০৫:৪৯ পি.এম
ইরান জানিয়েছে, যতদিন নির্ধারিত সময় ধরে ওয়াশিংটন তাদের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করতে থাকবে, ততদিন তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী তাদের বাধ্যবাধকতা পূরণ করবে না। এই কথা জানান তেহরানের কর্মকর্তারা সোমবার (১৩ জুলাই) এক সাংবাদিক সম্মেলনে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই উল্লেখ করেছেন, তেহরানের অবস্থান ‘প্রতিশ্রুতির বিনিময়ে প্রতিশ্রুতি’ নীতির ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত। তিনি আধা-সরকারি তাসনিম নিউজ এজেন্সির মাধ্যমে বলেন, ‘আমরা শুরু থেকেই বলছি যে, এটি প্রতিশ্রুতির বিনিময়ে প্রতিশ্রতি।’ যদি অপর পক্ষ (যুক্তরাষ্ট্র) তাদের প্রতিশ্রুতি মেনে চলে, তাহলে আমরাও আমাদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করব।
তিনি আরও যোগ করেন, ‘ইসলামিক প্রজাতন্ত্রী ইরানকে এই চুক্তি লঙ্ঘনের জন্য কেউ দোষারোপ করতে পারে না। সব ক্ষেত্রেই, আমাদের এবং অপর পক্ষের দায়বদ্ধতা সুস্পষ্ট এবং তা নথিভুক্ত করা সম্ভব।’
আরও পড়ুন: ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ১৪ পয়েন্টে নাশকতার পরিকল্পনা আ.লীগের
বাকাই যুক্তরাষ্ট্রকে বিভিন্ন অজুহাতে সমঝোতা স্মারকের বিভিন্ন ধারা লঙ্ঘনের জন্য দোষারোপ করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘কিন্তু যতদিন অপর পক্ষ তার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করতে থাকবে, ততদিন ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানও তার গৃহীত দায়বদ্ধতা পূরণে বিরত থাকবে।’
তিনি সতর্ক করে দেন যে, সমঝোতা স্মারকটি বর্তমানে একটি সংকটময় পর্যায়ে প্রবেশ করেছে।
এছাড়াও, সাম্প্রতিক কূটনৈতিক যোগাযোগের বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বাকাই জানান, সামরিক উত্তেজনা সত্ত্বেও কূটনীতি একটি কার্যকর উপায় হিসেবেই রয়েছে।
এ সময় তিনি আরও দাবি করেন যে, তেহরান প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর কোনো হামলা চালায়নি।
আরও পড়ুন: হুথিদের সউদী আরবের তেলক্ষেত্র, রিয়াদ বিমানবন্দর ও সেনাক্যাম্পে হামলার দাবি
মুখপাত্র বলেন, ইরানের সামরিক পদক্ষেপগুলো শুধুমাত্র সেইসব ঘাঁটি, স্থাপনা এবং স্থানকে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে, যেগুলো যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর হামলা চালানোর জন্য ব্যবহার করে, এর মধ্যে রসদ ও সহায়ক স্থাপনাও অন্তর্ভুক্ত।
তিনি বলেন, ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের ওপর হামলার উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত যেকোনো দেশের যেকোনো এলাকা বা যেকোনো অংশ, সাধারণ নিয়ম অনুসারে, ইরানের প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থার আওতায় আসবে।
এটি উল্লেখযোগ্য যে, হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানজুড়ে সামরিক ও অবকাঠামোগত লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর পরে, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
আরও পড়ুন: ‘দার–এ–নিজাত’ ধারাবাহিকের ২৩ পর্বে ১৭০ কোটি ভিউ, পাকিস্তানের ইতিহাসে নতুন রেকর্ড
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন