ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

ফাইনালে মেসির আর্জেন্টিনাকে চান ইয়ামাল


ফাইনালে মেসির আর্জেন্টিনাকে চান ইয়ামাল

এবারের বিশ্বকাপে ৩৯ বছর বয়সে এসেও যেন ক্যারিয়ারের সেরা সময় পার করছেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসি। আসরে এখন পর্যন্ত ৮ গোল নিয়ে গোল্ডেন বুট জয়ের দৌড়ে রয়েছেন। বয়সের কোঠা প্রায় ৪০ ছুঁইছুঁই হলেও তার পারফরম্যান্সে বিন্দুমাত্র ভাটা পড়েনি, যা দেখে বিস্মিত ফুটবলবিশ্ব। মেসির এই অতিমানবীয় রূপ দেখে অবাক ফুটবলের ভবিষ্যৎ ও স্প্যানিশ তরুণ তারকা লামিন ইয়ামাল।

স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বর্তমান ফুটবল বিশ্বের তিন বড় তারকা—লিওনেল মেসি, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো এবং নেইমারকে নিয়ে নিজের মুগ্ধতা প্রকাশ করেছেন ইয়ামাল। বিশেষ করে এবারের বিশ্বকাপে মেসির পারফরম্যান্সকে এক কথায় 'অবিশ্বাস্য' বলে বর্ণনা করেছেন এই তরুণ উইঙ্গার।

এবারের বিশ্বকাপে প্রতিটি ম্যাচেই জালের দেখা পেয়েছেন মেসি। আর্জেন্টিনার এই জাদুকরকে নিয়ে ইয়ামাল বলেন, 'সবাই জানে মেসি কে এবং তিনি কী করতে পারেন। কিন্তু আমার মনে হয় না কেউ ভেবেছিল মেসি (এই বয়সে) এতটা ভালো খেলবেন। তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখে সত্যিই খুব ভালো লাগছে।'

আরও পড়ুন: পতেঙ্গায় শিশু সোহাগ হত্যা: ইমাম হোসেনের মৃত্যুদণ্ড

সাক্ষাৎকারে ইয়ামাল নিজের স্বপ্নের কথাও জানিয়েছেন। মেসির আর্জেন্টিনা যত দূর সম্ভব যাক—এমনটা চাইলেও ফাইনালে তাদের হারিয়ে ট্রফি উঁচিয়ে ধরতে চান এই স্প্যানিশ তারকা। ইয়ামালের ভাষায়, 'আমি চাই তারা যত দূর পারে যাক। শুধু ফাইনালে যদি দেখা হয়, তাহলে আমি ওই ম্যাচটা জিততে চাই।'

বিশ্বকাপের অন্য দুই মহাতারকা নেইমার ও রোনালদোকে নিয়েও কথা বলেছেন ইয়ামাল। তাদের খেলা দেখেই বড় হয়েছেন জানিয়ে বলেন, 'নেইমার এই বিশ্বকাপে খেলেছেন, রোনালদোর বিপক্ষে আমি মাঠে খেলেছি। তাদের খেলা দেখেই আমি বড় হয়েছি। দুজনকে এভাবে খেলতে দেখে সত্যিই ভালো লেগেছে।'

চলমান বিশ্বকাপে একদিকে যেমন মেসি-রোনালদোদের মতো কিংবদন্তিরা তাদের শেষ দ্যুতি ছড়াচ্ছেন, অন্যদিকে ইয়ামালের মতো তরুণরা জানান দিচ্ছেন ফুটবল রাজত্বের নতুন যুগের। এখন দেখার বিষয়, ইয়ামালের আশা পূরণ করে আর্জেন্টিনা ও স্পেন ফাইনালের মঞ্চে মুখোমুখি হতে পারে কি না।

আরও পড়ুন: আ.লীগ ও অন্তর্বর্তী সরকারের আমলের অনিয়ম-দুর্নীতির তথ্য চেয়েছে সংসদীয় কমিটি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
ঢাকা উত্তর জমিয়তের কাউন্সিলে বক্তারা

জুলাই শহীদদের পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন করতে হবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:০৬ এম


জুলাই শহীদদের পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন করতে হবে

জুলাই শহীদদের পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন করার দাবি জানিয়েছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের নেতারা। বক্তারা বলেছেন, যারা এখনও আহত অবস্থায় রয়েছেন, তাদের চিকিৎসা সুনিশ্চিত করা প্রয়োজন। কওমি মাদ্রাসার লাখ লাখ শিক্ষার্থী এই দেশে রয়েছে। তারা আমাদের দেশের নাগরিক। বাজেটসহ বিভিন্ন জায়গায় তাদের অবহেলা করা হয়েছে। তাদের অধিকার সুনিশ্চিত করা উচিত। শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের কবি নজরুল ইসলাম হলে অনুষ্ঠিত জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর উত্তরের কাউন্সিল ও সদস্য সম্মেলনে বক্তারা এসব কথা বলেন। মহানগর উত্তরের সভাপতি মুফতি মকবুল হোসাইন কাসেমীর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মাওলানা নুর মোহাম্মদ কাসেমীর সঞ্চালনায় সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দলের সভাপতি শাইখুল হাদিস মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক। বক্তারা বলেন, জমিয়তের নীতি ও অবস্থান সব সময় দেশের স্বার্থ, জনগণের কল্যাণ এবং ইসলামী মূল্যবোধের আলোকে নির্ধারিত হয়। কোনো দেশ, গোষ্ঠী বা শক্তির প্রভাব কিংবা নির্দেশে পরিচালিত হওয়ার সম্ভাবনাই নেই। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী যেকোনো কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা করা জমিয়তের নৈতিক ও আদর্শিক দায়িত্ব। এ সময় কওমি সনদের পূর্ণাঙ্গ ও যথাযথ বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি কওমি মাদ্রাসাবিরোধী অপপ্রচার বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং শিক্ষার সব স্তরে ধর্মীয় শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার জন্য জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, ঢাকা মহানগর উত্তরের পক্ষ থেকে ১০ দফা দাবি জানানো হয়। সম্মেলন থেকে গৃহীত প্রস্তাবে নেতারা বলেন, কওমি সনদের পূর্ণাঙ্গ ও যথাযথ বাস্তবায়নে সরকারকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে কওমি মাদ্রাসাকে ঘিরে কটাক্ষমূলক বক্তব্য ও অপপ্রচার করে দেশের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্টের অপচেষ্টা বন্ধে সরকারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। এছাড়াও দলের কেন্দ্রীয় সিনিয়র সহসভাপতি মাওলানা আবদুর রব ইউসুফী, অধাসাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা নাজমুল হাসান কাসেমী, মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা বাহাউদ্দীন যাকারিয়া, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মাসউদুল করিম, মাওলানা মতিউর রহমান গাজীপুরী, সহকারী মহাসচিব মাওলানা জয়নুল আবেদীন, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা লোকমান মাযহারী, সহসাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি নাছির উদ্দিন খান, মাওলানা গাজী ইয়াকুব উসমানী, প্রচার সম্পাদক মুফতি ইমরানুল বারী সিরাজী, প্রশিক্ষণ সম্পাদক মুফতি আনোয়ার মাহমুদ প্রমুখ আরও বক্তব্য দেন। কাউন্সিলে মুফতি মকবুল হোসাইন কাসেমীকে সভাপতি, মাওলানা নুর মোহাম্মদ কাসেমীকে সাধারণ সম্পাদক এবং মাওলানা তাহের সাঈদকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে ৬১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রক্তের ঋণ পরিশোধে ‘জুলাই সনদ’ ও আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের বিকল্প নেই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:০৮ এম


রক্তের ঋণ পরিশোধে ‘জুলাই সনদ’ ও আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের বিকল্প নেই

‘জুলাই সনদ’ দ্রুত বাস্তবায়ন এবং মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনাসহ সকল অপরাধীর বিচার এবং আহত ও শহীদ পরিবারগুলোর যথাযথ পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন দেশের বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, আইনজীবী, সাংবাদিক ও আহত যোদ্ধারা।

শনিবার (১১ জুলাই) রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব দাবি জানান। অনুষ্ঠানে জুলাই বিপ্লব বিষয়ক অডিও-ভিজ্যুয়াল প্রকাশনা সিরিজের উদ্বোধনের পাশাপাশি এর প্রথম গানটি প্রকাশ করা হয়। বাপ্পী খানের সুর ও কথায় গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন জনপ্রিয় শিল্পী এস আই টুটুল।

জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) কামাল আকবরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ও শহীদ জাবির ইব্রাহীমের মা রোকেয়া বেগম।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বলেন, “শহীদদের রক্তের ঋণ পরিশোধের অন্যতম উপায় হলো জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা।”

আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারী যোদ্ধাদের দুর্দশার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, জুলাইয়ের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে গঠিত পার্লামেন্টে কেউ কেউ এই মহান বিপ্লবের আলোচনাকে ‘অপ্রয়োজনীয়’ বলছেন। এই গাদ্দারি দেশের জনগণ মেনে নেবে না। অনতিবিলম্বে জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে হবে।”

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনার উদ্দেশ্যে বলেন, “আপনি ডিসেম্বরে আসবেন না জানুয়ারিতে, তা আপনার ব্যাপার; তবে আমরা আপনাকে কালকেই চাই। কোনো স্ট্যান্ডবাজি বা অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করবেন না। বাংলার মানুষ আর কোনো ফ্যাসিস্টের জন্ম হতে দেবে না।”

তিনি আরও যোগ করেন, শেখ হাসিনা বা তার দলকে এ দেশের মানুষ আর কখনো গ্রহণ করবে না।

অনুষ্ঠানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা শারমিন এস মুরশিদ, জুলাই বিপ্লবে নারীদের অবদানের যথাযথ স্বীকৃতি না পাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “৯ হাজার ‘জুলাই কন্যা’ শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতিত হয়েছেন, অনেকে চরম হতাশায় আত্মহত্যাও করেছেন। নারীদের সমমর্যাদা ও নেতৃত্বে স্থান না দিলে এই অভ্যুত্থান পূর্ণতা পাবে না।”

সাবেক চিফ প্রসিকিউটর ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তাজুল ইসলাম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, খুনিদের ফুলের মালার বদলে ফাঁসির দড়িতে ঝোলানো হবে। তিনি জানান, ট্রাইব্যুনালে সাক্ষীরা প্রমাণ করেছেন যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজে আহতদের চিকিৎসা না দিতে এবং আটকে রাখতে ‘নো রিলিজ নো ট্রিটমেন্ট’ নির্দেশনা দিয়েছিলেন।

জুলাইয়ের স্মৃতি সংরক্ষণে চলমান সংকটের কথা উল্লেখ করে তিনি অবিলম্বে জুলাই জাদুঘর উদ্বোধন এবং সুশীল সেজে জুলাইয়ের বিপক্ষে কথা বলা দুর্বৃত্তদের গণমাধ্যম ও টকশো থেকে সম্পূর্ণ বয়কটের আহ্বান জানান।

বিএফইউজে-এর সাবেক সভাপতি ও আমার দেশ-এর যুগ্ম সম্পাদক এম আবদুল্লাহ, জুলাই ফাউন্ডেশনের আর্থিক সংকট ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন না হওয়ার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “জুলাই বিপ্লবের সুবাদে যারা আজ সংসদে ৩৫০ জন এমপি হয়ে সুযোগ-সুবিধা নিচ্ছেন এবং যেসব আমলা পদোন্নতি পেয়েছেন, তারা কি এক মাসের বেতন এই ফাউন্ডেশনে দিতে পারেন না? তা না হলে এই সুযোগ-সুবিধা হালাল হবে না।”

একই সাথে তিনি নিজের বেতনের এক মাসের সমপরিমাণ টাকা জুলাই ফাউন্ডেশনে অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দেন। তিনি সংবাদমাধ্যমের আমূল সংস্কারেরও দাবি জানান।

জাতীয় যুবশক্তির সাংগঠনিক সম্পাদক রিফাত রশিদ আক্ষেপ করে বলেন, পৃথিবীর অন্য দেশে যুদ্ধাহত বা শহীদদের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান দেওয়া হলেও বাংলাদেশে আহতদের নিজেদের হকের জন্য হাসপাতালের সামনে বা মন্ত্রণালয়ে ধর্না দিতে হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে আহত যোদ্ধাদের পক্ষে রাইসুল রহমান রাতুল, পা হারানো রিফাত এবং দৃষ্টি হারানো সাব্বির ও দুর্জয় তাদের চরম অবহেলা ও মানবেতর জীবনযাপনের চিত্র তুলে ধরেন। তারা অভিযোগ করেন, সরকার কেবল আশ্বাসই দিচ্ছে, কিন্তু গুরুতর আহত ও দৃষ্টিহীন ৪৩ জন যোদ্ধার পুনর্বাসনে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। জুলাই আন্দোলনের মাঠের নেত্রী সিনথিয়া জাহিন আয়েশা, নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে নারীদের অবমূল্যায়নের অভিযোগ এনে দ্রুত জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন দাবি করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবি: নিখোঁজ দুই জেলের একজনের মরদেহ উদ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:২৩ এম


বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবি: নিখোঁজ দুই জেলের একজনের মরদেহ উদ্ধার

ঝড়ের কবলে পড়ে বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবির ঘটনায় নিখোঁজ দুই জেলের মধ্যে কালাম নামে একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

শনিবার (১১ জুলাই) সকালে কুয়াকাটা থেকে বঙ্গোপসাগরের ১০ কিলোমিটার গভীরে ভাসমান অবস্থায় কালামের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর সন্ধ্যায় তার মরদেহ নিজ বাড়ি বরগুনার তালতলী উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের ছোট আমখোলা গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়।

এ ট্রলারডুবির ঘটনায় শহিদ নামে এক জেলে এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।

এর আগে গত মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বৈরী আবহাওয়ার কবলে পড়ে কুয়াকাটা থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার গভীরে ১৮ জেলেসহ ডুবে যায় ‘এফবি মহিমা’ নামে ওই মাছ ধরার ট্রলারটি। এরপর সমুদ্রে ভাসমান অবস্থায় ১৬ জেলেকে উদ্ধার করেন অন্য জেলারা। নিখোঁজ হন শহিদ ও কালাম নামে দুই জেলে।

এখনও নিখোঁজ জেলে শহিদের বাড়ি বরগুনার আমতলী উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের ছোট আমখোলা গ্রামে অবস্থিত। শহিদের সন্ধানে সমুদ্রে অভিযান চালাচ্ছে কোস্টগার্ড ও জেলেরা।

এ বিষয়ে তালতলী ফকিরহাট মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মজিবর ফরাজি বলেন, ‘আমরা জেলেদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করেছিলাম। আমাদের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে যাওয়ার কারণে এই ট্রলারটি দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। এখনও যে জেলে নিখোঁজ রয়েছেন, তাকে উদ্ধার করতে আমাদের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুলিয়ারচরে জুয়েল হত্যাকারী হিসেবে ফেসবুকে প্রচারিত 'তালিকা' নিয়ে বিতর্ক, প্রকৃত অপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মুহাম্মদ কাইসার হামিদ, কুলিয়ারচর (কুলিয়ারচর):

রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:২৫ এম


কুলিয়ারচরে জুয়েল হত্যাকারী হিসেবে ফেসবুকে প্রচারিত

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে প্রকাশ্য দিবালোকে নিরপরাধ তরুণ জুয়েল মিয়াকে নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে এলাকায়। হত্যাকাণ্ডের পর প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবিতে যখন উত্তাল কুলিয়ারচর, ঠিক তখনই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে জুয়েল হত্যাকারী উল্লেখ করে বেশ কয়েকজন যুবকের নাম ও ছবি ছড়িয়ে পড়া নিয়ে এলাকায় নতুন করে ধোঁয়াশা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবী, এই সুযোগে ব্যক্তিগত বা সামাজিক শত্রুতার জেরে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হয়। অন্যদিকে, পুলিশ জানিয়েছে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

হত্যাকাণ্ডের ১২ ঘণ্টা পার হতে না হতেই জুয়েল হত্যার সাথে জড়িত উল্লেখ করে উপজেলার গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের বড়চারা গ্রামের সাকিব, শাউন, সোহান, রনি, আসিফ ও জিদনীসহ বেশ কয়েকজনের নাম ও ছবি ফেসবুকের বিভিন্ন আইডিতে ছড়িয়ে পড়ে। এতো দ্রুত কীভাবে সবার ছবি সংগ্রহ করা হলো এবং পোস্টকারীরা ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বা রাজসাক্ষী কি না-তা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এ বিষয়ে বড়চারা গ্রামের যুবক মো. নাঈম আনোয়ার তার ব্যবহৃত ফেসবুকে ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন: "আমাদের যুবসমাজের কাছে অন্তত এমন সহিংস আচরণ কখনো আশা করিনি। গুটি কয়েক ছেলের জন্য আজ সমস্ত এলাকাবাসী বর্বরতার তকমা মাথায় নিয়ে ঘুরছে। সেই সাথে নিরপরাধ কিছু ছেলেদের নামও শোনা যাচ্ছে। প্রকৃত দোষীরা শাস্তির আওতায় আসুক, সমাজে আবার শান্তি ফিরে আসুক এটাই প্রত্যাশা।"

এলাকাবাসীর দাবি, কোনো নিরপরাধ যুবক যেন অন্যের অপরাধের দায় নিয়ে হয়রানির শিকার না হয়, আবার কোনো প্রকৃত অপরাধী যেন রাজনৈতিক সেল্টারে কিংবা মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে কোনোভাবে পার পেয়ে না যায়।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ জুলাই শুক্রবার বিকেলে জুয়েল মিয়া তার এক বন্ধুর ডিমের গাড়িতে চড়ে আগরপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে লক্ষ্মীপুর বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। গাড়িটি গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের বড়চারা বাজারের ১০০ গজ পশ্চিমে পৌঁছালে ওত পেতে থাকা একদল দুর্বৃত্ত গাড়ির গতি রোধ করে। তারা জুয়েলকে জোরপূর্বক গাড়ি থেকে নামিয়ে প্রকাশ্যে রাস্তায় এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে। হামলায় জুয়েল গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়।

পরে পথচারীরা তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে ভাগলপুর জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত জুয়েল গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর বুধাইবাড়ি গ্রামের অটোরিকশা চালক মো. কুদ্দুস মিয়ার ছেলে।

এলাকাবাসীর তথ্যমতে, লক্ষ্মীপুর ও বড়চারা এলাকার কয়েকজন যুবকের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। তবে নিহত জুয়েল সম্পূর্ণ নিরপরাধ ছিলেন এবং ওই বিরোধের সাথে তার কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা ছিল না। কোনো অপরাধ বা কোন্দলে জড়িত না থেকেও কেবল পরিস্থিতির শিকার হয়ে অকালে প্রাণ হারাতে হলো এই সম্ভাবনাময় যুবককে।

শনিবার (১১ জুলাই) সন্ধ্যার পর জুয়েল হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও সর্বোচ্চ বিচার ফাঁসির দাবিতে নিহতের নামাজে জানাজা শেষে এক অভূতপূর্ব বিক্ষোভের সৃষ্টি হয়। লাশ দাফনের আগে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী খাটিয়া কাঁধে নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন।

মিছিলটি লক্ষ্মীপুর দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ থেকে শুরু হয়ে নিহতের নিজ বাড়ি লক্ষ্মীপুর বুধাইবাড়ি গিয়ে শেষ হয়। শত শত মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে মিছিলে খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে স্লোগান দেওয়া হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে অশ্রুসিক্ত নয়নে জুয়েলের মরদেহ সমাহিত করা হয়।

লাশ দাফনের পর ফেসবুকে ও প্রকাশ্যে ঘোষণা দেওয়া হয় রোববার সকাল ১০টার দিকে লক্ষ্মীপুর বাজার ঈদগাহ সংলগ্ন রাস্তায় জুয়েল হত্যার বিচার দাবীতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ মিছিল অনুষ্ঠিত হবে।

হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দীন জানান, "হত্যার কারণ উদঘাটন এবং দোষীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ মাঠে কাজ করছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে।"

একটি নিরীহ যুবকের এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দ্রুত প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেফতারের মাধ্যমে এলাকায় শান্তি ফিরিয়ে আনার দাবি এখন কুলিয়ারচরের সর্বস্তরের মানুষের।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%