০৪:০৮ পি.এম
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান মন্তব্য করেছেন, ২০২৪ সালের আন্দোলন ফাইনাল যুদ্ধ নয়, বরং যুদ্ধের রিহার্সেল (মহড়া) ছিল।
তিনি রোববার (২৩ আগস্ট) রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (আইডিইবি) মিলনায়তনে সীরাতুন্নবী (সা.) সেমিনার ও রচনা প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই মন্তব্য করেন।
জামায়াত আমির বলেছেন, ২৪-এ যে মানুষগুলো জেগে উঠেছিল, তারা সবাই মৃত হয় নি, তারা ঘুমিয়ে পড়েনি। বরং তারা সবকিছু সতর্ক দৃষ্টিতে পর্যবেক্ষণ করছে। মূল যুদ্ধের আগে বাহিনী তৈরি হতে হয় এবং তাদের কসরত করতে হয়, মহড়া দিতে হয়। তিনি বলেন, “এরা যেন ২৪ সালের আন্দোলনকে ফাইনাল যুদ্ধ মনে না করে। এটি ছিল ফাইনাল যুদ্ধের রিহার্সেল।”
আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে বিএনপির কর্মসূচিতে বেজে উঠল শেখ হাসিনাকে নিয়ে গান
ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, ২০২৪ সালের পর তিনি আশা করেছিলেন, দীর্ঘদিন ধরে তৈরি হওয়া ফ্যাসিবাদের ‘পঙ্কিলতা, ময়লা ও আবর্জনা’ পরিষ্কার হবে, কিন্তু তা হয়নি। বরং আবর্জনার পরিমাণ বেড়েছে। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদ একটি সংক্রামক ব্যাধি, যা এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় সংক্রমিত হয়। তিনি উদাহরণস্বরূপ বলেন, ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদকৃত সরকার যে রাস্তায় হেঁটেছে, বর্তমান সরকারও সে রাস্তা ধরেই হাঁটছে। এ রাস্তা পরিবর্তন করতে হবে, কারণ এই রাস্তা ফ্যাসিবাদের রাস্তা।
তিনি জানান, “বাংলাদেশের মানুষ কাউকে ওই পথে চলতে দেবে না।” জামায়াত আমির আরও বলেন, জুলাই জাদুঘর থেকে ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সরিয়ে ফেলা হয়েছে। তিনি বলেন, সচেতন নাগরিকদের প্রত্যেকেরই এই জাদুঘর পরিদর্শন করা উচিত। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে জাতির দুঃখের ঘটনাগুলো এখানে তুলে ধরা হয়েছিল। বিশেষ একটি দেশ ও রাষ্ট্রকে খুশি করার জন্য অনেক উপাদান গায়েব করে দেওয়া হয়েছে।
তিনি জনান, ১৯৪৬ অথবা ১৯৪৭ সাল থেকে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের যারা নেতৃত্ব দিয়েছেন, তাদের অনেক কিছু এখন গায়েব করে দেওয়া হয়েছে। নির্বাচিত সরকারের হাতে যখন আসছে, তখন অনেক নির্যাতিত মানুষের স্মৃতিচিহ্ন ও ছবি সেখানে ছিল।
তিনি অভিযোগ করেন, একটি নির্দিষ্ট দলের লোকদের স্মৃতি রেখে বাকিগুলো গায়েব করে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি দেলাওয়ার হোসেনের কথা উল্লেখ করে বলেন, তাকে প্রায় ২০০ দিন রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল এবং তার উপর অত্যাচার করা হয়েছিল।
আরও পড়ুন: বীরগঞ্জে ৬ চোরাই মোটরসাইকেলসহ আন্তঃজেলা চোর আটক
ডা. শফিকুর রহমান মন্তব্য করেছেন, এটি ভালো লক্ষণ নয়। যারা ক্ষমতায় আসে, তারা বলে ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছে। তবে বাংলাদেশের ইতিহাস বলছে, সবাই ইতিহাস বিকৃতির নায়ক। বিতর্কের সমাপ্তি টানতে তিনি বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ও পাসপোর্টের শক্তি নিয়েও কথা বলেছেন। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর পাঁচ দশক পেরিয়ে গেলেও বাংলাদেশ প্রত্যাশিতভাবে এগোতে পারেনি। বিশ্বের কাছে দেশের মানুষের সম্মানের একটি মানদণ্ড হচ্ছে পাসপোর্টের শক্তি। কিন্তু বাংলাদেশের পাসপোর্টের অবস্থা হতাশাজনক।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আনম রফিকুর রহমান মাদানীর সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন, বিরোধীদলীয় হুইপ মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল, ডা. শফিকুল ইসলাম মাসুদ ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন