১০:১০ পি.এম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, সরকার রোহিঙ্গা সংকটের শান্তিপূর্ণ ও দ্রুততম সমাধানে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।
এ কথা তিনি বুধবার (৮ জুলাই) বিকেলে জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে সিরাজগঞ্জ-১ আসনের তারকা চিহ্নিত সংসদ সদস্য মো. সেলিম রেজার এক প্রশ্নের জবাবে বলেন।
মো. সেলিম রেজার প্রশ্নটি ছিল, রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের জন্য সরকারের কোনো পরিকল্পনা আছে কিনা? থাকলে সেটা কী এবং কবে নাগাদ এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হতে পারে?
আরও পড়ুন: এইচএসসির খাতা পুনর্মূল্যায়ন আবেদনের সময়সীমা বৃদ্ধি, ২ লাখ ৭৮ হাজার ৮৮২ শিক্ষার্থী আবেদন করেছেন
এমন প্রশ্নের জন্য প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে মো. সেলিম রেজাকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নেতৃত্বে গঠিত সরকার রোহিঙ্গা সংকটের শান্তিপূর্ণ ও দ্রুততম সমাধানে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ রয়েছে।
রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার অবদান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পূর্বে ১৯৭৮ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং ১৯৯২ সালে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকার ঐ সময়ের রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান প্রতিষ্ঠায় সফল কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন।
তাদের সুযোগ্য দিকনির্দেশনায় বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গারা দ্রুততম সময়ে আত্মীয় স্বজনদের কাছে ফিরে যেতে সক্ষম হয়েছিল।
তিনি বলেন, বর্তমান সময়েও পূর্বের সেই নীতির আলোকে আমরা টেকসই, শান্তিপূর্ণ ও দ্রুততম সমাধানের পথ অনুসন্ধান করছি। বিএনপি সরকার রোহিঙ্গা সমস্যার দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক ও বহুপাক্ষিক সকল মঞ্চে শক্তিশালী কূটনৈতিক চেষ্টায় নিয়োজিত রয়েছে।
আরও পড়ুন: টেকনাফে মানবপাচারকারীদের আস্তানা গুঁড়িয়ে দিল যৌথ বাহিনী
সরকার রোহিঙ্গা সংকটকে বৈশ্বিক মানবিক আলোচনার কেন্দ্রে স্থাপন করার লক্ষ্যে সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ প্রক্রিয়ায় জাতিসংঘসহ বিভিন্ন দেশের ও দাতা সংস্থার উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর ইউএন এইচসিআর (UNHCR), ইউ এন ওমেন (UN Women) এবং ওয়ার্ল্ড ফুড প্রগ্রাম (WFP) এর প্রতিনিধিদল কcoxবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন এবং মানবিক সহায়তা বৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা হয়।
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী চলতি মাসের শুরুতে বাংলাদেশে সরকারি সফরে এসে কcoxবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। এই সফরের ফলে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য তুরস্কের পক্ষ থেকে মানবিক সহায়তা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আমরা আশা করছি।
প্রধানমন্ত্রী জানান, গত সেপ্টেম্বর মাসে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের দ্রুত ও নিরাপদ প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে জাতিসংঘে একটি উচ্চপর্যায়ের সম্মেলন আয়োজিত হয়েছিল। ভবিষ্যতে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের উচ্চপর্যায়ের আয়োজনের মাধ্যমে বিশ্বজনমতকে কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
বাংলাদেশ সরকার রোহিঙ্গা সংকটের মূল কারণগুলো বিবেচনায় ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
আরও পড়ুন: ধর্মমন্ত্রীর আহ্বান: দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করতে ঐক্যবদ্ধ থাকুন
তিনি বলেন, এ লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গাম্বিয়ার মামলার প্রতি বাংলাদেশ নৈতিক সমর্থন অব্যাহত রেখেছে। রোহিঙ্গা সংকটের কার্যকর ও টেকসই সমাধান মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নিহিত। সেই জন্য রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, টেকসই ও স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমারে অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপ বাড়ানোর জন্য আমাদের কূটনৈতিক তৎপরতা ব্যাপকভাবে চলমান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে দ্বিপাক্ষিক ফ্রন্টে মিয়ানমারের জান্তা সরকারের পাশাপাশি অন্যান্য পক্ষের সাথে যোগাযোগ স্থাপন ও আলোচনা চলছে। মূলধারার কূটনীতির পাশাপাশি confidence building এর অন্যান্য প্রক্রিয়া প্রয়োগের বিষয়ও বিবেচনাধীন রয়েছে। একই সঙ্গে প্রত্যাবাসনের বুনিয়াদ হিসেবে রোহিঙ্গাদের তথ্য যাচাইকরণ বা ভ্যারিফিকেশন প্রক্রিয়া নিয়মিতভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। রোহিঙ্গাদের তৃতীয় দেশ থেকে পুনর্বাসন বা প্রত্যাবাসনের কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন একটি জটিল, সংবেদনশীল এবং বহুমাত্রিক আন্তর্জাতিক বিষয়। এর সমাধানের গতিপ্রকৃতি রাখা যায় অনেকাংশেই রাখাইন রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক চাপ এবং সর্বোপরি মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের উপর।
তিনি উল্লেখ করেন, রাখাইন রাজ্যে একটি স্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করতে মিয়ানমার সরকার ও আরাকান আর্মির মধ্যে কার্যকর সংলাপ গঠনের প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে আমরা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সাথে সংলাপ জোরদার করেছি। রোহিঙ্গাদের স্থায়ী, নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করাই বর্তমান সরকারের লক্ষ্য।
আরও পড়ুন: চিকিৎসার জন্য অনুদান নিলে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার শঙ্কা
বর্তমান মন্ত্রীসভা রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে শান্তিপূর্ণ বিষয় বজায় রাখার স্বার্থে এবং মানবিক সংকট মোকাবেলায় সুচিন্তিত ও বাস্তবধর্মী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ক্যাম্পগুলোর অভ্যন্তরীণ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, স্বাগতিক কমিউনিটির সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত রাখা এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সমন্বয়ে গঠিত উচ্চ পর্যায়ের ‘বলপ্রয়োগে বাস্তুচ্যুত মায়ানমার নাগরিকগণের সমন্বয়, ব্যবস্থাপনা ও আইনশৃঙ্খলা সম্পর্কিত জাতীয় কমিটি’ অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করছে।
উল্লেখ্য, ক্যাম্পগুলোতে অবস্থানকারী রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা পৌঁছানো এবং তাদের দ্রুত প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জাতিসংঘ ও অন্যান্য স্টেকহোল্ডারদের সমন্বয়ে গঠিত ‘ন্যাশনাল টাস্ক ফোর্স’ মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রম তদারকি করছে।
বর্তমান সরকার বাস্তবসম্মত ও স্থায়ী সমাধানের মাধ্যমে আলোচনা এবং পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে এই বিপুল সংখ্যক বাস্তুচ্যুত জনগণকে সসম্মানে স্বদেশে ফিরিয়ে আনতে নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আরও পড়ুন: বাণিজ্যমন্ত্রী: পোশাকশিল্পের শ্রমিক অসন্তোষ নিয়ন্ত্রণে এসেছে
এর আগে দুপুর ৩টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন শুরু হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন