইডলাইনে বসে চোখের জল মুছতে মুছতে সতীর্থদের উৎসাহ দিয়েছেন, নির্দেশনা দিয়েছেন, কখনো কোচের মতো দাঁড়িয়ে থেকেছেন।

নির্ধারিত সময়ে গোল না হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। ১০৯ মিনিটে এদেরের দূরপাল্লার শটে আসে ইতিহাসগড়া গোল। ফ্রান্সকে ১-০ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন হয় পর্তুগাল। অধিনায়ক হিসেবে ট্রফি হাতে তোলার মুহূর্তটি রোনালদোর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে আবেগঘন দৃশ্যগুলোর একটি। ব্যক্তিগতভাবে ফাইনাল শেষ করতে না পারলেও দলের সাফল্যে তাঁর নেতৃত্ব ও উপস্থিতি ছিল গুরুত্বপূর্ণ।

ইউরোর মূল পর্বে রোনালদোর প্রভাবও ছিল অভূতপূর্ব। ২০০৪ থেকে ২০২৪—ছয়টি ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে খেলেছেন তিনি। ছয়টি আসরে অংশ নেওয়া প্রথম ফুটবলার রোনালদো। ইউরোর মূল পর্বে ৩০ ম্যাচ খেলে করেছেন ১৪ গোল। ম্যাচসংখ্যা ও গোল—দুই ক্ষেত্রেই তাঁর রেকর্ড রয়েছে। ইউরোর বাছাইপর্বেও তাঁর গোল ৪১টি। মূল পর্ব ও বাছাইপর্ব মিলিয়ে ইউরো প্রতিযোগিতায় তাঁর গোল ৫৫টি।

রোনালদোর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সাফল্যের তালিকায় ইউরো ২০১৬-এর পাশাপাশি রয়েছে দুটি উয়েফা নেশনস লিগ শিরোপা। ২০১৯ সালে প্রথম আসরের সেমিফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ৩-১ গোলের জয়ে হ্যাটট্রিক করেন তিনি। ফাইনালে নেদারল্যান্ডসকে ১-০ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো নেশনস লিগের শিরোপা জেতে পর্তুগাল।

এর ছয় বছর পর, ২০২৫ সালে আবারও নেশনস লিগের শিরোপা জেতে পর্তুগাল। স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালে নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময় শেষে ম্যাচ ২-২ গোলে ড্র হয়। রোনালদো করেন পর্তুগালের দ্বিতীয় গোলটি। পরে টাইব্রেকারে ৫-৩ ব্যবধানে জিতে শিরোপা নিশ্চিত করে দলটি। ৪০ বছর বয়সেও ফাইনালে গোল করে রোনালদো প্রমাণ করেন, জাতীয় দলের হয়ে বড় মুহূর্তে অবদান রাখার সামর্থ্য তখনো হারাননি তিনি।

সব মিলিয়ে পর্তুগালের হয়ে রোনালদোর অর্জন তিনটি বড় আন্তর্জাতিক শিরোপা—২০১৬ ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ এবং ২০১৯ ও ২০২৫ সালের দুটি নেশনস লিগ। দেশটির ফুটবল ইতিহাসে এর আগে এমন সাফল্যের যুগ দেখা যায়নি।

ছয়টি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া এবং প্রতিটিতেই গোল করার কীর্তি রোনালদোকে আলাদা উচ্চতায় নিয়ে গেছে। ২০০৬ সালে প্রথম বিশ্বকাপ থেকে ২০২৬ সালে শেষ আসর—প্রতিটি প্রজন্মের পর্তুগাল দলেই ছিলেন তিনি। ছয়টি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করা প্রথম পুরুষ ফুটবলার তিনি। বিশ্বকাপের মূল পর্বে তাঁর গোল ১১টি, ম্যাচ ২৭টি।

বিশ্বকাপের গল্পটি অবশ্য শুধুই রেকর্ডের নয়। ২০০৬ সালে সেমিফাইনালে উঠলেও ২০১০ ও ২০১৮ সালে শেষ ষোলো থেকে বিদায়, ২০১৪ সালে গ্রুপ পর্বেই বাদ, ২০২২ সালে কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোর কাছে হার—বারবার স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে তাঁর। ২০২২ বিশ্বকাপে মরক্কোর কাছে হারের পর টানেল দিয়ে মাঠ ছাড়ার সময় রোনালদোর কান্নার দৃশ্য বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। নিজের দেশের হয়ে সবচেয়ে বড় মঞ্চে শিরোপা জিততে না পারার আক্ষেপ তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম অপূর্ণতা হয়ে থাকবে।

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে গোলের খরাও ছিল সমালোচনার বড় কারণ। ২০২৬ সালে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে পেনাল্টি থেকে গোল করার আগে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে তাঁর গোল ছিল না। অন্যদিকে ক্লাব ফুটবলে অবিশ্বাস্য গোলসংখ্যা ও ধারাবাহিকতার কারণে প্রত্যাশাও ছিল অনেক বেশি। প্রশ্ন উঠেছে, তাঁর সেরা সময়ে পর্তুগাল কি আরও বেশি শিরোপা জিততে পারত?

রোনালদোর আন্তর্জাতিক গোলের হিসাব বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বড় টুর্নামেন্টের মূল পর্বের পাশাপাশি বাছাইপর্বেও তাঁর অবদান ছিল অসাধারণ। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ৪১ এবং ইউরো বাছাইপর্বে ৪১ গোল করেছেন তিনি। দুই প্রতিযোগিতার বাছাইপর্ব মিলিয়ে ৮২ গোল। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ৪১ গোলের রেকর্ডও তাঁর দখলে।

২০২০ সালের ৮ সেপ্টেম্বর সুইডেনের বিপক্ষে নেশনস লিগের ম্যাচে ফ্রি-কিক থেকে গোল করে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শততম গোল পূর্ণ করেন রোনালদো। ইউরোপের প্রথম পুরুষ ফুটবলার হিসেবে জাতীয় দলের হয়ে ১০০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি। ওই ম্যাচেই করেন নিজের ১০১তম গোল।

২০২১ সালের ১ সেপ্টেম্বর আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে জোড়া গোল করে আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বোচ্চ গোলের বিশ্বরেকর্ড নিজের করে নেন রোনালদো। ইরানের আলি দাইয়ের ১০৯ গোলের রেকর্ড ছাড়িয়ে যান তিনি। পরে সেই সংখ্যাকে নিয়ে গেছেন ১৪৬-এ।

আন্তর্জাতিক ফুটবলে তাঁর গোলের আরেকটি বিস্ময়কর দিক হলো প্রতিপক্ষের বৈচিত্র্য। মোট ৪৯টি জাতীয় দলের বিপক্ষে গোল করেছেন রোনালদো। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ১০টি হ্যাটট্রিক রয়েছে তাঁর। ২০২১ সালে ১০টি আন্তর্জাতিক হ্যাটট্রিক করা প্রথম পুরুষ ফুটবলার হন তিনি। এ ছাড়া ২৮টি ম্যাচে জোড়া গোল করেছেন।

রোনালদোকে নিয়ে কথা উঠলে তাঁর প্রতিভা ও পরিশ্রমের পাশাপাশি আলোচনায় আসে তাঁর আত্মবিশ্বাস। অনেকের চোখে সেটি ছিল অসাধারণ আত্মবিশ্বাস, আবার সমালোচকদের কাছে কখনো কখনো অহংকার। নিজের শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে তিনি কখনো দ্বিধা করেননি। বড় ম্যাচে গোল করার পর উদ্‌যাপন, সমালোচনার জবাব দেওয়ার ধরন কিংবা নিজের অবস্থান নিয়ে দৃঢ়তা—সব মিলিয়ে রোনালদো এমন এক চরিত্র, যাঁকে নিয়ে মতভেদ কখনো কমেনি।

তবে তাঁর আত্মবিশ্বাসের পেছনে ছিল নিজেকে প্রতিদিন নতুন করে প্রমাণ করার তাগিদ। প্রতিভা থাকলেই যথেষ্ট নয়, কঠোর পরিশ্রম ছাড়া সাফল্য আসে না—এই দর্শন বারবার তুলে ধরেছেন তিনি। তাঁর বহুল প্রচলিত একটি উক্তি, ‘প্রতিভা কঠোর পরিশ্রম ছাড়া কিছুই নয়।’ আরেকটি উক্তি তাঁর মানসিকতার পরিচয় দেয়: ‘তোমাদের ভালোবাসা আমাকে শক্তিশালী করে, আর ঘৃণা আমাকে অপ্রতিরোধ্য করে তোলে।’

স্বপ্ন নিয়ে ড. এ পি জে আব্দুল কালামের একটি বিখ্যাত বক্তব্য, ‘স্বপ্ন সেই জিনিস নয়, যা তুমি ঘুমের মধ্যে দেখো; স্বপ্ন হলো সেই জিনিস, যা তোমাকে ঘুমাতে দেয় না।’ এই কথাগুলোর সঙ্গে মাদেইরা থেকে বিশ্বমঞ্চে পৌঁছানোর তাঁর যাত্রার যেন অদ্ভুত মিল রয়েছে।

রোনালদো নিজেকে নিখুঁত মানুষ দাবি করেননি। বরং বলেছেন, তিনি সব সময় শিখতে, উন্নতি করতে ও নিজেকে বদলাতে চান। তাঁর কাছে প্রতিটি প্রশিক্ষণ, প্রতিটি ম্যাচ এবং প্রতিটি গোল ছিল আগের চেয়ে ভালো হওয়ার আরেকটি সুযোগ। এই মানসিকতা তাঁকে দীর্ঘ সময় সর্বোচ্চ পর্যায়ে টিকে থাকতে সাহায্য করেছে।

এই কারণেই রোনালদো শুধু গোলের রেকর্ডধারী নন, অনেক তরুণ ফুটবলারের অনুপ্রেরণাও। বিশেষ করে যারা ছোট শহর, সীমিত সুযোগ কিংবা আর্থিক প্রতিকূলতা থেকে উঠে আসতে চায়, তাদের কাছে তাঁর গল্প মনে করিয়ে দেয়—শুরুর অবস্থানই শেষ গন্তব্য নির্ধারণ করে না। প্রতিভার সঙ্গে শৃঙ্খলা, আত্মবিশ্বাস ও নিরলস পরিশ্রম যুক্ত হলে স্বপ্নের পরিধি অনেক দূর পর্যন্ত যেতে পারে।

তবে তাঁর ব্যক্তিত্বের এই দিকটির অন্য একটি ব্যাখ্যাও রয়েছে। সমালোচকদের মতে, নিজের গুরুত্ব সম্পর্কে অতিরিক্ত সচেতনতা কখনো কখনো দলীয় স্বার্থের সঙ্গে সংঘাতে এসেছে। বিশেষ করে ক্যারিয়ারের শেষ দিকে একাদশে জায়গা, কোচের সিদ্ধান্ত এবং নিজের ভূমিকা নিয়ে তাঁর প্রতিক্রিয়া বিতর্ক তৈরি করেছে। রোনালদোর উত্তরাধিকার তাই শুধু অনুপ্রেরণার নয়; আত্মবিশ্বাস ও অহংকারের সীমারেখা নিয়েও আলোচনার।

রোনালদোর ক্যারিয়ারের শেষ বছরগুলোতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল তাঁর বয়স, ফর্ম, দলের কৌশল এবং একাদশে জায়গা পাওয়া। ২০২২ বিশ্বকাপে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ ষোলোতে তাঁকে বেঞ্চে রেখে গনসালো রামোসকে খেলান কোচ ফার্নান্দো সান্তোস। রামোস সেই ম্যাচে হ্যাটট্রিক করেন। পর্তুগালের ৬-১ গোলের জয়ে তাঁর পারফরম্যান্স কোচের সিদ্ধান্তকে আরও আলোচনায় নিয়ে আসে। পরে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ে রামোসের গোলেই জয় পায় পর্তুগাল—তখন রোনালদো মাঠের বাইরে।

সমালোচকদের একাংশের প্রশ্ন ছিল, ৪১ বছর বয়সী রোনালদোকে কেন্দ্র করে দলের কৌশল সাজাতে গিয়ে পর্তুগাল কি অন্য খেলোয়াড়দের সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারছিল না? আবার তাঁর সমর্থকদের যুক্তি, এত দীর্ঘ সময় ধরে সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলার পরও গোল ও নেতৃত্বে অবদান রাখার সামর্থ্যকে অস্বীকার করা যায় না। এই বিতর্কের চূড়ান্ত উত্তর হয়তো সময়ই দেবে।

পর্তুগালের হয়ে ২৩৪ ম্যাচে ১৪৬ গোল করেছেন রোনালদো। অধিনায়ক হিসেবে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন ১৭২ ম্যাচে। জিতেছেন ১৪১টি ম্যাচ। ছয়টি বিশ্বকাপ ও ছয়টি ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিয়ে দুই প্রতিযোগিতাতেই একাধিক প্রজন্মের দর্শকের কাছে নিজেকে পরিচিত করেছেন। আন্তর্জাতিক ফুটবলে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা ও সবচেয়ে বেশি গোলের বিশ্বরেকর্ড তাঁর।

তাঁর উল্লেখযোগ্য আন্তর্জাতিক রেকর্ডগুলোর মধ্যে রয়েছে—

পুরুষদের আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বোচ্চ ম্যাচ: ২৩৪।

পুরুষদের আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বোচ্চ গোল: ১৪৬।

পুরুষদের আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বোচ্চ জয়: ১৪১।

অধিনায়ক হিসেবে পর্তুগালের হয়ে সর্বোচ্চ ম্যাচ: ১৭২।

ইউরো বাছাইপর্বে সর্বোচ্চ গোল: ৪১।

বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে সর্বোচ্চ গোল: ৪১।

ইউরোর মূল পর্বে সর্বোচ্চ গোল: ১৪।

ইউরোর মূল পর্বে সর্বোচ্চ ম্যাচ: ৩০।

ইউরো বাছাইপর্ব ও মূল পর্ব মিলিয়ে সর্বোচ্চ গোল: ৫৫।

বিশ্বকাপের ছয়টি ভিন্ন আসরে গোল করা প্রথম পুরুষ ফুটবলার।

বিশ্বকাপের ছয়টি আসরে অংশ নেওয়া প্রথম পুরুষ ফুটবলার।

বিশ্বকাপের মূল পর্বে ১১ গোল, ২৭ ম্যাচ।

নেশনস লিগে ১৫ গোল।

আন্তর্জাতিক ফুটবলে ১০টি হ্যাটট্রিক।

৪৯টি জাতীয় দলের বিপক্ষে গোল।

ইউরোপের প্রথম পুরুষ ফুটবলার হিসেবে জাতীয় দলের হয়ে ১০০ গোল।

রেকর্ডের এই তালিকার প্রতিটি সংখ্যার পেছনে রয়েছে আলাদা গল্প। ২০১৩ সালে সুইডেনের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক, ২০১৬ সালে ইউরো জয়, ২০১৯ সালে প্রথম নেশনস লিগ শিরোপা, ২০২১ সালে আন্তর্জাতিক গোলের বিশ্বরেকর্ড, ২০২৩ সালে ২০০তম ম্যাচ এবং ২০২৬ সালে ছয়টি বিশ্বকাপে গোলের অনন্য কীর্তি—প্রতিটি মাইলফলক তাঁর দীর্ঘ যাত্রাকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।

নিজের বিদায়ী বার্তায় রোনালদো বলেছেন, বিশ্বের সেরা খেলোয়াড় হওয়ার জন্য তিনি জীবনভর কাজ করেছেন। কিন্তু তাঁর সবচেয়ে বড় জয় হলো বিশ্বের সেরা দেশটির প্রতিনিধিত্ব করার সম্মান অর্জন। পর্তুগালের মানুষের প্রত্যাশা সব সময় পূরণ করতে পারেননি বলেও স্বীকার করেছেন তিনি। কিছু হার এখনো মনে পড়লে কষ্ট দেয়—এ কথাও বলেছেন।

রোনালদোর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারকে তাই কেবল গোল ও ট্রফির হিসাব দিয়ে বিচার করা যাবে না। ২০০৪ সালের ফাইনালে কিশোরের কান্না, ২০১৬ সালের ফাইনালে চোট নিয়েও সতীর্থদের পাশে থাকা অধিনায়ক, ২০১৮ বিশ্বকাপে স্পেনের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক, ২০২২ সালে মরক্কোর কাছে হারের পর অশ্রুসিক্ত বিদায়—প্রতিটি মুহূর্তই তাঁর যাত্রার অংশ।

একসময় মাদেইরার ছোট্ট বাড়িতে যে ছেলেটি পরিবারের জন্য কাঁদতেন, তিনিই একদিন দেশের হয়ে গোল করে কোটি মানুষের চোখে আনন্দের জল এনেছেন। যে কিশোরকে নতুন শহরে উচ্চারণ নিয়ে ঠাট্টা শুনতে হয়েছিল, তাঁর নামেই পরে স্টেডিয়াম, জাদুঘর ও অসংখ্য স্মৃতিচিহ্ন তৈরি হয়েছে। যে তরুণ একদিন স্বপ্ন দেখেছিলেন বিশ্বের সেরা হওয়ার, তিনি নিজের কাজ, শৃঙ্খলা ও জেদের মাধ্যমে সেই স্বপ্নকে বাস্তব করেছেন।

একটি জার্সি, ২৩ বছরের দায়বদ্ধতা, ২৩৪ ম্যাচ, ১৪৬ গোল এবং তিনটি বড় আন্তর্জাতিক শিরোপা—এই উত্তরাধিকার মুছে যাওয়ার নয়। তাঁর অহংকার নিয়ে বিতর্ক থাকবে, শেষ সময়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন থাকবে, মেসির সঙ্গে তুলনাও চলবে। কিন্তু মাদেইরার এক কিশোরের বিশ্বজয়ের গল্প, তাঁর অদম্য পরিশ্রম এবং কোটি মানুষের মনে জাগানো স্বপ্নকে অস্বীকার করার উপায় নেই।

রোনালদোর বিদায় শুধু পর্তুগালের ফুটবল ইতিহাসে একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি নয়। পৃথিবীর কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর কাছেও এটি ব্যক্তিগত এক অনুভূতির নাম। কেউ তাঁকে প্রথম দেখেছেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের লাল জার্সিতে। কেউ রিয়াল মাদ্রিদের সাদা জার্সিতে। কেউ তাঁর সঙ্গে বড় হয়েছেন, তাঁর গোল দেখে ফুটবল ভালোবাসতে শিখেছেন। কেউ স্কুলের মাঠে গোল করে তাঁর মতো করে উদ্‌যাপন করেছেন। কেউ আবার জীবনের কঠিন সময়ে তাঁর সংগ্রামের গল্প থেকে সাহস পেয়েছেন।

তাঁদের অনেকেই এখন বড় হয়ে গেছেন। কেউ চাকরি করছেন, কেউ সংসার করছেন, কেউ নিজের সন্তানকে ফুটবল শেখাচ্ছেন। কিন্তু রোনালদো যেন এত দিন একইভাবে মাঠে ছিলেন—এক পরিচিত মুখ, এক চেনা উদ্‌যাপন, এক অদম্য প্রতিযোগী। এবার সেই পরিচিত দৃশ্যটি আর দেখা যাবে না পর্তুগালের জার্সিতে।

তাঁর অবসরবার্তায় একটি কথা বিশেষভাবে মনে রাখার মতো। তিনি বলেছেন, সারাজীবন বিশ্বের সেরা খেলোয়াড় হওয়ার জন্য কাজ করেছেন, কিন্তু এখন বুঝতে পারছেন, তাঁর সবচেয়ে বড় জয় ছিল নিজের দেশের প্রতিনিধিত্ব করার সম্মান পাওয়া।

এত গোল, এত ট্রফি, এত রেকর্ডের পরও শেষ পর্যন্ত দেশের জার্সিটিই তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় হয়ে উঠল।

একদিন মাদেইরার ছোট্ট একটি ছেলে পরিবার ছেড়ে ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে লিসবনে গিয়েছিল। সেই ছেলেটি ২৩ বছর ধরে পর্তুগালের জার্সি পরে বিশ্বজুড়ে কোটি মানুষকে আনন্দ দিয়েছে, কাঁদিয়েছে, অনুপ্রাণিত করেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৭ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%