০৮:১৮ এম
মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার চর শিলমন্দি এলাকার যুবক আরিফ হোসেন (৩৭) এর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনার সাথে যুক্ত প্রধান আসামি নূর মোহাম্মদ (৩০) কে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তে জানা গেছে, হত্যার পিছনে ব্যবসায়িক লেনদেন ও পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধ ছিল।
পিবিআই সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিহত আরিফ হোসেনের ছোট ভাই আকাশ বেপারী কসাইয়ের কাজের সূত্রে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার চরকিশোরগঞ্জ এলাকায় নূর মোহাম্মদের কাছে প্রায় ৪৯ হাজার টাকা পাওনা ছিলেন। গত ১৩ জুন সকালে মুন্সীগঞ্জ শহরের মুন্সীরহাট এলাকায়, আরিফ ও আকাশ যখন পাওনা টাকা চাইতে যান, তখন নূর মোহাম্মদের সঙ্গে তাদের বাকবিতণ্ডা হয়।
এক পর্যায়ে নূর মোহাম্মদ টাকা পরিশোধের আশ্বাস দিলেও তিনি আরিফকে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে নূর মোহাম্মদ আরিফ ও আকাশের বাড়িতে গিয়ে তাদের খোঁজও করেন।
আরও পড়ুন: বান্দরবানে শিক্ষার্থীদের আর্থিক সচেতনতা বাড়াতে স্টুডেন্ট ব্যাংকিং কনফারেন্স
পরদিন অর্থাৎ ১৪ জুন বিকেলে, মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের জমির নগর এলাকার একটি অনাবাদি জমি থেকে আরিফ হোসেনের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের মা ফরিদা বেগম মুন্সীগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
তদন্তে পিবিআই জানতে পারে, পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ১৩ জুন রাত থেকে ১৪ জুন ভোরের মধ্যে কোনো এক সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে আরিফকে হত্যা করা হয়।
ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পিবিআইয়ের একটি বিশেষ দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত শুরু করে। তদন্তের এক পর্যায়ে হত্যাকাণ্ডে নূর মোহাম্মদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়। পরে ১৭ জুন ভোরে নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
পিবিআই জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নূর মোহাম্মদ হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। পরে আদালতে হাজির করা হলে, তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
আরও পড়ুন: টেকনাফে সন্ত্রাসীদের সঙ্গে গোলাগুলিতে সেনা সদস্য গুরুতর আহত
হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যদের গ্রেফতার এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ রহস্য উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পিবিআই।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন