০৯:৪৪ এম
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩১ হাজার ৪৮৭ কোটি টাকা। ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের স্থিতি মার্চ শেষে ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যা মোট বিতরণকৃত ঋণের ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতি ত্রৈমাসিকে খেলাপি ঋণের তথ্য প্রকাশ করে থাকে। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিক তথা ৩১ মার্চের ডাটা গতকাল প্রকাশ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যমতে, গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর ব্যাংক খাতে বিতরণকৃত ঋণ স্থিতি ছিল ১৮ লাখ ২০ হাজার ৯১৫ কোটি টাকা, যার মধ্যে খেলাপি ছিল ৫ লাখ ৫৭ হাজার ২১৭ কোটি টাকা।
আশ্চর্যজনকভাবে, খেলাপি ঋণের হার তখন ছিল ৩০ দশমিক ৬০ শতাংশ। এই বছর প্রথম তিন মাসে ব্যাংকগুলোর বিতরণকৃত ঋণ স্থিতি ৩ হাজার ৭৫৩ কোটি টাকায় বেড়েছে। মার্চ শেষে এর স্থিতি দাঁড়িয়েছে ১৮ লাখ ২৪ হাজার ৬৬৮ কোটি টাকায়। এর মধ্যে আবার ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা খেলাপি। ফলে খেলাপি ঋণের হার এখন ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। আগের বছর সেপ্টেম্বরে এই হার প্রায় ৩৬ শতাংশে পৌঁছে গিয়েছিল।
আরও পড়ুন: ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ১৪ পয়েন্টে নাশকতার পরিকল্পনা আ.লীগের
খেলাপি ঋণ বাড়ার বিষয়টিতে বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোর মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলছেন, ‘খেলাপি ঋণের হিসাবায়নে অতীতের মতো লুকোচুরি নেই। খেলাপির যোগ্য সব ঋণই ব্যাংকের আর্থিক প্রতিবেদনে তুলে ধরা হচ্ছে। সেজন্য এটি কিছুটা বেড়েছে। তবে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের অবস্থা কিছুটা প্রভাবিত করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘২০০৯ সাল-পরবর্তী ১৫ বছরে ব্যাংক খাতে অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে বিতরণ করা ঋণ খেলাপি হলেও গোপন রাখা হতো বিভিন্ন কৌশলে। কিন্তু ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে লুকিয়ে রাখা খেলাপি ঋণ সামনে এসেছে। ব্যাংকগুলো সাধারণত বছরের শেষ প্রান্তিকে ঋণ পুনঃতফসিলে বিশেষ জোর দেয়। এর ফলে গত বছরের সেপ্টেম্বরে খেলাপি ঋণ কিছুটা কমেছিল। কিন্তু এখন নতুনভাবে কিছু ঋণ খেলাপি হওয়ায় এর পরিমাণ বেড়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংক খাতে সুশাসন ফেরাতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।’
বাংলাদেশ ব্যাংকের গত তথ্য অনুযায়ী, খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি পাওয়ায় চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে ব্যাংকগুলোর সঞ্চিতি (প্রভিশন) ঘাটতি বেড়েছে। গত ডিসেম্বর শেষে ব্যাংক খাতে সঞ্চিতি ঘাটতি ছিল ১ লাখ ৯১ হাজার ৪৪১ কোটি টাকা। কিন্তু মার্চের শেষে এ ঘাটতি বেড়ে ২ লাখ ৫ হাজার ৬৬৫ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের প্রায় ৯৪ শতাংশের মান এখন নিম্নমান ও ক্ষতিজনক। অর্থাৎ স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় ৫ লাখ ৫১ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকার ঋণ আদায়ের সুযোগ নেই।
গত মার্চ শেষে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের হার সবচেয়ে নাজুক। এ ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের হার এখন ৪৫ দশমিক ৮৫ শতাংশ। এ সময়ে ব্যাংকগুলো ৩ লাখ ২৬ হাজার ৬৮৫ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করেছে, যার মধ্যে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা খেলাপি হয়েছে। ব্যাংকগুলোর ১ লাখ ৩ হাজার ৩৩৭ কোটি টাকার প্রভিশন রাখার কথা, কিন্তু তারা মাত্র ২৮ হাজার ৮৬৬ কোটি টাকার প্রভিশন রাখতে সক্ষম হয়েছে। তাই, প্রভিশন ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৪ হাজার ৪৭১ কোটি টাকায়। তবে সঞ্চিতি ঘাটতির এই পরিমাণ প্রকৃত চিত্র নয়; কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে নীতি ছাড় নিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো সঞ্চিতি ঘাটতির পরিমাণ কম দেখাচ্ছে।
আরও পড়ুন: রাজধানীতে আবারও যাত্রীবাহী বাসে অগ্নিকাণ্ড
গত মার্চ শেষে দেশের বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ঋণের স্থিতি ছিল ১৩ লাখ ৮৩ হাজার ২৬৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৪ লাখ ১৬ হাজার ৪৮১ কোটি টাকা খেলাপির তালিকায় রয়েছে। এ হিসাবের ভিত্তিতে ব্যাংকগুলোর মোট বিতরণকৃত ঋণের ৩০ দশমিক ১১ শতাংশ খেলাপি। এ ব্যাংকগুলোর সঞ্চিতি ঘাটতির পরিমাণ ১ লাখ ৩১ হাজার ৩১০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানাচ্ছে, মার্চ শেষে বিশেষায়িত সরকারি ব্যাংকগুলো মোট ৪৭ হাজার ৮৬ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করেছিল এবং এর মধ্যে ১৯ হাজার ১৭৫ কোটি টাকা খেলাপি তালিকায় রয়েছে। ফলে এ ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের হার ৪০ দশমিক ৭২ শতাংশ। বিদেশী ব্যাংকগুলোর বিতরণকৃত ৬৭ হাজার ৬২৮ কোটি টাকার ঋণের ৪ দশমিক ৮২ শতাংশ এখন খেলাপি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন