১১:১৩ এম
সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধের কারণে মারধরের শিকার হয়ে চট্টগ্রামের পটিয়ায় সিরাজুল ইসলাম (৫৫) নামে এক প্রবাসফেরত ব্যক্তির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিহতের দ্বিতীয় স্ত্রী মোছাম্মৎ মিনহার আকতার ববিকে (৩৯) আটকের পর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাতে চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার কুসুমপুরা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ফোরক সওদাগরের বাড়িতে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্র ও থানার পুলিশ জানাচ্ছে, এ ঘটনার প্রেক্ষিতে পটিয়া থানায় বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই মামলায় নিহতের দ্বিতীয় স্ত্রী, তার ভাই শেখ মোস্তান (৩৬) এবং ছেলে কাজী মো. শাহাবাজ হোসেনকে (২১) আসামি করা হয়েছে, পাশাপাশি অজ্ঞাত আরো ২-৩ জনকেও আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে মহানগর বিএনপির প্রস্তুতি সভা
নিহত সিরাজুল ইসলামের প্রথম স্ত্রীর ছোট ছেলে কবিরুল ইসলাম আকিব বাদী হয়ে মামলাটি করেছেন।
এই ঘটনায় আটক মৃতের দ্বিতীয় স্ত্রীকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছে, সিরাজুল ইসলামের দুটি সংসার রয়েছে। প্রথম স্ত্রী চট্টগ্রাম শহরে বাস করেন এবং তাদের সংসারে দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।
অন্যদিকে, সিরাজুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মিনহার আকতার ববি গ্রামের বাড়িতে বসবাস করতেন। মঙ্গলবার রাতের দিকে প্রায় ১টার দিকে সিরাজুল ইসলামের সঙ্গে তার দ্বিতীয় স্ত্রীর এবং স্বজনদের মধ্যে সম্পত্তির মালিকানা ও ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে সিরাজুলকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা প্রদান করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
আরও পড়ুন: বিজলী ক্যাবলস লিমিটেডের পুরস্কার পেলেন, নারায়ণগঞ্জের রনি মল্লিক ও নবী হোসেন।
তাদের দেওয়া তথ্য অনুসারে, দীর্ঘদিন ধরে অনুপ্রবেশ সম্পত্তির মালিকানা ও উত্তরাধিকার নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ চলছিল। বেশ কয়েকবার বিষয়টি মীমাংসার জন্য পারিবারিক বৈঠক হয়েছে কিন্তু কোনো স্থায়ী সমাধান আসেনি।
নিহতের ভাগ্নে মো. বদিউল আলম বলেছেন, ‘আমার মামা বিদেশে থেকে অনেক কষ্ট করে উপার্জন করে অর্থ-সম্পদ স্থাপন করেছেন। সেই সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। ঘটনার রাতে মামার দ্বিতীয় স্ত্রী এবং তার স্বজনরা তার ওপর আক্রমণ করেছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। আমরা সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।’
পটিয়া থানার ওসি মো. জিয়াউল হক বলেছেন, ‘ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। নিহতের দ্বিতীয় স্ত্রীকে প্রথমে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয় এবং পরে মামলার পরিপ্রেক্ষিত অনুযায়ী তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে ভর্তি করা হয়েছে।’
তিনি আরও জানান, ‘মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। তদন্ত ও ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদনের ভিত্তিতে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করা হবে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান চলমান রয়েছে।
আরও পড়ুন: মাদক ও কিশোর গ্যাং দমনে কাউনিয়ায় পুলিশের আকস্মিক সাঁড়াশি অভিযান
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন