০৭:২৭ পি.এম
আজ রাজধানীর মিরপুর-১২ এলাকার মুসলিম বাজার খালের ময়লা অপসারণ কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
সরকার ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন মোট ৫৬টি খাল অবৈধ দখলমুক্ত করে স্থায়ীভাবে সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে। এ লক্ষ্যে গঠিত দুটি কমিটির মাধ্যমে ঢাকা উত্তরের ২৭টি এবং দক্ষিণের ২৯টি খালের দখলমুক্তকরণ কার্যক্রম পরিচালিত হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
আজ রাজধানীর মিরপুর-১২ এলাকার মুসলিম বাজার খালের ময়লা অপসারণ কার্যক্রম পরিদর্শনকালে তিনি উল্লেখ করেন। এ সময় ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: দলের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে: আইনমন্ত্রী
প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, খালগুলো দখলমুক্ত করার পর ডিমার্কেশনের মাধ্যমে উভয় পাশে গাইড ওয়াল নির্মাণ করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ খাল দখল করতে না পারে। তিনি কথা বলেন, ‘ঢাকার খালগুলো সংরক্ষণ করা না গেলে নগরী একসময় বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়বে। তাই নগরবাসীর স্বার্থেই খাল পুনরুদ্ধার ও স্থায়ী সংরক্ষণে সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে।’
তিনি জানান, বর্তমানে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের অধীন ছোট-বড় ৫৬টি খালের ময়লা-আবর্জনা অপসারণের কাজ চলছে এবং এই কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত থাকবে।
মীর শাহে আলম অভিযোগ করেন যে, গত ১৯ বছরে আন্তরিকতার সঙ্গে নগরীর খাল ও পরিবেশ রক্ষায় কার্যকর পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হয়নি। তবে বর্তমান সরকার নগরবাসীর স্বার্থে অলিগলি থেকে শুরু করে খাল-বিল পর্যন্ত সর্বত্র পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করেছে।
তিনি বলেন, মুসলিম বাজার খাল থেকেই ইতোমধ্যে প্রায় ৪৫০ ট্রাক ময়লা-আবর্জনা অপসারণ করা হয়েছে। একইভাবে অন্যান্য খালও পরিষ্কার করা হবে। খালগুলোর ময়লা অপসারণের ফলে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা অনেকাংশে কমে আসবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আরও পড়ুন: রাজধানীর পান্থপথ, খিলক্ষেত ও ক্যান্টনমেন্টে ককটেল বিস্ফোরণ
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘খালগুলো দখলমুক্ত ও ময়লামুক্ত করা না গেলে ঢাকা নগরী ক্রমেই বসবাসের অনুপযোগী হয়ে উঠবে।’ তিনি আরও জানান, সিটি কর্পোরেশন ও প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে খাল পুনরুদ্ধার, ডিমার্কেশন, গাইড ওয়াল নির্মাণ এবং পরিচ্ছন্নতা অভিযান চলমান থাকবে।
এ সময় তিনি সতর্ক করে বলেন, খাল ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কার করার পর কেউ যদি সেখানে কিংবা রাস্তার পাশে ময়লা-আবর্জনা ফেলেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং জরিমানা করা হবে।
ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, নগরবাসীর চাহিদা ও প্রয়োজনের ভিত্তিতে সকল সেবামূলক ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, ‘আমরা নগরবাসীকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনকে একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও দুর্গন্ধমুক্ত নগর হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।’
তিনি জানান, গত ৫ জুন থেকে এ পর্যন্ত মুসলিম বাজার খাল থেকে ৪১৬ ট্রাক তলদেশের পলি, স্লাজ ও ময়লা অপসারণ করা হয়েছে। দীর্ঘদিনের জমে থাকা এসব বর্জ্য অপসারণের ফলে খালের স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনার কাজ এগিয়ে যাচ্ছে।
আরও পড়ুন: সরকার ৬৪ জেলায় প্রতিবন্ধী স্কুল প্রতিষ্ঠা করবে
প্রশাসক অভিযোগ করেন, গত ১৯ বছরে এ ধরনের ব্যাপক খাল পরিষ্কার কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার আলোকে ডিএনসিসির আওতাধীন সব খাল পর্যায়ক্রমে পরিষ্কার করা হবে এবং নগরবাসীকে জলাবদ্ধতামুক্ত নগর উপহার দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গুমুক্ত নগর গড়ার লক্ষ্যেও সিটি কর্পোরেশনের কর্মীরা প্রতিনিয়ত নগরীর অলিগলি, জলাশয় ও খালপাড়ে কাজ করে যাচ্ছেন। এই কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, জনদুর্ভোগ কমাতে একই রাস্তা বারবার খননের পরিবর্তে ওয়াসা, ডেসকোসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বিত উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার চেষ্টা করা হবে।
পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী ও ডিএনসিসি প্রশাসক মুসলিম বাজার খালের আশপাশের অঞ্চলে চলমান পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।
আরও পড়ুন: গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের নতুন কমিশনার মো. আশিক সাঈদ দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন