০৯:১৩ এম
পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বেলুচিস্তান প্রদেশের একটি কয়লাখনিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ফলে অন্তত ৩২ জন শ্রমিক নিহত হয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া শ্রমিকদের মধ্যে জীবিত কাউকে পাওয়ার সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে। উদ্ধারের কার্যক্রম এখনও চলছে।
বৃহস্পতিবার, প্রাদেশিক রাজধানী কোয়েটার কাছে দুর্গম সোরাঙ্গে এলাকার এক কয়লাখনিতে দুর্ঘটনাটি ঘটে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, খনির ভেতরে মিথেন গ্যাস জমে বিস্ফোরণের সৃষ্টি হয়েছে। বিস্ফোরণের পর খনির একটি বড় অংশ ধসে পড়ে এবং অনেক শ্রমিক ভেতরে আটকা পড়ে যায়।
শুক্রবার ভোরে বেলুচিস্তান প্রাদেশিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের একজন কর্মকর্তা জানান, এই মুহূর্ত পর্যন্ত ২৯টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া খনির ভেতরে তিনটি মরদেহের অবস্থান শনাক্ত হয়েছে এবং উদ্ধারকারীরা সেগুলো বের করে আনার চেষ্টা করছেন। দুর্ঘটনার ১২ ঘণ্টারও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও উদ্ধার অভিযান থেমে যায়নি।
আরও পড়ুন: গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসন জোরদারে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ, খনি উদ্ধারকারী দল এবং অন্যান্য জরুরি সেবার সদস্যরা এখনও খনির ভেতরে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছেন। যদিও এত দীর্ঘ সময় পেরিয়ে যাওয়ায় জীবিত কাউকে উদ্ধারের আশা খুবই ক্ষীণ হয়ে এসেছে। এর আগে, বেলুচিস্তানের প্রধান খনি পরিদর্শক মুহাম্মদ আতিফ জানিয়েছিলেন, বিস্ফোরণের সময় খনির ভেতরে মোট ৩৬ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন।
অন্যদিকে, অঞ্চলের জ্যেষ্ঠ সরকারি খনি কর্মকর্তা আবদুল গনি বেলুচ মন্তব্য করেছেন, বিস্ফোরণটি এতটাই শক্তিশালী ছিল যে পাশাপাশি থাকা দুটি কয়লাখনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এটি উদ্ধারকাজকেও আরো কঠিন করে তুলেছে। পাকিস্তানের কয়লাখনিগুলোতে এমন দুর্ঘটনা নতুন নয়। বিশেষ করে বেলুচিস্তানের অনেক খনিতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই।
খনির ভেতরে গ্যাসের মাত্রা পর্যবেক্ষণের আধুনিক ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের সুবিধা এবং জরুরি নিরাপত্তা সরঞ্জামের অভাবের কারণে প্রায়ই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। খনিশ্রমিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে খনির মালিকদের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা অবহেলার অভিযোগ করে আসছে। তাদের দাবি, অনেক মালিক শ্রমিকদের প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সরঞ্জাম দেন না এবং নিরাপত্তাবিধিও যথাযথভাবে মেনে চলেন না। ফলে শ্রমিকদের জীবনের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করলেও বেলুচিস্তানের হাজার হাজার মানুষ জীবিকার জন্য কয়লাখনির ওপর নির্ভরশীল। কম মজুরিতে কঠিন ও বিপজ্জনক কাজ করতে বাধ্য হন তারা। পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় প্রদেশ হলেও বেলুচিস্তান এখনো দেশের অন্যতম অনুন্নত অঞ্চল। সেখানে বেকারত্ব ও দারিদ্র্যের হার বেশি হওয়ায় জীবিকার তাগিদে অনেকেই এমন ঝুঁকিপূর্ণ পেশা বেছে নিতে বাধ্য হয়।
আরও পড়ুন: প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সহযোগিতায় ক্যান্সারের লড়াইয়ে জয়ী শিশু নিশা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন