১১:১৫ পি.এম
পাবনার ফরিদপুর উপজেলার একটি বেসরকারি হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের পর ১১ জন রোগী যক্ষ্মায় আক্রান্ত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি হলো, একই হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের পরে তাঁদের ক্ষতস্থানে জটিলতা দেখা দিয়েছে।
পরে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে যক্ষ্মা শনাক্ত হয়েছে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) ভুক্তভোগীরা এ বিষয়টি জানিয়ে বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করে যক্ষ্মা সংক্রমণের প্রকৃত কারণ উদঘাটনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বেসরকারি হাসপাতালের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
আরও পড়ুন: বরিশালে বিএমপির বিশেষ অভিযানে ৩৩ জন গ্রেপ্তার, ইয়াবা-গাঁজা উদ্ধার
ফরিদপুর উপজেলা সদরের থানাপাড়া মহল্লার বাসিন্দা মোহনের ছেলে রাব্বি ও তাঁর স্ত্রী আয়েশা খাতুনের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। পেশায় ভ্যানচালক মোহন, তাঁর পুত্রবধূ আয়েশাকে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের জন্য ফরিদপুর উপজেলার বনওয়ারীনগর বাজারসংলগ্ন মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের আল-মদিনা ল্যাব অ্যান্ড হাসপাতালে ভর্তি করেন।
গত ৩১ মে আয়েশা একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। সন্তান জন্মের পর পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আনন্দের পরিবেশ তৈরি হলেও কিছুদিন পর সেই আনন্দ বিষাদে পরিণত হয়। নির্ধারিত সময়ের পরও সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের ক্ষতস্থান শুকানো না হওয়ায় চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন পরিবারের সদস্যরা। পরে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ক্ষতস্থানে যক্ষ্মা শনাক্ত হয়।
বর্তমানে আয়েশা গাজীপুরে চিকিৎসাধীন। তাঁর চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে পরিবারটি হিমশিম খাচ্ছে, বলে স্বজনেরা জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগীদের দাবি, আয়েশার মতো একই হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করানো আরো ১০ রোগীর ক্ষেত্রেও অস্ত্রোপচারের পর ক্ষতস্থানে জটিলতা দেখা দেয় এবং পরে তাঁদের যক্ষ্মা শনাক্ত হয়। এ ঘটনায় রোগী ও তাঁদের স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
আরও পড়ুন: বরিশাল মহাশ্মশানে শ্মশান দীপাবলি উদ্যাপন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শনে বিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার সুশান্ত সরকার
আল-মদিনা ল্যাব অ্যান্ড হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ রানা বলেছেন, ‘প্রায় চার মাস আগে আমাদের হাসপাতালে ৭৫ বছর বয়সী এক রোগীর হার্নিয়ার অস্ত্রোপচার হয়েছিল। তিনি যে যক্ষ্মায় আক্রান্ত ছিলেন, তা আমরা জানতাম না। পরে অস্ত্রোপচারের পর ইনফেকশন দেখা দিলে পরীক্ষা করে তাঁর যক্ষ্মা ধরা পড়ে। ততক্ষণে আমাদের হাসপাতালে আরো ১১ জন রোগী যক্ষ্মায় আক্রান্ত হন।’
তিনি বলেন, ‘আমরা তাঁদের ক্ষতিপূরণসহ চিকিৎসার যাবতীয় খরচ বহন করে আসছি এবং তাঁরা পুরোপুরি সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত চিকিৎসার ব্যয় আমরা বহন করব।’
নিজেদের ভুল স্বীকার করে তিনি আরো বলেন, বিষয়টি জানার পর অপারেশন থিয়েটার নতুন করে জীবাণুমুক্ত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ক্যাপ্টেন ডা. সরওয়ার জাহান ফয়েজ (অব.) বলেন, ‘হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোনোভাবেই এই দায় এড়াতে পারে না। বিষয়টি তদন্ত করে ক্লিনিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’
আরও পড়ুন: সুশৃঙ্খল উন্নয়ন পরিকল্পনায় সিলেট ক্রিকেটের হারানো ঐতিহ্য ফিরে পেতে চায়
ফরিদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাশেদুল হাসান শাওন জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তাঁদের নির্দেশনা অনুযায়ী উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ব্যবস্থা নেবে। এ ঘটনায় উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন