০৭:৫০ পি.এম
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই সপ্তাহে বলেন যে, দেশের ব্যাংকিং খাতের দুর্নীতি এবং জনগণের অর্থ বিদেশে পাচারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে সরকারের কোনো ধরনের আপস হবে না। তিনি জানান যে, অপরাধীদের আইনের আওতায় না আনা পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা চলতে থাকবে।
আজ ১২ জুলাই, ২০২৬, জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২)-এর সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, বড় ধরনের ঋণ কেলেঙ্কারি এবং আর্থিক অনিয়মে জড়িত ব্যক্তি ও ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সরকার ইতোমধ্যে কার্যকর আইনগত কার্যক্রম শুরু করেছে।
আরও পড়ুন: সরকারের ৭ মাসের কর্মকাণ্ডে জনগণের উৎকণ্ঠা বেড়েছে: মাওলানা এ টি এম মাসুম
অর্থমন্ত্রী বলার পর আরও জানান, ‘আমি এ সংসদকে একাধিকবার জানিয়েছি কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে অনেক মামলা হয়েছে, তদন্ত এগিয়ে চলছে এবং অভিযুক্তদের অনেকের সম্পত্তি ক্রোক ও বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।’
তিনি নিশ্চিত করেন যে, আর্থিক অপরাধের বিরুদ্ধে সরকারের অভিযান কোনোভাবেই থামবে না। বিএনপির সঙ্গে রাজনৈতিক আপস না করার বিষয়টিও তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন।
রুমিন ফারহানা সোনালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক ও বেসিক ব্যাংকসহ রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের পরিমাণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং বড় ঋণখেলাপি ও দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে দুর্বলকারীদের বিরুদ্ধে সরকার কী ব্যবস্থা নিচ্ছে, তাও জানতে চান।
জবাবে অর্থমন্ত্রীটি বলেন, ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে হওয়া আইনগত, প্রশাসনিক ও তদন্তমূলক পদক্ষেপ সম্পর্কে সরকার ইতোমধ্যে সংসদে ব্যাখ্যা দিয়েছে এবং জনগণের অর্থ আত্মসাৎকারী সকলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
আরও পড়ুন: ধর্ম প্রতিমন্ত্রী: ফ্যাসিস্টদের আর ফিরতে দেওয়া হবে না
এনসিপির সংসদ সদস্য আতীকুর রহমান মুজাহিদ (কুড়িগ্রাম-২) রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক প্রসঙ্গ এনে অর্থমন্ত্রীর কাছে ব্যাংকিং খাতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের বিষয়ে জানতে চেয়ে বলেন, অর্থমন্ত্রী পরিষ্কার করেন যে, সরকারের আমলে বিএনপির কেউ ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারবে না।
তিনি বলেন, ‘এই সরকারের আমলে বিএনপির কোনো লোকেরই কোনো ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সুযোগ নেই।’
অর্থমন্ত্রী দেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনৈতিক নিয়োগ মুক্ত রাখার বিষয়ে সরকারের সচেতন নীতির কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক নিয়োগ দিচ্ছি না। এটি বিএনপি সরকারের একটি সচেতন সিদ্ধান্ত। এমন কোনো ইচ্ছা বা সুযোগÑকোনোটিই নেই।’
অর্থমন্ত্রী স্বীকার করেন যে, দীর্ঘদিন ধরে সঞ্চিত নানা সমস্যার কারণে কয়েকটি ব্যাংক পরিচালনা ও সুশাসন সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে।
আরও পড়ুন: জার্মানির আইনমন্ত্রী: সহিংসতা সত্ত্বেও জেন-জিদের বিক্ষোভের পক্ষে
তিনি বলেন, সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদ, ব্যবস্থাপনা এবং সার্বিক কার্যক্রমের ওপর সরকার ব্যাপক মূল্যায়ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এসব ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা, পরিচালনা পর্ষদ ও পরিচালন কাঠামো নিয়ে বিস্তৃত বিশ্লেষণ চলছে। মূল্যায়ন শেষ হলে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও পরিবর্তন দৃশ্যমান হবে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন