১০:৫২ এম
দেশের বেসরকারি এতিমখানাগুলোর শিশুদের মৌলিক চাহিদা পূরণ এবং খাদ্য সুবিধা দেওয়ার জন্য ২০২৫-২৬ অর্থবছরের দ্বিতীয় কিস্তির সরকারি ভাতা হিসেবে ১৪০ কোটি ১১ লাখ ৮ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের ফলস্বরূপ এই অর্থ দেশব্যাপী ৬৪ জেলার ৪ হাজার ২০৯টি বেসরকারি এতিমখানার ১ লাখ ১৬ হাজার ৭৫৯ জন এতিম শিশুর জন্য মঞ্জুর করা হয়েছে।
সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ মোহাম্মদ মাহবুব স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: মাদকচক্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় আখতারুজ্জামানের ছেলের ওপর হামলা
আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে ‘বেসরকারি এতিমখানা’ খাতে বরাদ্দকৃত অর্থ থেকে দ্বিতীয় কিস্তির অনুদান হিসেবে এই অর্থ ছাড় করা হয়েছে।
অর্থ সংশ্লিষ্ট সমাজসেবা অফিসার ও উপজেলা বা শহর সমাজসেবা কার্যালয়ের মাধ্যমে ন্যস্ত করা হয়েছে, যাতে তারা নির্ধারিত নিয়ম মেনে এতিমখানাগুলোর মধ্যে অর্থ বিতরণ করতে পারেন।
সমাজসেবা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে ‘বেসরকারি এতিমখানা’ খাতে মোট ২৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম কিস্তিতে ১৩৯ কোটি ৮৮ লাখ ৭৬ হাজার টাকা ছাড় করা হয়েছে।
দ্বিতীয় কিস্তিতে আরও ১৪০ কোটি ১১ লাখ ৮ হাজার টাকা মঞ্জুর করায় মোট বরাদ্দকৃত অর্থ এখন কার্যত বিতরণের আওতায় এসেছে।
আরও পড়ুন: বাকৃবির শাহজালাল হলে ‘শাহী ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ২.০’-এর উদ্বোধন
বরাদ্দের হিসাব অনুযায়ী, নিবন্ধিত শিশুদের জন্য বেসরকারি এতিমখানাগুলোতে থাকা ১ লাখ ১৬ হাজার ৭৫৯ জন এতিম শিশুর জন্য মাসিক ২ হাজার টাকা হারে ৬ মাসের অনুদান দেওয়া হবে।
অর্থাৎ, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত প্রতিটি শিশুর জন্য মোট ১২ হাজার টাকা বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়েছে।
এই অর্থ মূলত খাদ্যদ্রব্য ক্রয় এবং শিশুদের মৌলিক জীবনযাপনের প্রয়োজন মেটাতে ব্যবহার হবে।
সমাজসেবা অধিদপ্তর জানিয়েছে, শিশুদের কল্যাণ ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার দীর্ঘদিন ধরে সরকারি অনুদান কর্মসূচি পরিচালনা করছে।
আরও পড়ুন: আশুলিয়ায় শ্রম আন্দোলনের নামে হামলায় শ্রমিক মো. সেলিম গুরুতর আহত
এই কর্মসূচির আওতায় নিবন্ধিত বেসরকারি এতিমখানাগুলোতে অবস্থানরত শিশুদের খাদ্য, পুষ্টি এবং অন্যান্য মৌলিক চাহিদা পূরনের জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।
ফলস্বরূপ, সমাজের সুবিধাবঞ্চিত এবং অভিভাবকহীন শিশুদের নিরাপদ পরিবেশে বেড়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হয়।
অফিস আদেশে এই অর্থ বিতরণের ক্ষেত্রে ‘সরকারি অনুদান বরাদ্দ ও বণ্টন নীতিমালা-২০১৪’ অনুসরণ করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট সমাজসেবা কর্মকর্তাদের নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী অর্থ ছাড় ও ব্যবহারের তদারকি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
একই সাথে বরাদ্দকৃত অর্থ যথাযথভাবে ব্যয় হচ্ছে কিনা তা নিশ্চিতে মাঠপর্যায়ে নিয়মিত মনিটরিং চালানোর কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: শুক্রবার চট্টগ্রামে যাচ্ছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, মহাসম্মেলনে বক্তব্য দেবেন
সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় এতিম শিশুদের জন্য এই ধরনের সহায়তাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তাদের মতে, দেশে অনেক এতিমখানা সীমিত আর্থিক সক্ষমতার মধ্যে পরিচালিত হয়, তাই সরকারি অনুদান এই প্রতিষ্ঠানের জন্য বড় ধরনের সহায়তা হিসেবে কাজ করে।
বিশেষত, খাদ্য ব্যয়, পুষ্টি নিশ্চিতকরণ এবং শিশুদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার মান বজায় রাখতে এই অর্থ একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেছেন যে, বরাদ্দকৃত অর্থ যথাসময়ে বিতরণ করা হলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হাজার হাজার এতিম শিশুর জীবনমান উন্নয়নে একটি ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
আরও পড়ুন: আশুলিয়ায় বিএনপি'র পথসভা, অস্থিতিশীল পরিবেশের প্রতিবাদে আহ্বান
একই সাথে, বেসরকারি এতিমখানাগুলোর পরিচালন খরচ নির্বাহের ক্ষেত্রেও এই অনুদান একটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন