১২:৪৩ পি.এম
গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্স মাত্র ৮৫ রানে অলআউট হওয়ার পরও বল হাতে অসাধারণ প্রত্যাবর্তন করে সান ফ্রান্সিসকো ইউনিকর্নসকে ৭৯ রানে গুটিয়ে দিয়ে ছয় রানের অবিশ্বাস্য জয় তুলে নিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো গ্লোবাল সুপার লিগের (জিএসএল) শিরোপা জিতে নিয়েছে গায়ানা।
প্রভিডেন্স স্টেডিয়ামে টস জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর শুরু থেকেই বিপর্যয়ে পড়ে গায়ানা। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই ফিরে যান জনসন চার্লস। এরপর পরপর বলগুলোতেও নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে দলটি।
রাহমানউল্লাহ গুরবাজ ৮ রান করেন, মোহাম্মদ হারিস ৬, শিমরন হেটমায়ার ৪, মোহাম্মদ নবী ২, অধিনায়ক রোভম্যান পাওয়েল ২ এবং গুডাকেশ মোতি ২ রান করে সাজঘরে ফেরেন। ৮.৫ ওভারে রোমারিও শেফার্ড রানআউট হলে মাত্র ২৯ রানেই ৮ উইকেট হারিয়ে কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় গায়ানার ইনিংস।
আরও পড়ুন: সরকার ৬৪ জেলায় ৬৪টি প্রতিবন্ধী স্কুল প্রতিষ্ঠা করবে
এমন সংকটকালে ইনিংস পুনর্গঠনের দায়িত্ব নেন ডোয়াইন প্রিটোরিয়াস ও ম্যাথিউ ফোর্ড। নবম উইকেটে দুজন মিলে ৪১ রানের মূল্যবান জুটি গড়ে দলকে কিছুটা লড়াই করার মতো অবস্থানে নিয়ে যান। ফোর্ড ২৩ বলে ২৮ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেন, যেখানে ছিল দুটি চার ও দুটি ছক্কা। অপর প্রান্তে প্রিটোরিয়াস ৩০ বলে অপরাজিত ১৭ রান করেন। শেষদিকে ইমরান তাহির ১১ রান যোগ করলে ১৮.৫ ওভারে ৮৫ রানে অলআউট হয় গায়ানা।
সান ফ্রান্সিসকোর হয়ে পিটার সিডল ও অনিরুদ্ধ ইমানুয়েল তিনটি করে উইকেট নেন। সিডল চার ওভারে ১৮ রান দিয়ে তিন উইকেট শিকার করেন, এবং ইমানুয়েল চার ওভারে মাত্র ৭ রান খরচায় তিন ব্যাটারকে ফেরান। এছাড়া ফ্যাবিয়ান অ্যালেন, ক্যালাম স্টো এবং করিমা গোর একটি করে উইকেট নেন।
মাত্র ৮৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই গায়ানার পেসারদের আক্রমণের মুখে পড়ে ইউনিকর্নস। ইনিংসের প্রথম বলেই টিম রবিনসনকে ফিরিয়ে দেন ডোয়াইন প্রিটোরিয়াস। এরপর গুডাকেশ মোতির বলে আউট হন কনর এস্টারহুইজেন। অধিনায়ক হাসান খান কিছুটা আক্রমণাত্মক শুরু করলেও প্রিটোরিয়াসের শিকার হয়ে ফেরেন ৯ রান করে।
দলকে আশা দেখাচ্ছিলেন অলিভার পিক। ২৮ বলে ৩১ রানের ইনিংসে তিনি তিনটি চার ও একটি ছক্কা মারেন। তবে অপর প্রান্ত থেকে নিয়মিত উইকেট পড়তে থাকায় সেই ইনিংস বড় হতে পারেনি। সঞ্জয় কৃষ্ণমূর্তি ২৪ বলে ৯ রান করেন, এবং হ্যামাদ আজম, করিমা গোরে ও অনিরুদ্ধ ইমানুয়েল কেউই উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারেননি।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর নবীন বিসিএস কর্মকর্তাদের সততা ও দক্ষতার সঙ্গে জনগণের সেবা করার আহ্বান
ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন মোহাম্মদ নবী ও ইমরান তাহির। নবী চার ওভারে মাত্র ১২ রান দিয়ে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেন। তাহিরও চার ওভারে ১৬ রান খরচায় দুটি উইকেট নিয়ে ইউনিকর্নসের রান তোলার গতি পুরোপুরি থামিয়ে দেন। ১১.১ ওভারে অলিভার পিক আউট হওয়ার পর মাত্র দুই বলের ব্যবধানে আরও একটি উইকেট হারিয়ে ৫৮ রানে ৮ উইকেট হারায় ইউনিকর্নস।
শেষদিকে পিটার সিডল কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। তিনি অপরাজিত ১৩ রান করেন। তবে অপর প্রান্তে উইকেট পড়তে থাকায় সেই প্রচেষ্টা সফল হয়নি। শেষ ব্যাটার ক্যালাম স্টো রানআউট হলে ১৮.৩ ওভারে ৭৯ রানেই শেষ হয়ে যায় ইউনিকর্নসের ইনিংস।
গায়ানার হয়ে ডোয়াইন প্রিটোরিয়াস তিন ওভারে ২৪ রান দিয়ে তিনটি উইকেট নেন এবং ব্যাট হাতে অপরাজিত ১৭ রান যোগ করে ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেন। মোহাম্মদ নবীও তিন উইকেট নিয়ে জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। এছাড়া ইমরান তাহির দুটি এবং গুডাকেশ মোতি একটি উইকেট নেন।
পুরো টুর্নামেন্টে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে মোহাম্মদ নবী টুর্নামেন্টসেরার পুরস্কার জিতেছেন। তিনি ব্যাট হাতে ৫৩ রান করার পাশাপাশি বল হাতে নিয়েছেন ১০ উইকেট।
আরও পড়ুন: এপারে আসতে হলে ফিটফাট হয়ে আসতে হবে: মৎস্য প্রতিমন্ত্রী টুকু
মাত্র ৮৫ রানের পুঁজি নিয়ে টি-টোয়েন্টি ফাইনাল জেতা বিরল ঘটনা। কিন্তু গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্স দেখিয়ে দিল, শিরোপা জিততে সবসময় বড় স্কোরের প্রয়োজন হয় না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন