ঢাকা রবিবার, ০৮ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২৩শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ০৮ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২৩শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত আয়, ডিসি অফিসের কর্মচারীর বিরুদ্ধে দুদকের মামলার তদন্ত স্থগিত


জ্ঞাত আয়বহির্ভূত আয়, ডিসি অফিসের কর্মচারীর বিরুদ্ধে দুদকের মামলার তদন্ত স্থগিত

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপন করার অভিযোগে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের এক কর্মচারী এবং তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা পৃথক দুটি মামলার তদন্ত কার্যক্রম বর্তমানে আটকে আছে। আসামিদের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টের দেয়া স্থগিতাদেশের কারণে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা সম্ভব হয়নি, এমনটাই আদালতকে জানিয়েছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা।

বুধবার (১৫ জুলাই) আদালত সূত্রে জানা যায়, মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল না হওয়ার ঘটনায় গত ৩০ মার্চ ঠাকুরগাঁওয়ের সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত তদন্তকারী কর্মকর্তাকে কারণ ব্যাখ্যা করতে নির্দেশ দেন। ওই নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৭ জুন বিস্তারিত লিখিত ব্যাখ্যা দাখিল করেন দুর্নীতি দমন কমিশন সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঠাকুরগাঁওয়ের উপ-সহকারী পরিচালক ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম।

দুদক কর্মকর্তার জমা দেয়া লিখিত ব্যাখ্যা থেকে জানা যায়, প্রথম মামলাটি (নম্বর-০৩/২০২৩) ২০২৩ সালের ১৯ অক্টোবর দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় থেকে দায়ের করা হয়। এই মামলার আসামি শহিদুল ইসলাম ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক ছিলেন। বর্তমানে তিনি হরিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে একই পদে কর্মরত রয়েছেন।

আরও পড়ুন: ফটিকছড়িতে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে যুবক জিসান নিহত, আহত ৪

মামলার তদন্ত চলাকালে শহিদুল ইসলাম তার মামলার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০২৪ সালের ৩ জানুয়ারি হাইকোর্টে রিট পিটিশন (নম্বর-৩১০/২০২৪) দায়ের করেন। শুনানি শেষে ২০২৪ সালের ১৬ জানুয়ারি হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন এবং মামলাটির সব কার্যক্রমের ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছেন। এরপর দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে ২০২৪ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ও ৩১ জুলাই পৃথক নির্দেশনায় হাইকোর্টের আদেশ অনুসরণ করে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়। ফলস্বরূপ, মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম এখন স্থগিত রয়েছে।

অন্যদিকে, শহিদুলের স্ত্রী কামরুন নাহারের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় মামলাটি (নম্বর-০৬/২০২৪) ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর একই আইনে দায়ের করা হয়। এই মামলাটির তদন্তও স্বাভাবিক নিয়মে চলছিল। কিন্তু কামরুন নাহারও মামলার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট (নম্বর-১৫০৫৮/২০২৪) দায়ের করেছেন। এরপর থেকে এই মামলার তদন্ত কার্যক্রমও বন্ধ রয়েছে।

ব্যাখ্যায় আরও উল্লেখ করা হয়, মামলার বর্তমান অবস্থা নিয়মিতভাবে মাসিক অগ্রগতি প্রতিবেদন তৈরির মাধ্যমে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে জানানো হচ্ছে। পাশাপাশি চলতি বছরে ৩১ মার্চ মহাপরিচালক (লিগ্যাল অ্যান্ড প্রসিকিউশন) বরাবর পাঠানো এক চিঠিতে হাইকোর্টে বিচার কার্যক্রম স্থগিত থাকা মামলাগুলোর স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারে প্রয়োজনীয় আইনগত উদ্যোগ গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ হচ্ছে, ডিসি অফিসের কর্মচারী শহিদুল সরল মানুষদের ভুল বুঝিয়ে সরকারি কাজে অধিগ্রহণের জন্য নির্ধারিত জমি কম দামে কিনে নিতেন। পরে এই জমি সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় উচ্চমূল্যে বিক্রি করতেন। এছাড়া টিসিবির পণ্যের টাকা লুটপাট ও অনিয়ম-দুর্নীতির ব্যাপক অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

আরও পড়ুন: বাকেরগঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও ড্রেন পরিষ্কার কার্যক্রম

স্থানীয়রা জানান, এসব অনিয়মের মাধ্যমে মাত্র এক বছরের মধ্যে শহিদুল কয়েক কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। তিনি শহরে বিলাসবহুল বাড়িও গড়ে তুলেছেন। হঠাৎ প্রচুর সম্পদের মালিক হওয়ায় শহরজুড়ে আলোচনা এবং সমালোচনা শুরু হয়েছে।

এসব বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য অভিযুক্ত শহিদুল ইসলাম এবং তার স্ত্রী কামরুন নাহারের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, 'আসামিপক্ষের করা রিটের কারণে তদন্ত কার্যক্রম স্থগিত আছে। যদি স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হয়, তাহলে কমিশনের অনুমোদন সাপেক্ষে দ্রুত তদন্ত শেষ করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।'

দুদকের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সফিউজ্জামান সুমন জানান, 'মামলা দুটির ফাইনাল রিপোর্ট আদালতে জমা হলেই কার্যক্রম চালানো যেতে পারে।'

আরও পড়ুন: জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদ্‌যাপন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সুনামগঞ্জে বিনার নতুন জাত সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের দিক নির্দেশনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৮:৫৪ পি.এম


সুনামগঞ্জে বিনার নতুন জাত সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের দিক নির্দেশনা

সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশ কৃষির অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ও বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা) উদ্ভাবিত জাত ও প্রযুক্তিসমূহের বিষয়ে বিনার বিভিন্ন জাতের পরিদর্শন করেছেন। 

আজ বুধবার সকালে শহরের হাসান নগর এলাকায় অবস্থিত সুনামগঞ্জ বিনা উপকেন্দ্রের হলরুমে বিনা উপকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান মানিক শিক্ষার্থীদের বিনা বিভিন্ন জাত নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন এবং চাষাবাদের বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেন। 

আলোচনা পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীরা বিনা উপকেন্দ্রের লেবুর বাগানসহ বিনার বিভিন্ন জাতের নতুন ধান বীজ সম্পর্কে মাঠ পরিদর্শন করে নতুন বীজ সম্পর্কে অবগত হন। 

মাঠ পরিদর্শন শেষে শিক্ষার্থীরা জানান, বাংলাদেশের কৃষিতে অনেক নতুন প্রযুক্তির আবিষ্কার হচ্ছে। একই সাথে, বিনা বিভিন্ন ধরনের নতুন জাত আবিষ্কার করছে যা বাংলাদেশের কৃষিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। তরুণদের মধ্যে যারা এই নতুন জাত সম্পর্কে অজানা, তারা যদি এই জাতের সম্ভাবনা জানিয়ে দিতে পারেন তবে আগামীতে বাংলাদেশ কৃষি আরও নির্ভরশীল হবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক ও বিভাগীয় প্রধান মো.উজ্জল মিয়া, প্রভাষক মান্নাফ আহম্মেদ মুন্না, অতিথি শিক্ষক রেজওয়ানা জেবিনসহ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ব্যক্তিগত অর্থায়নে বারইয়ারহাট–শান্তিরহাট সড়ক সংস্কার করলেন সিআইপি ফখরুল ইসলাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সাকিব চৌধুরী, (চট্টগ্রাম)

বুধবার, ১৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৮:৫৬ পি.এম


ব্যক্তিগত অর্থায়নে বারইয়ারহাট–শান্তিরহাট সড়ক সংস্কার করলেন সিআইপি ফখরুল ইসলাম

চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জ থানার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বারইয়ারহাট–শান্তিরহাট সড়কের বেহাল দশা দূর করতে অনন্য উদ্যোগ নিয়েছেন বিশিষ্ট শিল্পপতি ও সমাজসেবক ফখরুল ইসলাম খান, সিআইপি। দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে থাকা এই সড়কটির ক্ষতিগ্রস্ত অংশ নিজ উদ্যোগে এবং সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত অর্থায়নে সংস্কার করে দিয়েছেন তিনি। ফখরুল ইসলাম খান সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রবাসী কল্যাণ সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি এবং মীরসরাইয়ের কৃতি সন্তান।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক বছর ধরে সড়কটির বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছিল। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে কাদা ও পানি জমে সড়কটি দিয়ে সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী এবং চালকদের যাতায়াত প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি সংস্কারের দাবি উঠলেও দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। দুর্ভোগের এই চিত্র জানতে পেরে ফখরুল ইসলাম খান নিজস্ব অর্থায়নে সড়কটির খানাখন্দ ভরাট ও চলাচলের উপযোগী করার ব্যবস্থা করেন।
সড়কটি সংস্কারের ফলে বারইয়ারহাট ও শান্তিরহাট এলাকার হাজারো মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি লাঘব হয়েছে। বর্তমানে এই রুটে যানবাহন ও পথচারীরা স্বাচ্ছন্দ্যে এবং নিরাপদে চলাচল করতে পারছেন।
এ বিষয়ে খান কল্যাণ ট্রাস্টের ম্যানেজার দীন মোহাম্মদ বলেন, "প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এই সড়কটি ব্যবহার করেন। রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে মানুষের কষ্ট হচ্ছিল। আমাদের চেয়ারম্যান শিল্পপতি ফখরুল ইসলাম খান, সিআইপি মানবিক বিবেচনা থেকে নিজস্ব অর্থায়নে সড়কটি সংস্কার করে দিয়েছেন। তিনি সব সময়ই বন্যাকবলিত মানুষসহ অসহায়দের পাশে দাঁড়ান এবং জনকল্যাণমূলক কাজে যুক্ত থাকেন।"
উপকারভোগী সিএনজিচালক সমিতির পক্ষ থেকে মো. মিয়া খান কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, "রাস্তার গর্ত আর কাদার জন্য আমাদের গাড়ি চালানো কঠিন ছিল, প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটতো। রাস্তাটি সংস্কার হওয়ায় এখন যাত্রী পরিবহন অনেক সহজ ও নিরাপদ হয়েছে। আমরা উনার প্রতি কৃতজ্ঞ।"
ব্যক্তিগত উদ্যোগে এই সাময়িক সংস্কারে এলাকাবাসী স্বস্তি পেলেও, সড়কটির দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্বের জন্য দ্রুত সরকারি উদ্যোগে স্থায়ী উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আবু সাঈদের সেই দৃশ্য ছিল জাতির ভয়জয়ের প্রতীক: প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৮:৫৮ পি.এম


আবু সাঈদের সেই দৃশ্য ছিল জাতির ভয়জয়ের প্রতীক: প্রধানমন্ত্রী

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে শহীদ আবু সাঈদের দুই হাত প্রসারিত করে অন্যায়ের বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা সেই অমলিন দৃশ্য কেবল একটি মুহূর্ত ছিল না। এটি ছিল গণতান্ত্রিক অধিকারবঞ্চিত একটি জাতির ভয় জয়ের প্রতীক। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ মন্তব্য করেছেন।

১৬ জুলাই ঐতিহাসিক ‘জুলাই শহীদ দিবস’ উপলক্ষে বুধবার (১৫ জুলাই) রাতে তিনি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এমন কথা বলেন। বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা, শোক ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং দেশের সর্বক্ষেত্রে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের এই দিনে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে রংপুরে পুলিশের গুলিতে শহীদ হন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ, চট্টগ্রামে কলেজ শিক্ষার্থী মোহাম্মদ ওয়াসিম আকরামসহ কমপক্ষে ৬ জন শহীদ। রংপুরে শহীদ আবু সাঈদ দুই হাত প্রসারিত করে পুলিশের সামনে বুক পেতে দিয়েছিলেন। পুলিশের গুলি করার দৃশ্য গণতন্ত্রকামী জনগণের মনে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার করে। কোটা সংস্কারের দাবি ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের আন্দোলনে মোড় নেয়। সেই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় বীর ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে স্বৈরাচার দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছিল।

প্রধানমন্ত্রী ১৬ জুলাইয়ের সব শহীদের মাগফেরাত কামনা করে বলেন, ‘১৬ জুলাই আমাদের জাতীয় ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় সন্ধিক্ষণ।’ এদিন রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন, প্রাণঘাতী শক্তির নির্মম প্রয়োগ এবং ভয়ভীতির রাজনীতির বিরুদ্ধে নিরস্ত্র অথচ অদম্য সাহসী বীর ছাত্র-জনতা যে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন, তা জাতির বিবেককে জাগ্রত করেছিল। বিশেষ করে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে দুই হাত প্রসারিত করে অন্যায়ের বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা আবু সাঈদের দৃশ্য কেবল একটি মুহূর্ত ছিল না; সেটি ছিল গণতান্ত্রিক অধিকারবঞ্চিত একটি জাতির ভয় জয়ের প্রতীক।

তারেক রহমান বলেন, জুলাইয়ের সে গণ-অভ্যুত্থান কেবল একটি আন্দোলনই ছিল না, এটি ছিল দীর্ঘ দেড় দশক ধরে জনগণের ওপর চাপিয়ে দেয়া ফ্যাসিবাদ, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি, লুণ্ঠন, গুম, খুন, দমন-পীড়ন এবং ভোটাধিকার হরণের বিরুদ্ধে সমগ্র জাতির ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ। সেই আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের শক্তিতে বাংলাদেশের মানুষ তাদের মর্যাদা, অধিকার এবং গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে নতুন করে প্রতিষ্ঠার সুযোগ লাভ করেছে। ঐতিহাসিক সে গণ-অভ্যুত্থানের দুই বছর পর, আজ বর্তমান সরকার শহীদের পবিত্র আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

প্রধানমন্ত্রী শহীদদের রক্ত কখনও বৃথা যেতে পারে না উল্লেখ করে বলেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অমর চেতনা আমাদের জন্য কেবল ইতিহাসের গৌরব নয়, এটি ভবিষ্যৎ নির্মাণের প্রেরণা।’ রাষ্ট্র এবং সমাজে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে যারা শহীদ হয়েছেন, সেসব অকুতোভয় শহীদের গৌরবময় আত্মত্যাগের পথ ধরে বর্তমানে দেশ গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করেছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘সব নাগরিকের জন্য একটি নিরাপদ, মানবিক, স্বনির্ভর ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণের মাধ্যমে আমরা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে শহীদদের রক্তের ঋণ পরিশোধের চেষ্টা করতে পারি।’

বাণীতে তিনি আবারও আল্লাহর দরবারে সব শহীদের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন এবং গণ-অভ্যুত্থানে আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্র কি ইরানের দ্বীপগুলো দখল করতে সক্ষম হবে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ১৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৮:৫৮ পি.এম


যুক্তরাষ্ট্র কি ইরানের দ্বীপগুলো দখল করতে সক্ষম হবে?

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বিমান হামলার পর দেশটির কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপগুলো দখলের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ বিষয়ে সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে না দেওয়ায় এ জল্পনা আরও জোরালো হয়ে উঠেছে।

তবে সামরিক বিশ্লেষকদের অধিকাংশের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এমন সক্ষমতা থাকলেও বাস্তবে সেই ধরনের অভিযান অত্যন্ত ব্যয়বহুল, ঝুঁকিপূর্ণ এবং রাজনৈতিকভাবে কঠিন হবে।

সাম্প্রতিক কয়েক দিনে মার্কিন বাহিনী ইরানের কেশম, কিশ ও আবু মুসা দ্বীপে হামলা চালিয়েছে। পাশাপাশি দক্ষিণ উপকূলের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী বন্দর আব্বাসেও একাধিক হামলার খবর পাওয়া গেছে। এরপর থেকেই প্রশ্ন উঠেছে, ওয়াশিংটন কি কেবল সামরিক চাপ সৃষ্টি করছে, নাকি ইরানের ভূখণ্ড দখলের পরিকল্পনাও রয়েছে?

গত মার্চে যুদ্ধ শুরুর কিছুদিন পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ খার্গ দ্বীপে বিশেষ অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন। উল্লেখ্য, ইরানের মোট অপরিশোধিত তেল রফতানির প্রায় ৯০ শতাংশ এই দ্বীপের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। যদিও পরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর সেই আলোচনা অনেকটা স্তিমিত হয়ে যায়।

তবে সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পকে ইরানের দ্বীপ দখলের সম্ভাবনা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি সরাসরি 'না' বলেননি। বরং তিনি বলেন, এ বিষয়ে মন্তব্য করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে না। তার এই বক্তব্যকে ঘিরেই নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে।

সামরিক সক্ষমতা আছে, কিন্তু মূল্য অনেক বেশি। যুক্তরাজ্যের কিংস কলেজ লন্ডনের নিরাপত্তা বিশ্লেষক আন্দ্রেয়াস ক্রিগের মতে, সীমিত পরিসরে যুক্তরাষ্ট্র চাইলে ইরানের কোনও ছোট দ্বীপ সামরিকভাবে দখল করতে পারে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, কোনও দ্বীপ দখল করা এবং সেটি দীর্ঘ সময় ধরে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৫০ হাজার সেনা মোতায়েন রয়েছে। শক্তিশালী নৌবাহিনী, বিমান শক্তি এবং উভচর অভিযানের সক্ষমতা থাকায় এমন অভিযান চালানো তাদের পক্ষে সম্ভব।

বিশ্লেষকদের মতে, একাধিক দ্বীপ দখলের চেষ্টা করা হলে সেটি আর সীমিত অভিযান থাকবে না; বরং পূর্ণাঙ্গ উভচর যুদ্ধ অভিযানে রূপ নেবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের দ্বীপগুলো দখল করা হলেও হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়ার সক্ষমতা পুরোপুরি শেষ হবে না। কারণ, ইরান মূল ভূখণ্ড থেকেই ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে নৌপথে হামলা চালাতে পারে। এছাড়া দখল করা দ্বীপগুলোতে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের নিয়মিত রসদ, আকাশ প্রতিরক্ষা এবং নৌ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, যা দীর্ঘমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় ধরনের সামরিক ও আর্থিক বোঝা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালীতে ইরানের সামরিক হুমকি পুরোপুরি দূর করতে হলে শুধু দ্বীপ নয়, ইরানের দক্ষিণ উপকূলের বিস্তীর্ণ এলাকায় দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযান চালানো আবশ্যক। সেক্ষেত্রে তা একটি পূর্ণাঙ্গ স্থলযুদ্ধে রূপ নিতে পারে।

রাজনৈতিক এবং কূটনৈতিক সংকট মোকাবেলা করতে হলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ইরানের কোনও দ্বীপ দখল করা হলে তেহরান সেটিকে সরাসরি আগ্রাসন হিসেবে বিবেচনা করবে। এর ফলে হরমুজ প্রণালীতে মাইন পেতে রাখা, বাণিজ্যিক জাহাজ, উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটি এবং জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলা বাড়তে পারে।

একই সঙ্গে উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর সঙ্গেও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক জটিল হয়ে উঠতে পারে। কারণ, এসব দেশ হরমুজ প্রণালী সচল রাখতে চাইলেও নিজেদের ভূখণ্ডকে সম্ভাব্য যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করতে আগ্রহী নয়।

মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষজ্ঞদের মতে, তাত্ত্বিকভাবে ইরানের কোনও দ্বীপ দখলের সামরিক সক্ষমতা রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। কিন্তু বাস্তবে এমন পদক্ষেপের সামরিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং কূটনৈতিক ব্যয় এতটাই বেশি যে, সেটি কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। তাদের মতে, এমন কোনও অভিযান শুরু হলে তা শুধু কয়েকটি দ্বীপ দখলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং মধ্যপ্রাচ্যে আরও বড় ধরনের স্থলযুদ্ধের সূচনা ঘটাতে পারে এবং এর প্রভাব পড়বে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার ওপর।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫১
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%