ঢাকা রবিবার, ০৮ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২৩শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ০৮ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২৩শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

রোমাঞ্চকর জয়ে জিএসএল চ্যাম্পিয়ন গায়ানা


রোমাঞ্চকর জয়ে জিএসএল চ্যাম্পিয়ন গায়ানা

গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্স মাত্র ৮৫ রানে অলআউট হওয়ার পরও বল হাতে অসাধারণ প্রত্যাবর্তন করে সান ফ্রান্সিসকো ইউনিকর্নসকে ৭৯ রানে গুটিয়ে দিয়ে ছয় রানের অবিশ্বাস্য জয় তুলে নিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো গ্লোবাল সুপার লিগের (জিএসএল) শিরোপা জিতে নিয়েছে গায়ানা।

প্রভিডেন্স স্টেডিয়ামে টস জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর শুরু থেকেই বিপর্যয়ে পড়ে গায়ানা। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই ফিরে যান জনসন চার্লস। এরপর পরপর বলগুলোতেও নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে দলটি।

রাহমানউল্লাহ গুরবাজ ৮ রান করেন, মোহাম্মদ হারিস ৬, শিমরন হেটমায়ার ৪, মোহাম্মদ নবী ২, অধিনায়ক রোভম্যান পাওয়েল ২ এবং গুডাকেশ মোতি ২ রান করে সাজঘরে ফেরেন। ৮.৫ ওভারে রোমারিও শেফার্ড রানআউট হলে মাত্র ২৯ রানেই ৮ উইকেট হারিয়ে কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় গায়ানার ইনিংস।

আরও পড়ুন: সরকার ৬৪ জেলায় ৬৪টি প্রতিবন্ধী স্কুল প্রতিষ্ঠা করবে

এমন সংকটকালে ইনিংস পুনর্গঠনের দায়িত্ব নেন ডোয়াইন প্রিটোরিয়াস ও ম্যাথিউ ফোর্ড। নবম উইকেটে দুজন মিলে ৪১ রানের মূল্যবান জুটি গড়ে দলকে কিছুটা লড়াই করার মতো অবস্থানে নিয়ে যান। ফোর্ড ২৩ বলে ২৮ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেন, যেখানে ছিল দুটি চার ও দুটি ছক্কা। অপর প্রান্তে প্রিটোরিয়াস ৩০ বলে অপরাজিত ১৭ রান করেন। শেষদিকে ইমরান তাহির ১১ রান যোগ করলে ১৮.৫ ওভারে ৮৫ রানে অলআউট হয় গায়ানা।

সান ফ্রান্সিসকোর হয়ে পিটার সিডল ও অনিরুদ্ধ ইমানুয়েল তিনটি করে উইকেট নেন। সিডল চার ওভারে ১৮ রান দিয়ে তিন উইকেট শিকার করেন, এবং ইমানুয়েল চার ওভারে মাত্র ৭ রান খরচায় তিন ব্যাটারকে ফেরান। এছাড়া ফ্যাবিয়ান অ্যালেন, ক্যালাম স্টো এবং করিমা গোর একটি করে উইকেট নেন।

মাত্র ৮৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই গায়ানার পেসারদের আক্রমণের মুখে পড়ে ইউনিকর্নস। ইনিংসের প্রথম বলেই টিম রবিনসনকে ফিরিয়ে দেন ডোয়াইন প্রিটোরিয়াস। এরপর গুডাকেশ মোতির বলে আউট হন কনর এস্টারহুইজেন। অধিনায়ক হাসান খান কিছুটা আক্রমণাত্মক শুরু করলেও প্রিটোরিয়াসের শিকার হয়ে ফেরেন ৯ রান করে।

দলকে আশা দেখাচ্ছিলেন অলিভার পিক। ২৮ বলে ৩১ রানের ইনিংসে তিনি তিনটি চার ও একটি ছক্কা মারেন। তবে অপর প্রান্ত থেকে নিয়মিত উইকেট পড়তে থাকায় সেই ইনিংস বড় হতে পারেনি। সঞ্জয় কৃষ্ণমূর্তি ২৪ বলে ৯ রান করেন, এবং হ্যামাদ আজম, করিমা গোরে ও অনিরুদ্ধ ইমানুয়েল কেউই উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারেননি।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর নবীন বিসিএস কর্মকর্তাদের সততা ও দক্ষতার সঙ্গে জনগণের সেবা করার আহ্বান

ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন মোহাম্মদ নবী ও ইমরান তাহির। নবী চার ওভারে মাত্র ১২ রান দিয়ে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেন। তাহিরও চার ওভারে ১৬ রান খরচায় দুটি উইকেট নিয়ে ইউনিকর্নসের রান তোলার গতি পুরোপুরি থামিয়ে দেন। ১১.১ ওভারে অলিভার পিক আউট হওয়ার পর মাত্র দুই বলের ব্যবধানে আরও একটি উইকেট হারিয়ে ৫৮ রানে ৮ উইকেট হারায় ইউনিকর্নস।

শেষদিকে পিটার সিডল কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। তিনি অপরাজিত ১৩ রান করেন। তবে অপর প্রান্তে উইকেট পড়তে থাকায় সেই প্রচেষ্টা সফল হয়নি। শেষ ব্যাটার ক্যালাম স্টো রানআউট হলে ১৮.৩ ওভারে ৭৯ রানেই শেষ হয়ে যায় ইউনিকর্নসের ইনিংস।

গায়ানার হয়ে ডোয়াইন প্রিটোরিয়াস তিন ওভারে ২৪ রান দিয়ে তিনটি উইকেট নেন এবং ব্যাট হাতে অপরাজিত ১৭ রান যোগ করে ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেন। মোহাম্মদ নবীও তিন উইকেট নিয়ে জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। এছাড়া ইমরান তাহির দুটি এবং গুডাকেশ মোতি একটি উইকেট নেন।

পুরো টুর্নামেন্টে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে মোহাম্মদ নবী টুর্নামেন্টসেরার পুরস্কার জিতেছেন। তিনি ব্যাট হাতে ৫৩ রান করার পাশাপাশি বল হাতে নিয়েছেন ১০ উইকেট।

আরও পড়ুন: এপারে আসতে হলে ফিটফাট হয়ে আসতে হবে: মৎস্য প্রতিমন্ত্রী টুকু

মাত্র ৮৫ রানের পুঁজি নিয়ে টি-টোয়েন্টি ফাইনাল জেতা বিরল ঘটনা। কিন্তু গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্স দেখিয়ে দিল, শিরোপা জিততে সবসময় বড় স্কোরের প্রয়োজন হয় না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাণিজ্য ও রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে মিয়ানমার রাষ্ট্রদূতের বৈঠক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:৪৪ পি.এম


বাণিজ্য ও রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে মিয়ানমার রাষ্ট্রদূতের বৈঠক

বাংলাদেশে নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত কিয়াও সো মো গত রবিবার বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে বৈঠক করেন। এই বৈঠকটি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশ এবং মিয়ানমারের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং পণ্য আমদানি-রপ্তানি বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হয়। অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে নৌপরিবহন যোগাযোগ জোরদার, এলএনজি আমদানি এবং পারস্পরিক বিনিয়োগের সুযোগ সম্প্রসারণের বিষয়গুলোও উঠে আসে।

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির উক্ত বৈঠকে বলেন, বাংলাদেশের উদ্দেশ্য প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে পারস্পরিক সম্মান, আস্থা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার ভিত্তিতে সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করা।

তিনি আরও জানান, বাণিজ্য, পরিবহন, বিনিয়োগ এবং সীমান্ত যোগাযোগ লক্ষ্য বিষয়গুলো অন্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে মিলিয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের মাধ্যমে পর্যালোচনা করা হবে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভৌগোলিক নৈকট্য ও বিদ্যমান সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের বাণিজ্য বৃদ্ধি সম্ভব। উভয় দেশ পারস্পরিক স্বার্থের বিষয়গুলো আলোচনা করে সমাধান করতে কাজ করবে।

মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত উভয় দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ আরও বাড়ানো ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, দীর্ঘদিন স্থগিত থাকা সীমান্ত বাণিজ্য আবার চালু হলে ব্যবসায়ী ও জনগণের জন্য সুবিধা হবে। সেক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় হলে সীমিত বা অস্থায়ীভাবে সীমান্ত বাণিজ্য শুরু করার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।

বৈঠকে কৃষি এবং মৎস্যপণ্য, চাল, ওষুধ, হিমায়িত খাদ্যসহ সম্ভাবনাময় বিভিন্ন পণ্যের বাণিজ্য বৃদ্ধির সুযোগ নিয়ে আলোচনা হয়। ব্যবসায়ী পর্যায়ে যোগাযোগ এবং বি টু বি (বিজনেস টু বিজনেস) কার্যক্রম জোরদার করার গুরুত্বও তুলে ধরা হয়।

এ সময় বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, টেকসই ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে।

রাষ্ট্রদূত জানান, প্রত্যাবাসনের জন্য প্রাপ্ত তালিকার যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া চলছে। যদি নিরাপত্তা এবং মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি অনুকূলে আসে তবে প্রত্যাবাসন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বাংলাদেশ পক্ষের তরফে দ্রুত প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি এবং কার্যকর অগ্রগতির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

উভয়পক্ষ একমত হন যে, দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত প্রাতিষ্ঠানিক আলোচনা ও যৌথ কমিটির বৈঠক আয়োজন করা হবে। বাংলাদেশে পরবর্তী যৌথ বৈঠক আয়োজনের বিষয়েও আলোচনা হয়।

বৈঠকে সরাসরি নৌ এবং শিপিং যোগাযোগ প্রতিষ্ঠার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে আলোচনা হয়। উভয় পক্ষ মত প্রকাশ করেন, সরাসরি নৌ যোগাযোগ চালু হলে পরিবহন ব্যয় ও সময় কমবে এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।

বৈঠকের সময় দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ, যোগাযোগ এবং আঞ্চলিক সংযোগকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান, অতিরিক্ত সচিব (এফটিএ) আয়েশা আক্তার এবং মিয়ানমার দূতাবাসের কাউন্সিলর মিয়াত লুইন এসময় উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

খুলনা বিভাগে ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ১ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত আরও ৮১

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:৪৬ পি.এম


খুলনা বিভাগে ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ১ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত আরও ৮১

গত ২৪ ঘণ্টায় খুলনা বিভাগে ডেঙ্গুতে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটে। এ সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে নতুন করে ৮১ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে।

রবিবার (২ আগস্ট) পরিচালক (স্বাস্থ্য) দপ্তর, খুলনা বিভাগের প্রকাশিত ডেঙ্গু পরিস্থিতি প্রতিবেদন অনুযায়ী এই তথ্য জানা যায়।

খুলনা বিভাগ পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. শেখ মো. মোশাররফ হোসেন জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় খুলনা জেলায় ২১ জন, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৭ জন, বাগেরহাটে ৩৫ জন, যশোরে ১২ জন, মাগুরায় ২ জন, মেহেরপুরে ২ জন, নড়াইলে ১ জন এবং সাতক্ষীরায় ১ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ সময়ে ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা ও সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নতুন কোনো রোগী ভর্তি হয়নি।

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২ আগস্ট পর্যন্ত খুলনা বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ২ হাজার ১৫২ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে ১ হাজার ৯৩৮ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছাড়লেন।

বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ১৮১ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এছাড়া উন্নত চিকিৎসার জন্য ২৪ জনকে অন্য হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে খুলনা বিভাগে মোট ৯ জনের মৃত্যু ঘটেছে। এর মধ্যে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৮ জন এবং বাগেরহাটে ১ জন মারা গেছেন।

স্বাস্থ্য বিভাগ ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি জ্বর বা ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চাইতে মোদিকে বিরোধীদের একযোগে দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:৪৯ পি.এম


শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চাইতে মোদিকে বিরোধীদের একযোগে দাবি

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মন্তব্য 'শিক্ষার্থীদের ক্ষমা করে দিয়েছেন' ঘিরে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক। এতে দেশটির বিভিন্ন বিরোধী দল একযোগে মোদির ওপর আক্রমণ শানিয়েছে। বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, মোদির ক্ষমা দেয়ার কথা নয়, বরং শিক্ষার্থীদের কাছে তার ক্ষমা চাওয়া উচিত।

আলাপে উঠে এসেছে, শিক্ষার্থীদের 'ক্ষমা করে দেওয়ার' মন্তব্যের পর অসন্তোষ প্রকাশ করে কংগ্রেস ও সমাজবাদী পার্টি মোদিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছে।

লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী মন্তব্য করেন, "শিক্ষার্থীদের তার ক্ষমার প্রয়োজন নেই; বরং দুর্নীতিগ্রস্ত পরীক্ষাব্যবস্থা উপহার দেওয়ার কারণে মোদিরই শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত।"

গৃহীত বিবৃতিতে তিনি গত শুক্রবার গভীর রাতে ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত এক ভিডিওর কথা উল্লেখ করেন। ভিডিওটিতে মোদি সমাজে তৈরি হওয়া ক্ষোভ বুঝতে পারছেন বলে জানান এবং তরুণদের সঠিক পথে আনার আহ্বান জানান।

মোদি উল্লেখ করেন, “আমি তাদের ক্ষমা করে দিতে চাই। মানুষ ভুল করতেই পারে। কিন্তু আমাদের মেয়েরা যে এত অশালীন ভাষা ব্যবহার করছে, এটি সাংস্কৃতিকভাবে হতাশাজনক।” তিনি এ মন্তব্য করেন জন্তর মন্তরের বিক্ষোভের সময়, যেখানে আন্দোলনকারীরা মোদিকে লক্ষ্য করে গালাগালিসহ আপত্তিকর ভাষার ব্যবহার করেছেন। মোদি জানান, “জন্তর মন্তরে শুধু আমাকে নয়, আমার প্রয়াত মাকেও গালিগালাজ করা হয়েছে।”

এর আগে, এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে রাহুল গান্ধী বলেছিলেন, “সন্তান হারানোর শোকের চেয়ে বড় কষ্ট আর কিছু হতে পারে না। প্রতিটি তরুণ প্রাণ ঝরে যাওয়ার পেছনে একটি পরিবার রয়েছে, যারা আজীবন সেই বেদনা বয়ে বেড়াবে।”

তিনি তামিলনাড়ু সফরে সন্তান হারানো কয়েকটি পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতের পর এসব উপলব্ধি করেন এবং শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, “প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে, পরীক্ষা বাতিল হয়েছে, বছরের পর বছর ধরে নেওয়া প্রস্তুতি এক রাতেই নষ্ট হয়ে গেছে।"

রাহুল আরও বলেন, “শিক্ষার্থীদের বলা হচ্ছে সৎভাবে পরিশ্রম করতে, অথচ পুরো ব্যবস্থাই অসৎ। এর মধ্যেও প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষার্থীদের 'ক্ষমা' করার কথা বলছেন।”

তিনি অভিযোগ করেন, “তিনি (মোদি) একজন শোকাহত অভিভাবকের সঙ্গেও দেখা করেননি। প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে ভবিষ্যৎ নষ্ট হয়ে যাওয়া একজন শিক্ষার্থীর পাশেও বসেননি। ভারতের শিক্ষার্থীদের তার ক্ষমার প্রয়োজন নেই; তাদের কাছে তার ক্ষমা চাওয়া উচিত।”

এদিকে কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ নেতা ও সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পি চিদাম্বরমও প্রশ্ন তুলে বলেন, “সরকারের সমালোচনা করলেই যারা এক্সে অশালীন মন্তব্য করে, সেই বিজেপি সমর্থকদেরও কি প্রধানমন্ত্রী ক্ষমা করে দিয়েছেন?”

কংগ্রেস নেতা পবন খেরা বলেন, “দেশ প্রধানমন্ত্রীর কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি করছিল, কিন্তু তিনি উল্টো দেশকেই ক্ষমা করে দিলেন।”

সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব মন্তব্য করেন, “জনগণ কখনওই বিজেপিকে ক্ষমা করবে না। বিজেপি যদি মাটিতে শুয়ে ক্ষমাও চায়, তবুও মানুষ তাদের ক্ষমা করবে না। জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি তারা রাখেনি। তাদের এই অহংকারই একদিন সরকার পতনের কারণ হবে।”

শিবসেনা (ইউবিটি) নেতা উদ্ধব ঠাকরে বলেন, “মোদি এবং (কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত) শাহর শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত। কারণ, শিক্ষার্থীদের পেরেক লাগানো লাঠি দিয়ে পেটানো হয়েছে, পেলেট গান ব্যবহার করা হয়েছে, টিয়ার গ্যাস ছোড়া হয়েছে। এমনকি নারী আন্দোলনকারীদের পোশাকও ছিঁড়ে ফেলেছেন কিছু পুরুষ পুলিশ সদস্য।”

এদিকে মোদি সরকারের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। সরকারের দাবি, তারা জবাবদিহি এড়িয়ে যাচ্ছে না। ইতোমধ্যে পাবলিক এক্সামিনেশনস (সংশোধনী) বিল পাস করা হয়েছে এবং পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারে একটি টাস্কফোর্সও গঠন করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় সরকার আরও জানিয়েছে, সংসদে তথ্যভিত্তিক ও সুস্থ বিতর্কে তারা পুরোপুরি প্রস্তুত। সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, অখিলেশ যাদব ও কংগ্রেসের বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্যও সংসদে এ বিষয়ে আলোচনার পক্ষে ছিলেন। তবে 'একজন ব্যক্তির অহংকারের কারণে' তা সম্ভব হয়নি।

বিজেপি নেতা মুখতার আব্বাস নাকভি অভিযোগ করে বলেন, “একদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সংবেদনশীলতা, অন্যদিকে এই সামন্তবাদী নেতাদের অহংকার স্পষ্ট। তাদের আচরণে হতাশা ও নিরাশার প্রতিফলন ঘটছে।” সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আগস্টেই যোগদানের দাবিতে শাহবাগে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষকদের অবস্থান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:৫৩ পি.এম


আগস্টেই যোগদানের দাবিতে শাহবাগে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষকদের অবস্থান

চলতি আগস্ট মাসে যোগদান এবং পদায়নের দাবি নিয়ে রাজধানীর শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকরা।

রবিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তারা এ কর্মসূচি শুরু করেন। তাদের দাবি হচ্ছে যে, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এ কর্মসূচি চলতে থাকবে।

সকাল থেকেই সুপারিশপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে একত্রিত হতে শুরু করেন। বেলা ১১টার দিকে তারা সেখানে থেকে একটি মিছিল নিয়ে শাহবাগ মোড়ে গমন করেন। সেখানে পুলিশ তাদের বাধা দেওয়ার পর শিক্ষকরা রাস্তার একপাশে অবস্থান নিয়েছেন। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় আলোচনা চলছে। তবে সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকরা তাদের কর্মসূচি চালিয়ে যেতে একটানে অনড় রয়েছেন।

এদিকে, শাহবাগে পুলিশ ব্যারিকেড প্রস্তুত করেছে এবং পাশে জলকামানও রাখা হয়েছে।

এর আগে সকালে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকদের আগামী ১ অক্টোবর যোগদান করানো হবে এবং বিদ্যালয়ে তাদের পদায়ন করা হবে। এরপর তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করাও করা হবে। তবে আন্দোলনকারীরা দাবি জানিয়েছেন যে, তারা চলতি আগস্ট মাসেই যোগদান ও বিদ্যালয়ে পদায়ন চান। এ বিষয়ে যদি বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়, তাহলে তারা তাদের কর্মসূচি প্রত্যাহার করে ফিরে যাবেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫১
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%